৬ আগ, ২০২৬

সাবেক যুগ্ম সচিব জগলুল পাশা ৭ দিনের রিমান্ডে

সাবেক যুগ্ম সচিব জগলুল পাশা ৭ দিনের রিমান্ডে

ছবিঃ সংগৃহীত 
১৩ বছর আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে সমাবেশে যোগ দিতে বাধা দেওয়া, তার বাসার সামনে বালুভর্তি ট্রাক রেখে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি এবং হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাবেক যুগ্ম সচিব সৈয়দ জগলুল পাশাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলম এ আদেশ দেন।

গত ৪ আগস্ট রাত দেড়টার দিকে রাজধানীর ভাটারা এলাকার বাসা থেকে জগলুল পাশাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বুধবার তাকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির পরিদর্শক আনোয়ার হোসেন।

রিমান্ড শুনানির জন্য বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। সেই অনুযায়ী আজ রিমান্ড শুনানির জন্য তাকে কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। রাষ্ট্রপক্ষ রিমান্ড আবেদনের পক্ষে শুনানি করে। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী রিমান্ড বাতিল ও জামিনের আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

উল্লেখ্য, মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০১৩ সালের ২৮ ডিসেম্বর জগলুল পাশাসহ মামলার ১১১ জন আসামি এবং অজ্ঞাতনামা ২৫০ থেকে ৩০০ জন মারাত্মক অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসার সামনে সকাল থেকে সারাদিন অবস্থান করেন। তারা বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মারধর করেন এবং অন্তর্ঘাতমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে রাস্তা বন্ধ করে দেন। এতে জনসাধারণের চলাচলে বিঘ্ন ঘটে এবং খালেদা জিয়া যাতে সমাবেশে যোগ দিতে না পারেন, সে উদ্দেশ্যে রাস্তায় আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়। অভিযোগে আরও বলা হয়, এভাবে তার গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করে চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়।


বিডিএলপিবি/এমএম

সূত্রঃ এখন টিভি

সব হাসপাতালে দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিতে সার্কুলার ইস্যুর নির্দেশ হাইকোর্টের

সব হাসপাতালে দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিতে সার্কুলার ইস্যুর নির্দেশ হাইকোর্টের

ছবিঃ সংগৃহীত 
সরকারি-বেসরকারি সব হাসপাতাল ও ক্লিনিকে দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দিয়ে সার্কুলার জারি করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিবকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ বিষয়ে জারি করা রুল নিষ্পত্তি করে বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিচারপতি মো. হাবিবুল গনি ও বিচারপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তাজরুল হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।

২০১৮ সালে ছিনতাইকারীর হাতে খুলনার সোনাডাঙ্গার মোটর পার্টস ব্যবসায়ী ইব্রাহিম ঢাকার সায়েদাবাদে ছিনতাইকারীর আঘাতে আহত হওয়ার পর নিকটস্থ সালাউদ্দিন হাসপাতালে গেলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে ঢাকা মেডিকেলে তার মৃত্যুর সংবাদ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে জনস্বার্থে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ একটি রিট পিটিশন দায়ের করে।

২০১৮ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি জীবন রক্ষায় ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না এবং সব হাসপাতাল ও ক্লিনিকে দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিকে চিকিৎসা দেওয়ার নির্দেশনা জারির জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, সেই সঙ্গে ভিকটিমকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, এ মর্মে রুল জারি করেন হাইকোর্ট।

রিট আবেদনের পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। তিনি জানান, রুলের শুনানি শেষে আদালত রুল আংশিকভাবে যথাযথ ঘোষণা করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে দেশের সব হাসপাতাল ও ক্লিনিককে দুর্ঘটনায় আহত যেকোনো ব্যক্তিকে চিকিৎসা দেওয়ার নির্দেশনা-সংক্রান্ত সার্কুলার জারির নির্দেশ দিয়েছেন। আদালত একইসঙ্গে ২০১৮ সালের সড়ক দুর্ঘটনা আইনের সংশোধন করে সব ধরনের দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে নিকটস্থ হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বিধি প্রণয়নেরও নির্দেশ দিয়েছেন।

অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ আরও জানান, সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদ অনুসারে বেঁচে থাকার অধিকার মানুষের মৌলিক অধিকার। কিন্তু দুর্ঘটনা বা ছিনতাইয়ে কেউ আহত হলে নিকটস্থ হাসপাতাল বা ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে গেলে অনেক ক্ষেত্রে তা দেওয়া হয় না। অথচ এসব হাসপাতাল ও ক্লিনিক সরকারের কাছ থেকে রোগীকে চিকিৎসা দেওয়ার জন্যই লাইসেন্স নিয়ে থাকে।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জিসান হায়দার। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালকের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট কাজী এরশাদুল আলম। সালাউদ্দিন হাসপাতালের পক্ষে ছিলেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান।


বিডিএলপিবি/এমএম

সূত্র: সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইট



হাছান-নওফেলসহ ২২ জনের বিচারে সাক্ষ্যগ্রহণ পিছিয়ে ২৪ আগস্ট

হাছান-নওফেলসহ ২২ জনের বিচারে সাক্ষ্যগ্রহণ পিছিয়ে ২৪ আগস্ট

ছবিঃ সংগৃহীত 
চব্বিশের জুলাই গণআন্দোলনের সময় চট্টগ্রামে ওয়াসিমসহ ছয় জনকে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে বিচারে সাক্ষ্যগ্রহণ পিছিয়ে আগামী ২৪ আগস্ট দিন নির্ধারণ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। 

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই আদেশ দেন। এদিন প্রসিকিউশনের সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে মামলার কার্যক্রম শুরুর দিন ধার্য্য রেখেছিলেন ট্রাইব্যুনাল।

গত ৩০ জুন ২২ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আজকের দিন ধার্য করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় মামলার প্রথম সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। 

এই মামলায় গ্রেফতার রয়েছেন পাঁচ জন। তারা হলেন— চট্টগ্রাম-৬ আসনের সাবেক এমপি ফজলে করিম চৌধুরী, যুবলীগ নেতা আজিজুর রহমান, তৌহিদুল ইসলাম, মো. ফিরোজ ও দেবাশীষ পাল দেবু। 

মামলার পলাতক অন্য আসামিরা হলেন— সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আ জ ম নাসির উদ্দীন, রেজাউল করিম, মহিউদ্দিন বাচ্চু, হেলাল আকবর, নুরুল আজিম রনি, শৈবাল দাশ সুমন, আবু ছালেক, এসবারুল হক, এইচএম মিঠু, নূর মোস্তফা টিনু, জমির উদ্দিন, ইমরান হাসান মাহমুদ, জাকারিয়া দস্তগীর, মহিউদ্দিন ফরহাদ ও সুমন দে। 


বিডিএলপিবি/এমএম

সুত্রঃ এখন টিভি


মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় ট্রাইব্যুনালে কাদের-সাদ্দামের ফোনালাপ উপস্থাপন

মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় ট্রাইব্যুনালে কাদের-সাদ্দামের ফোনালাপ উপস্থাপন

ছবিঃ সংগৃহীত 
চব্বিশের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমাতে উসকানি, সরাসরি নির্দেশ এবং অর্থ সহায়তা করেছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। সাবেক এই সেতুমন্ত্রী ছাত্র-জনতাকে কঠোর হস্তে দমনের নির্দেশ দিয়েছিলেন ছাত্রলীগ (নিষিদ্ধ সংগঠন) সভাপতি সাদ্দাম হোসেনকে। সেই ভয়ংকর নির্দেশনার একটি ফোনালাপ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করা হয়েছে। নির্দেশনায় আন্দোলনকারীদের দমাতে ওবায়দুল কাদের সাদ্দামকে ধমকের সুরে বলেন, 'মারো না কেন ওদের, প্রশ্রয় দাও কেন'।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চে মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় এই কল রেকর্ড দাখিল করা হয়।

প্রসিকিউশনের উপস্থাপিত কল রেকর্ড অনুযায়ী, ১১ জুলাই ওবায়দুল কাদের ফোনে সাদ্দাম হোসেনের কাছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অবস্থান সম্পর্কে জানতে চান। জবাবে সাদ্দাম জানান, প্রায় তিন হাজার শিক্ষার্থী কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন এবং সন্ধ্যা সাড়ে ৮টায় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করবেন।

এরপর কল রেকর্ডে ওবায়দুল কাদেরকে বলতে শোনা যায়, "মারো না কেন? মারো না কেন ওদের?" জবাবে সাদ্দাম পুলিশি অবস্থানের কথা উল্লেখ করলে কাদের আবার বলেন, "তা মারতেছ না কেন? নিচ থেকে হালকা হয়ে যাবে তো।"

প্রসিকিউশনের উপস্থাপনায় আরও বলা হয়, ফোনালাপে সাদ্দাম হোসেন জানান, তারা রাজনৈতিকভাবে আন্দোলনকারীদের মোকাবিলা করতে চেয়েছিলেন। তবে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশে শাহবাগ বা আন্দোলনস্থলের দিকে যেতে পারেননি।

কল রেকর্ডে সাদ্দামকে বলতে শোনা যায়, "আমরা তো গিয়ে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে চাই। কিন্তু আমাদের বারবার নিষেধ করা হয়েছে, যেন শাহবাগ বা অন্য কোথাও গিয়ে আন্দোলনকারীদের মুখোমুখি না হই।" এরপর ওবায়দুল কাদের জানতে চান, "কে?" জবাবে বলা হয়, "আমাদের পুলিশ প্লাস বিপ্লব দা ওনারা বলছিল।" উত্তরে কাদের বলেন, "বিপ্লব তো এইটা বলার কথা না!"

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় ওবায়দুল কাদের ছাড়াও অপর ছয় আসামি হলেন—আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান।

উল্লেখ্য, প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, মামলার সাত আসামিই বর্তমানে পলাতক। তাদের বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন চলছে। চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। পরে ২ আগস্ট মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। মামলায় তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ২৮ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। 


বিডিএলপিবি/এমএম

সূত্রঃ চ্যানেল ২৪

জিয়াউর রহমান হত্যায় জড়িত মোজাফফরের ফেসবুক-মেসেঞ্জারের তথ্য চেয়ে মেটাকে চিঠি

জিয়াউর রহমান হত্যায় জড়িত মোজাফফরের ফেসবুক-মেসেঞ্জারের তথ্য চেয়ে মেটাকে চিঠি

ছবি: সংগৃহীত 
সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার মোজাফফর হোসেনের ফেসবুক-মেসেঞ্জারের তথ্য চেয়ে মেটার কাছে চিঠি পাঠিয়েছে প্রসিকিউশন।

বুধবার (৫ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ও আইটি বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা বিষয়টি বাংলা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করেছেন।

মোজাফফরের সরাসরি মেসেঞ্জারে কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলার তথ্য প্রাপ্তির ভিত্তিতে মেটার কাছে এসব তথ্য চাওয়া হয়। এছাড়াও তিনি কিছু গ্রুপের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতেন। তার মুছে ফেলা কথোপকথন উদ্ধারের চেষ্টা চলছে বলেও জানান তানভীর হাসান জোহা। মানবতাবিরোধী অপরাধের অধিকতর তদন্তের স্বার্থে এসব তথ্য চাওয়া হয়। 

মেটার কাছে চাওয়া তথ্যগুলোর মধ্যে আছে, গ্রাহকের তথ্য এবং অ্যাকাউন্ট নিবন্ধনের বিবরণ, সব নিবন্ধিত এবং আগের ইমেল ঠিকানা এবং ফোন নম্বর, টাইমস্ট্যাম্প সহ সম্পূর্ণ লগইন ইতিহাস, অ্যাকাউন্টটি অ্যাক্সেস করতে ব্যবহৃত আইপি অ্যাড্রেস এবং ডিভাইস, ব্রাউজারের তথ্য, ফেসবুক মেসেঞ্জারের মুছে ফেলা যেসব কথোপকথন আছে সেগুলোসহ সব তথ্য মেটার কাছে চাওয়া হয়েছে।   

১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোরে চট্টগ্রামে এক সেনা বিদ্রোহে নিহত হয়েছিলেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা এবং তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তার লাশ গায়েব করার পেছনে ভূমিকা ছিল সাবেক সেনা কর্মকর্তা মো. মোজাফফর হোসেনের। সে সময় তিনি ছিলেন সেনাবাহিনীর একজন মেজর পদ মর্যাদার কর্মকর্তা। হত্যাকাণ্ডের পর তিনি পালিয়ে যান। তাকে ধরিয়ে দিতে সে সময় পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়েছিল। দীর্ঘ ৪৫ বছর পর বুধবার (১৫ জুলাই) রাতে রাজধানীর বনানী থেকে তাকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। এরপর সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এরপর ২৩ জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক এই সেনা কর্মকর্তাকে গ্রেফতার দেখানোর আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। সেই সঙ্গে তাকে দুদিন জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও মোজাফফর হোসেনকে সেনা হেফাজতে রাখার আদেশও দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

এর আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানান, মোজাফফর ও অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে। মাসুদ ২০০৭ সালের সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং তৎকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার অভিযুক্তদের মধ্যে অন্যতম। মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী যে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় গ্রেফতার হয়ে হেফাজতে রয়েছেন, সেই একই মামলায় মোজাফফরকেও গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম আরও বলেন, জিয়াউর রহমান হত্যা মামলায় সেনা আইনে তার বিচার হবে। এর সঙ্গে আমাদের কোনও সম্পর্ক নেই। আমাদের তদন্ত চলছে মানবতাবিরোধী অপরাধের। আওয়ামী লীগ সরকারের ১৬ বছরের কর্মকাণ্ডে তার কী সংশ্লিষ্টতা রয়েছে, সেটিই আমরা দেখবো। অর্থাৎ আমাদের বিচারের কার্যক্রম পুরোপুরি আলাদা। তবে তিনি সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে থাকবেন। আমাদের প্রয়োজনমতো সেখান থেকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করবো। এছাড়া তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর ট্রাইব্যুনালের প্রচলিত আইনে বিচার চলবে।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: ইত্তেফাক

প্যারালিগ্যালদের কাজ কেবল পেশা নয়, জনসেবার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও : আইনমন্ত্রী

প্যারালিগ্যালদের কাজ কেবল পেশা নয়, জনসেবার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও : আইনমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত 
আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, প্যারালিগ্যালদের কাজ কেবল একটি পেশা নয়, জনসেবার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও। তিনি আরও বলেন, মানুষের দোরগোড়ায় আইনি অধিকার ও আইনগত সেবা পৌঁছে দিয়ে ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিতে প্যারালিগ্যালরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাজধানীর গুলশানের ক্রাউন প্লাজা ঢাকায় বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তর (ডিবিএলএ) ও ফ্রেন্ডশিপের যৌথ উদ্যোগে প্রণীত ‘ফ্রেন্ডশিপ কমিউনিটি প্যারালিগ্যাল প্রশিক্ষণ ম্যানুয়াল’-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী বলেন, আইনজীবী হওয়ার আগেই তিনি প্যারালিগ্যাল হিসেবে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে আইনগত সচেতনতা তৈরির কাজ করেছেন। সেই কারণে তাদের ভূমিকা ও গুরুত্ব সম্পর্কে তার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা রয়েছে।

তিনি বলেন, মানুষের অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি এবং প্রয়োজনীয় আইনগত তথ্য ও সেবা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে প্যারালিগ্যালরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

মন্ত্রী বলেন, টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া এবং রূপসা থেকে পাথুরিয়া পর্যন্ত দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে অধিকারবিষয়ক সচেতনতা পৌঁছে দিতে ফ্রেন্ডশিপ যে কার্যক্রম পরিচালনা করছে, তা অন্যতম সেরা উদ্যোগ। এ ধরনের কার্যক্রম ন্যায়বিচারে জনগণের প্রবেশাধিকার নিশ্চিতকরণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোর কর্মসূচি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক ও আনুষ্ঠানিক ব্যয় কমিয়ে উপকারভোগীদের জন্য বরাদ্দ আরও বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া উচিত বলে মনে করেন মন্ত্রী। এতে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী আরও বেশি উপকৃত হবে।

ফ্রেন্ডশিপের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক রুনা খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তৃতা দেন আইন ও বিচার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব খাদেম উল কায়েস, বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মনজুরুল হোসাইন এবং ফ্রেন্ডশিপের সিনিয়র পরিচালক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নাগরিকত্ব বিভাগের প্রধান আয়েশা তাসিন খান।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: বাসস

দিল্লিতে শেখ হাসিনাকে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ দেওয়ায় ঢাকার ক্ষোভ: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রেস রিলিজ

দিল্লিতে শেখ হাসিনাকে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ দেওয়ায় ঢাকার ক্ষোভ: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রেস রিলিজ

হহ
ছবি: সংগৃহীত
মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দিল্লিতে সংবাদ সম্মেলন করতে দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়েছে ঢাকা। বুধবার (৫ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।

এতে বলা হয়, আত্মগোপনে থাকা দণ্ডপ্রাপ্ত গণহত্যাকারী শেখ হাসিনাকে আজ সন্ধ্যায় নয়াদিল্লিতে গণমাধ্যমের সঙ্গে সরাসরি আলাপচারিতার অনুমতি দেওয়ায় বাংলাদেশ ক্ষুব্ধ। ঢাকা গভীরভাবে দুঃখ প্রকাশ করে যে, আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পুনর্গঠনে এই ঘটনার সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কে ভারত সরকারকে উদ্বেগ জানানো সত্ত্বেও এই প্রকাশ্য অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ভারতের মাটিতে শেখ হাসিনার এই আলাপচারিতা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি অবমাননা এবং জুলাই বিপ্লবের শহীদদের প্রতি মারাত্মক অপমান। ফ্যাসিবাদী শাসন দ্বারা ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে শিশুসহ নিরীহ বেসামরিক লোকদের নৃশংস হত্যাকাণ্ড-সংক্রান্ত জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত তথ্য অস্বীকার করা পলাতক দোষী সাব্যস্ত গণহত্যাকারী হাসিনা এবং তার অপরাধী সহযোগীদের ইতিহাসের জোয়ারকে বিপরীত করার একটি বৃথা প্রচেষ্টা। বাংলাদেশের জনগণ অতীতে এ ধরনের জঘন্য প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করেছিল এবং এখনও করছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে সমুন্নত রেখে দেশের জনগণ দৃঢ় সংকল্প নিয়েছে যে, জাতি আর কখনও ফ্যাসিবাদের অন্ধকার দিনগুলোতে ফিরে যাবে না এবং বাংলাদেশ কখনও ক্লায়েন্ট রাষ্ট্র হবে না। সাজাপ্রাপ্ত গণহত্যাকারী শেখ হাসিনা ও তার মাফিয়া প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের রাজনীতিতে কখনও স্থান পাবে না।

এতে আরও বলা হয়, সার্বভৌম সাম্য, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং জাতীয় মর্যাদার ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে গঠনমূলক, পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ও দূরদর্শী সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় বাংলাদেশ। দুঃখজনকভাবে, ২০১৩ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত প্রত্যর্পণ চুক্তির অধীনে দোষী সাব্যস্ত অপরাধী হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর জন্য ভারত সরকারের কাছে বারবার অনুরোধ করা হলেও এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বিপরীতে, যেকোনও অজুহাতে তাকে গণমাধ্যমের সঙ্গে খোলামেলা কথা বলার সুযোগ দেওয়া আমাদের জনগণের অনুভূতির জন্য গভীরভাবে ক্ষতিকর এবং বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিকাশের জন্যও ক্ষতিকর।

প্রেস রিলিজ:


বিডিএলপিবি/এমএম (সূত্র: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক পাঠানো প্রেস রিলিজ)