![]() |
| ছবি: সংগৃহীত |
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে অ্যাডভোকেট ইব্রাহীম খলিল উল্লাহ বলেন, খোদ্দ তামপাট মৌজার ১৬ শতক জমি তিনি ২০০৯ সালের ৩ মার্চ দলিলের মাধ্যমে ক্রয় করেন। এরপর থেকে তিনি জমিটি ভোগদখল করে আসছেন। জমিটি তার নামে খারিজ করা হয়েছে এবং নিয়মিত সরকারি খাজনাও পরিশোধ করা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি অভিযোগ করেন, পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে স্থানীয় এক ব্যক্তি তার ক্রয় করা জমিতে অবস্থান নেন এবং সেখানে একটি রাজনৈতিক কার্যালয় স্থাপন করা হয়। পরবর্তীতে সরকার পরিবর্তনের পর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় তিনি ওই জমির দখল ফিরে পান বলে জানান।
ইব্রাহীম খলিল উল্লাহর অভিযোগ, গত ২০ আগস্ট সন্ধ্যায় তার ভোগদখলে থাকা একটি খাবার হোটেলে কয়েকজন ব্যক্তি এবং আরও কিছু অজ্ঞাতনামা লোকজন প্রবেশ করে হোটেলের একটি অংশে তালা লাগিয়ে দেন। এ সময় তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় এবং ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি আরও জানান, বিষয়টি স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের অবহিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা সফল হয়নি। পরে অভিযুক্তদের কয়েকজনের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে প্রথমে ১০ লাখ এবং পরে তার রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রসঙ্গ তুলে ৮ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। একই সঙ্গে তার কাছ থেকে ৬ শতক জমি লিখে দেওয়ার দাবিও করা হয়েছে বলে লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, চাঁদা দাবির বিষয়টি রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানানোর পর লিখিত অভিযোগ নিয়ে তাজহাট থানায় যান। তবে সেখানে তার অভিযোগের বিষয়ে যথাযথ আইনগত পদক্ষেপ না নিয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে আর্থিক সমঝোতার পরামর্শ দেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তাকে সর্বনিম্ন ৪ লাখ টাকার বিনিময়ে বিষয়টি মীমাংসা করে দেওয়ার প্রস্তাব দেন। পরবর্তীতেও থানায় গিয়ে একই ধরনের প্রস্তাব পাওয়ার অভিযোগ করেন তিনি।
অ্যাডভোকেট ইব্রাহীম খলিল উল্লাহ বলেন, চাঁদা দাবির বিষয়ে হওয়া ফোনালাপের ভয়েস রেকর্ড তার মোবাইলে সংরক্ষিত রয়েছে। একজন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী হিসেবে নিজের বৈধ সম্পত্তি ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে তিনি উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন বলেও জানান।
তিনি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। একই সঙ্গে বিষয়টি দেশের ঊর্ধ্বতন আইন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতাদের অবহিত করার কথাও জানান তিনি।
তবে সংবাদ সম্মেলনে যাদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করা হয়েছে, তাদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে আইনগত তদন্ত প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
বিডিএলপিবি/এমএম

0 coment rios: