আদালত প্রাঙ্গণ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
আদালত প্রাঙ্গণ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

৪ সেপ, ২০২৬

০৫ বছর বা ততোধিক শাস্তিযোগ্য মাদক মামলার বিচারে জন্য ২২ ট্রাইব্যুনাল গঠন

০৫ বছর বা ততোধিক শাস্তিযোগ্য মাদক মামলার বিচারে জন্য ২২ ট্রাইব্যুনাল গঠন

ছবি: সংগৃহীত 
কমপক্ষে পাঁচ বছর বা তার বেশি শাস্তিযোগ্য মাদক মামলার বিচার দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ঢাকাসহ ১০ জেলায় ২২টি মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল গঠন করেছে সরকার। বৃহস্পতিবার আইন মন্ত্রণালয় এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ঢাকার জন্য একটি জেলা ট্রাইব্যুনালের পাশাপাশি ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন এলাকার জন্য চারটি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে। এগুলো হলো- মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল ঢাকা মহানগর-১, ঢাকা মহানগর-২, ঢাকা মহানগর-৩ ও ঢাকা মহানগর-৪।

এর মধ্যে পল্লবী, কাফরুল ও মিরপুরসহ কয়েকটি এলাকার মামলা ঢাকা মহানগর-১ ট্রাইব্যুনালে; কলাবাগান ও ধানমন্ডিসহ কয়েকটি এলাকার মামলা ঢাকা মহানগর-২ ট্রাইব্যুনালে; মতিঝিলসহ কয়েকটি এলাকার মামলা ঢাকা মহানগর-৩ ট্রাইব্যুনালে এবং উত্তরাসহ কয়েকটি এলাকার মামলা ঢাকা মহানগর-৪ ট্রাইব্যুনালে বিচার হবে।

এ ছাড়া মতিঝিলসহ কয়েকটি এলাকার মামলার জন্য ঢাকা মহানগর-৩ এবং উত্তরাসহ কয়েকটি এলাকার মামলার জন্য পৃথক ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে।
ঢাকার পাশাপাশি চট্টগ্রাম, রাজশাহী, নারায়ণগঞ্জ, কক্সবাজার, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, বগুড়া, দিনাজপুর ও যশোরেও এক বা একাধিক মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, প্রজ্ঞাপন জারির তারিখ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের অধীন কমপক্ষে পাঁচ বছর বা তার বেশি শাস্তিযোগ্য অপরাধের চলমান মামলাগুলো বর্তমান আদালত থেকে সংশ্লিষ্ট নতুন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করতে হবে। মামলা যে পর্যায়ে স্থানান্তরিত হবে, সেই পর্যায় থেকেই নতুন ট্রাইব্যুনালে পরবর্তী বিচারকাজ পরিচালিত হবে।নতুন ট্রাইব্যুনালগুলো গঠনের ফলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের অধীন গুরুতর অপরাধের মামলাগুলো নির্দিষ্ট আদালতে বিচার করার সুযোগ তৈরি হলো।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: আইন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন


৩ সেপ, ২০২৬

আইনজীবীর বিরুদ্ধে কজ লিস্ট বুকের ১১টি পাতা ছিঁড়ে নেওয়ার অভিযোগ

আইনজীবীর বিরুদ্ধে কজ লিস্ট বুকের ১১টি পাতা ছিঁড়ে নেওয়ার অভিযোগ

ছবি: সংগৃহীত 
যশোরে এক আইনজীবীর বিরুদ্ধে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের কজ লিস্ট বুকের ১১টি পাতা ছিঁড়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আদালতকক্ষে থাকা সিসি ক্যামেরার ফুটেজে কজ লিস্ট বুকের পাতা ছিঁড়ে নেওয়ার দৃশ্য ধরা পড়েছে বলে দাবি করেছেন আদালতের বেঞ্চ সহকারী মাসুদ রানা।

বেঞ্চ সহকারীর অভিযোগ, গত ১১ আগস্ট সকাল ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে আইনজীবী এ কে এম নুরুজ্জামান কাশেম আদালতকক্ষে প্রবেশ করে ১৪৪ ধারার মামলার কজ লিস্ট বুকটি নেন। এরপর ওই কজ লিস্ট বুক থেকে আগস্ট মাসের বিভিন্ন তারিখের ১১টি পাতা সবার অগোচরে ছিঁড়ে নিয়ে যান।

পরে কজ লিস্ট বুক নিয়ে কাজ করতে গিয়ে তারা দেখতে পান, ভেতরের বিভিন্ন তারিখের ১১টি পাতা নেই। এরপর আদালতকক্ষে থাকা সিসি ক্যামেরায় ধারণ করা ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখতে পান, আইনজীবী এ কে এম নুরুজ্জামান কাশেম কজ লিস্ট বুক থেকে পাতা ছিঁড়ে নিচ্ছেন। তবে কী কারণে তিনি এ কাজ করেছেন, তা জানা যায়নি।

মাসুদ রানা জানান, কজ লিস্ট বুক থেকে প্রয়োজনীয় পাতা ছিঁড়ে নিয়ে যাওয়ায় আদালতের কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে তাদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। তিনি আরও জানান, বিষয়টি তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জেলা আইনজীবী সমিতিতেও অভিযোগ জানানো হবে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আইনজীবী এ কে এম নুরুজ্জামান কাশেম বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য নয়। তিনি ওই দিন আদালতে গিয়েছিলেন তার একটি মামলার নম্বর আছে কি না, তা দেখতে। কিন্তু কজ লিস্ট বুকে মামলার নম্বর না পেয়ে তিনি ফিরে এসেছি। এরপর আদালতের পেশকার তাকে অন্তত ১০ বার ফোন করে পাতা ছিঁড়ে নেওয়ার জন্য দোষারোপ করেছেন বলে তিনি দাবি করেন।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: যুগান্তর (০২.০৯.২০২৬)

প্রাপ্তবয়স্ক আসামিকে শিশু দেখিয়ে জামিন, আইনজীবীর বিরুদ্ধে একাধিক জালিয়াতির প্রমাণ

প্রাপ্তবয়স্ক আসামিকে শিশু দেখিয়ে জামিন, আইনজীবীর বিরুদ্ধে একাধিক জালিয়াতির প্রমাণ

কোলাজ ছবি
জাল জন্মসনদ তৈরি করে প্রাপ্তবয়স্ক আসামিদের শিশু হিসেবে আদালতে উপস্থাপন করে জামিন করানোর অভিযোগের তদন্তে এক আইনজীবীর বিরুদ্ধে একাধিক জালিয়াতির তথ্য-প্রমাণ পেয়েছে আদালত। একই কৌশলে পরপর তিনটি মামলায় প্রাপ্তবয়স্ক ও বিবাহিত আসামিদের শিশু দেখিয়ে জামিন করানোর তথ্য উঠে এসেছে তদন্ত প্রতিবেদনে।

শুধু জাল জন্মসনদ ব্যবহার নয়, একটি মামলার নথি প্রায় নয় মাস গায়েব রাখা, আদালতের আদেশের নথিতে কাটাকাটি এবং অন্য এক নবীন নারী আইনজীবীর স্বাক্ষর ও সিল জাল করে দায় এড়ানোর চেষ্টার অভিযোগও তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (চৌকি) আদালতের বিচারক এস এম গালিব হাসান গত ১৯ আগস্ট আদালতে এ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। এতে মূল অভিযুক্ত আইনজীবী শেফাউল ইসলাম রিপনের আইনজীবী সনদ বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার সহকারী (মুহুরী) হাসান আলীর নিবন্ধনপত্র বা আইনজীবী সমিতিতে কাজের অনুমতিপত্র বাতিল এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে গোবিন্দগঞ্জ চৌকি আদালতের তৎকালীন জিআরও পুলিশ সদস্য আব্দুস সবুরের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনার সূত্রপাত হ্যাকার চক্রের সদস্য পলাশ রানাকে ঘিরে। গত বছরের ১৫ জুলাই যৌথ বাহিনীর অভিযানে গোবিন্দগঞ্জে তার শ্বশুরবাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলার এজাহারে পলাশের বয়স ২৫ বছর উল্লেখ থাকলেও পরে জাল জন্মসনদ তৈরি করে তাকে শিশু হিসেবে আদালতে উপস্থাপন করে জামিন নেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে।

বিষয়টি জেলা বারের আইনজীবী সরওয়ার হোসেন বাবুলসহ কয়েকজন আইনজীবী আদালতের নজরে আনেন। পরে বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হলে আদালতপাড়ায় আলোচনা শুরু হয়। এর পর আদালতের তদন্তে আইনজীবী রিপনের বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি মামলায় একই ধরনের অনিয়মের তথ্য উঠে আসে।

তদন্ত প্রতিবেদনে গোবিন্দগঞ্জ থানার জিআর ৩৮৩/২০২৪ মামলার নথি পর্যালোচনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, মামলার চার আসামির মধ্যে শাওন মিয়া, শামীম চৌধুরী ও এনামুল হক প্রাপ্তবয়স্ক। কিন্তু জাল জন্মসনদ ও অন্যান্য কাগজপত্র ব্যবহার করে তাঁদের শিশু হিসেবে আদালতে উপস্থাপন করে শিশু আদালত-২ থেকে জামিন করানো হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

একইভাবে জিআর ৩২৩/২০২৫ ও জিআর ৩৩১/২০২৫সহ আরও কয়েকটি মামলায় প্রাপ্তবয়স্ক ও বিবাহিত আসামিদের শিশু দেখিয়ে জামিন নেওয়ার তথ্য-প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছে তদন্ত কমিটি। অনলাইন সার্ভেয়ারের মাধ্যমে যাচাইয়ের পর এসব মামলায় জামিনের সময় আদালতে দাখিল করা জন্মসনদগুলো জাল ও মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তদন্তে উঠে এসেছে, নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ আড়াল করতে অন্য এক নবীন নারী আইনজীবীর স্বাক্ষর ও সিলও জাল করা হয়েছে। জিআর ৩৩১/২৫ মামলার প্রাপ্তবয়স্ক আসামি আশিক মিয়াকেও একই কৌশলে শিশু হিসেবে দেখিয়ে জামিন করানো হয় বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

পরে আদালতের নথি থেকে আইনজীবী রিপনের দাখিল করা জামিননামা, বেল বন্ড, জাল জন্মসনদসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সরিয়ে ফেলা হয় বলে তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর পরিবর্তে তাছলিমা খাতুন নামে এক আইনজীবীর স্বাক্ষর করা ওকালতনামা ও বেল বন্ড নথিতে যুক্ত করা হয় বলে অভিযোগ।

তাছলিমা খাতুন ২০২৩ সালে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল থেকে সনদ পাওয়া একজন নবীন আইনজীবী। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার নামীয় সিল ও স্বাক্ষর জাল করে জামিনের আবেদন, ওকালতনামা ও বেল বন্ড আদালতে দাখিল করা হয়।

ঘটনাটির সময় নিয়েও তদন্তে অসঙ্গতি ধরা পড়ে। তাছলিমার জাল স্বাক্ষরযুক্ত ওকালতনামাটি গাইবান্ধা বার অ্যাসোসিয়েশন থেকে বিক্রি হয় ২০২৫ সালের ১৪ আগস্ট। অথচ ওই ওকালতনামা ব্যবহার করে আসামির জামিন নেওয়া হয় তার চার দিন আগে, ১০ আগস্ট।

বিষয়টি আদালতের নজরে আসার পর আদালতের নির্দেশে আইনজীবী রিপন ও তার সহকারী হাসান আলীর বিরুদ্ধে গাইবান্ধা সদর থানায় ফৌজদারি মামলা করা হয়। মামলাটি জিআর ৩৭২/২০২৫ হিসেবে নথিভুক্ত হয়।

তদন্তে আদালতের নথি ব্যবস্থাপনা নিয়েও গুরুতর অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে। একটি মামলার নথি প্রায় নয় মাস গায়েব ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে আদালতের আদেশের নথিতে কাটাকাটি এবং নথিতে পরিবর্তন আনার অভিযোগেরও সত্যতা পাওয়া গেছে।

আইনজীবী রিপনের সহকারী হাসান আলী তদন্তের সময় তার সহকারী হিসেবে কাজ করার কথা স্বীকার করলেও আদেশের নথিতে কাটাকাটির বিষয়ে নিজের দায় অস্বীকার করেন। অন্যদিকে তৎকালীন জিআরও আব্দুস সবুর নথির আদেশের অংশে কাটাকাটির বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে শিশু আদালতে নথি হস্তান্তরের সময় সেখানে কোনো কাটাকাটি ছিল না বলে দাবি করেন তিনি। প্রায় নয় মাস নথি গায়েব থাকার বিষয়েও তিনি নিজের দায় অস্বীকার করেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

তদন্তের সময় অভিযুক্তদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগও দেওয়া হয়। আইনজীবী রিপন দাবি করেন, তিনি শুধু বেইলবন্ডে স্বাক্ষর করেছেন; ওকালতনামা বা জামিনের আবেদনে তার স্বাক্ষর ছিল না। তবে ওকালতনামা ছাড়া তিনি কীভাবে সংশ্লিষ্ট মামলায় জামিন শুনানিতে অংশ নিয়েছেন—তদন্তে এমন প্রশ্ন তোলা হলেও এর সন্তোষজনক ব্যাখ্যা তিনি দিতে পারেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তদন্তকারী বিচারক প্রতিবেদনে বলেন, বিচারপ্রার্থীদের ন্যায়বিচার পেতে সহায়তা করা আইনজীবীদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। কিন্তু সহকর্মী এক নারী আইনজীবীর স্বাক্ষর জাল করা, আদালতের নথি থেকে গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র সরিয়ে ফেলা এবং জাল কাগজপত্র ব্যবহার করে প্রাপ্তবয়স্ক আসামিদের শিশু হিসেবে দেখিয়ে জামিন করানোর মতো ঘটনা অত্যন্ত গুরুতর।

এসব ঘটনাকে দেশের সামগ্রিক বিচার বিভাগের জন্য ‘কালো অধ্যায়’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে তদন্ত প্রতিবেদনে। পেশাগত শপথ ভঙ্গ ও ধারাবাহিক জালিয়াতির অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় আইনজীবী শেফাউল ইসলাম রিপনের সনদ বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে।

একই সঙ্গে তার সহকারী হাসান আলীর গাইবান্ধা জেলা আইনজীবী সমিতিতে কাজ করার অনুমতিপত্র বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে। আদালতের নথি প্রায় নয় মাস গায়েব থাকা এবং নথি সংরক্ষণে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে তৎকালীন জিআরও পুলিশ সদস্য আব্দুস সবুরের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে আইজিপি ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ করা হয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে দণ্ডবিধির ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ৩৪ ধারায় দণ্ডনীয় অপরাধের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযুক্ত তিনজনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য গত ১৯ আগস্ট তদন্ত প্রতিবেদনটি শিশু আদালত-২, গাইবান্ধায় পাঠানো হয়েছে।

এদিকে আইনজীবী রিপনের বিরুদ্ধে ওঠা জালিয়াতির বিষয়টি আদালতের নজরে আনার পর হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন জেলা বারের আইনজীবী সরওয়ার হোসেন বাবুল। তার দাবি, তিনি কয়েকজন আইনজীবীকে সঙ্গে নিয়ে বিষয়টি আদালতের নজরে আনেন। পরে আদালতের নির্দেশে রিপনের বিরুদ্ধে গাইবান্ধা সদর থানায় দুটি মামলা করা হয়।

বাবুলের অভিযোগ, ওই মামলাগুলোর তদন্তভার গাইবান্ধা সদর থানার উপপরিদর্শক সুদীপ্ত শাহীনের ওপর থাকলেও রিপনকে গ্রেপ্তার না করে ওই পুলিশ কর্মকর্তা তাকে একটি মামলায় অজ্ঞাত আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করে হয়রানি করেন। ওই মামলায় গ্রেপ্তারের পর তাকে ২২ দিন কারাগারে থাকতে হয় বলে জানান তিনি। পরে জামিনে মুক্তি পান।

তদন্ত প্রতিবেদনে ওঠা অভিযোগগুলোর বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ এবং বিচারিক নিষ্পত্তিই শেষ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায় নির্ধারণ করবে।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: লয়্যার্স ক্লাব বাংলাদেশ (০২.০৯.২০২৬)

৬৪ জেলা এবং ৮ টি মহানগরের বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের জন্য আবাসিক ভবন নির্মাণ প্রকল্পের স্থান নির্বাচনের নির্দেশ

৬৪ জেলা এবং ৮ টি মহানগরের বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের জন্য আবাসিক ভবন নির্মাণ প্রকল্পের স্থান নির্বাচনের নির্দেশ

ছবি: সংগৃহীত 
দেশের ৬৪ জেলা এবং ৮ টি মহানগরের বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের জন্য আবাসিক ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে প্রকল্পের স্থান নির্বাচনের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের পরিকল্পনা ইউনিট এর এক অফিস আদেশের মাধ্যমে ৬৪ জেলা এবং ৮ টি মহানগরের বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের জন্য আবাসিক ভবন নির্মাণের প্রকল্পের স্থান নির্বাচনের জন্য বলা হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, বর্তমানে প্রতিটি জেলায় দেওয়ানি ও ফৌজদারি আদালত এবং বিভিন্ন বিশেষ ট্রাইব্যুনালে বিভিন্ন স্তরের প্রায় ৩০ থেকে ৫০ জন বিচারক কর্মরত থাকেন। কতিপয় জেলা ব্যতীত অধিকাংশ জেলাতেই বিচারকদের কোনো সমন্বিত বা পর্যাপ্ত সরকারি আবাসন ব্যবস্থা নেই। ফলে অধিকাংশ বিচারককে ভাড়া বাসায় ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করতে হয়। স্পর্শকাতর মামলা পরিচালনার কারণে ভাড়া বাসায় বসবাস বিচারক ও তাঁদের পরিবারের সার্বিক নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করছে।

অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, অনেক স্থানে জেলা জজশীপের আওতায় আবাসন নির্মাণের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা রয়েছে। ভূমির সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করার মাধমে প্রতিটি জেলা/মহানগরে স্থানভেদে ১০-১৫ তলাবিশিষ্ট আধুনিক আবাসিক কমপ্লেক্স নির্মাণ করা হলে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের মানসম্মত আবাসন নিশ্চিত হবে করা সম্ভব হবে যা বর্তমান সংকট নিরসনের পাশাপাশি ভবিষ্যতের বর্ধিত চাহিদাও পূরণ করতে পারবে। এই ধরনের একক ভবনে সিসিটিভি, নির্দিষ্ট প্রবেশপথ ও সার্বক্ষণিক সশস্ত্র পুলিশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা অত্যন্ত সহজ হবে।

এলক্ষ্যে, ৬৪ জেলা এবং ৮ টি মহানগরের বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের জন্য আবাসিক ভবন নির্মাণ' শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ভবন নির্মাণের লক্ষ্যে জেলা ও দায়রা জজগণকে তার আওতাধীন আদালত প্রাঙ্গণে বা পুরাতন কোর্ট/মুন্সেফ কোর্ট প্রাঙ্গণে যে পরিমাণ জায়গা রয়েছে তার বর্ণনা ও স্থানিক নক্সা প্রেরণ এবং জায়গা না থাকলে জেলা জজ আদালত ভবনের এক কিলোমিটার পারিপার্শ্বিকতার মধ্যে প্রয়োজনীয় ভূমি অধিগ্রহণ করার মতো জায়গার ধারণা প্রদানের জন্য এই অফিস আদেশে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: আইন মন্ত্রণালয়ের অফিস আদেশ (০২.০৯.২০২৬)

২ সেপ, ২০২৬

বিচারকের সামনেই নারী আইনজীবীকে হেনস্তা, ঢাকা আইনজীবী সমিতিতে লিখিত অভিযোগ

বিচারকের সামনেই নারী আইনজীবীকে হেনস্তা, ঢাকা আইনজীবী সমিতিতে লিখিত অভিযোগ

ছবি: সংগৃহীত 
‎ঢাকার বিচারিক আদালতে মামলার শুনানির সময় বিচারকের সামনেই নারী আইনজীবী এডভোকেট সোমাইয়াদ শাহেরিয়া ফিদাকে হেনস্তা, অশালীন আচরণ, হুমকি এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের ঢাকা বার ইউনিটের আহ্বায়ক এডভোকেট খোরশেদ আলমের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রতিকার ও পেশাগত নিরাপত্তা চেয়ে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ওই আইনজীবী।


‎অভিযোগপত্রের তথ্য অনুযায়ী, ৩১ আগস্ট দুপুর আনুমানিক ১টা ২৪ মিনিটে সিএমএম আদালত-১৯-এর এজলাসে একটি মামলার শুনানি করছিলেন এডভোকেট সোমাইয়াদ শাহেরিয়া ফিদা। এ সময় কয়েকজন আইনজীবী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। অভিযোগ করা হয়, শুনানি শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই এডভোকেট খোরশেদ আলমসহ কয়েকজন আইনজীবী সেখানে উচ্চস্বরে কথা বলতে শুরু করেন এবং শুনানিতে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়।

‎অভিযোগে আরও বলা হয়, এ সময় নারী আইনজীবীকে উদ্দেশ করে রাজনৈতিক পরিচয় ও কর্মকাণ্ড নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করা হয় এবং তাকে আদালতে প্র্যাকটিস করতে না দেওয়ার কথা বলা হয়। এতে তিনি পেশাগতভাবে অপদস্থ ও মানসিকভাবে বিব্রত বোধ করেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন।

‎সোমাইয়াদ শাহেরিয়া ফিদার অভিযোগ, এর আগেও বিভিন্ন সময়ে তিনি পেশাগতভাবে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন। সর্বশেষ আদালতকক্ষে বিচারকের উপস্থিতিতে এমন ঘটনার কারণে তিনি নিজের নিরাপত্তা এবং স্বাধীনভাবে আইন পেশা পরিচালনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ঘটনার বিষয়ে আদালতের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তিনি।

‎অভিযোগে ঘটনাটির পেছনে একটি মামলার আইনজীবী পরিবর্তনের বিষয়টি কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, মামলার আসামি খাজা হাবিবুল্লাহ হাবিব আগে এডভোকেট খোরশেদ আলমের মক্কেল ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি এডভোকেট সোমাইয়াদ শাহেরিয়া ফিদাকে আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পর বিরোধের সূত্রপাত হয়। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।

‎অন্যদিকে অভিযোগের বিষয়ে এডভোকেট খোরশেদ আলম বলেন, তাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে ‘ফ্যাসিস্ট ও তাদের দোসরদের’ মামলায় আইনজীবী হিসেবে অংশ না নেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। ওই মামলায় এমন ব্যক্তিদের পক্ষে আইনজীবীরা শুনানি করছেন—এমন তথ্যের ভিত্তিতেই তাদের কয়েকজন আদালতে গিয়েছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। তিনি অভিযোগকারী আইনজীবীদের কর্মকাণ্ড নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

‎খাজা হাবিবুল্লাহ হাবিবের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও দুই পক্ষের বক্তব্যে ভিন্নতা দেখা গেছে। খোরশেদ আলম তাকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে দাবি করলেও অভিযোগকারী পক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, খাজা হাবিবুল্লাহ হাবিব দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং বিভিন্ন সময়ে দলটির মনোনয়ন নিয়ে ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।

‎অভিযোগকারী আইনজীবী সোমাইয়াদ শাহেরিয়া ফিদা বলেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের তকমা ব্যবহার করে তাকে পেশাগতভাবে চাপে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। তার ভাষ্য, আদালতের মতো জায়গায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত এবং ঘটনার ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

‎এর আগে ২০২৫ সালের ১৭ মে ঢাকার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলার শুনানিকে কেন্দ্র করে ‘অপেশাদার আচরণ’ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার অভিযোগে এডভোকেট খোরশেদ আলমসহ চার আইনজীবীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার তথ্যও সামনে এসেছে। তবে ওই ঘটনায় পরবর্তী কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংগঠনের পক্ষ থেকে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।


‎বিডিএলপিবি/এমএম
‎সূত্র: যায়যায়দিন (১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬)