২৭ সেপ, ২০২৬

পেশাগত দক্ষতা ও নৈতিকতার মানোন্নয়নে পর্যায়ক্রমে প্রশিক্ষণ; ২০২৬ সালের মধ্যে চট্টগ্রাম ও খুলনায় কার্যক্রম

অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মোহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস কাজলের সঙ্গে ইউএনওডিসি ও ইউএনডিপির প্রতিনিধিদলের বৈঠক। ছবি: সংগৃহীত
দেশের আইনজীবীদের পেশাগত দক্ষতা, নৈতিকতা ও পেশাগত মান আরও উন্নত করতে দেশের সব বিভাগে পর্যায়ক্রমে উচ্চতর প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে চলতি ২০২৬ সালের মধ্যেই চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগে এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হবে। পরবর্তী সময়ে দেশের অন্যান্য বিভাগেও পর্যায়ক্রমে তা সম্প্রসারণ করা হবে।

অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিস সূত্রে জানা যায়, রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল ও বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মোহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস কাজলের সঙ্গে জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দপ্তর (ইউএনওডিসি) এবং জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) প্রতিনিধিদলের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বৈঠকে ইউএনওডিসির বাংলাদেশ কার্যালয়ের প্রধান শাহ মোহাম্মদ নাহীয়ান এবং ইউএনডিপির আইনের শাসন, বিচার ও নিরাপত্তাবিষয়ক জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা রোমানা শোয়াইগার অংশ নেন। এ সময় পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় এবং ভবিষ্যতে সহযোগিতার সম্ভাব্য ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা হয়।

বিভাগভিত্তিক প্রশিক্ষণে অংশ নেবেন জেলা ও চৌকি বারের আইনজীবীরা:

বৈঠকে দেশের আইনজীবীদের পেশাগত নৈতিকতা বিষয়ে উচ্চতর প্রশিক্ষণের আওতায় আনার বিষয়ে ঐকমত্য হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের প্রতিটি বিভাগে পর্যায়ক্রমে এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আয়োজন করা হবে।

সংশ্লিষ্ট বিভাগের অধীন জেলা বার ও চৌকি বারের আইনজীবীরা প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে এসব প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন। এর মাধ্যমে জেলা ও চৌকি বার পর্যায়ের আইনজীবীরাও আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় পরিচালিত পেশাগত নৈতিকতা ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণের আওতায় আসবেন।

প্রাথমিক পর্যায়ে ২০২৬ সালের মধ্যে চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগে প্রশিক্ষণ আয়োজনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এরপর পর্যায়ক্রমে অন্যান্য বিভাগে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।

গুরুত্ব পাবে পেশাগত সততা ও মানবাধিকার:

প্রশিক্ষণ কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য হলো আইনজীবী ও আইন কর্মকর্তাদের পেশাগত সততা, স্বাধীনতা, মানবিক মর্যাদা, মানবাধিকার এবং আইনের শাসনের প্রতি অঙ্গীকার আরও সুদৃঢ় করা।

একই সঙ্গে বিচারব্যবস্থায় পেশাগত নৈতিকতার চর্চা, দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহির বিষয়েও প্রশিক্ষণে গুরুত্ব দেওয়া হবে। আইনজীবীদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নৈতিক মানদণ্ড ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত চর্চার সঙ্গে পরিচিত করার বিষয়টিও এ উদ্যোগের অংশ।

অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের ধারাবাহিকতায় উদ্যোগ:

এর আগে জাতিসংঘ ও ইউএনডিপির সহযোগিতায় প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে কর্মরত ডেপুটি ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলদের জন্য প্রসিকিউটরদের পেশাগত নৈতিকতার নীতি ও চর্চা শক্তিশালীকরণ বিষয়ে দুই দিনব্যাপী উচ্চতর প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়।

গত ১৮ ও ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত ওই প্রশিক্ষণের শিরোনাম ছিল—‘বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের জন্য প্রসিকিউটরদের পেশাগত নৈতিকতার নীতি ও চর্চা শক্তিশালীকরণ’।

ওই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় এবার দেশের সব বিভাগের আইনজীবীদের একই ধরনের পেশাগত নৈতিকতা ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

৯ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস পালনের সিদ্ধান্ত:

বৈঠকে আগামী ৯ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস পালনের বিষয়েও আলোচনা হয়। ইউএনডিপি, আইন মন্ত্রণালয় এবং অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের পারস্পরিক সহযোগিতায় দিবসটি জাঁকজমকপূর্ণভাবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পেশাগত নৈতিকতা ও দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবসের কর্মসূচি আইনজীবী ও বিচারসংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের মধ্যে সততা, জবাবদিহি ও আইনের শাসনের চর্চাকে আরও গুরুত্ব দেওয়ার সুযোগ তৈরি করবে।


বিডিএলপিবি/এমএম

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন (২৭/০৯/২০২৬)



শেয়ার করুন

0 coment rios: