![]() |
| প্রতীকী ছবি |
পারিবারিক আদালত প্রতিষ্ঠা: প্রথম বাংলাদেশে Family Courts Ordinance, 1985-এর অধীনে পারিবারিক আদালত প্রতিষ্ঠিত হয়। Family Courts Ordinance, 1985 পরবর্তীতে Family Courts Act, 2023 দ্বারা প্রতিস্থাপিত/রহিত হয়েছে। ফলে বর্তমানে পারিবারিক আদালতের আইনগত কাঠামো Family Courts Act, 2023-এর অধীনে বিবেচনা করতে হবে। এর ধারা ৪ অনুযায়ী, সকল Assistant Judge/ Civil Judge এর আদালতই Family Court হিসেবে গণ্য হয় এবং Assistant Judge/Civil Judge-গণ Family Court-এর বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—Assistant Judge/Civil Judge-গণ তুলনামূলকভাবে নবীন ও কম অভিজ্ঞ হওয়ায় পারিবারিক মামলার মত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিচার করার জন্য তাঁদের অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রশ্ন উঠে। পক্ষান্তরে, ভারত ও পাকিস্তানে এ ক্ষেত্রে তুলনামূলক বেশি অভিজ্ঞতার প্রয়োজনীয়তা দেখা যায়।
পারিবারিক আদালতের এখতিয়ার: এই আইনের ধারা ৫ অনুযায়ী Family Court-এর একচেটিয়া এখতিয়ারের বিষয়গুলো হলো—
১. বিবাহ বিচ্ছেদ (Dissolution of Marriage)
২. দাম্পত্য অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা (Restitution of Conjugal Rights)
৩. দেনমোহর (Dower)
৪. ভরণপোষণ (Maintenance)
৫. সন্তানের অভিভাবকত্ব ও হেফাজত (Guardianship and Custody of Children)
এছাড়া, Guardians and Wards Act, 1890-এর ক্ষেত্রে Family Court-কে District Court হিসেবে গণ্য করা হয় এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে District Judge-এর কাছে আপিল করা যায়।
সকল ধর্মের জন্য Family Court-এর প্রযোজ্যতা:
Family Court Ordinance-এর শুরুতে এর প্রয়োগ নিয়ে বিতর্ক ছিল—শুধু মুসলিমরা Family Court-এ যেতে পারবেন, নাকি সকল ধর্মের নাগরিক পারবেন?
Krishnapada Talukder v. Geetasree Talukder (14 BLD 415) মামলায় বলা হয়েছিল, Ordinance-এর সুবিধা মুসলিমদের জন্য প্রযোজ্য।
বিপরীতে, Nirmal Kanti Das v. Sreemati Biva Rani (14 BLD 413) মামলায় বলা হয়, ধর্ম নির্বিশেষে যে কোনো ব্যক্তি Family Court-এ পারিবারিক বিরোধ নিয়ে মামলা করতে পারেন।
পরবর্তীতে, Pochon Rikssi Das v. Khuku Rani Dasi (50 DLR 47) মামলায় বিষয়টি স্পষ্ট করা হয় এবং বলা হয় যে Family Courts Ordinance (Family Courts Act) সকল নাগরিকের ক্ষেত্রে, ধর্ম নির্বিশেষে, প্রযোজ্য।
বিডিএলপিবি/এমএম

0 coment rios: