১৫ সেপ, ২০২৬

তথ্য গোপন করে হাদি হত্যা মামলার আসামির হাইকোর্টে জামিনের চেষ্টা, আইনজীবীকে সতর্কবার্তা

তথ্য গোপন করে হাদি হত্যা মামলার আসামির হাইকোর্টে জামিনের চেষ্টা, আইনজীবীকে সতর্কবার্তা

ছবি: সংগৃহীত 
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার আসামি আমিনুল ইসলাম রাজুর বিরুদ্ধে থাকা হত্যা মামলার তথ্য গোপন করে হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করা হয়েছিল।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের হাইকোর্ট বেঞ্চে জামিন আবেদনের শুনানি হয়।

আদালত জানতে চান, আমিনুল ইসলাম রাজু হত্যা মামলার আসামি কি না। এ প্রশ্নে আসামিপক্ষের আইনজীবী নীরব থাকেন। পরে ভিকটিমের নাম জানতে চাইলে তিনি শুধু ‘ওসমান’ বলে থেমে যান।

এতে আদালতের সন্দেহ হলে জামিন আবেদনের সঙ্গে থাকা নথি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এটি শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার আসামির আবেদন।আবেদনের কজ টাইটেলেও আসামির বিরুদ্ধে থাকা ৩০২ ধারার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি।

পরে আদালত আমিনুল ইসলাম রাজুর জামিন আবেদন সরাসরি খারিজ করে দেন এবং তথ্য গোপনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীকে সতর্ক করেন।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: ঢাকা পোস্ট (১৫.০৯.২০২৬)

রংপুরে আইনজীবীর কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ, জমি দখলের চেষ্টা

রংপুরে আইনজীবীর কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ, জমি দখলের চেষ্টা

ছবি: সংগৃহীত 
রংপুরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্য অ্যাডভোকেট মোঃ ইব্রাহীম খলিল উল্লাহর কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রংপুর আইনজীবী সমিতির নির্মাণাধীন ভবনের সামনে সংবাদ সম্মেলন করেছে ‘সচেতন আইনজীবী সমাজ, রংপুর’।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে অ্যাডভোকেট ইব্রাহীম খলিল উল্লাহ বলেন, খোদ্দ তামপাট মৌজার ১৬ শতক জমি তিনি ২০০৯ সালের ৩ মার্চ দলিলের মাধ্যমে ক্রয় করেন। এরপর থেকে তিনি জমিটি ভোগদখল করে আসছেন। জমিটি তার নামে খারিজ করা হয়েছে এবং নিয়মিত সরকারি খাজনাও পরিশোধ করা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।

তিনি অভিযোগ করেন, পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে স্থানীয় এক ব্যক্তি তার ক্রয় করা জমিতে অবস্থান নেন এবং সেখানে একটি রাজনৈতিক কার্যালয় স্থাপন করা হয়। পরবর্তীতে সরকার পরিবর্তনের পর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় তিনি ওই জমির দখল ফিরে পান বলে জানান।

ইব্রাহীম খলিল উল্লাহর অভিযোগ, গত ২০ আগস্ট সন্ধ্যায় তার ভোগদখলে থাকা একটি খাবার হোটেলে কয়েকজন ব্যক্তি এবং আরও কিছু অজ্ঞাতনামা লোকজন প্রবেশ করে হোটেলের একটি অংশে তালা লাগিয়ে দেন। এ সময় তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় এবং ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তিনি আরও জানান, বিষয়টি স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের অবহিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা সফল হয়নি। পরে অভিযুক্তদের কয়েকজনের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে প্রথমে ১০ লাখ এবং পরে তার রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রসঙ্গ তুলে ৮ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে তার কাছ থেকে ৬ শতক জমি লিখে দেওয়ার দাবিও করা হয়েছে বলে লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, চাঁদা দাবির বিষয়টি রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানানোর পর লিখিত অভিযোগ নিয়ে তাজহাট থানায় যান। তবে সেখানে তার অভিযোগের বিষয়ে যথাযথ আইনগত পদক্ষেপ না নিয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে আর্থিক সমঝোতার পরামর্শ দেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তাকে সর্বনিম্ন ৪ লাখ টাকার বিনিময়ে বিষয়টি মীমাংসা করে দেওয়ার প্রস্তাব দেন। পরবর্তীতেও থানায় গিয়ে একই ধরনের প্রস্তাব পাওয়ার অভিযোগ করেন তিনি।

অ্যাডভোকেট ইব্রাহীম খলিল উল্লাহ বলেন, চাঁদা দাবির বিষয়ে হওয়া ফোনালাপের ভয়েস রেকর্ড তার মোবাইলে সংরক্ষিত রয়েছে। একজন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী হিসেবে নিজের বৈধ সম্পত্তি ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে তিনি উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন বলেও জানান।

তিনি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। একই সঙ্গে বিষয়টি দেশের ঊর্ধ্বতন আইন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতাদের অবহিত করার কথাও জানান তিনি।

তবে সংবাদ সম্মেলনে যাদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করা হয়েছে, তাদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে আইনগত তদন্ত প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।


বিডিএলপিবি/এমএম

মাদরাসায় নির্যাতন বন্ধে পদক্ষেপ নিতে সরকারকে লিগ্যাল নোটিশ

মাদরাসায় নির্যাতন বন্ধে পদক্ষেপ নিতে সরকারকে লিগ্যাল নোটিশ

ছবি: সংগৃহীত 
দেশের বিভিন্ন মাদ্রাসায় শিশুদের প্রতি চলমান যৌন নির্যাতন, ধর্ষণ, বলাৎকার ও নিষ্ঠুর আচরণ প্রতিরোধে অবিলম্বে কার্যকর, প্রতিরোধমূলক ও কাঠামোগত রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ গ্রহণে সরকার সংশ্লিষ্টদের আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সচিব, শিক্ষা মন্ত্রণালয় সচিব, আইন মন্ত্রণালয় সচিব ও ধর্ম মন্ত্রণালয় সচিব বরাবর এ নোটিশ পাঠানো হয়েছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুহাম্মদ নূরুল হুদা এ নোটিশ প্রেরণ করেন।

নোটিশে কয়েকটি দাবি তুলে বলা হয়েছে, সারাদেশের আলিয়া, কওমি ও হিফজসহ সব ধরনের মাদ্রাসার জন্য অভিন্নভাবে প্রযোজ্য জাতীয় পর্যায়ে একটি শিশু যৌন নির্যাতন প্রতিরোধ ও সুরক্ষা সেল প্রণয়ন গঠন ও বাস্তবায়ন শুরু করা দরকার। বিএনডব্লিউ মামলায় নির্দেশিত মডেল অনুসরণ করে মাদ্রাসা ও অন্যান্য আবাসিক ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উত্থাপিত শিশু যৌন নির্যাতনের অভিযোগসমূহ গ্রহণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রতিটি মাদ্রাসা ও ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিশু যৌন নির্যাতন প্রতিরোধ ও সুরক্ষা কমিটি প্রতিষ্ঠা করা দরকার।

একই সঙ্গে অবিলম্বে শিশু আইন, ২০১৩-এর ৭ থেকে ৯ ধারায় গঠিত জাতীয়, জেলা ও উপজেলা শিশুকল্যাণ বোর্ডসমূহকে নিজ নিজ এখতিয়ারাধীন প্রতিটি মাদ্রাসার সুরক্ষা-ব্যবস্থার একটি নিরীক্ষা পরিচালনা ও তার ফলাফল প্রকাশের নির্দেশ প্রদান করা এবং প্রতিটি মাদ্রাসার প্রবেশপথ, করিডোর, শ্রেণিকক্ষ ও সাধারণ আবাসিক এলাকায় সিসিটিভি স্থাপন বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন। তবে বাথরুম, টয়লেট বা অন্য কোনও ব্যক্তিগত স্থানে ক্যামেরা স্থাপন স্পষ্টভাবে ও স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করা যার লক্ষ্য হবে প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি, শিশুদের ব্যক্তিগত জীবনের ওপর নজরদারি না করার বিষয়টিও লক্ষ‍্য রাখতে হবে।

তাই ৫ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে নোটিশে অনুরোধ জানানো হয়েছে। তা না হলে রিট দায়ের করা হবে বলেও নোটিশে জানানো হয়েছে।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: এনটিভি (১৪.০৯.২০২৬)

উপদেষ্টার সই জাল করে গরু আমদানির অনুমোদন, আত্মসমর্পণের পর কারাগারে অতিরিক্ত এসপি

উপদেষ্টার সই জাল করে গরু আমদানির অনুমোদন, আত্মসমর্পণের পর কারাগারে অতিরিক্ত এসপি

ছবি: সংগৃহীত 
সাবেক স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার স্বাক্ষর নকল করে প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে করা মামলায় সাময়িক বহিষ্কৃত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) শাহাবুদ্দীন আহমদকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

সোমবার শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইনের আদালত তার জামিন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এর আগে এ মামলায় আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন তিনি।

ঘটনার বিবরণ: মামলা সূত্রে জানা যায়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কক্সবাজারের শাহপরীর দ্বীপ করিডোর দিয়ে মায়ানমার থেকে গরু আমদানি করা হলেও ২০১৯ সালের পর তা বন্ধ হয়ে যায়। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সময়ে পুনরায় আমদানি কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা থেকে কক্সবাজারের ব্যবসায়ী আলাউদ্দিন রবিন সরকারি অনুমোদন পাওয়ার চেষ্টা করেন। এজন্য তিনি স্থানীয় পরিচিত ব্যক্তি খোরশেদ আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। যিনি একটি বেসরকারি ব্যাংক কর্মকর্তা এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) কর্তৃপক্ষের মহাপরিচালক ও যুগ্ম সচিব মফিদুল আলমের ভাই। সরকারি উচ্চপর্যায়ের সংযোগ থাকার কথা বলে খোরশেদ আলম তাকে গরু আমদানির অনুমোদন নিয়ে দিতে পারবেন বলে আশ্বস্ত করেন। একপর্যায়ে তাকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করতে বলা হয়। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সুপারিশসহ ৫ লাখ গরু আমদানি করার মঞ্জুরিপত্র ইস্যু করা হয়। পরে আলাউদ্দিন রবিন ঢাকায় এসে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে খোঁজ নিতে গেলে জানতে পারেন, এমন কোনো আবেদন মন্ত্রণালয়ে আসেনি। পরবর্তীতে এ ঘটনায় রাজধানীর পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করে ডিবি পুলিশ।

তদন্ত শেষে ৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেয় সিআইডি। সেখানে উঠে আসে সংঘবদ্ধ এক প্রতারক চক্রের কারবার। যুগ্ম সচিবের ভাই থেকে শুরু করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ ৫ জনের এই চক্র প্রতারণার মাধ্যমে শতকোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টা চালায়।

মামলার কোথাও নাম না থাকলেও সিআইডির তদন্তে উঠে আসে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাময়িক বহিষ্কৃত) শাহাবুদ্দীন আহমদের নাম। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক আবুল কালাম তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালের ২ মার্চ ‘কুড়িগ্রাম জেলার সদর উপজেলার সীমান্ত এলাকায় অবস্থিত ২২ নম্বর বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ন নিয়ন্ত্রণাধীন যাত্রাপুর বিওপির বিট খাটালটি ১৪৩১ বঙ্গাব্দের জন্য নবায়ন/পরিচালনার অনুমতি প্রদান প্রসঙ্গে’ এমন আবেদন প্রথমে শাহাবুদ্দীন আহমদের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে জাফর ইকবাল ওরফে রাঙ্গাকে পাঠানো হয়। জাফর ইকবাল পরে জাবেদ ও খোরশেদ আলমকে আবেদনের কপি হোয়াটসঅ্যাপ করেন। যেটার আদলে আরেকটি আবেদন তৈরি করতে বলা হয় ব্যবসায়ী আলাউদ্দিনকে। যার মাধ্যমে তিনি ওই বছরের ৩ মার্চ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর জন্য আবেদন প্রস্তুত করে স্ক্যান কপি হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে খোরশেদ আলমকে পাঠান।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: স্টার নিউজ (১৪.০৯.২০২৬)

ভুয়া ওয়ারেন্টে গ্রেফতার ঠেকাতে কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ যাচাইয়ের নির্দেশ হাইকোর্টের

ভুয়া ওয়ারেন্টে গ্রেফতার ঠেকাতে কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ যাচাইয়ের নির্দেশ হাইকোর্টের

ছবি: সংগৃহীত 
ভুয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানার মাধ্যমে গ্রেপ্তার ও হয়রানি বন্ধে পুলিশ কর্মকর্তাদের কেন্দ্রীয় ডেটা ব্যবস্থাপনা সিস্টেম থেকে পরোয়ানার সত্যতা যাচাই করার এবং এ বিষয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শককে (আইজিপি) সার্কুলার জারির নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

ভুয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ইস্যু করে বিরোধী পক্ষকে গ্রেপ্তার ও হয়রানি করার বিষয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) একটি রিট পিটিশন দাখিল করে। শুনানি শেষে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ ২০১৩ সালের ৩০ জানুয়ারি রুল জারি করে এবং আরিফ নিয়াজীর গ্রেপ্তার সংক্রান্ত বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য গুলশান থানার ওসিকে নির্দেশ দেয়।

বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলম ও বিচারপতি মুরাদ এ মাওলা সোহেলের বেঞ্চ আজ সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) শুনানি শেষে ওই রুল নিষ্পত্তি করে রায় দিয়েছেন।

রায়ে আদালত বলেন, কোনো পুলিশ কর্মকর্তা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করতে গেলে কেন্দ্রীয় ডেটা ব্যবস্থাপনা সিস্টেম থেকে তার সত্যতা যাচাই করে তারপর গ্রেপ্তারের ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে পুলিশের মহাপরিদর্শককে আদালতের এই নির্দেশনা উল্লেখ করে সার্কুলার জারি করে তা সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আরেকটি আদেশে আদালত সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে নির্দেশ দিয়েছেন, জেলা জজ, মহানগর দায়রা জজ, সিজিএম, সিএমএমসহ সব নিম্ন আদালতের বিচারকদের কাছে এই মর্মে নির্দেশনা পাঠাতে হবে, যাতে যেকোনো নালিশি মামলা দায়েরের সময় বাদী ও আইনজীবীর পরিচয় নিশ্চিত করতে আইনজীবীর পেশাগত পরিচয়পত্র ও বাদীর জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি মামলার সঙ্গে সংযুক্ত রাখার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়।

রায়ে আদালত বলেন, যেকোনো নাগরিককে গ্রেপ্তার করতে হলে ফৌজদারি কার্যবিধিতে থাকা বিধিবিধান অনুসরণ করে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন, নতুবা আইনের ব্যত্যয় ঘটবে।

আদালতের পর্যবেক্ষণ: ভুয়া ওয়ারেন্টের মাধ্যমে গ্রেপ্তার হলে একজন নাগরিকের মৌলিক ও সাংবিধানিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়, যা নিশ্চিত করা সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব। আদালতের ভাষায়, বিচারব্যবস্থার মাধ্যমে মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হয়, সে জন্য মামলা দায়ের ও গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন অত্যন্ত জরুরি, নয়তো নাগরিকের যে ক্ষতি হয় তা পূরণ করা সম্ভব হয় না।

শুনানিতে এইচআরপিবির পক্ষে থাকা সিনিয়র অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ বলেন, গুলশানের বাসিন্দা আরিফ নিয়াজীকে ২০১২ সালে তার গুলশানের বাসা থেকে একটি ভুয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হয় এবং আদালতে সোপর্দ করার পর তিনি জানতে পারেন, তার বিরুদ্ধে একটি ভুয়া মামলা ও ভুয়া ওয়ারেন্ট তৈরি করা হয়েছিল। এ বিষয়ে আদালতের নির্দেশে গঠিত একটি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনেও ভুয়া মামলার মাধ্যমে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ইস্যু করার বিষয়টি প্রমাণিত হয় বলে তিনি জানান। পরবর্তী সময়ে আরও একাধিক গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয় যে, ভুয়া ওয়ারেন্টের মাধ্যমে শত্রুতা চরিতার্থ করতে বিভিন্নভাবে প্রভাবশালীরা নাগরিকদের হয়রানি করছেন। এসব প্রতিবেদন যুক্ত করে জনস্বার্থে এইচআরপিবি রিট পিটিশন দাখিল করে এবং এ ধরনের ভুয়া ওয়ারেন্ট ও নালিশি মামলা বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা চায়। মনজিল মোরসেদ আদালতে আরও বলেন, আইন অনুযায়ী কোনো নাগরিককে হয়রানি করার সুযোগ নেই, তবু অনেক ক্ষেত্রে ভুয়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কারণে মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছে।

সরকারপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জে আর খান রবিন রুলের বিরোধিতা করে বলেন, ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় ডেটা সিস্টেম চালু করা হয়েছে, যার কারণে ভুয়া ওয়ারেন্টের মাধ্যমে গ্রেপ্তারের সুযোগ নেই। তিনি আরও বলেন, এই মামলাটি যেহেতু সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ দায়ের করেননি, তাই এতে প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ নেই বলে তার যুক্তি।

রিট পিটিশনার হিসেবে ছিল হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ। বিবাদী হিসেবে ছিলেন স্বরাষ্ট্র সচিব, আইজিপি, র‍্যাবের মহাপরিচালক, চট্টগ্রাম বিভাগের ডিআইজি, ঢাকার পুলিশ কমিশনার ও গুলশান থানার ওসিসহ মোট আটজন। রিটকারীর পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ, তাকে সহযোগিতা করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ সারওয়ার আহাদ চৌধুরী, অ্যাডভোকেট সঞ্জয় মণ্ডল ও অ্যাডভোকেট নাসরিন সুলতানা। সরকারপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জে আর খান রবিন ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ হুমায়ুন হোসেন তুহিন।


বিডিএলপিবি/এমএম

১৪ সেপ, ২০২৬

প্রতিকার পেতে পারিবারিক আদালত (Family Court) এ সকল নাগরিক কি যেতে পারে?

প্রতিকার পেতে পারিবারিক আদালত (Family Court) এ সকল নাগরিক কি যেতে পারে?

প্রতীকী ছবি
সংজ্ঞা: Black’s Law Dictionary অনুযায়ী, পারিবারিক আদালত (Family Court) হলো এমন আদালত, যা পরিবারের সদস্যদের অধিকার ও কর্তব্য-সংক্রান্ত বিষয় শুনানি করে। সাধারণত বিবাহ, বিবাহবিচ্ছেদ, ভরণপোষণ, সন্তানের অভিভাবকত্ব ও হেফাজত ইত্যাদি পারিবারিক বিরোধের নিষ্পত্তি করে। এটি একটি বিশেষ প্রকৃতির আদালত (Special Court)।

পারিবারিক আদালত প্রতিষ্ঠা: প্রথম বাংলাদেশে Family Courts Ordinance, 1985-এর অধীনে পারিবারিক আদালত প্রতিষ্ঠিত হয়। Family Courts Ordinance, 1985 পরবর্তীতে Family Courts Act, 2023 দ্বারা প্রতিস্থাপিত/রহিত হয়েছে। ফলে বর্তমানে পারিবারিক আদালতের আইনগত কাঠামো Family Courts Act, 2023-এর অধীনে বিবেচনা করতে হবে। এর ধারা ৪ অনুযায়ী, সকল Assistant Judge/ Civil Judge এর আদালতই Family Court হিসেবে গণ্য হয় এবং Assistant Judge/Civil Judge-গণ Family Court-এর বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—Assistant Judge/Civil Judge-গণ তুলনামূলকভাবে নবীন ও কম অভিজ্ঞ হওয়ায় পারিবারিক মামলার মত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিচার করার জন্য তাঁদের অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রশ্ন উঠে। পক্ষান্তরে, ভারত ও পাকিস্তানে এ ক্ষেত্রে তুলনামূলক বেশি অভিজ্ঞতার প্রয়োজনীয়তা দেখা যায়।

পারিবারিক আদালতের এখতিয়ার:  এই আইনের ধারা ৫ অনুযায়ী Family Court-এর একচেটিয়া এখতিয়ারের বিষয়গুলো হলো—
১. বিবাহ বিচ্ছেদ (Dissolution of Marriage)
২. দাম্পত্য অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা (Restitution of Conjugal Rights)
৩. দেনমোহর (Dower)
৪. ভরণপোষণ (Maintenance)
৫. সন্তানের অভিভাবকত্ব ও হেফাজত (Guardianship and Custody of Children)

এছাড়া, Guardians and Wards Act, 1890-এর ক্ষেত্রে Family Court-কে District Court হিসেবে গণ্য করা হয় এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে District Judge-এর কাছে আপিল করা যায়।

সকল ধর্মের জন্য Family Court-এর প্রযোজ্যতা:
Family Court Ordinance-এর শুরুতে এর প্রয়োগ নিয়ে বিতর্ক ছিল—শুধু মুসলিমরা Family Court-এ যেতে পারবেন, নাকি সকল ধর্মের নাগরিক পারবেন?
Krishnapada Talukder v. Geetasree Talukder (14 BLD 415) মামলায় বলা হয়েছিল, Ordinance-এর সুবিধা মুসলিমদের জন্য প্রযোজ্য।

বিপরীতে, Nirmal Kanti Das v. Sreemati Biva Rani (14 BLD 413) মামলায় বলা হয়, ধর্ম নির্বিশেষে যে কোনো ব্যক্তি Family Court-এ পারিবারিক বিরোধ নিয়ে মামলা করতে পারেন।

পরবর্তীতে, Pochon Rikssi Das v. Khuku Rani Dasi (50 DLR 47) মামলায় বিষয়টি স্পষ্ট করা হয় এবং বলা হয় যে Family Courts Ordinance (Family Courts Act) সকল নাগরিকের ক্ষেত্রে, ধর্ম নির্বিশেষে, প্রযোজ্য।

বিডিএলপিবি/এমএম

বিচারপতিদের নিরাপত্তা কমিয়ে প্রজ্ঞাপন হাইকোর্টে স্থগিত, রুল জারি

বিচারপতিদের নিরাপত্তা কমিয়ে প্রজ্ঞাপন হাইকোর্টে স্থগিত, রুল জারি

ফাইল ছবি
সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, অ্যাটর্নি জেনারেল ও বিচার বিভাগ সংশ্লিষ্টদের নিরাপত্তা কমিয়ে জারিকৃত পরিপত্র স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। 

একইসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, অ্যাটর্নি জেনারেল ও বিচার বিভাগ সংশ্লিষ্টদের নিরাপত্তা কমিয়ে জারিকৃত পরিপত্র কেন বাতিল করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি জে বি এম হাসানের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

এর আাগে, রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের ও অ্যাটর্নি জেনারেলের নিরাপত্তা হ্রাস করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা পরিপত্র বাতিল চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়। ১০ জন আবেদনকারীর পক্ষে রিট আবেদনটি দায়ের করেছেন সিনিয়র আইনজীবী শিশির মনির। এতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবকে বিবাদী করা হয়।

শিশির মনির গণমাধ্যমে বলেন, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা ওয়ারেন্ট অব প্রেসেডেন্স অনুযায়ী ৬ নম্বর ক্যাটাগরিতে নিরাপত্তা পান, কিন্তু তাদের সচিবদের সঙ্গে রাখা হয়েছে এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তাও কমিয়ে দেয়া হয়েছে।


বিডিএলপিবি/এমএম