![]() |
| ছবি: সংগৃহীত |
অভিযোগপত্রের তথ্য অনুযায়ী, ৩১ আগস্ট দুপুর আনুমানিক ১টা ২৪ মিনিটে সিএমএম আদালত-১৯-এর এজলাসে একটি মামলার শুনানি করছিলেন এডভোকেট সোমাইয়াদ শাহেরিয়া ফিদা। এ সময় কয়েকজন আইনজীবী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। অভিযোগ করা হয়, শুনানি শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই এডভোকেট খোরশেদ আলমসহ কয়েকজন আইনজীবী সেখানে উচ্চস্বরে কথা বলতে শুরু করেন এবং শুনানিতে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, এ সময় নারী আইনজীবীকে উদ্দেশ করে রাজনৈতিক পরিচয় ও কর্মকাণ্ড নিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করা হয় এবং তাকে আদালতে প্র্যাকটিস করতে না দেওয়ার কথা বলা হয়। এতে তিনি পেশাগতভাবে অপদস্থ ও মানসিকভাবে বিব্রত বোধ করেন বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন।
সোমাইয়াদ শাহেরিয়া ফিদার অভিযোগ, এর আগেও বিভিন্ন সময়ে তিনি পেশাগতভাবে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন। সর্বশেষ আদালতকক্ষে বিচারকের উপস্থিতিতে এমন ঘটনার কারণে তিনি নিজের নিরাপত্তা এবং স্বাধীনভাবে আইন পেশা পরিচালনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ঘটনার বিষয়ে আদালতের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তিনি।
অভিযোগে ঘটনাটির পেছনে একটি মামলার আইনজীবী পরিবর্তনের বিষয়টি কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারীর দাবি, মামলার আসামি খাজা হাবিবুল্লাহ হাবিব আগে এডভোকেট খোরশেদ আলমের মক্কেল ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি এডভোকেট সোমাইয়াদ শাহেরিয়া ফিদাকে আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার পর বিরোধের সূত্রপাত হয়। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।
অন্যদিকে অভিযোগের বিষয়ে এডভোকেট খোরশেদ আলম বলেন, তাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে ‘ফ্যাসিস্ট ও তাদের দোসরদের’ মামলায় আইনজীবী হিসেবে অংশ না নেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। ওই মামলায় এমন ব্যক্তিদের পক্ষে আইনজীবীরা শুনানি করছেন—এমন তথ্যের ভিত্তিতেই তাদের কয়েকজন আদালতে গিয়েছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। তিনি অভিযোগকারী আইনজীবীদের কর্মকাণ্ড নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
খাজা হাবিবুল্লাহ হাবিবের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও দুই পক্ষের বক্তব্যে ভিন্নতা দেখা গেছে। খোরশেদ আলম তাকে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে দাবি করলেও অভিযোগকারী পক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, খাজা হাবিবুল্লাহ হাবিব দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং বিভিন্ন সময়ে দলটির মনোনয়ন নিয়ে ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন।
অভিযোগকারী আইনজীবী সোমাইয়াদ শাহেরিয়া ফিদা বলেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের তকমা ব্যবহার করে তাকে পেশাগতভাবে চাপে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। তার ভাষ্য, আদালতের মতো জায়গায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত এবং ঘটনার ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্টদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
এর আগে ২০২৫ সালের ১৭ মে ঢাকার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলার শুনানিকে কেন্দ্র করে ‘অপেশাদার আচরণ’ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংগঠনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার অভিযোগে এডভোকেট খোরশেদ আলমসহ চার আইনজীবীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার তথ্যও সামনে এসেছে। তবে ওই ঘটনায় পরবর্তী কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংগঠনের পক্ষ থেকে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: যায়যায়দিন (১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬)

0 coment rios: