অন্যান্য লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
অন্যান্য লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

২১ জুল, ২০২৬

প্রক্সির সহায়তায় চাকরি: যোগদান করতে এসে ধরা পড়ে ৪ জন কারাগারে

প্রক্সির সহায়তায় চাকরি: যোগদান করতে এসে ধরা পড়ে ৪ জন কারাগারে

ছবিঃ সংগৃহীত

প্রক্সি পরীক্ষার্থীর সহায়তায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক (গ্রেড-২০) পদে নিয়োগ পাওয়ার অভিযোগে চার চাকরিপ্রার্থীকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিজ্ঞ আদালত। সোমবার (২০ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মো. জোনাইদ শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে আসামিদের জামিন আবেদনের শুনানির জন্য মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দিন ধার্য করেন। কারাগারে পাঠানো চার আসামি হলেন- মো. রাসেল রানা লিটন (৩২), মো. আলিম (২৮), মো. আলী হায়দার (২৯) ও মো. মাসুদ ফকির (৩১)।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২৪, ২৫ ও ২৮ আগস্ট জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক (গ্রেড-২০) পদের মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সে সময় অংশগ্রহণকারী সব প্রার্থীর ছবি তুলে রাখা হয়। এরপর চূড়ান্তভাবে নির্বাচিতদের ১৯ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় সচিবালয়ের ৩ নম্বর ভবনের ১ নম্বর কক্ষে যোগদানের জন্য ডাকা হয়।

নির্ধারিত সময়ে ওই চারজন যোগ দিতে এলে কর্মকর্তাদের সন্দেহ হয়। পরে মৌখিক পরীক্ষার দিন তুলে রাখা ছবির সঙ্গে মিলিয়ে দেখলে জালিয়াতির বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যায়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তারা মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে প্রক্সি পরীক্ষার্থীর মাধ্যমে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে নিয়োগপত্র পাওয়ার কথা স্বীকার করেন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনার পর রোববার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সচিবালয় থেকে চারজনকে আটক করে শাহবাগ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরদিন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা এইচ এম আরিফুর রহমান বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় প্রতারণার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।

সোমবার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আবদুল গাফফার (হিমেল) চার আসামিকে আদালতে হাজির করে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানান।অন্যদিকে আসামিদের পক্ষে জামিন আবেদন করা হয়। আসামি রাসেল রানা লিটন ও আলী হায়দারের পক্ষে আইনজীবী নাজনীন আক্তার এবং মাসুদ ফকিরের পক্ষে আইনজীবী মো. মনির হোসাইন শুনানিতে অংশ নেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদনের শুনানির জন্য মঙ্গলবার দিন ধার্য করে চার আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।


বিডিএলপিবি/এমএম


১৯ জুল, ২০২৬

সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামানের গুলশানের দুই ফ্ল্যাটে ইনভেন্টরিতে যা পেয়েছে দুদক

সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামানের গুলশানের দুই ফ্ল্যাটে ইনভেন্টরিতে যা পেয়েছে দুদক

ছবি: সংগৃহীত 

আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরীর গুলশানের দুটি ক্রোককৃত ফ্ল্যাটে রক্ষিত মালামালের তালিকা (ইনভেন্টরি) প্রস্তুতের কাজ শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আজ সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া ইনভেন্টরির প্রাথমিক পর্যায়ে তিন শতাধিক কোট, পাঁচ শতাধিক টাই, আটটি ঘড়ির বক্সে সংরক্ষিত মোট চারটি রোলেক্স ঘড়ি, তিন সেট মুক্তা (পার্ল), চারটি ঝাড়বাতি, শতাধিক কামিজ, বেড ও সোফাসহ বিভিন্ন মূল্যবান আসবাবপত্র ও সামগ্রী পাওয়া গেছে।

দুদক-এর জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক মো. তানজির আহমেদ জানান, ইনভেন্টরির কাজ আগামীকালও চলবে। কাজ শেষে ফ্ল্যাট দুটিতে থাকা সব মালামালের পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে। দুদক  জানায়, ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে গুলশানের রোড-৬৬, প্লট-১১-এর এ-৭ ও বি-৭ নম্বর দুটি ফ্ল্যাটের নিয়ন্ত্রণ, ব্যবস্থাপনা, তদারকি ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য দুদক-এর পরিচালক (সম্পদ ব্যবস্থাপনা ইউনিট)-কে রিসিভার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

আদালতের পরবর্তী আদেশ অনুযায়ী, অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অনুপস্থিতিতে তালাবদ্ধ ফ্ল্যাটে রিসিভারের প্রবেশ ও সেখানে থাকা মালামালের ইনভেন্টরি করার জন্য গুলশান রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নিলয় রহমানকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, দুদক-এর কর্মকর্তারা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে আজ ইনভেন্টরির কার্যক্রম শুরু হয়।

এর আগে, গত ২ জুলাই জারি করা এক স্মারকে দুদক জানায়, আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নির্ধারিত তারিখে সংশ্লিষ্ট সবার উপস্থিতিতে ফ্ল্যাট দুটি রিসিভারের দখলে নিয়ে সেখানে রক্ষিত মালামালের ইনভেন্টরি সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া, বছরের ১৩ জানুয়ারি দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া, ভারত, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে তার ৩৩০টি বাড়ি, ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট জব্দের আদেশ দেন আদালত। দুদকের হিসাবে, এসব সম্পদ এবং যুক্তরাষ্ট্রের দুটি কোম্পানিতে তার বিনিয়োগের মূল্য প্রায় ২ হাজার ৩২১ কোটি টাকা।

এরপর ২৬ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাজ্যে তার নামে থাকা ৫১৮টি ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট জব্দের আদেশ দেওয়া হয়। দুদকের আবেদনে এসব সম্পদের মূল্য ২৭ কোটি ১৮ লাখ ৫২ হাজার ৮৭২ পাউন্ড উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া ২০২৫ সালের মার্চে তার ৩৯টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ এবং ২৩টি কোম্পানির শেয়ার জব্দের আদেশ দেন আদালত। একই অনুসন্ধানের বিভিন্ন পর্যায়ে তার ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আরও ব্যাংক ও বিও হিসাব অবরুদ্ধ করা হয়েছে।

অপরদিকে, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক থেকে ঋণের নামে ২৫ কোটি টাকা বিদেশে পাচারের অভিযোগে করা মামলায় চলতি বছরের মার্চে সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, তার স্ত্রীসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন চট্টগ্রামের একটি আদালত। একই সঙ্গে পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

দুদকের বিভিন্ন আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, সাইফুজ্জামান অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে সম্পদ অর্জনের পাশাপাশি অর্থ বিদেশে পাচার করেছেন। তবে অভিযোগগুলোর বিচারিক নিষ্পত্তি এখনও হয়নি।


বিডিএলপিবি/এমএম

সূত্র: বাসস

হেফাজতকে নিঃশেষের পরিকল্পনা থেকেই শাপলা চত্বর হত্যাযজ্ঞ : চিফ প্রসিকিউটর

হেফাজতকে নিঃশেষের পরিকল্পনা থেকেই শাপলা চত্বর হত্যাযজ্ঞ : চিফ প্রসিকিউটর

ছবিঃ সংগৃহীত 

রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসমাবেশে পরিকল্পিত ও লক্ষ্যভিত্তিক হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, এ ঘটনায় তদন্তে এখন পর্যন্ত ৬১ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৫৮ জনের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। ১৯ জুলাই রোববার নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত ব্রিফিং ও সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানান।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের ঘটনাটি ছিল একটি পদ্ধতিগত অপরাধ এবং ব্যাপক ও লক্ষ্যভিত্তিক হত্যাকাণ্ড। তিনি বলেন, ব্লগারদের বিরুদ্ধে হেফাজতে ইসলামের আন্দোলনের সময় রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে সংগঠনটিকে নিঃশেষ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল এবং সেই পরিকল্পনার ধারাবাহিকতায় এ হত্যাযজ্ঞ সংঘটিত হয়।

তিনি জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা দীর্ঘ তদন্ত শেষে একটি খসড়া প্রতিবেদন প্রসিকিউশনের কাছে জমা দিয়েছে। বর্তমানে প্রতিবেদনটি চূড়ান্ত যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে, যাতে সঠিক তদন্তের ভিত্তিতে প্রকৃত দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা যায়। এ লক্ষ্যে হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে খসড়া প্রতিবেদন নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে।

আমিনুল ইসলাম বলেন, তদন্তে ৬১ জন নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৫৮ জনের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। বাকি তিনজনের পরিচয় নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।

হেফাজতের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনের খসড়া নিয়ে আলোচনা হয়েছে। উদ্দেশ্য হলো, কোনো প্রকৃত আসামি যেন বাদ না পড়ে এবং কোনো নির্দোষ ব্যক্তি যেন আসামি না হন। আগামী ২১ জুলাই নির্ধারিত সময়েই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করা হবে।

মামলার আসামিদের বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, প্রতিবেদনটি এখনও খসড়া পর্যায়ে থাকায় পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করা সম্ভব নয়। তবে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ মামলার প্রধান আসামি। এছাড়া সাবেক পুলিশপ্রধান, সাবেক বিজিবি প্রধানসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। যাচাই-বাছাই শেষে আসামির তালিকায় সংযোজন বা বিয়োজন হতে পারে।

ব্রিফিংয়ে উপস্থিত হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক বলেন, আমরা শুরু থেকেই বলছি যে নিহতদের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি এবং অনেক তথ্য এখনও অনুপস্থিত। তৎকালীন সময়ে রাষ্ট্রীয়ভাবে শাপলা চত্বরের নিহতদের মরদেহ গুমের চেষ্টা করা হয়েছিল। ফলে তদন্ত প্রতিবেদনে অনেকের তথ্য অন্তর্ভুক্ত হয়নি। আমাদের নির্ভরযোগ্য তথ্য অনুযায়ী ৬১ জন নিহতের তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে হেফাজতে ইসলামের সিনিয়র নায়েবে আমির আব্দুল হামিদ, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক, মুফতি হারুন ইজহার, মুফতি মীর ইদ্রিসসহ সংগঠনটির শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে একই দিন সকালে শাপলা চত্বরের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা তাদের তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনের কাছে হস্তান্তর করে। তদন্ত প্রতিবেদনে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদসহ ৪১ জনকে আসামি করা হয়েছে। এছাড়া তৎকালীন পুলিশ ও র‍্যাবের প্রধান, ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার, একাত্তর টিভির সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল হক বাবু, সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রূপা এবং সাংবাদিক শাহরিয়ার কবিরের নামও আসামির তালিকায় রয়েছে।


বিডিএলপিবি/এমএম

১৮ জুল, ২০২৬

দেয়াল টপকে পালালেন মহিলা কয়েদি: সাত কারারক্ষী বরখাস্ত

দেয়াল টপকে পালালেন মহিলা কয়েদি: সাত কারারক্ষী বরখাস্ত

ছবি: সংগৃহীত 

গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগার থেকে এক নারী বন্দির পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে তিন মেট্রন ও চার নারী কারারক্ষীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে দায়িত্ব পালনে গাফিলতির প্রমাণ পাওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

সাময়িক বরখাস্ত হওয়া ব্যক্তিরা হলেন, মেট্রন লায়লা আনজুমান সুমি, মেরিনা ও রেহেনা এবং নারী কারারক্ষী শায়লা, শারমিন, জেমি ও আসমা।

বিষয়টি নিশ্চিত করে কারা অধিদফতরের সহকারী কারা মহাপরিদর্শক (এআইজি) মো. জান্নাতুল ফরহাদ জানান, দায়িত্ব পালনে অবহেলার বিষয়টি তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে আসায় সংশ্লিষ্ট সাতজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

তিনি জানান, পলাতক বন্দিকে দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যেও কীভাবে ওই বন্দি পালিয়েছেন, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

কারাগার সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ৪০ জন নারী বন্দিকে দিয়ে কারাগারের ভেতরে বিভিন্ন কাজ করানো হচ্ছিল। এ সময় দায়িত্বে থাকা মেট্রনের অবহেলার সুযোগে সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি রিম্পা (২১) কারাগারের প্রশাসনিক ভবনের পাশের সীমানাপ্রাচীর টপকে পালিয়ে যান। পরে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে তার পালানোর বিষয়টি নিশ্চিত হয় কারা কর্তৃপক্ষ।

পলাতক রিম্পা মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার রায়পুরা গ্রামের মো. হাসান হাবিবের মেয়ে। তিনি ঢাকার ধানমন্ডি থানার একটি সিআর মামলায় তিন মাসের সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারে বন্দি ছিলেন।

ঘটনার পর শুক্রবার কারা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে গাজীপুরের কোনাবাড়ী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। একই সঙ্গে পলাতক বন্দিকে গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


বিডিএলপিবি/এমএম

১৬ জুল, ২০২৬

মিথ্যা মামলার জেরে বিমানের কেবিন ক্রু শিমুর বিরুদ্ধে উল্টো মামলার নির্দেশ আদালতের

মিথ্যা মামলার জেরে বিমানের কেবিন ক্রু শিমুর বিরুদ্ধে উল্টো মামলার নির্দেশ আদালতের

ছবিঃ সংগৃহীত 

পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ও আদালতে মিথ্যা হলফনামা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু খাদিজা সুলতানা শিমুর বিরুদ্ধে। এ অভিযোগে তার বিরুদ্ধে উল্টো মামলা করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আজ বুধবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইন এ আদেশ দেন।

এতে বলা হয়, ক্ষতিসাধনের উদ্দেশ্যে শিমু আদালতে মিথ্যা মামলা করেছেন। তিনি হলফ করে মিথ্যা সাক্ষ্যও দিয়েছেন। মামলার নথিতে তার দেওয়া হলফনামা সংযুক্ত রয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আদালত নিজেই বাদী হন। পরে তার বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের নির্দেশ দেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, খাদিজা সুলতানা শিমু বাদী হয়ে বেসরকারি একটি এয়ারলাইন্সের কর্মকর্তা মো. ওমর ফারুক চৌধুরীর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেন। পরে আদালত অভিযোগটি এফআইআর হিসেবে গ্রহণের জন্য উত্তরা পশ্চিম থানাকে নির্দেশ দেন।

তদন্ত শেষে থানার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়। মামলার এজাহারে থাকা ফেসবুক লিংক, ডিজিটাল আলামত ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করেও ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি প্রচারের কোনো প্রমাণ মেলেনি। তাই তাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এর আগে ওমর ফারুক শিমুর বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মামলা করেছিলেন। সেই মামলার দায় এড়াতেই শিমু উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে পর্নোগ্রাফি ছড়ানোর অভিযোগ এনে হয়রানিমূলক ও মিথ্যা মামলা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।

এ কারণে শিমুর বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ১৩ ধারায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। পরে গত ৯ জুলাই আদালত তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে ওমর ফারুককে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন।


বিডিএলপিবি/এমএম