৪ অক্টো, ২০২৬

অনুচ্ছেদ ২২ সরাসরি বলবৎযোগ্য না হওয়ার সত্তেও মাসদার হোসেন মামলায় বিচার বিভাগ পৃথক করার রায় হলো কীভাবে?

অনুচ্ছেদ ২২ সরাসরি বলবৎযোগ্য না হওয়ার সত্তেও মাসদার হোসেন মামলায় বিচার বিভাগ পৃথক করার রায় হলো কীভাবে?

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট 
বাংলাদেশের বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক করার ক্ষেত্রে মাসদার হোসেন মামলা একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। তবে এ মামলাকে ঘিরে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রয়েছে—সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগে থাকা রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতির অংশ হিসেবে অনুচ্ছেদ ২২ আদালতের মাধ্যমে সরাসরি বলবৎযোগ্য না হলে, এই অনুচ্ছেদের ভিত্তিতে কীভাবে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের নির্দেশ দেওয়া হলো?

প্রথমেই বিষয়টি পরিষ্কার করা প্রয়োজন, মাসদার হোসেন মামলা সরাসরি অনুচ্ছেদ ২২ বলবৎ করার মামলা ছিল না। সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৮(২) অনুযায়ী, দ্বিতীয় ভাগের রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিগুলো আদালতের মাধ্যমে সরাসরি বলবৎযোগ্য নয়। ফলে শুধু অনুচ্ছেদ ২২ লঙ্ঘনের অভিযোগে আদালতের কাছে গিয়ে প্রতিকার চাওয়া যায় না।

তাহলে অনুচ্ছেদ ২২-এর ভূমিকা কী ছিল? আদালত অনুচ্ছেদ ২২-কে সরাসরি মামলার ভিত্তি হিসেবে নয়, বরং বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক করার সাংবিধানিক লক্ষ্য ও নীতি হিসেবে বিবেচনা করেছে। এরপর সংবিধানের অন্যান্য বলবৎযোগ্য বিধানের সঙ্গে অনুচ্ছেদ ২২-কে মিলিয়ে বিচার বিভাগের সাংবিধানিক অবস্থান নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ ক্ষেত্রে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ ছিল অনুচ্ছেদ ১০৯, ১১৫, ১১৬ ও ১১৬ক। অনুচ্ছেদ ১০৯ অধস্তন আদালতের ওপর হাইকোর্ট বিভাগের তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণের কথা বলে। অনুচ্ছেদ ১১৫ বিচারিক সার্ভিসে নিয়োগের কাঠামো নির্ধারণ করে। অনুচ্ছেদ ১১৬ পদায়ন, পদোন্নতি, ছুটি ও শৃঙ্খলার মতো বিষয়ে সাংবিধানিক ব্যবস্থা নির্ধারণ করে। আর অনুচ্ছেদ ১১৬ক বিচারিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে বিচারিক সার্ভিসের স্বাধীনতা নিশ্চিত করে।

এই সাংবিধানিক বিধানগুলো বাস্তবে যথাযথভাবে কার্যকর হচ্ছে কি না—সেই প্রশ্নেই অনুচ্ছেদ ১০২-এর অধীনে রিট আবেদন করা হয়। অর্থাৎ অনুচ্ছেদ ১০২ ছিল আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার সাংবিধানিক পথ; আর ১০৯, ১১৫, ১১৬ ও ১১৬ক ছিল বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও পৃথকীকরণের মূল সাংবিধানিক ভিত্তি। অনুচ্ছেদ ২২ এই বিধানগুলোর উদ্দেশ্য ও অর্থ ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

মামলায় অনুচ্ছেদ ২৭, ২৯ ও ৩১-এর বিষয়ও প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে। আইনের দৃষ্টিতে সমতা, সরকারি চাকরিতে সমান সুযোগ এবং আইনের সুরক্ষার মতো সাংবিধানিক অধিকার বিচারিক কর্মকর্তাদের চাকরির শর্ত ও মর্যাদার প্রশ্নের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল। ফলে মামলাটি শুধু বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের প্রশাসনিক প্রশ্ন ছিল না; এর সঙ্গে সাংবিধানিক অধিকার ও সমতার প্রশ্নও যুক্ত ছিল।

সুতরাং, মাসদার হোসেন মামলার মূল বিষয় ছিল না, “অনুচ্ছেদ ২২ সরাসরি আদালতের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা”। বরং আদালত সংবিধানের বিদ্যমান বলবৎযোগ্য বিধানগুলোকে সমন্বিতভাবে ব্যাখ্যা করে দেখিয়েছে যে বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক করার সাংবিধানিক কাঠামো সংবিধানের মধ্যেই রয়েছে। আর অনুচ্ছেদ ১০২-এর রিট এখতিয়ার ব্যবহার করে সেই সাংবিধানিক বিধানগুলো বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া সম্ভব।

সহজভাবে বললে, অনুচ্ছেদ ২২ দেখিয়েছে রাষ্ট্রের লক্ষ্য কী; ১০৯, ১১৫, ১১৬ ও ১১৬ক দেখিয়েছে বিচার বিভাগের সাংবিধানিক কাঠামো কী; আর অনুচ্ছেদ ১০২ আদালতকে সেই সাংবিধানিক কাঠামো বাস্তবায়নের সুযোগ দিয়েছে। এখানেই মাসদার হোসেন মামলার সাংবিধানিক তাৎপর্য।

মাসদার হোসেন মামলার মূল শিক্ষা হলো, সংবিধানের দ্বিতীয় ভাগের কোনো রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি সরাসরি আদালতের মাধ্যমে বলবৎযোগ্য না হলেও, তা সংবিধানের অন্যান্য বলবৎযোগ্য বিধানের ব্যাখ্যায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

এ ক্ষেত্রে অনুচ্ছেদ ২২ বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের সাংবিধানিক লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। অনুচ্ছেদ ১০৯, ১১৫, ১১৬ ও ১১৬ক সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের সাংবিধানিক কাঠামো দিয়েছে এবং অনুচ্ছেদ ১০২ রিটের মাধ্যমে এসব বিধান বাস্তবায়নের পথ তৈরি করেছে।

অতএব, অনুচ্ছেদ ২২ নিজে মামলার সরাসরি ভিত্তি না হলেও, অন্যান্য বলবৎযোগ্য সাংবিধানিক বিধানের সঙ্গে মিলিয়ে বিচার বিভাগ পৃথকীকরণের ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক নির্দেশনা হিসেবে কাজ করেছে।


বিডিএলপিবি/এমএম


জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অন-ক্যাম্পাস আইন বিভাগে প্রভাষক ও সহকারী অধ্যাপক পদে নিয়োগ

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অন-ক্যাম্পাস আইন বিভাগে প্রভাষক ও সহকারী অধ্যাপক পদে নিয়োগ

ছবি: সংগৃহীত 
গাজীপুর: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অন-ক্যাম্পাস কার্যক্রমের আওতাধীন বিভিন্ন বিভাগে শিক্ষক নিয়োগের জন্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের বিজ্ঞপ্তিতে স্থায়ী শূন্য পদে নিয়োগের লক্ষ্যে যোগ্য বাংলাদেশি নাগরিকদের কাছ থেকে অনলাইনে আবেদন আহ্বান করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আইন বিভাগে একজন সহকারী অধ্যাপক এবং দুইজন প্রভাষক নিয়োগ দেওয়া হবে।

সহকারী অধ্যাপক পদ:

আইন বিভাগে সহকারী অধ্যাপক পদের বেতন স্কেল ৩৫,৫০০–৬৭,০১০ টাকা (গ্রেড-৬)। এ ছাড়া ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি এবং দর্শন বিভাগেও একজন করে সহকারী অধ্যাপক নিয়োগের কথা বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ রয়েছে।

সহকারী অধ্যাপক পদের জন্য সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রিসহ বিজ্ঞপ্তিতে নির্ধারিত শিক্ষাগত যোগ্যতা, ফলাফল, শিক্ষকতা ও গবেষণা-অভিজ্ঞতার শর্ত পূরণ করতে হবে। প্রার্থীদের জন্য স্বীকৃত জার্নালে গবেষণা প্রকাশনার শর্তও রাখা হয়েছে।

প্রভাষক পদ:

আইন বিভাগে দুইজন প্রভাষক নিয়োগ দেওয়া হবে। এ পদের বেতন স্কেল ২২,০০০–৫৩,০৬০ টাকা (গ্রেড-৯) এবং বয়সসীমা সর্বোচ্চ ৩৫ বছর।

বিজ্ঞপ্তিতে আইন ছাড়াও ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি, ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং, দর্শন, মনোবিজ্ঞান এবং নিউট্রিশন অ্যান্ড ফুড সায়েন্স বিভাগে প্রভাষক নিয়োগের কথা উল্লেখ রয়েছে।

আবেদন যেভাবে:

নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, অনলাইনে আবেদন করতে হবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরির ওয়েবসাইটে।
আবেদন ওয়েবসাইট: jobs.nu.ac.bd
আবেদন শুরু: ১০ অক্টোবর ২০২৬
আবেদনের শেষ সময়: ১২ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৪টা

অনলাইন আবেদন ফরম পূরণের পর বিজ্ঞপ্তিতে নির্ধারিত নিয়মে আবেদন ফি জমা দিতে হবে। আবেদন-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও সত্যায়িত কপি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানোর নির্দেশনাও বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তি:




বিডিএলপিবি/মাসুম

উত্তরাধিকার সনদ বাতিল হলেও আগের শেয়ার লেনদেন স্বয়ংক্রিয়ভাবে অবৈধ নয়: হাইকোর্টের রায়

উত্তরাধিকার সনদ বাতিল হলেও আগের শেয়ার লেনদেন স্বয়ংক্রিয়ভাবে অবৈধ নয়: হাইকোর্টের রায়

  ছবি: বিডি ল' পোস্ট 
কোম্পানির শেয়ার সংক্রান্ত বিরোধে উত্তরাধিকার সনদ পরবর্তীতে বাতিল হলেও, সেই সনদের ভিত্তিতে সরল বিশ্বাসে সম্পন্ন করা পূর্ববর্তী লেনদেন স্বয়ংক্রিয়ভাবে অবৈধ হয়ে যায় না বলে জানিয়েছেন হাইকোর্ট।

‘আবু তাবের ও অন্যান্য বনাম নিউটেক্স গ্রুপ অব কোম্পানিজ ও অন্যান্য’ মামলায় দেওয়া রায়ে এমন পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন হাইকোর্ট। কোম্পানি ম্যাটার নং- ১৯১/২০১৭-এর এ মামলায় গত ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ রায় ঘোষণা করেন হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি মো. তৌফিক ইনামের একক বেঞ্চ। রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয় গত ০১ অক্টোবর ২০২৬।

মামলার প্রেক্ষাপট:

মৃত আবুল কাসেম বাবুল সংশ্লিষ্ট চারটি কোম্পানির শেয়ারহোল্ডার ছিলেন। ১৯৯৯ সালে তার মৃত্যুর পর প্রথমে তার স্ত্রী ও সন্তানদের অনুকূলে ২০০০ সালের ১৬ মে একটি উত্তরাধিকার সনদ দেওয়া হয়। পরে ওই সনদ বাতিলের জন্য মামলা হলে ২০১২ সালে তা বাতিল করা হয় এবং একই বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি আবেদনকারীদের অনুকূলে নতুন উত্তরাধিকার সনদ দেওয়া হয়।

আবেদনকারীদের দাবি ছিল, মৃত বাবুলের বাবা হাজী আবুল খায়েরও উত্তরাধিকারী ছিলেন এবং তার মাধ্যমে আবেদনকারীরা শেয়ারের অংশীদার হন। তাই কোম্পানিগুলোর শেয়ারহোল্ডার রেজিস্টারে তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার আবেদন করা হয়।

অন্যদিকে, কোম্পানির পক্ষ থেকে বলা হয়, ২০০০ সালের উত্তরাধিকার সনদের ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে সমঝোতা স্মারক, সালিশি কার্যক্রম ও শেয়ার হস্তান্তরের মাধ্যমে লেনদেন সম্পন্ন হয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এসব শেয়ারের জন্য অর্থও প্রদান করেন।

হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ:

কোম্পানি আইনের ৪৩ ধারায় শেয়ারহোল্ডার রেজিস্টার সংশোধনের ক্ষেত্রে আদালতের ক্ষমতা বিস্তৃত হলেও, এর অর্থ এই নয় যে কোম্পানি-সংক্রান্ত প্রতিটি জটিল দেওয়ানি বিরোধ এই ধারার অধীনে নিষ্পত্তি করতে হবে।

আদালত বলেন, রেজিস্টার সংশোধনের আবেদনে প্রয়োজন হলে মালিকানা বা স্বত্বের প্রশ্ন নির্ধারণ করা যেতে পারে। তবে কোনো বিরোধে পুরোনো চুক্তি বাতিল, সালিশি কার্যক্রমের বৈধতা, অপ্রাপ্তবয়স্কদের মাধ্যমে শেয়ার হস্তান্তর, জালিয়াতি, উত্তরাধিকার এবং একাধিক পক্ষের প্রতিদ্বন্দ্বী স্বত্বের মতো জটিল প্রশ্ন জড়িত থাকলে তা নিষ্পত্তির জন্য উপযুক্ত দেওয়ানি কার্যক্রম প্রয়োজন হতে পারে।

উত্তরাধিকার সনদ বাতিলের প্রভাব:

হাইকোর্ট উল্লেখ করেন, উত্তরাধিকার সনদ আইনের ৩৭০(২) ধারার অধীনে কোম্পানির শেয়ার ‘সিকিউরিটি’ হিসেবে বিবেচিত হয়। একই আইনের ৩৮১ ও ৩৮৬ ধারায় উত্তরাধিকার সনদের ভিত্তিতে সরল বিশ্বাসে সম্পন্ন করা লেনদেনের জন্য নির্দিষ্ট আইনগত সুরক্ষা রয়েছে।

ফলে কোনো উত্তরাধিকার সনদ পরবর্তীতে বাতিল হলেই ওই সনদের কার্যকারিতার সময়ে সরল বিশ্বাসে সম্পন্ন করা প্রতিটি লেনদেন পূর্ববর্তী তারিখ থেকে অবৈধ হয়ে যায় না। আবেদনকারীদের আরও প্রমাণ করতে হবে যে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো সনদের ত্রুটি সম্পর্কে জানত অথবা সরল বিশ্বাসে লেনদেন করেনি।

দীর্ঘ বিলম্বও বিবেচ্য:

আদালত বলেন, কোম্পানি আইনের ৪৩ ধারায় নির্দিষ্ট কোনো তামাদি মেয়াদ না থাকলেও দীর্ঘ বিলম্বকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা যায় না। বিশেষ করে এর মধ্যে তৃতীয় পক্ষের অধিকার সৃষ্টি হলে, অর্থ প্রদান করা হলে এবং দীর্ঘদিন ধরে কোম্পানির রেজিস্টারে কোনো নাম বহাল থাকলে রেজিস্টার সংশোধনের মতো বিবেচনামূলক প্রতিকার দেওয়ার ক্ষেত্রে আদালতকে সতর্ক থাকতে হবে।

এ মামলায় ২০০১ সালের লেনদেনের বিরুদ্ধে ২০১৭ সালে ৪৩ ধারায় আবেদন করা হয়। এর মধ্যে ২০০৮ সালে আবেদনকারীরা প্রথম উত্তরাধিকার সনদের বিষয়ে জানতে পারেন এবং ২০১২ সালে সেটি বাতিলের পর নতুন সনদ লাভ করেন।

আদালতের সিদ্ধান্ত:

হাইকোর্ট মনে করেন, আবেদনকারীরা প্রমাণ করতে পারেননি যে কোম্পানিগুলোর রেজিস্টারে বর্তমানে থাকা নামগুলো ‘পর্যাপ্ত কারণ ছাড়া’ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। ২০০১ সালে কোম্পানিগুলোর কাছে কার্যকর উত্তরাধিকার সনদ ছিল এবং ওই সময়ে তারা সনদটির ত্রুটি বা অন্য কারও শ্রেষ্ঠ দাবি সম্পর্কে অবগত ছিল—এমন পর্যাপ্ত প্রমাণও পাওয়া যায়নি।

এ ছাড়া আবেদনকারীদের চাওয়া প্রতিকার দিতে হলে সমঝোতা স্মারক, সালিশি কার্যক্রম, শেয়ার হস্তান্তর, অপ্রাপ্তবয়স্কদের সক্ষমতা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অধিকারসহ একাধিক জটিল প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ নিষ্পত্তি প্রয়োজন হতো, যা কেবল রেজিস্টার সংশোধনের আবেদনের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা উপযুক্ত নয়।

ফলে কোম্পানি আইনের ১৯৯৪-এর ৪৩ ধারায় করা আবেদনটি খারিজ করেন হাইকোর্ট। তবে আদালত স্পষ্ট করেন, এই রায়ের মাধ্যমে আবেদনকারীদের সম্ভাব্য কোনো স্বতন্ত্র substantive right বা দাবি চূড়ান্তভাবে বাতিল করা হয়নি। তারা আইন অনুযায়ী উপযুক্ত পৃথক কার্যক্রম গ্রহণ করতে পারবেন।

আদালত কোনো খরচের আদেশ দেননি এবং চলমান অন্তর্বর্তী আদেশ থাকলে তা বাতিল করেছেন।

আইনি শিক্ষা:

কোম্পানি আইনের ৪৩ ধারায় রেজিস্টার সংশোধনের ক্ষমতা বিস্তৃত হলেও এটি সব ধরনের জটিল মালিকানা বা চুক্তিগত বিরোধ নিষ্পত্তির বিকল্প নয়। কোনো উত্তরাধিকার সনদের ভিত্তিতে সরল বিশ্বাসে সম্পন্ন লেনদেন পরবর্তীতে সনদ বাতিল হওয়ার কারণে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয় না; তবে সংশ্লিষ্ট পক্ষের স্বতন্ত্র অধিকার থাকলে তা উপযুক্ত পৃথক কার্যক্রমে দাবি করা যেতে পারে।


বিডিএলপিবি/মাসুম

৩ অক্টো, ২০২৬

এনআইডি, জন্ম নিবন্ধন ও পাসপোর্টের সঙ্গে যুক্ত হবে বিয়ের তথ্য; লটারির মাধ্যমে সাব-রেজিস্ট্রার পদায়নের উদ্যোগ

এনআইডি, জন্ম নিবন্ধন ও পাসপোর্টের সঙ্গে যুক্ত হবে বিয়ের তথ্য; লটারির মাধ্যমে সাব-রেজিস্ট্রার পদায়নের উদ্যোগ

ছবি: সংগৃহীত 
দেশের বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন ব্যবস্থা ধীরে ধীরে ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনা হচ্ছে। এর ফলে তথ্য গোপন করে একাধিক বিয়ে এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর ব্র্যাক লার্নিং সেন্টারে অনলাইনে তালাক ও নিকাহ নিবন্ধন সফটওয়্যারের ব্যবহারবিষয়ক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী জানান, অনলাইনে বিবাহ নিবন্ধনের তথ্য পর্যায়ক্রমে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি), জন্মনিবন্ধন ও পাসপোর্টের কেন্দ্রীয় সার্ভারের সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে। পাশাপাশি দেশের সব কাজীকে ধাপে ধাপে ডিজিটাল নিবন্ধন ব্যবস্থার আওতায় আনতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, অনলাইনে বিবাহ ও তালাকের তথ্য সংরক্ষিত থাকলে কোনো ব্যক্তি এর আগে কোথাও বিয়ে করেছেন কি না, তা সহজেই যাচাই করা সম্ভব হবে। কেউ আগের বিয়ের তথ্য গোপন করে অন্যত্র নতুন করে বিয়ে নিবন্ধনের চেষ্টা করলে অনলাইন ব্যবস্থায় তার পূর্বের বিবাহের তথ্য দেখা যাবে। ফলে পূর্ববর্তী স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া পুনরায় বিয়ের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাইয়ের সুযোগ তৈরি হবে।

আইনমন্ত্রী আরও বলেন, বিবাহ নিবন্ধনের তথ্য ডিজিটালভাবে সংরক্ষণ ও যাচাইয়ের ব্যবস্থা চালু হলে বাল্যবিবাহ ও বহুবিবাহ প্রতিরোধেও সহায়তা পাওয়া যাবে। জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মনিবন্ধন ও পাসপোর্টের কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডারের সঙ্গে বিবাহের তথ্য যুক্ত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বৈবাহিক অবস্থাও যাচাই করা সম্ভব হবে।

ভবিষ্যতে কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর পর তার স্ত্রী বা সন্তানদের পক্ষ থেকে একাধিক দাবি উত্থাপিত হলেও নিবন্ধিত বিবাহের তথ্যের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য যাচাই করা যাবে বলে জানান তিনি। এতে এ ধরনের বিরোধ থেকে সৃষ্ট মামলা-মোকদ্দমা কমার পাশাপাশি রাষ্ট্রের ওপরও চাপ কমবে বলে মনে করেন আইনমন্ত্রী।

বিদেশে অবস্থানরত বা বিদেশে যাওয়ার প্রয়োজন রয়েছে এমন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও ডিজিটাল বিবাহ নিবন্ধন ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানান তিনি। কোনো ব্যক্তি বিদেশে গিয়ে তার স্ত্রীকে সঙ্গে নিতে চাইলে সংশ্লিষ্ট দেশের কর্তৃপক্ষ অনলাইনে বিবাহের তথ্য যাচাই করতে পারবে। এর মাধ্যমে ওই ব্যক্তির বৈবাহিক সম্পর্কের তথ্য দ্রুত নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

লটারির মাধ্যমে সাব-রেজিস্ট্রার পদায়নের উদ্যোগ:

এদিকে ঢাকার সাব-রেজিস্ট্রারদের দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকার প্রবণতা কমাতে লটারির মাধ্যমে পদায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ঢাকা শহরের অনেক সাব-রেজিস্ট্রার দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের বদলি করতে গেলে বিভিন্ন মহল থেকে তদবিরের পরিস্থিতি তৈরি হয়। এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে ঢাকার মধ্যে সাব-রেজিস্ট্রারদের পদায়ন লটারির মাধ্যমে করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আইনমন্ত্রী জানান, প্রচলিত নিয়মনীতি অনুসরণ করেই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: অনলাইনে প্রচারিত আইনমন্ত্রীর বক্তব্য


সংবিধান থেকে ‘সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা’ বাদ দেওয়ার দাবি, আইনি নোটিশ

সংবিধান থেকে ‘সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা’ বাদ দেওয়ার দাবি, আইনি নোটিশ

ছবি: সংগৃহীত 
সংবিধান সংস্কার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বাংলাদেশের সংবিধান থেকে ‘সমাজতন্ত্র’ ও ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ বাদ দেওয়ার দাবি জানিয়ে আইনি নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন এ নোটিশ দেন। রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব (জন বিভাগ), জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবকে নোটিশের প্রাপক করা হয়েছে।

নোটিশে বলা হয়েছে, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে সরকার জাতীয় সংসদের মাধ্যমে সংবিধান সংস্কারের উদ্যোগ নিতে পারে। পরবর্তী সময়ে সংস্কারের বিষয়টি জনগণের অনুমোদনের জন্য জাতীয় গণভোটে উপস্থাপনের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

নোটিশে বলা হয়, সংবিধানের এই সম্ভাব্য পুনর্মূল্যায়নের প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়—এমন নীতি ও মতবাদগুলো পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। নোটিশদাতার দাবি, সংবিধানের প্রস্তাবনা ও মৌলিক রাষ্ট্রীয় নীতিতে থাকা ‘সমাজতন্ত্র’ ও ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ বর্তমান বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা ও গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

‘সমাজতন্ত্র’ প্রসঙ্গে নোটিশে এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকার সংজ্ঞার উল্লেখ করে বলা হয়েছে, সমাজতন্ত্রের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো উৎপাদনের উপকরণ ও সম্পদের ওপর রাষ্ট্রীয় বা সামাজিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা। নোটিশদাতার মতে, বর্তমান মুক্তবাজার অর্থনীতির বাস্তবতায় এ ধরনের নীতির সাংবিধানিক উপস্থিতি বেসরকারি বিনিয়োগ ও বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

নোটিশে আরও দাবি করা হয়েছে, সংবিধানে ‘সমাজতন্ত্র’ শব্দটি বহাল থাকায় বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে জাতীয়করণসহ বিভিন্ন ধরনের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হতে পারে। এর ফলে দেশে বিদেশি বিনিয়োগের কাঙ্ক্ষিত পরিবেশ সৃষ্টি হচ্ছে না এবং বেসরকারি খাতের পূর্ণ বিকাশও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে নোটিশদাতার অভিমত।

এ কারণে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বিনিয়োগের নিরাপত্তা ও বেসরকারি খাতের বিকাশের স্বার্থে সংবিধানের প্রস্তাবনা, অনুচ্ছেদ ৮ ও অনুচ্ছেদ ১০ থেকে ‘সমাজতন্ত্র’ শব্দটি বাদ দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সংবিধানের প্রস্তাবনা ও সংশ্লিষ্ট বিধান থেকে ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ বাদ দেওয়ারও দাবি করা হয়েছে।

আইনি নোটিশে ৯০ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক ও আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করে জাতীয় গণভোটের মাধ্যমে ‘সমাজতন্ত্র’ ও ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’ সংবিধান থেকে অপসারণের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

নোটিশে আরও বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে এ বিষয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হতে পারে।


বিডিএলপিবি/এমএম

সূত্র: বাংলা নিউজ ২৪

এক মামলায় হেফাজতে থাকলেও অন্য মামলায় আগাম জামিন চাওয়া যাবে: ভারতের সুপ্রিম কোর্ট

এক মামলায় হেফাজতে থাকলেও অন্য মামলায় আগাম জামিন চাওয়া যাবে: ভারতের সুপ্রিম কোর্ট

ভারতের সুপ্রিম কোর্ট 
ভারতের সুপ্রিম কোর্ট গুরুত্বপূর্ণ একটি আইনি নীতি পুনর্ব্যক্ত করে বলেছেন, কোনো আসামি একটি মামলায় হেফাজতে থাকলেও অন্য একটি পৃথক মামলায় গ্রেপ্তার না হয়ে থাকলে সেই মামলায় আগাম জামিনের আবেদন করতে পারেন। একইভাবে, একটি মামলায় আগাম জামিনের আবেদন খারিজ হলেও অন্য মামলায় আগাম জামিন চাওয়ার ক্ষেত্রে তা স্বয়ংক্রিয় বাধা সৃষ্টি করে না।

মামলা: রাম সিং বনাম দিল্লি সরকারের পক্ষে রাষ্ট্র ও অপরজন
বিচারপতি: বিচারপতি মনোজ মিশ্র ও বিচারপতি বিজয় বিষ্ণোই
রায়ের তারিখ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মামলার পটভূমি:

রাম সিংয়ের বিরুদ্ধে একটি মামলায় তদন্ত চলছিল। একই সময়ে তিনি পৃথক একটি অর্থপাচার মামলায় জড়িত থাকার কারণে আইনি জটিলতার মুখোমুখি হন। ওই মামলায় তাঁর আগাম জামিনের আবেদন হাইকোর্ট খারিজ করে দেয়। পরবর্তীতে এ বিষয়ে করা বিশেষ অনুমতির আবেদনও খারিজ হয়।

রাম সিংয়ের পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্টে যুক্তি দেওয়া হয় যে, অন্য একটি মামলায় আগাম জামিন প্রত্যাখ্যাত হওয়ার কারণে বর্তমান মামলায় আগাম জামিন চাওয়ার অধিকার নষ্ট হয় না। কারণ, বর্তমান মামলায় তিনি গ্রেপ্তার হননি এবং এই মামলার পরিস্থিতি পৃথকভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত:

সুপ্রিম কোর্ট এই যুক্তি গ্রহণ করেন এবং পূর্বের ধনরাজ আসওয়ানি মামলায় নির্ধারিত আইনি নীতির আলোকে বিষয়টি বিবেচনা করেন।

আদালত বলেন, একটি মামলায় কোনো ব্যক্তি হেফাজতে থাকলেও অন্য একটি পৃথক মামলায় তাঁর গ্রেপ্তারের আশঙ্কা থাকলে সেই মামলায় আগাম জামিনের আবেদন করা যেতে পারে।

অর্থাৎ, এক মামলায় হেফাজতে থাকা বা অন্য মামলায় আগাম জামিনের আবেদন খারিজ হওয়া—অন্য মামলায় আগাম জামিনের আবেদন করার ক্ষেত্রে নিজে থেকেই বাধা সৃষ্টি করে না।

আদালতের আরোপিত শর্ত:

সুপ্রিম কোর্ট রাম সিংকে তদন্তে সহযোগিতা এবং প্রয়োজন হলে তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন।
এছাড়া—

  • প্রয়োজন হলে বিতর্কিত নথির সঙ্গে তুলনার জন্য নমুনা হাতের লেখা ও স্বাক্ষর দিতে হবে;
  • নির্ধারিত তারিখে তদন্তকারী কর্মকর্তার সামনে হাজির হতে হবে;
  • নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জামিনের মুচলেকা দিতে হবে;
  • কোনো সাক্ষীকে ভয়ভীতি দেখানো বা প্রভাবিত করা যাবে না;
  • কোনো প্রমাণ নষ্ট বা বিকৃত করা যাবে না; এবং
  • আদালতের অনুমতি ছাড়া দেশ ত্যাগ করা যাবে না।

রায়ের মূল আইনি শিক্ষা:

এই রায়ের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করেছেন যে, প্রতিটি মামলায় আগাম জামিনের আবেদন সংশ্লিষ্ট মামলার নিজস্ব পরিস্থিতি ও তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে বিবেচনা করতে হবে।

তাই, কোনো আসামি অন্য একটি মামলায় হেফাজতে আছেন বা সেখানে তাঁর আগাম জামিনের আবেদন খারিজ হয়েছে—শুধুমাত্র এই কারণে অন্য মামলায় তাঁর আগাম জামিনের আবেদন অগ্রহণযোগ্য হয়ে যাবে না।

মামলার মূলনীতি:
“এক মামলায় হেফাজতে থাকা অন্য মামলায় গ্রেপ্তারের আশঙ্কাকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিলুপ্ত করে না।”


বিডিএলপিবি/মাসুম

২ অক্টো, ২০২৬

অন্যত্র অবস্থানের দাবি (Plea of Alibi): বাংলাদেশের আইনে ধারণা ও প্রমাণমূল্য

অন্যত্র অবস্থানের দাবি (Plea of Alibi): বাংলাদেশের আইনে ধারণা ও প্রমাণমূল্য

প্রতীকী ছবি
Alibi একটি ল্যাটিন শব্দ, যার অর্থ ‘অন্যত্র’ (elsewhere)। ফৌজদারি মামলায় কোনো আসামি যদি দাবি করেন যে, অপরাধ সংঘটনের সময় তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না; বরং অন্য কোনো স্থানে অবস্থান করছিলেন, তাহলে সেটিকে Plea of Alibi বলা হয়।

আইনি ভিত্তি:

বাংলাদেশে Alibi-এর ধারণা মূলত সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ১১ ধারার অধীনে বিবেচিত হয়। এই ধারায় এমন কোনো ঘটনা প্রাসঙ্গিক হিসেবে গণ্য হয়, যা মামলার মূল ঘটনা বা অন্য কোনো প্রাসঙ্গিক ঘটনার সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ অথবা কোনো ঘটনা সংঘটিত হওয়া অত্যন্ত অসম্ভব বা সম্ভাব্য করে তোলে।

অতএব, আসামি যদি নির্ভরযোগ্যভাবে প্রমাণ করতে পারেন যে অপরাধ সংঘটনের সময় তিনি ঘটনাস্থল থেকে এমন দূরত্বে ছিলেন, যেখানে তার অপরাধ সংঘটনে অংশ নেওয়া শারীরিকভাবে অসম্ভব বা অত্যন্ত অসম্ভব ছিল, তাহলে তা তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

প্রমাণের দায়:

সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ১০৩ ধারা অনুযায়ী, কোনো বিশেষ ঘটনা প্রমাণের দায় সাধারণত সেই পক্ষের ওপর থাকে, যে পক্ষ আদালতকে ওই ঘটনার অস্তিত্বে বিশ্বাস করাতে চায়। তাই Alibi-এর নির্দিষ্ট দাবি উত্থাপন করলে তা প্রমাণের দায় আসামিপক্ষের ওপর থাকে।

তবে এর অর্থ এই নয় যে, Alibi প্রমাণে ব্যর্থ হলেই আসামি দোষী সাব্যস্ত হবেন। আসামির অপরাধ প্রমাণের মূল দায় সবসময় প্রসিকিউশনের ওপরই থাকে। প্রসিকিউশনকে স্বাধীন ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণের মাধ্যমে আসামির অপরাধ প্রমাণ করতে হবে।

Alibi প্রমাণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়:

সময় ও স্থান: অপরাধ সংঘটনের সময় আসামি অন্যত্র ছিলেন—এটি স্পষ্টভাবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ: স্বাধীন সাক্ষী, ভ্রমণসংক্রান্ত নথি, ডিজিটাল রেকর্ড বা অন্যান্য নির্ভরযোগ্য প্রমাণ গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

দাবির সময়: মামলার শুরুতেই Alibi-এর বিষয়টি উত্থাপন করা হলে তার বিশ্বাসযোগ্যতা মূল্যায়নে তা প্রাসঙ্গিক হতে পারে।

ব্যর্থ Alibi-এর প্রভাব: Alibi প্রমাণে ব্যর্থতা নিজে থেকেই আসামির অপরাধ প্রমাণ করে না। প্রসিকিউশনকে তার বিরুদ্ধে ইতিবাচক ও স্বাধীন প্রমাণ উপস্থাপন করতে হয়।

গুরুত্বপূর্ণ মামলা:

Kazi Mahbubuddin Ahmed alias Mahbub vs. State, 57 DLR 513 মামলায় Alibi-এর পরিধি ও সাক্ষ্য আইন, ১৮৭২ এর ১১ ধারার প্রয়োগ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। মূল বিষয় হলো—আসামির এমন অবস্থান প্রমাণিত হতে হবে, যাতে অপরাধ সংঘটনের সময় তার ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা অত্যন্ত অসম্ভব প্রতীয়মান হয়।

এছাড়া SQC Trial-সংক্রান্ত বিচারিক কার্যক্রমেও Alibi-এর দাবি প্রমাণের দায় আসামিপক্ষের ওপর থাকার বিষয়টি আলোচিত হয়েছে। তবে শুধু Alibi-এর দাবি ব্যর্থ হওয়া দিয়ে আসামির অপরাধ প্রমাণিত হয় না; প্রসিকিউশনকে স্বতন্ত্র ও ইতিবাচক প্রমাণের মাধ্যমে অপরাধ প্রতিষ্ঠা করতে হয়।

আইনি শিক্ষা:

Alibi একটি স্বতন্ত্র প্রতিরক্ষা-ভিত্তিক দাবি, যার মাধ্যমে আসামি প্রমাণ করতে চান যে অপরাধ সংঘটনের সময় তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না। তবে Alibi প্রমাণের ব্যর্থতা একাই দোষী সাব্যস্ত করার ভিত্তি নয়; প্রসিকিউশনকে নিজস্ব প্রমাণের মাধ্যমে আসামির অপরাধ প্রমাণ করতে হবে।


বিডিএলপিবি/মাসুম