 |
| দীর্ঘ ছুটিতে কমছে বিচারিক কার্যদিবস, বাড়ছে মামলার নিষ্পত্তি নিয়ে উদ্বেগ; ছুটির সময়সূচি পুনর্বিবেচনা করে বিচারিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে প্রধান বিচারপতির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। |
সুপ্রিম কোর্টের দীর্ঘ অবকাশ বিচারিক কার্যক্রমের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত করছে এবং বিচারপ্রার্থীদের ন্যায়বিচার প্রাপ্তির পথে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে বলে মন্তব্য করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। তাঁর মতে, বছরের উল্লেখযোগ্য সময় আদালত বন্ধ থাকায় বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কার্যদিবস কমে যাচ্ছে। এতে বিচারাধীন মামলার নিষ্পত্তি ত্বরান্বিত করা এবং বিচারপ্রার্থীদের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটানো কঠিন হয়ে পড়ছে। এ পরিস্থিতিতে সুপ্রিম কোর্টের দীর্ঘ অবকাশের বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য প্রধান বিচারপতির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্টে নিজের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন অ্যাটর্নি জেনারেল।
দীর্ঘ ছুটি কমিয়ে বিচারিক কার্যক্রম গতিশীল করার আহ্বান
ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, সুপ্রিম কোর্টের বার্ষিক ছুটির ক্যালেন্ডার পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ৩৬৫ দিনের বছরের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ছুটির মধ্যে পড়ে। সরকারি ছুটির পাশাপাশি আদালতের নিজস্ব দীর্ঘ অবকাশ থাকায় বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কার্যদিবসের সংখ্যা কমে যায়।
তিনি জানান, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক থাকাকালেও তিনি দীর্ঘ ছুটি কমানোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। তাঁর মতে, দীর্ঘ অবকাশের কারণে বিচার বিভাগের কাজে প্রত্যাশিত গতি আসছে না। একই সঙ্গে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা কমানো এবং বিচারপ্রার্থীদের অপেক্ষার সময় হ্রাস করার ক্ষেত্রেও কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হচ্ছে না।
এ অবস্থায় ছুটির সময়সূচি পুনর্বিবেচনা করে আদালতের কার্যক্রম আরও গতিশীল করার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।
দীর্ঘ অবকাশেও অসমাপ্ত রায় লেখা নিশ্চিত নয়
দীর্ঘ ছুটির সময় বিচারপতিরা অসমাপ্ত রায় লেখার কাজ শেষ করবেন—এমন প্রত্যাশা থাকলেও বাস্তবে তা সব ক্ষেত্রে পূরণ হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেন অ্যাটর্নি জেনারেল।
তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে মাসের পর মাস একটি রায়ও লেখা হয় না। তাঁর মতে, রায় লেখার কাজ সম্পন্ন করা মূলত বিচারকদের সদিচ্ছা ও দায়িত্বশীলতার ওপর নির্ভরশীল। শুধু দীর্ঘ অবকাশ রাখলেই অসমাপ্ত রায় লেখার কাজ শেষ হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই।
তাই বিচারিক কার্যক্রমের গতি বাড়াতে ছুটির সময়সূচি পুনর্বিবেচনার পাশাপাশি বিচারকদের দায়িত্বশীলতা ও কার্যকর কর্মপরিকল্পনার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
বন্দি মায়েদের সঙ্গে থাকা শিশুদের সুরক্ষায় উদ্যোগ প্রয়োজন
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে কারাগারে বন্দি মায়েদের সঙ্গে থাকা শিশুদের ভবিষ্যৎ ও স্বাভাবিক বিকাশ নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন অ্যাটর্নি জেনারেল।
তিনি মনে করেন, এসব শিশুর সুরক্ষা, বেড়ে ওঠা এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে কার্যকর ও সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। কারাগারের পরিবেশে বেড়ে ওঠা শিশুদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা জরুরি।
শিশুদের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রতিরোধে পারিবারিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতা
কুমিল্লায় শিশু ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের মতো গুরুতর অপরাধের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি পারিবারিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতা নির্ধারণের ওপর গুরুত্ব দেন। এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে পরিবার ও সমাজের ভূমিকা পর্যালোচনা করার পাশাপাশি শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন তিনি।
নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার নিষ্পত্তিতে সন্তোষ
এদিকে, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের আওতায় বিচারাধীন অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত মামলাগুলোর নিষ্পত্তিতে সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করেন অ্যাটর্নি জেনারেল।
তাঁর মতে, এসব মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করা গেলে ভুক্তভোগীরা সময়মতো বিচার পাওয়ার সুযোগ পান।
সামগ্রিকভাবে বিচারিক কার্যক্রমের গতি বাড়ানো, মামলাজট কমানো এবং বিচারপ্রার্থীদের দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার স্বার্থে সুপ্রিম কোর্টের দীর্ঘ অবকাশের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন বলে মত দিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। এ বিষয়ে প্রধান বিচারপতি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: বিডিনিউজ ২৪ (১২.১০.২০২৬)