২৭ সেপ, ২০২৬

পেশাগত দক্ষতা ও নৈতিকতার মানোন্নয়নে পর্যায়ক্রমে প্রশিক্ষণ; ২০২৬ সালের মধ্যে চট্টগ্রাম ও খুলনায় কার্যক্রম

পেশাগত দক্ষতা ও নৈতিকতার মানোন্নয়নে পর্যায়ক্রমে প্রশিক্ষণ; ২০২৬ সালের মধ্যে চট্টগ্রাম ও খুলনায় কার্যক্রম

অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মোহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস কাজলের সঙ্গে ইউএনওডিসি ও ইউএনডিপির প্রতিনিধিদলের বৈঠক। ছবি: সংগৃহীত
দেশের আইনজীবীদের পেশাগত দক্ষতা, নৈতিকতা ও পেশাগত মান আরও উন্নত করতে দেশের সব বিভাগে পর্যায়ক্রমে উচ্চতর প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে চলতি ২০২৬ সালের মধ্যেই চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগে এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হবে। পরবর্তী সময়ে দেশের অন্যান্য বিভাগেও পর্যায়ক্রমে তা সম্প্রসারণ করা হবে।

অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিস সূত্রে জানা যায়, রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল ও বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মোহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস কাজলের সঙ্গে জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দপ্তর (ইউএনওডিসি) এবং জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) প্রতিনিধিদলের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বৈঠকে ইউএনওডিসির বাংলাদেশ কার্যালয়ের প্রধান শাহ মোহাম্মদ নাহীয়ান এবং ইউএনডিপির আইনের শাসন, বিচার ও নিরাপত্তাবিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা রোমানা শোয়াইগার অংশ নেন। এ সময় পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় এবং ভবিষ্যতে সহযোগিতার সম্ভাব্য ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা হয়।

বিভাগভিত্তিক প্রশিক্ষণে অংশ নেবেন জেলা ও চৌকি বারের আইনজীবীরা:

বৈঠকে দেশের আইনজীবীদের পেশাগত নৈতিকতা বিষয়ে উচ্চতর প্রশিক্ষণের আওতায় আনার বিষয়ে ঐকমত্য হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের প্রতিটি বিভাগে পর্যায়ক্রমে এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আয়োজন করা হবে।

সংশ্লিষ্ট বিভাগের অধীন জেলা বার ও চৌকি বারের আইনজীবীরা প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে এসব প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন। এর মাধ্যমে জেলা ও চৌকি বার পর্যায়ের আইনজীবীরাও আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় পরিচালিত পেশাগত নৈতিকতা ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণের আওতায় আসবেন।

প্রাথমিক পর্যায়ে ২০২৬ সালের মধ্যে চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগে প্রশিক্ষণ আয়োজনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এরপর পর্যায়ক্রমে অন্যান্য বিভাগে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।

গুরুত্ব পাবে পেশাগত সততা ও মানবাধিকার:

প্রশিক্ষণ কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য হলো আইনজীবী ও আইন কর্মকর্তাদের পেশাগত সততা, স্বাধীনতা, মানবিক মর্যাদা, মানবাধিকার এবং আইনের শাসনের প্রতি অঙ্গীকার আরও সুদৃঢ় করা।

একই সঙ্গে বিচারব্যবস্থায় পেশাগত নৈতিকতার চর্চা, দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহির বিষয়েও প্রশিক্ষণে গুরুত্ব দেওয়া হবে। আইনজীবীদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নৈতিক মানদণ্ড ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত চর্চার সঙ্গে পরিচিত করার বিষয়টিও এ উদ্যোগের অংশ।

অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের ধারাবাহিকতায় উদ্যোগ:

এর আগে জাতিসংঘ ও ইউএনডিপির সহযোগিতায় প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে কর্মরত ডেপুটি ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলদের জন্য প্রসিকিউটরদের পেশাগত নৈতিকতার নীতি ও চর্চা শক্তিশালীকরণ বিষয়ে দুই দিনব্যাপী উচ্চতর প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়।

গত ১৮ ও ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত ওই প্রশিক্ষণের শিরোনাম ছিল—‘বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের জন্য প্রসিকিউটরদের পেশাগত নৈতিকতার নীতি ও চর্চা শক্তিশালীকরণ’।

ওই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় এবার দেশের সব বিভাগের আইনজীবীদের একই ধরনের পেশাগত নৈতিকতা ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

৯ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস পালনের সিদ্ধান্ত:

বৈঠকে আগামী ৯ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস পালনের বিষয়েও আলোচনা হয়। ইউএনডিপি, আইন মন্ত্রণালয় এবং অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের পারস্পরিক সহযোগিতায় দিবসটি জাঁকজমকপূর্ণভাবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পেশাগত নৈতিকতা ও দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবসের কর্মসূচি আইনজীবী ও বিচারসংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের মধ্যে সততা, জবাবদিহি ও আইনের শাসনের চর্চাকে আরও গুরুত্ব দেওয়ার সুযোগ তৈরি করবে।


বিডিএলপিবি/এমএম

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন (২৭/০৯/২০২৬)


হাদি হত্যা মামলা: পুনঃতদন্ত প্রতিবেদন দাখিল ফের পিছিয়েছে

হাদি হত্যা মামলা: পুনঃতদন্ত প্রতিবেদন দাখিল ফের পিছিয়েছে

ছবি: সংগৃহীত 
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান বিন হাদিকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় অধিকতর (সম্পূরক) তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৩ নভেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) মামলাটির অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল। তবে তদন্ত সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) নির্ধারিত দিনে প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেনি। পরে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।

এ নিয়ে মামলাটির অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য তদন্তকারী কর্মকর্তাকে প্রায় ২০ বার সময় দেওয়া হলো। ঢাকা মহানগর প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক রোকনুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট:

এর আগে গত ৬ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ ১৭ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন।

এরপর গত ১৫ জানুয়ারি মামলার বাদী ও ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের আদালতে ওই অভিযোগপত্রের বিরুদ্ধে নারাজি আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন।

যেভাবে হামলার শিকার হন হাদি:

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে শরীফ ওসমান হাদি রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক প্ল্যাটফর্ম ইনকিলাব মঞ্চ গঠন করে এর মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করছিলেন।

গত ১২ ডিসেম্বর দুপুর ২টা ২০ মিনিটের দিকে পল্টন মডেল থানার আওতাধীন বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় মোটরসাইকেলে থাকা দুর্বৃত্তরা তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়। এতে হাদির মাথা ও ডান কানের নিচের অংশে গুলি লাগে। তিনি গুরুতর আহত হন।

প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ১৫ ডিসেম্বর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়।সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক সপ্তাহ পর ১৮ ডিসেম্বর শরীফ ওসমান হাদি মারা যান।

হত্যাচেষ্টা মামলা থেকে হত্যা মামলা:

হামলার ঘটনায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের ১৪ ডিসেম্বর পল্টন থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। পরে হাদির মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়। এখন সিআইডির অধিকতর তদন্ত শেষে সম্পূরক প্রতিবেদন দাখিলের অপেক্ষায় রয়েছে মামলাটি। আগামী ৩ নভেম্বর প্রতিবেদন দাখিলের নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন (২৭/০৯/২০২৬)


১৯তম বিজেএসের প্রাথমিক পরীক্ষার সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা

১৯তম বিজেএসের প্রাথমিক পরীক্ষার সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণা

ছবি: সংগৃহীত 
১৯তম বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস (বিজেএস) পরীক্ষা, ২০২৬-এর প্রাথমিক পরীক্ষা আগামী ১৭ অক্টোবর (শনিবার) অনুষ্ঠিত হতে পারে। এ বিষয়ে একটি সম্ভাব্য সময়সূচি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশন সচিবালয়।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) কমিশনের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (জেলা ও দায়রা জজ) মো. তসলিম আরিফ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ঊনবিংশ বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস পরীক্ষা, ২০২৬-এর প্রাথমিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য আবেদনকারী প্রার্থীদের জানানো যাচ্ছে যে, প্রাথমিক পরীক্ষা আগামী ১৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে এখনো পরীক্ষার কেন্দ্র, সময় ও বিস্তারিত সময়সূচি চূড়ান্ত করা হয়নি। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পরীক্ষা কেন্দ্র নির্ধারণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষা গ্রহণের বিষয়ে সম্মতি নেওয়ার কার্যক্রম চলছে।

এসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর পরীক্ষার কেন্দ্র ও সময় চূড়ান্ত করা হবে। এরপর চূড়ান্ত সময়সূচি যথাসময়ে বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশনের ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রকাশ করা হবে।

এ অবস্থায় ১৯তম বিজেএস পরীক্ষার সব আবেদনকারীকে কমিশনের ওয়েবসাইট নিয়মিত অনুসরণ করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তি:



বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশনের বিজ্ঞপ্তি

উচ্চ আদালতের আদেশ তার প্রকৃত অর্থ অনুযায়ী বাস্তবায়ন করতে হবে, দেওয়া যাবে না মনগড়া ব্যাখ্যা : হাইকোর্ট

উচ্চ আদালতের আদেশ তার প্রকৃত অর্থ অনুযায়ী বাস্তবায়ন করতে হবে, দেওয়া যাবে না মনগড়া ব্যাখ্যা : হাইকোর্ট

ছবি: সংগৃহীত 
উচ্চতর আদালতের কোনো আদেশ তার প্রকৃত অর্থ ও কার্যকারিতা অনুযায়ী পালন করতে হবে। কোনো অধস্তন কর্তৃপক্ষ বা পক্ষ এমনভাবে ওই আদেশের ব্যাখ্যা বা প্রয়োগ করতে পারে না, যাতে উচ্চতর আদালতের স্পষ্ট নির্দেশনা ব্যর্থ হয়। এমন পর্যবেক্ষণ এসেছে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের এক রায়ে।

Civil Revision No. 6619 of 2023 মামলায় বিচারপতি মো. আলী রেজা ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে রায় দেন। মামলাটি ছিল Aziz Al Kaisar vs. Mrs. Tabassum Kaisar and others। এর পূর্ণাঙ্গ রায় সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত হয়।

মামলার নথি অনুযায়ী, বাদী আজিজ আল কায়সার ঢাকার প্রথম যুগ্ম জেলা জজ আদালতে Title Suit No. 899 of 2023 দায়ের করেন। এতে তিনি দাবি করেন, বিবাদী নং ১ নিজের অর্থে সিটি ব্যাংক লিমিটেডের নির্দিষ্ট শেয়ার এবং ওই শেয়ার থেকে অর্জিত লভ্যাংশ ক্রয় করেননি। বাদীর দাবি ছিল, ১৯৯৩ থেকে ২০০২ সালের মধ্যে শেয়ারগুলো তার কাছ থেকে হস্তান্তরসহ বিভিন্ন উপায়ে বিবাদী নং ১-এর নামে যায় এবং এর মূল্য তিনি পরিশোধ করেন। একই সঙ্গে ওই শেয়ার ও লভ্যাংশের ওপর বিবাদী নং ১-এর কোনো স্বত্ব বা অধিকার নেই—এমন ঘোষণাও চাওয়া হয়।

মামলা দায়েরের দিনই বাদী দেওয়ানি কার্যবিধির Order 39 Rules 1 and 2 read with Section 151-এর অধীনে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন করেন। তবে বিচারিক আদালত আবেদনটি শুনানির জন্য ১১ জানুয়ারি ২০২৪ তারিখ নির্ধারণ করেন। পরে ১৯ নভেম্বর ২০২৩ তারিখেও বাদী পৃথক একটি আবেদন করেন। ওই আদেশে অসন্তুষ্ট হয়ে তিনি হাইকোর্টে পুনর্বিবেচনার আবেদন দায়ের করেন।

হাইকোর্ট ৬ ডিসেম্বর ২০২৩ তারিখে অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা দিয়ে সংশ্লিষ্ট শেয়ার হস্তান্তর বা বিক্রয়ের ওপর এবং নির্দিষ্ট ব্যাংক হিসাবে থাকা ওই শেয়ারসংক্রান্ত নগদ লভ্যাংশের বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। পরে বিবাদী নং ১ আপিল বিভাগে Civil Petition for Leave to Appeal No. 82 of 2024 দায়ের করেন। ১৪ জানুয়ারি ২০২৪ তারিখে আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারক হাইকোর্টের আদেশ সংশোধন করে বিবাদী নং ১-এর প্রাপ্ত নগদ লভ্যাংশের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেন। পরবর্তীতে ২৯ এপ্রিল ২০২৪ তারিখে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ ওই সংশোধিত আদেশটি বিধি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বহাল রাখেন।

হাইকোর্ট রায়ে বলেন, আপিল বিভাগের ১৪ জানুয়ারি ২০২৪-এর সংশোধিত আদেশে বিবাদী নং ১-কে সংশ্লিষ্ট শেয়ার থেকে অর্জিত নগদ লভ্যাংশ গ্রহণে বাধা দেওয়া হয়নি। বরং ২৯ এপ্রিল ২০২৪-এর আদেশে ওই সংশোধিত আদেশটি বিধি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বহাল রাখা হয়। ফলে ১৪ জানুয়ারি ২০২৪ থেকে বিধি নিষ্পত্তির তারিখ পর্যন্ত বিবাদী নং ১ সংশ্লিষ্ট নগদ লভ্যাংশ গ্রহণের অধিকারী ছিলেন।

রায়ে আদালত আরও বলেন, ন্যায়বিচার প্রশাসনের স্বার্থে উচ্চতর আদালতের প্রতিটি আদেশ তার প্রকৃত অর্থ ও কার্যকারিতা অনুযায়ী পালন করতে হবে। কোনো বিচারিক আদেশ মেনে চলা ইচ্ছাধীন বিষয় নয়; এটি আইনের শাসনের একটি অপরিহার্য অংশ। কোনো আদেশে নির্দিষ্ট কোনো কাজের অনুমতি থাকলে এমন ব্যাখ্যা গ্রহণ করা যাবে না, যার ফলে তার বিপরীত ফল সৃষ্টি হয়।

একই সঙ্গে হাইকোর্ট উল্লেখ করেন, অন্তর্বর্তীকালীন আবেদন, বিশেষ করে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন, সাধারণত জরুরি প্রকৃতির। এসব আবেদনের নিষ্পত্তিতে অযথা বিলম্ব হলে পক্ষগুলোর অপ্রয়োজনীয় ক্ষতি হতে পারে এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে মূল মামলার কার্যক্রমই নিষ্ফল হয়ে যেতে পারে। এ বিষয়ে দেওয়ানি মামলা পরিচালনার ব্যবহারিক নির্দেশিকার ২০ নম্বর অনুচ্ছেদের নির্দেশনার কথাও রায়ে উল্লেখ করা হয়।

রায়ে সিটি ব্যাংক লিমিটেডসহ সংশ্লিষ্টদের ১৪ জানুয়ারি ২০২৪ থেকে রায়ের তারিখ পর্যন্ত বিবাদী নং ১-এর প্রাপ্য মোট নগদ লভ্যাংশের পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রস্তুতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে কত টাকা পরিশোধ করা হয়েছে এবং কত টাকা বকেয়া রয়েছে, তা পৃথকভাবে উল্লেখ করতে বলা হয়। পরিশোধযোগ্য অবশিষ্ট লভ্যাংশ কোনো অযথা বাধা, হয়রানি বা অপ্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে হলফনামার মাধ্যমে প্রতিপালন প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়।

এ ছাড়া ঢাকার প্রথম যুগ্ম জেলা জজকে ১২ নভেম্বর ২০২৩ তারিখে দায়ের করা অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদনটি রায়ের কপি পাওয়ার ১০ কার্যদিবসের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালতকে মামলার উপকরণের ভিত্তিতে স্বাধীনভাবে ও আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে এবং অপ্রয়োজনীয় মুলতবি না দিতে বলা হয়েছে।

এসব পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশনার মাধ্যমে হাইকোর্ট বিধি নিষ্পত্তি করেন। মামলায় কোনো খরচের আদেশ দেওয়া হয়নি।


বিডিএলপিবি/মাসুম

আদালতের কর্মঘণ্টার যথাযথ ব্যবহারে গুরুত্বারোপ এবং অনুমতি ছাড়া বিচারকদের কর্মস্থল ত্যাগ না করার নির্দেশ প্রধান বিচারপতির

আদালতের কর্মঘণ্টার যথাযথ ব্যবহারে গুরুত্বারোপ এবং অনুমতি ছাড়া বিচারকদের কর্মস্থল ত্যাগ না করার নির্দেশ প্রধান বিচারপতির

ছবি: সংগৃহীত 

আদালতের নির্ধারিত কর্মঘণ্টার সর্বোচ্চ ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া বিচারকদের কর্মস্থল ত্যাগ না করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সিলেট বিভাগে কর্মরত জুডিসিয়াল সার্ভিসের সদস্যদের উদ্দেশে দেওয়া এক অভিভাষণে তিনি এসব নির্দেশনা দেন। অনুষ্ঠানে সিলেট বিভাগের চার জেলা—সিলেট, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও সুনামগঞ্জে কর্মরত জুডিসিয়াল সার্ভিসের সদস্যরা অংশ নেন।

বিভাগীয় শহরগুলোতে ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতি প্রতিটি বিভাগে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয়সংখ্যক ট্রাইব্যুনাল ভবন নির্মাণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে সাক্ষ্য গ্রহণ, আসামি হাজিরাসহ বিচারিক কার্যক্রমের উপযুক্ত ক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন। এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাসও দেন তিনি।

প্রধান বিচারপতি বিচারিক কাজে আইন ও নির্ধারিত মানদণ্ড যথাযথভাবে অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত ও সুসংহত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই বিচার বিভাগের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি সিলেট বিভাগের বিচারকদের প্রতি আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে মনিটরিং কমিটি ফর সাবর্ডিনেট কোর্টসের সিলেট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচারপতি মো. আতাবুল্লাহ, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. হাবিবুর রহমান সিদ্দিকীসহ সংশ্লিষ্ট বিচারিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় সিলেট বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের বিচারিকরা বিচারিক দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা, পেশাগত প্রত্যাশা এবং অধস্তন আদালতের কার্যক্রম পরিচালনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। সিলেট বিভাগের চার জেলার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট/চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এবং সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজরাও অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।

বক্তারা বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত ও কার্যকর বিচারসেবা নিশ্চিত করা, মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি, বিচারিক কার্যক্রমে পেশাগত দক্ষতা ও উৎকর্ষ বাড়ানো এবং বিচার বিভাগের প্রতি জনগণের আস্থা আরও দৃঢ় করার বিষয়ে তাদের অভিজ্ঞতা, মতামত ও প্রত্যাশা তুলে ধরেন।


বিডিএলপিবি/এমএম

সূত্র: বাংলা নিউজ ২৪


বিদেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধান বিচারপতি, ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পাচ্ছেন বিচারপতি রেজাউল হক

বিদেশ সফরে যাচ্ছেন প্রধান বিচারপতি, ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পাচ্ছেন বিচারপতি রেজাউল হক

ছবি: সংগৃহীত 
প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর বিদেশ সফরকালীন সময়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের প্রবীণতম বিচারপতি মো. রেজাউল হক।

প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ২ অক্টোবর পর্যন্ত থাইল্যান্ড এবং ৫ অক্টোবর থেকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত মালয়েশিয়া সফর করবেন। তাঁর অনুপস্থিতিতে আপিল বিভাগের সিনিয়র বিচারপতি মো. রেজাউল হক প্রধান বিচারপতির কার্যভার পালন করবেন।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ২ অক্টোবর পর্যন্ত থাইল্যান্ডে এবং ৫ অক্টোবর থেকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত মালয়েশিয়ায় অবস্থানকালে অথবা তিনি পুনরায় স্বীয় দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত আপিল বিভাগের কর্মে প্রবীণতম বিচারপতি মো. রেজাউল হক প্রধান বিচারপতির কার্যভার পালন করবেন।

প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সংবিধানের ৯৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিচারপতি মো. রেজাউল হকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্রপতি সম্মতি প্রদান করেছেন।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: আইন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন

২৬ সেপ, ২০২৬

বণ্টন মামলায় পৃথক স্বত্ব ঘোষণার প্রার্থনা ছাড়াই স্বত্বের প্রশ্ন নির্ধারণ করা যায়: হাইকোর্টের রায়

বণ্টন মামলায় পৃথক স্বত্ব ঘোষণার প্রার্থনা ছাড়াই স্বত্বের প্রশ্ন নির্ধারণ করা যায়: হাইকোর্টের রায়

ছবি: সংগৃহীত 
যৌথ সম্পত্তির বণ্টন মামলায় কোনো অংশের মালিকানা নিয়ে বিরোধ থাকলেও, সেই মালিকানার প্রশ্ন নিষ্পত্তির জন্য সব ক্ষেত্রে পৃথকভাবে স্বত্ব ঘোষণার মামলা করার প্রয়োজন নেই। বণ্টন মামলার মধ্যেই প্রয়োজনীয় স্বত্বের প্রশ্ন আদালত নির্ধারণ করতে পারেন।

একটি ১.৩১ একর জমি নিয়ে বিরোধের মামলায় এমন গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ। একই সঙ্গে আদালত বলেছেন, এস.এ. বা আর.এস. খতিয়ানে কারও নাম থাকলেই তার স্বত্ব চূড়ান্তভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় না; বৈধ ও নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত স্বত্বের বিপরীতে শুধু খতিয়ানের রেকর্ডকে প্রাধান্য দেওয়া যায় না।

বিচারপতি শেখ আবদুল আওয়াল ও বিচারপতি এ. কে. এম. রাবিউল হাসান সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বিভাগের বেঞ্চ Azahar Uddin Bhuiyan, being dead, his legal heirs vs. Chandraban Bibi and others (First Appeal No. 312 of 2018) মামলায় ২৫ আগস্ট ২০২৬ তারিখে এ রায় দেন। যার রায় প্রকাশিত হয় ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ তারিখে।

মামলার পটভূমি

বরিশালের যুগ্ম জেলা জজ, প্রথম আদালতে Title Suit No. 51 of 2007 মামলাটি ১.৩১ একর জমি বণ্টনের দাবিতে দায়ের করা হয়। বাদীদের দাবি ছিল, বিতর্কিত জমির ওপর তাঁদের স্বত্বের ধারাবাহিকতা পূর্ববর্তী মালিকদের মাধ্যমে তাঁদের কাছে এসেছে। তাঁদের স্বত্বের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি ছিল ১৩ জুন ১৯৩৯ তারিখের নিবন্ধিত কবুলিয়ত দলিল নং ১৯৯৯। তবে পরবর্তী এস.এ. খতিয়ানে ১.৩১ একর জমির মধ্যে ১.০৫ একর বাদীদের পক্ষে এবং অবশিষ্ট ০.২৬ একর বিবাদীদের নামে রেকর্ড হয়। বাদীদের বক্তব্য ছিল, ০.২৬ একর জমি ভুলভাবে বিবাদীদের নামে রেকর্ড করা হলেও তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে পুরো ১.৩১ একর জমি যৌথভাবে ভোগদখল করে আসছেন।

অন্যদিকে বিবাদীদের দাবি ছিল, ০.২৬ একর জমির মালিকানা নিয়ে জটিল প্রশ্ন রয়েছে। তাই পৃথকভাবে স্বত্ব ঘোষণার প্রার্থনা ছাড়া শুধু বণ্টনের মামলা করে ওই অংশের দাবি করা যায় না। তাঁরা ১৯৩৯ সালের কবুলিয়ত দলিলের কার্যকারিতা ও জমির পরিমাণ নিয়েও আপত্তি তোলেন।

নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্ত

মামলার শুনানি শেষে যুগ্ম জেলা জজ, প্রথম আদালত, বরিশাল ১৩ অক্টোবর ২০১৫ তারিখে মামলাটি আংশিকভাবে মঞ্জুর করেন। আদালত ১.০৫ একর জমির বিষয়ে বাদীদের পক্ষে বণ্টনের ডিক্রি দিলেও ০.২৬ একর জমির ক্ষেত্রে তাঁদের দাবি গ্রহণ করেননি। এর মূল কারণ ছিল—ওই অংশের স্বত্ব নিয়ে বিরোধ থাকায় পৃথক স্বত্ব ঘোষণার প্রার্থনা ছাড়া বণ্টনের দাবি করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বাদীরা হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করেন।

হাইকোর্টে মূল প্রশ্ন

আপিলের শুনানিতে হাইকোর্ট মূলত তিনটি বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়ার প্রয়োজন অনুভব করেন—

প্রথমত, পৃথক স্বত্ব ঘোষণার প্রার্থনা না থাকলেও বণ্টন মামলার মধ্যেই ০.২৬ একর জমির স্বত্বের প্রশ্ন নির্ধারণ করা যায় কি না;

দ্বিতীয়ত, দেওয়ানি কার্যবিধির Order VII Rule 3 অনুসারে জমির বিবরণ যথেষ্ট স্পষ্ট না হলে পুরো জমির বণ্টন বাধাগ্রস্ত হবে কি না;

তৃতীয়ত, বাদীরা পুরো ১.৩১ একর জমিতে তাঁদের স্বত্ব ও বণ্টনের অধিকার প্রমাণ করতে পেরেছেন কি না।

হাইকোর্টের গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ

খতিয়ান স্বত্ব সৃষ্টি বা বিলুপ্ত করে না

হাইকোর্ট প্রথমেই স্পষ্ট করেন, খতিয়ান মূলত জমির রেকর্ড; এটি নিজে থেকে কারও স্বত্ব সৃষ্টি বা বিলুপ্ত করে না। আদালত দেখতে পান, বাদীদের স্বত্বের ধারাবাহিকতা ১৯৩৯ সালের নিবন্ধিত কবুলিয়ত দলিল দ্বারা সমর্থিত। অপরদিকে এস.এ. খতিয়ানে ০.২৬ একর বিবাদীদের নামে রেকর্ড হওয়ার বিষয়টি বাদীদের স্বত্বকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল করে না। বিশেষ করে বিবাদীদের নামে থাকা খতিয়ানের ভিত্তিতে বাদীদের স্বত্ব অস্বীকার করার আগে তাঁদের স্বত্বের পক্ষে থাকা নিবন্ধিত দলিল ও অন্যান্য প্রমাণ যথাযথভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন ছিল বলে আদালত মনে করেন।

বণ্টন মামলাতেই স্বত্বের প্রশ্ন নির্ধারণ করা যায়

হাইকোর্ট বলেন, বণ্টনের মামলায় জমির অংশীদারদের স্বত্ব নির্ধারণের প্রয়োজন হলে সেই প্রশ্ন একই মামলার মধ্যেই নিষ্পত্তি করা যায়। অর্থাৎ, কোনো যৌথ সম্পত্তিতে কার কতটুকু অংশ রয়েছে—এটি নির্ধারণ করতে গিয়ে স্বত্বের আনুষঙ্গিক প্রশ্ন দেখা দিলে তার জন্য সব সময় আলাদা স্বত্ব ঘোষণার মামলা দায়ের করতে হবে, এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। এ বিষয়ে আদালত Cinmoy Chowdhury vs. Mridul Chowdhury, 55 DLR (AD) 115 মামলার নীতি অনুসরণ করেন। ফলে ০.২৬ একর জমির জন্য আলাদা স্বত্ব ঘোষণার মামলা না করায় বাদীদের বণ্টনের মামলা অগ্রহণযোগ্য হয়ে যায়নি।

জমি শনাক্ত করা সম্ভব হলে Order VII Rule 3 বাধা নয়

দেওয়ানি কার্যবিধির Order VII Rule 3 অনুযায়ী মামলার স্থাবর সম্পত্তির বিবরণ এমন হতে হবে, যাতে সম্পত্তিটি স্পষ্টভাবে শনাক্ত করা যায় এবং ভবিষ্যতে ডিক্রি কার্যকর করার সময় কোনো অসুবিধা না হয়। হাইকোর্ট দেখতে পান, মামলার তফসিলে পুরো ১.৩১ একর জমি সি.এস. দাগ নম্বর ও সীমানাসহ উল্লেখ করা হয়েছিল। ফলে জমিটি শনাক্ত করার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় তথ্য ছিল। আদালত বলেন, যৌথ সম্পত্তির বণ্টন মামলায় প্রাথমিক ডিক্রি দেওয়ার সময় প্রতিটি অংশের আলাদা ভৌত সীমানা নির্ধারণ করা আবশ্যক নয়। চূড়ান্তভাবে জমি ভাগ করার সময় অ্যাডভোকেট কমিশনারের মাধ্যমে মাপজোক ও অংশ নির্ধারণ করা যেতে পারে।

১৯৩৯ সালের নিবন্ধিত কবুলিয়ত দলিলকে অগ্রাহ্য করার কারণ নেই

মামলার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ ছিল ১৩ জুন ১৯৩৯ তারিখের নিবন্ধিত কবুলিয়ত দলিল নং ১৯৯৯। হাইকোর্ট লক্ষ্য করেন, ট্রায়াল কোর্টও দলিলটিকে প্রকৃত ও বৈধ হিসেবে গ্রহণ করেছিল। কিন্তু বিবাদীরা ওই দলিল বাতিল বা অকার্যকর ঘোষণার জন্য কোনো মামলা করেনি। আদালত আরও লক্ষ্য করেন, বিবাদীপক্ষের সাক্ষীর বক্তব্য থেকেও দলিলটির বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে প্রতীয়মান হয়। এ ক্ষেত্রে Specific Relief Act, 1877-এর Section 31 এবং Evidence Act, 1872-এর Section 90-এর বিধান প্রাসঙ্গিক বলে আদালত উল্লেখ করেন। বিশেষ করে ৩০ বছরের বেশি পুরোনো এবং যথাযথ হেফাজত থেকে উপস্থাপিত দলিলের ক্ষেত্রে তার সত্যতা সম্পর্কে আইনে অনুমানের সুযোগ রয়েছে।

শুধু মৌখিক আপত্তিতে নিবন্ধিত দলিল অকার্যকর হয় না

বিবাদীপক্ষের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, কবুলিয়ত দলিলটি এককভাবে বাদীদের পুরো জমির স্বত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পারে না। হাইকোর্ট এই যুক্তি গ্রহণ করেননি। আদালতের মতে, দীর্ঘদিনের পুরোনো নিবন্ধিত দলিল আদালতে প্রমাণিত এবং অচ্যালেঞ্জড অবস্থায় থাকলে শুধু মৌখিক বক্তব্যের ভিত্তিতে সেটিকে অকার্যকর বলা যায় না। বিবাদীরা দলিলটি বাতিল বা অকার্যকর ঘোষণার জন্য যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেয়নি—এ বিষয়টিও আদালতের বিবেচনায় গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

একজন সহ-শরিকের দখল সাধারণত সবার দখল

হাইকোর্ট আরও বলেন, যৌথ সম্পত্তিতে একজন সহ-শরিক দখলে থাকলে সাধারণভাবে সেই দখল সব সহ-শরিকের পক্ষের দখল হিসেবে বিবেচিত হয়। অন্য সহ-শরিককে সম্পূর্ণভাবে বেদখল করা হয়েছে বা তাঁর অধিকার অস্বীকার করে দীর্ঘদিন ধরে পৃথকভাবে দখল করা হয়েছে—এমন বেদখল বা ouster প্রমাণ না হওয়া পর্যন্ত একজনের দখলের কারণে অন্য সহ-শরিকের অধিকার নষ্ট হয় না। এই মামলায় বিবাদীপক্ষ বাদীদের সম্পূর্ণ বেদখলের বিষয়টি প্রমাণ করতে পারেনি। বরং বিবাদীপক্ষের সাক্ষীদের বক্তব্যে বাদীদের জমিতে দখলের বিষয়টি স্বীকার করা হয়েছে।

সাক্ষীদের স্বীকারোক্তিও আদালতের বিবেচনায় গুরুত্বপূর্ণ

মামলার সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা করে হাইকোর্ট দেখতে পান, বিবাদীপক্ষের সাক্ষীদের জবানবন্দিতে বাদীদের দখলের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্বীকারোক্তি রয়েছে। আদালত বলেন, কোনো পক্ষের নিজের বক্তব্য বা সাক্ষ্যের মাধ্যমে কোনো বিষয় স্বীকার করা হলে সেটি সেই পক্ষের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এ ছাড়া বিবাদীদের বক্তব্য ও নথিপত্রের মধ্যেও এমন কিছু বিষয় ছিল, যা বাদীদের দাবি ও ১৯৩৯ সালের দলিলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

ট্রায়াল কোর্টের সিদ্ধান্তে হাইকোর্টের আপত্তি

সবকিছু বিবেচনা করে হাইকোর্ট মনে করেন, ট্রায়াল কোর্ট ০.২৬ একর জমির বিষয়ে আইনের ভুল প্রয়োগ করেছে। বিশেষ করে এস.এ. খতিয়ানে বিবাদীদের নাম থাকার বিষয়টিকে ১৯৩৯ সালের নিবন্ধিত কবুলিয়ত দলিলের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া সঠিক হয়নি। আদালতের মতে, বাদীদের স্বত্বের ধারাবাহিকতা, নিবন্ধিত দলিল, দখল এবং সাক্ষ্যপ্রমাণ একসঙ্গে বিবেচনা করলে পুরো ১.৩১ একর জমির ওপর তাঁদের বণ্টনের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়।

হাইকোর্টের চূড়ান্ত রায়

হাইকোর্ট বিভাগ First Appeal No. 312 of 2018 মঞ্জুর করেন। ট্রায়াল কোর্টের ১৩ অক্টোবর ২০১৫ তারিখের রায় ও ডিক্রি সংশোধন করে হাইকোর্ট পুরো ১.৩১ একর জমির বিষয়ে বাদীদের পক্ষে প্রাথমিক বণ্টন ডিক্রি দেওয়ার নির্দেশ দেন।

রায়ে বলা হয়—

  • বাদীরা পুরো ১.৩১ একর জমিতে তাঁদের আইনগত অংশ অনুযায়ী পৃথক সাহাম পাওয়ার অধিকারী;

  • পক্ষগুলোকে ৪৫ দিনের মধ্যে নিজেদের মধ্যে জমি ভাগ করে নিতে হবে;

  • ৪৫ দিনের মধ্যে পারস্পরিকভাবে বণ্টন সম্ভব না হলে যে কোনো পক্ষ ট্রায়াল কোর্টে অ্যাডভোকেট কমিশনার নিয়োগের আবেদন করতে পারবেন;

  • কমিশনার সরেজমিনে জমি পরিমাপ করে প্রত্যেক পক্ষের প্রাপ্য অংশ নির্ধারণ করবেন এবং তার ভিত্তিতে চূড়ান্ত ডিক্রি প্রস্তুত করা হবে।

আপিলটি বিবাদী ১-৭ নম্বরের বিরুদ্ধে শুনানি করে এবং অন্যদের বিরুদ্ধে একতরফাভাবে মঞ্জুর করা হয়। আদালত কোনো খরচ আরোপ করেননি।

রায়ের মূল বক্তব্য

যৌথ সম্পত্তির বণ্টন মামলায় কোনো অংশের স্বত্ব নিয়ে বিরোধ থাকলেও, সেই স্বত্বের প্রশ্ন নির্ধারণের জন্য সব ক্ষেত্রে পৃথক স্বত্ব ঘোষণার মামলা করা বাধ্যতামূলক নয়। একই বণ্টন মামলায় প্রয়োজনীয় স্বত্বের প্রশ্ন নিষ্পত্তি করা যেতে পারে। বৈধ নিবন্ধিত দলিলের বিপরীতে শুধু খতিয়ানের রেকর্ডকে চূড়ান্ত স্বত্বের প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করা যায় না।

আইনি শিক্ষা

এই রায়ের মাধ্যমে হাইকোর্ট কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্ট করেছেন—

প্রথমত, খতিয়ান স্বত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ নয়।

দ্বিতীয়ত, বণ্টন মামলার প্রয়োজনেই যদি স্বত্বের কোনো আনুষঙ্গিক প্রশ্ন ওঠে, আদালত একই মামলায় সেই প্রশ্নের নিষ্পত্তি করতে পারেন।

তৃতীয়ত, সম্পত্তি তফসিল, দাগ ও সীমানার মাধ্যমে যথেষ্টভাবে শনাক্ত করা গেলে Order VII Rule 3-এর কারণে বণ্টন মামলা ব্যর্থ হবে না।

চতুর্থত, দীর্ঘদিনের পুরোনো ও অচ্যালেঞ্জড নিবন্ধিত দলিলের গুরুত্ব রয়েছে এবং শুধু মৌখিক বক্তব্য দিয়ে এমন দলিলকে অকার্যকর করা যায় না।

পঞ্চমত, যৌথ সম্পত্তিতে একজন সহ-শরিকের দখল সাধারণত অন্য সহ-শরিকদের অধিকার নষ্ট করে না; সম্পূর্ণ বেদখল বা ouster প্রমাণের প্রয়োজন রয়েছে।

উল্লেখযোগ্য নজির

  • Cinmoy Chowdhury vs. Mridul Chowdhury, 55 DLR (AD) 115

  • Sanjib Kumar Bose vs. Syed Shamsuddin Ahmed, 33 DLR (AD) 34

  • Abdul Mannan Bhuiyan vs. Md. Nasir Hossain, 18 BLD (AD) 44

  • Hachina Begum vs. Abdul Mannan, 30 BLD 628

  • Guru Charan Mondol vs. Sree Bhaba Sindhu Sarkar, 13 MLR (AD) 


বিডিএলপিবি/মাসুম