২ সেপ, ২০২৬

ধর্ষণ মামলা মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় বাদীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

ছবি: প্রতীকী 
পঞ্চগড়ে ধর্ষণ মামলা মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় বাদীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত।মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) পঞ্চগড় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক, জেলা ও দায়রা জজ হুসাইন মুহাম্মদ ফজলুল বারী এ আদেশ দেন।

২০২৫ সালের ৫ জুলাই পঞ্চগড়ের জগদল এলাকার বাসিন্দা জনি ইসলাম (২৮), বিপ্লব হোসেন (২৬), মোকছেদুল ইসলাম (৩৩), সাদেকুল ইসলাম (৩৩) ও খয়রুল ইসলামের (৪৩) বিরুদ্ধে গ/ণ/ধ/র্ষ/ণে/র মামলা করেন ৩০ বছর বয়সী এক নারী।

মামলার ঘটনা: মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, ২০২৫ সালের ৪ জুলাই রাতে পঞ্চগড় শহর থেকে জগদল এলাকার বাড়ি ফেরার পথে তিনমাইল এলাকায় ইজিবাইক থেকে নামিয়ে ওই নারীর মুখ চেপে ধরে সড়কের পাশে নিয়ে তার দুই বছরের শিশুকে ছু/রি ধরে জি/ম্মি করে গ/ণ/ধর্ষ/ণ করে অভিযুক্তরা। পরে জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯ এর মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ শিশুসহ ওই নারীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। এরপর অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত জনি ইসলাম, বিপ্লব হোসেন, মোকছেদুল ইসলাম ও সাদেকুল ইসলামকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তবে ঘটনার পর থেকে স্থানীয়রা দাবি তুলে ধরেন ঘটনাটিকে সাজানো এবং ষড়যন্ত্রমূলক। একই সঙ্গে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের মুক্তি দাবিতে মানববন্ধনসহ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন তারা।

পরবর্তীতে, আদালতের নির্দেশে আসামিদের ডিএনএ পরীক্ষা করা হলে বাদীর ডিএনএ’র সঙ্গে কোনো মিল পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে ওই নারীর ভাড়া বাড়ির মালিক আইবুল হকের ডিএনএ’র সঙ্গে পরীক্ষায় মিল পান আদালত। এরপর গত ১২ আগস্ট ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন ও পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে মামলা থেকে ৫ আসামিকে অব্যাহতি দেন আদালত। একই সঙ্গে মামলাটি মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় বাদীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণেন নির্দেশ দেয়া হয়।

এরপর গত সোমবার (৩১ আগস্ট) একই আদালতে গণধর্ষণ মামলার বাদী ও আইবুল হকের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১৭ ও ৩০ ধারায় একটি মামলার আবেদন করেন বিপ্লব হোসেন (২৬) নামে মামলায় একজন ক্ষতিগ্রস্ত যুবক। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সেই মামলায় নারীসহ দুজনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।

ক্ষতিগ্রস্ত যুবক মামলার বাদী বিপ্লব হোসেনের পক্ষের আইনজীবী কামরুজ্জামান রাশেদ বলেন, ওই নারীর দায়ের করা গণধর্ষণের মামলাটি আদালতে মিথ্যা বলে প্রমাণিত হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত আসামিদের একজন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১৭ ও ৩০ ধারায় একটি মামলা করেছেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে মঙ্গলবার গণধর্ষণ মামলার বাদী ও অভিযুক্ত অপর ব্যক্তির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন বলেও জানান তিনি।



বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: সময় নিউজ (০২.০৯.২০২৬)


শেয়ার করুন

0 coment rios: