২ সেপ, ২০২৬

কক্সবাজার সৈকতের বালিয়াড়িতে নির্মাণকাজ বন্ধের নির্দেশ

কক্সবাজার সৈকতের বালিয়াড়িতে নির্মাণকাজ বন্ধের নির্দেশ

ছবি: সংগৃহীত 
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের বালিয়াড়িতে নির্মাণকাজ আট সপ্তাহ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত অবমাননার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি জেবিএম হাসান এবং বিচারপতি আজিজ আহমদ ভুঞার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। 

আদালতে আদালত অবমাননার আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। বেলার পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মিনহাজুল হক চৌধুরী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল। 

পরে আইনজীবী মনজিল মোরসেদ জানান, কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের বালিয়াড়িতে নির্মাণকাজ করার পরিপ্রেক্ষিতে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক, প্রজেক্ট ডিরেক্টরসহ মোট চার জনের বিরুদ্ধে আদালতের রায় অমান্য করার অভিযোগে আদালত অবমাননার মামলা এবং বেলার দায়ের করা রিট পিটিশনের শুনানি শেষে আদালত রুল জারি করেছেন।

একই সঙ্গে আট সপ্তাহ কক্সবাজারের বালিয়াড়িতে সড়ক নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি আদালত অবমাননার মামলাটি আট সপ্তাহের জন্য মুলতবি করেছেন। 

তিনি আরও জানান, আদালতের রায় অমান্য করে বালিয়াড়িতে নির্মাণকাজের সংবাদ মিডিয়ায় প্রকাশিত হলে জনস্বার্থে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) একটি আদালত অবমাননার মামলা দায়ের করে। বেলার পক্ষ থেকে ওই প্রকল্পের কার্যক্রম বন্ধ করার নির্দেশনা চেয়ে একটি রিট পিটিশনও দায়ের করা হয়।

জনস্বার্থে এইচআরপিবির দায়ের করা রিট পিটিশনে ইতোপূর্বে হাইকোর্ট ডিভিশন রুল জারি করে এবং শুনানি শেষে ২০১১ সালে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য বজায় রাখা এবং বালিয়াড়িতে নির্মাণ করা সব স্থাপনা অপসারণের নির্দেশ দেন আদালত।

আদালতের নির্দেশনা অনুসারে ইতোপূর্বে দুইবার বালিয়াড়িতে স্থাপিত বিভিন্ন স্থাপনা আদালতের নির্দেশে উচ্ছেদ করা হয়। তা সত্ত্বেও কক্সবাজার পৌরসভা একটি প্রকল্প গ্রহণ করে বালিয়াড়ির ভেতর দিয়ে রাস্তা নির্মাণের প্রকল্প নেওয়া হয় বলে জানান আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। 


বিডিএলপিবি/এমএম

বিচারকের সামনেই নারী আইনজীবীকে হেনস্তা, ঢাকা আইনজীবী সমিতিতে লিখিত অভিযোগ

বিচারকের সামনেই নারী আইনজীবীকে হেনস্তা, ঢাকা আইনজীবী সমিতিতে লিখিত অভিযোগ

ছবি: সংগৃহীত 
‎ঢাকার বিচারিক আদালতে মামলার শুনানির সময় বিচারকের সামনেই নারী আইনজীবী এডভোকেট সোমাইয়াদ শাহেরিয়া ফিদাকে হেনস্তা, অশালীন আচরণ, হুমকি এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের ঢাকা বার ইউনিটের আহ্বায়ক এডভোকেট খোরশেদ আলমের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় প্রতিকার ও পেশাগত নিরাপত্তা চেয়ে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ওই আইনজীবী।


‎অভিযোগপত্রের তথ্য অনুযায়ী, ৩১ আগস্ট দুপুর আনুমানিক ১টা ২৪ মিনিটে সিএমএম আদালত-১৯-এর এজলাসে একটি মামলার শুনানি করছিলেন এডভোকেট সোমাইয়াদ শাহেরিয়া ফিদা। এ সময় কয়েকজন আইনজীবী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। অভিযোগ করা হয়, শুনানি শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই এডভোকেট খোরশেদ আলমসহ কয়েকজন আইনজীবী সেখানে উচ্চস্বরে কথা বলতে শুরু করেন এবং শুনানিতে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়।

‎অভিযোগে আরও বলা হয়, এ সময় নারী আইনজীবীকে উদ্দেশ করে রাজনৈতিক পরিচয় ও কর্মকাণ্ড নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করা হয় এবং তাকে আদালতে প্র্যাকটিস করতে না দেওয়ার কথা বলা হয়। এতে তিনি পেশাগতভাবে অপদস্থ ও মানসিকভাবে বিব্রত বোধ করেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন।

‎সোমাইয়াদ শাহেরিয়া ফিদার অভিযোগ, এর আগেও বিভিন্ন সময়ে তিনি পেশাগতভাবে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন। সর্বশেষ আদালতকক্ষে বিচারকের উপস্থিতিতে এমন ঘটনার কারণে তিনি নিজের নিরাপত্তা এবং স্বাধীনভাবে আইন পেশা পরিচালনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ঘটনার বিষয়ে আদালতের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তিনি।

‎অভিযোগে ঘটনাটির পেছনে একটি মামলার আইনজীবী পরিবর্তনের বিষয়টি কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, মামলার আসামি খাজা হাবিবুল্লাহ হাবিব আগে এডভোকেট খোরশেদ আলমের মক্কেল ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি এডভোকেট সোমাইয়াদ শাহেরিয়া ফিদাকে আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পর বিরোধের সূত্রপাত হয়। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।

‎অন্যদিকে অভিযোগের বিষয়ে এডভোকেট খোরশেদ আলম বলেন, তাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে ‘ফ্যাসিস্ট ও তাদের দোসরদের’ মামলায় আইনজীবী হিসেবে অংশ না নেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। ওই মামলায় এমন ব্যক্তিদের পক্ষে আইনজীবীরা শুনানি করছেন—এমন তথ্যের ভিত্তিতেই তাদের কয়েকজন আদালতে গিয়েছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। তিনি অভিযোগকারী আইনজীবীদের কর্মকাণ্ড নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

‎খাজা হাবিবুল্লাহ হাবিবের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও দুই পক্ষের বক্তব্যে ভিন্নতা দেখা গেছে। খোরশেদ আলম তাকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে দাবি করলেও অভিযোগকারী পক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, খাজা হাবিবুল্লাহ হাবিব দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং বিভিন্ন সময়ে দলটির মনোনয়ন নিয়ে ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।

‎অভিযোগকারী আইনজীবী সোমাইয়াদ শাহেরিয়া ফিদা বলেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের তকমা ব্যবহার করে তাকে পেশাগতভাবে চাপে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। তার ভাষ্য, আদালতের মতো জায়গায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত এবং ঘটনার ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

‎এর আগে ২০২৫ সালের ১৭ মে ঢাকার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলার শুনানিকে কেন্দ্র করে ‘অপেশাদার আচরণ’ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার অভিযোগে এডভোকেট খোরশেদ আলমসহ চার আইনজীবীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার তথ্যও সামনে এসেছে। তবে ওই ঘটনায় পরবর্তী কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংগঠনের পক্ষ থেকে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।


‎বিডিএলপিবি/এমএম
‎সূত্র: যায়যায়দিন (১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬)

স্থগিত থাকা প্রার্থীদের ফলাফল প্রকাশ করলো বার কাউন্সিল

স্থগিত থাকা প্রার্থীদের ফলাফল প্রকাশ করলো বার কাউন্সিল

ছবি: সংগৃহীত 
বাংলাদেশ বার কাউন্সিল গতকাল (১ সেপ্টেম্বর) মোহাম্মদ কামাল হোসেন সিকদার, সচিব (জেলা ও দায়রা জজ) বাংলাদেশ বার কাউন্সিল এর স্বাক্ষরিত এক নোটিশের মাধ্যমে এই ফলাফল প্রকাশ করে।

নোটিশে বলা হয়, ১৩-০৮-২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত বার কাউন্সিল তালিকাভুক্তি কমিটির সভার সিদ্ধান্ত অনুসারে, সংশ্লিষ্ট সকলের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, নিম্নলিখিত রোল নম্বরধারী যে সকল প্রার্থীর তালিকাভুক্তির মৌখিক পরীক্ষার ফলাফল, প্রয়োজনীয় নথিপত্রের অভাবে ১৫-০৩-২০২৬ তারিখে বার কাউন্সিলের মেমো নং BBC/Enrol/2026/Result/Sec/Con-1, তারিখ: ১৫ মার্চ, ২০২৬-এর বিজ্ঞপ্তিতে স্থগিত রাখা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে যেহেতু সেই সকল প্রার্থী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চাওয়া সমস্ত কাগজপত্র জমা দিয়েছেন, তাঁদেরকে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্তির জন্য ১৫-১১-২০২৫ থেকে ৩০-১১-২০২৫ এবং ১৩-০৩-২০২৬ থেকে ১৪-০৩-২০২৬ পর্যন্ত বার কাউন্সিল ভবনে অনুষ্ঠিত মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ বলে ঘোষণা করা হয়েছে।  সফল প্রার্থীগণ, তদনুসারে, ১৩-০৮-২০২৬ তারিখ থেকে (তাঁদের তালিকাভুক্তির তারিখ ১৩-০৮-২০২৬) আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছেন এবং তাঁরা বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের অধীনস্থ যেকোনো আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা রাজস্ব কর্তৃপক্ষের অধীনে সারা বাংলাদেশে আইন পেশা অনুশীলন করতে পারবেন। তাঁদের আইন পেশা শুরু করার জন্য এখন তালিকাভুক্তির তারিখ (১৩-০৮-২০২৬) থেকে ছয় মাসের মধ্যে তাঁদের নির্বাচিত বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যপদ গ্রহণ করতে হবে।

রোল নম্বর: ১০২৭২, ৪৯২৩৬, ৫০৪৩৫, ৫০৫০৩, ৫০৫৫৪, ৫০৫৯৫, ৮১৩৯৫, ৮২০৯৯, ৮৩৯০৯ এবং ৮৪৩২৮- মোট ১০ জন প্রার্থী।

নোটিশ:



বিডিএলপিবি/এমএম

আট বছর কনডেম সেলসহ ১৮ বছর কারাবন্দি, হাইকোর্টে খালাস পেলেন আমির হোসেন

আট বছর কনডেম সেলসহ ১৮ বছর কারাবন্দি, হাইকোর্টে খালাস পেলেন আমির হোসেন

ছবি: সংগৃহীত 
আসামি আমির হোসেন ১৮ বছর ধরে কারাবন্দি, এর মধ্যে আট বছর মৃত্যুপরোয়ানা নিয়ে কনডেম সেলে বসবাস, বিচারিক আদালতের রায়ের আট বছর পর হাইকোর্টে নিষ্পত্তি হলো শিশু জুলি আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স। যেখানে আসামিকে নির্দোষ ঘোষণা করে খালাস দেওয়া হয়েছে। রায়ে হাইকোর্ট বলেছে, এই মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আমির হোসেন ওরফে জামাল যে জুলিকে হত্যা করেছে এটা রাষ্ট্রপক্ষ সাক্ষ্য-প্রমাণ দিয়ে প্রমাণ করতে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছে। এ কারণে তাকে খালাস দেওয়া হলো।

রাষ্ট্রপক্ষের ডেথ রেফারেন্স খারিজ ও আসামির আপিল গ্রহণ করে মঙ্গলবার এ রায় দেয় বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্ত্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার দ্বৈত হাইকোর্ট বেঞ্চ।

রায়ের পর্যবেক্ষণ: রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেছেন, আসামি আমিরের কাছ থেকে যে জবানবন্দি নেওয়া হয় তা সত্য ও স্বেচ্ছাপ্রণোদিত নয়। মামলার নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, এই জবানবন্দি আদায় করা হয়েছে জোরপূর্বক। এমনকি জবানবন্দি গ্রহণের যে আইনগত প্রক্রিয়া সেটাও সঠিকভাবে অনুসরণ করা হয়নি। হাইকোর্ট বলেছে, মামলার সাক্ষীদের জেরা ও সাফাই সাক্ষী পর্যালোচনায় দেখা যায় যে, আসামিকে নির্যাতন করা হয়েছে। এমনকি আসামি পক্ষ থেকে যে মেডিক্যাল রিপোর্ট-সংক্রান্ত কাগজপত্র দাখিল করা হয়েছিল সেগুলোও ট্রাইব্যুনাল বিবেচনায় না নিয়ে ভুল করেছে। এছাড়া ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাথায় আঘাত করে পানিতে ফেলে দিয়ে হত্যা করা হয়। তবে শরীরে আঁচড়ের দাগ ছিল। কিন্তু আসামির জবানবন্দিতে মাথায় আঘাত করার বিষয়টির উল্লেখ নেই। তাই এই হত্যার সঙ্গে এই আসামি জড়িত এটা সাক্ষ্য-প্রমাণ দিয়ে প্রমাণ করতে পারেনি রাষ্ট্রপক্ষ। রায়ে হাইকোর্ট বলেছে, এই মামলায় দুই জন শিশু প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দিয়েছেন। যাদের বয়স তিন ও চার বছর। সাক্ষী দেওয়ার পাঁচ দিন আগে শিশু দুটিকে কোর্টে এনে আসামি হিসেবে আমির হোসেনকে চিনিয়ে দেয় বাদী। যা তারা জেরায় স্বীকার করে নিয়েছেন। এ কারণে আসামিকে নির্দোষ ঘোষণা করে খালাস প্রদান করা হলো।

রায়ের পর রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট মো. ইমাম হোসেন তারেক  বলেন, জামাল নামে আসামিকে খুঁজতে গিয়ে আমির হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয় বিচারিক আদালত। এই ব্যক্তিই যে ঐ শিশু ধর্ষণ ও হত্যার সঙ্গে জড়িত সেটা হাইকোর্টে প্রমাণ হয়নি। অর্থাত্ নিরপরাধ ব্যক্তিকে সাজা দিয়েছিল ট্রাইব্যুনাল। হাইকোর্ট ঐ রায় বাতিল করে দেয়।

মামলার ঘটনা ও বিচারিক আদালতের রায় : ফুপু বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ২০০৮ সালের ১৬ মে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হয় জুলি নামের এক শিশু। এ ঘটনায় চট্টগ্রামের হাটহাজারী থানায় মামলা দায়ের করেন তার চাচা।  মামলার এজাহারে বলা হয়, ঘটনার আগের দিন হাটহাজারী বাজারের মাদ্রাসা গেট হতে জামাল নামে এক দিনমজুরকে কাজ করানোর জন্য বাড়িতে আনা হয়। পরদিন ঐ ব্যক্তি শিশুটিকে বাড়ি থেকে নিয়ে ধর্ষণ ও হত্যা করে। দুদিন পর শিশুটির লাশ পাওয়া যায় খালে।

মামলার তদন্ত প্রতিবেদনে পুলিশ বলে, ভিকটিমের স্বজনরা জামালকে ব্যক্তিগতভাবে চেনে না। ফলে তার ঠিকানা সংগ্রহ করা সম্ভব হয় নাই। একপর্যায়ে আসামির ফেলে যাওয়া কাপড়-চোপড়ের ব্যাগের মধ্যে মোবাইল-সংক্রান্ত কাগজ পাওয়া যায়। সেখান থেকে পাওয়া মোবাইল নম্বরে ফোন দিলে আলাল নামে এক ব্যক্তি রিসিভ করেন। আলাল জানান যে, ফটিকছড়ির ট্রাক্টর মাহবুবের কাছে গেলে তার পরিচয় পাওয়া যাবে। পরে মাহবুব জানান যে, জামাল নামে এক ব্যক্তি তার সঙ্গে ১৪/১৫ দিন কাজ করেছে। কিন্তু ঠিকানা জানে না। তখন মাহবুব ও তার মেয়ের জামাই আসামি জামালের পরিচয় সংগ্রহে বের হন। তাদের দেখানো মতে ভূজপুর থানাধীন ওমর আলী নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে গিয়ে তার তিন ছেলের এক জনকে জামাল বলে জানায়। কিন্তু ওমর আলী জানান যে, তার তিন ছেলে হচ্ছে আমির হোসেন, আবুল হোসেন ও জাগির হোসেন। ওমর আলীর পাশের বাড়ির বাসিন্দা আবুল হাশেম জানান যে, ওমর আলীর তিন ছেলে আছে। তবে জামাল নামে কেউ নাই।

তবে তদন্ত প্রতিবেদনে পুলিশ হাশেমের উদ্ধৃতি দিয়ে জানায়, আমির হোসেন যখন বাহিরে কাজ করত তখন জামাল নামে পরিচয় দিত। এই সাক্ষীর বক্তব্যের মাধ্যমে পুলিশ জানতে পারে, আসামির নাম জামাল নয়, আমির হোসেন। পরে মাটিরাঙ্গা থানা থেকে আমিরকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। পরে আদালতে হাজির করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি আদায় করে। দেওয়া হয় চার্জশিট। এতে বলা হয়, আসামি আমির হোসেন ওরফে কথিত জামাল ভিকটিমকে ধর্ষণসহ খুন করার সুযোগ পায়। সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা এবং যুক্তিতর্ক শেষে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৭ ধারায় যাবজ্জীবন ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং ৯(২) ধারায় মৃত্যুদণ্ড এবং ১ লাখ টাকা জরিমানা করে ২০১৯ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি রায় দেন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মোতাহির আলী।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: ইত্তেফাক ডিজিটাল রিপোর্ট (০২.০৮.২০২৬)

চট্টগ্রাম চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আমলী আদালতের দায়িত্ব পুন:বন্টন

চট্টগ্রাম চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আমলী আদালতের দায়িত্ব পুন:বন্টন

ছবি: সংগৃহীত 
চট্টগ্রাম চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে কর্মরত ম্যাজিস্ট্রেটদের আমলী আদালতের দায়িত্ব পুনর্বণ্টন করা হয়েছে। এ বিষয়ে সেমবার (৩১ আগস্ট) চট্টগ্রাম চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের কার্যালয় থেকে একটি অফিস আদেশ জারি করা হয়েছে।

অফিস আদেশে বলা হয়েছে, দেওয়ানি ও বিচারিক কাজের সুবিধার্থে The Code of Criminal Procedure, 1898-এর ১৭(২) ধারার ক্ষমতাবলে পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ আদালতের আওতাধীন সকল থানায় দায়েরকৃত অভিযোগ নিম্নোক্তভাবে পুনর্বণ্টন করা হলো। তবে বিমানবন্দর, ইপিজেড ও পতেঙ্গা থানা এর আওতার বাইরে থাকবে।

আদেশ অনুযায়ী চট্টগ্রাম চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আমলী আদালতের দায়িত্ব পুন:বন্টন নিম্নরূপ:

১. মো. মহিউদ্দিন ইসলাম, অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, চট্টগ্রাম— আমলী আদালত নং-০১ ও ০৯-এর দায়িত্ব পালন করবেন। তাঁর আমলী আদালতের অধিক্ষেত্র কোতোয়ালী ও খুলশী থানা।
২. মো. আবু বকর সিদ্দিক, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, ১ম আদালত, চট্টগ্রাম— আমলী আদালত নং-০৩ ও ০৫ এবং দ্রুত বিচার-০১-এর দায়িত্ব পালন করবেন। তাঁর আদালতের অধিক্ষেত্র বায়েজিদ বোস্তামী ও পাঁচলাইশ থানা।
৩. মুহাম্মদ তুষার মজুমদার, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, ২য় আদালত, চট্টগ্রাম— আমলী আদালত নং-০২ ও ১৬ এবং দ্রুত বিচার-০২-এর দায়িত্ব পালন করবেন। তাঁর আদালতের অধিক্ষেত্র বন্দরনগরী ও সদরঘাট থানা এবং ‘মোটরযান আইন-১৯৮৩ (সংশোধিত-১৯৮৮)’ অনুযায়ী মামলাসমূহ।
৪. মো. আনোয়ারুল হোসেন, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, ৩য় আদালত, চট্টগ্রাম— আমলী আদালত নং-০৪ ও ১৩ এবং দ্রুত বিচার-০৩-এর দায়িত্ব পালন করবেন। তাঁর আদালতের অধিক্ষেত্র পাঁচলাইশ ও বাকলিয়া থানা।
৫. মোহাম্মদ মোস্তফা, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, ৪র্থ আদালত, চট্টগ্রাম— আমলী আদালত নং-০৭ ও ১০-এর দায়িত্ব পালন করবেন। তাঁর আদালতের অধিক্ষেত্র বন্দর, চকবাজার ও হালিশহর থানা এবং নির্দিষ্ট ধারায় দায়ের হওয়া মামলাসমূহ।
৬. ফারহানা সাবের, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, ৫ম আদালত, চট্টগ্রাম— আমলী আদালত নং-০৬ ও ১১-এর দায়িত্ব পালন করবেন। তাঁর আদালতের অধিক্ষেত্র কর্ণফুলী ও পতেঙ্গা থানা।
৭. এস. এম. ওয়াসিফুল মাহমুদ, মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, ৬ষ্ঠ আদালত, চট্টগ্রাম— আমলী আদালত নং-০৮, ১২ ও ১৪-এর দায়িত্ব পালন করবেন। তাঁর আদালতের অধিক্ষেত্র চান্দগাঁও, বাকলিয়া ও পাহাড়তলী থানা।

আদেশে আরও বলা হয়েছে, ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০’, ‘মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন-২০১২’, বিস্ফোরক আইনের মামলা এবং ‘সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮’-এর আওতাধীন মামলাসমূহও সংশ্লিষ্ট আমলী আদালতের দায়িত্বে থাকবে। এ আদেশ আগামী ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে এবং পরবর্তী সংশোধন বা পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।


বিডিএলপিবি/এমএম

জুডিশিয়াল সার্ভিসের জন্য হবে পৃথক বেতন স্কেল

জুডিশিয়াল সার্ভিসের জন্য হবে পৃথক বেতন স্কেল

ছবি: সংগৃহীত 
জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬-এর পাশাপাশি বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের জন্য পৃথক বেতন স্কেল অনুমোদন করা হবে। এই লক্ষ্যে ইতোমধ্যে পৃথক কমিটি গঠন করা হয়েছে। সোমবার (৩১ আগস্ট) মন্ত্রিসভার বৈঠকে জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ অনুমোদনের পর অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জুডিশিয়াল সার্ভিসের জন্য গঠিত পৃথক কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের বেতন স্কেল অনুমোদন করা হবে। এতে আরও বলা হয়, জুডিশিয়াল সার্ভিসের নতুন বেতন স্কেলও জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬-এর মতো ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ধাপে ধাপে কার্যকর করা হবে।

জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ অনুযায়ী, ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ১ জুলাই ২০২৭-এর মধ্যে সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন মোট তিনটি ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে। আর বিভিন্ন ভাতা ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে একযোগে কার্যকর হবে।

মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি সাংবাদিকদের বলেন, জুডিশিয়াল সার্ভিসের জন্য পৃথক কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জুডিশিয়াল সার্ভিসের বেতন স্কেল অনুমোদন করা হবে।


বিডিএলপিবি/এমএম

ধর্ষণ মামলা মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় বাদীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

ধর্ষণ মামলা মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় বাদীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

ছবি: প্রতীকী 
পঞ্চগড়ে ধর্ষণ মামলা মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় বাদীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত।মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) পঞ্চগড় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক, জেলা ও দায়রা জজ হুসাইন মুহাম্মদ ফজলুল বারী এ আদেশ দেন।

২০২৫ সালের ৫ জুলাই পঞ্চগড়ের জগদল এলাকার বাসিন্দা জনি ইসলাম (২৮), বিপ্লব হোসেন (২৬), মোকছেদুল ইসলাম (৩৩), সাদেকুল ইসলাম (৩৩) ও খয়রুল ইসলামের (৪৩) বিরুদ্ধে গ/ণ/ধ/র্ষ/ণে/র মামলা করেন ৩০ বছর বয়সী এক নারী।

মামলার ঘটনা: মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, ২০২৫ সালের ৪ জুলাই রাতে পঞ্চগড় শহর থেকে জগদল এলাকার বাড়ি ফেরার পথে তিনমাইল এলাকায় ইজিবাইক থেকে নামিয়ে ওই নারীর মুখ চেপে ধরে সড়কের পাশে নিয়ে তার দুই বছরের শিশুকে ছু/রি ধরে জি/ম্মি করে গ/ণ/ধর্ষ/ণ করে অভিযুক্তরা। পরে জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯ এর মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ শিশুসহ ওই নারীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। এরপর অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত জনি ইসলাম, বিপ্লব হোসেন, মোকছেদুল ইসলাম ও সাদেকুল ইসলামকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তবে ঘটনার পর থেকে স্থানীয়রা দাবি তুলে ধরেন ঘটনাটিকে সাজানো এবং ষড়যন্ত্রমূলক। একই সঙ্গে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের মুক্তি দাবিতে মানববন্ধনসহ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন তারা।

পরবর্তীতে, আদালতের নির্দেশে আসামিদের ডিএনএ পরীক্ষা করা হলে বাদীর ডিএনএ’র সঙ্গে কোনো মিল পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে ওই নারীর ভাড়া বাড়ির মালিক আইবুল হকের ডিএনএ’র সঙ্গে পরীক্ষায় মিল পান আদালত। এরপর গত ১২ আগস্ট ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন ও পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে মামলা থেকে ৫ আসামিকে অব্যাহতি দেন আদালত। একই সঙ্গে মামলাটি মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় বাদীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণেন নির্দেশ দেয়া হয়।

এরপর গত সোমবার (৩১ আগস্ট) একই আদালতে গণধর্ষণ মামলার বাদী ও আইবুল হকের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১৭ ও ৩০ ধারায় একটি মামলার আবেদন করেন বিপ্লব হোসেন (২৬) নামে মামলায় একজন ক্ষতিগ্রস্ত যুবক। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সেই মামলায় নারীসহ দুজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।

ক্ষতিগ্রস্ত যুবক মামলার বাদী বিপ্লব হোসেনের পক্ষের আইনজীবী কামরুজ্জামান রাশেদ বলেন, ওই নারীর দায়ের করা গণধর্ষণের মামলাটি আদালতে মিথ্যা বলে প্রমাণিত হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত আসামিদের একজন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১৭ ও ৩০ ধারায় একটি মামলা করেছেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে মঙ্গলবার গণধর্ষণ মামলার বাদী ও অভিযুক্ত অপর ব্যক্তির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন বলেও জানান তিনি।



বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: সময় নিউজ (০২.০৯.২০২৬)