২১ জুল, ২০২৬

পুরুষ নির্যাতন দমনে আইন চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের

পুরুষ নির্যাতন দমনে আইন চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের

ছবি: সংগৃহীত 

‘পুরুষ নির্যাতন দমন ও প্রতিরোধ আইন’ নামে একটি নতুন আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে একটি রিট দায়ের করা হয়েছে যেখানে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিচারপতি রাজিক আল জলিলের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চে রিট আবেদনটি শুনানির জন্য কার্যতালিকায় রয়েছে।

রিট বলা হয়েছে, যদি একটি ‘পুরুষ নির্যাতন দমন ও প্রতিরোধ আইন’ প্রণয়ন করা হয়, তবে আইনের সমতা ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে নারীরা ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন’-এর অপব্যবহার করতে পারবে না। এছাড়া বিবাদীদের ওপর ‘পুরুষ নির্যাতন দমন ও প্রতিরোধ আইন’ নামে একটি নতুন আইন প্রণয়ন করার জন্য নির্দেশনা দেওয়ার জন্য প্রার্থনা করা হয়েছে রিটে।

রিটে ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন’ অপব্যবহারের মাধ্যমে পুরুষদের অপ্রয়োজনীয় হয়রানি থেকে রক্ষা করার জন্য ‘পুরুষ নির্যাতন দমন ও প্রতিরোধ আইন’ নামে একটি নতুন আইন প্রণয়নে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা এবং ব্যর্থতা কেন আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত এবং আইনগতভাবে অকার্যকর ঘোষণা করা হবে না; এবং ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন’ বা ‘যৌতুক আইন’ অপব্যবহারের মাধ্যমে পুরুষদের অপ্রয়োজনীয় হয়রানি থেকে রক্ষা করার জন্য বিবাদীদের কেন ‘পুরুষ নির্যাতন দমন ও প্রতিরোধ আইন’ নামে একটি নতুন আইন প্রণয়নের নির্দেশ দেওয়া হবে না, এই মর্মে রুল জারির আর্জি জানানো হয়েছে।

এছাড়া, রিটে রুল শুনানি পেন্ডিং থাকা অবস্থায়, ‘পুরুষ নির্যাতন দমন ও প্রতিরোধ আইন’-এর অপব্যবহারের মাধ্যমে পুরুষদের অপ্রয়োজনীয় হয়রানি থেকে রক্ষা করার জন্য বিবাদীদেরকে  ‘পুরুষ নির্যাতন দমন ও প্রতিরোধ আইন’ নামে একটি নতুন আইন প্রণয়নের নির্দেশ দিতে অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ চাওয়া হয়েছে।


বিডিএলপিবি/এমএম

চকরিয়া-সুন্দরবনের ২১ হাজার একর বনভূমি রক্ষায় হাইকোর্টের রুল

চকরিয়া-সুন্দরবনের ২১ হাজার একর বনভূমি রক্ষায় হাইকোর্টের রুল

ছবি: সংগৃহীত 

কক্সবাজারের চকরিয়া-সুন্দরবনকে সংরক্ষিত বন থেকে অবমুক্তকরণ (ডি-রিজার্ভ) কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না এবং সেখান থেকে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে বনভূমি কেন পুনরুদ্ধার করা হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট।

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) করা এক জনস্বার্থমূলক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে রোববার (১৯ জুলাই) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করে। আদালতে বেলার পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মো. আশরাফ আলী। তাকে সহায়তা করেন ব্যারিস্টার রুমানা শারমিন।

বেলার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আদালত তার রুলে চকরিয়া-সুন্দরবনকে সংরক্ষিত বন থেকে অবমুক্ত করার প্রজ্ঞাপন এবং বনভূমি পুনরুদ্ধারে বিবাদীদের ব্যর্থতাকে কেন ‘অসাংবিধানিক, স্বৈরাচারী, বেআইনি, আইনি কর্তৃত্ববহির্ভূত এবং জনস্বার্থবিরোধী’ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়েছে।

একইসঙ্গে দক্ষিণ চট্টগ্রামের উপকূলীয় এলাকায় বিস্তৃত ২১ হাজার ২০ দশমিক ৪৫ একর আয়তনের ‘চকরিয়া-সুন্দরবন’ থেকে ‘সকল অবৈধ ইজারা বা বরাদ্দ বাতিল করে এবং সকল অবৈধ ও অননুমোদিত দখলদারদের উচ্ছেদ করে’ কেন ওই বনভূমি সুরক্ষা, সংরক্ষণ ও পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার নির্দেশ দেওয়া হবে না- রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।

এর মধ্যে রয়েছে- ওই বনভূমির সকল ইজারাদার ও বরাদ্দপ্রাপকদের একটি তালিকা প্রস্তুত করা এবং প্রধান বন সংরক্ষকসহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের মাধ্যমে উক্ত বনের জন্য একটি ‘পুনঃপ্রতিষ্ঠা পরিকল্পনা’ (Restoration Plan) প্রস্তুত করে তা আদালতের নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে দাখিল করা।

রিট আবেদনে চকরিয়া উপজেলার চরণদ্বীপ, রামপুর, রিংভং, পালকাটা, বদরখালীঘোনা, ডেমুশিয়া, কোনাখালীরঘোনা, বেহুলামাণিকচর, পেকুয়া, মগনামা, উজানটিয়া, খিলসাদেকসহ বিস্তীর্ণ মৌজার নাম উল্লেখ করে এসব এলাকা অবৈধ দখলমুক্ত করার আবেদন জানানো হয়েছে।

চকরিয়া-সুন্দরবনের বর্তমান বেহাল দশার চিত্র তুলে ধরে বেলার বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঐতিহাসিকভাবে এটি কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলার একটি বিস্তীর্ণ সংরক্ষিত ম্যানগ্রোভ বনভূমি। কালক্রমে অপরিকল্পিত ইজারা প্রদান, অবৈধ দখল এবং গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ডি-রিজার্ভেশনের ফলে এটি প্রায় সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত হয়ে গেছে।

কর্তৃপক্ষ একাধিকবার এ বনভূমি পুনরুদ্ধারের স্মারক জারি করলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি জানিয়ে বেলা বলছে, এটি বন আইন-১৯২৭ এবং সংবিধানের পরিবেশ সংরক্ষণ সংক্রান্ত ১৮(ক) অনুচ্ছেদের ‘সুস্পষ্ট লঙ্ঘন’।

রিটে ভূমি, পরিবেশ ও বন, মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব, বন অধিদফতরের প্রধান বন সংরক্ষক, মৎস্য অধিদফতরের মহাপরিচালক, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, বন সংরক্ষক (চট্টগ্রাম বিভাগ) এবং চকরিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়েছে।


বিডিএলপিবি/এমএম

বিচারপ্রার্থীর মামলা সঠিকভাবে আদালতে উপস্থাপনের আহ্বান প্রধান বিচারপতির

বিচারপ্রার্থীর মামলা সঠিকভাবে আদালতে উপস্থাপনের আহ্বান প্রধান বিচারপতির

ছবি: সংগৃহীত 

বিচারপ্রার্থীর মামলা সঠিকভাবে আদালতে উপস্থাপন করতে আইনজীবীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ও জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমিরউদ্দীন সরকারের স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে  ২০ জুলাই, সোমবার তিনি এ আহ্বান জানান।

আইন পেশায় ব্যারিস্টার জমিরউদ্দীন সরকারের সততা ও দায়িত্ববোধের কথা স্মরণ করে প্রধান বিচারপতি আইনজীবীদের উদ্দেশে বলেন, আপনি (আইনজীবী) যে মামলাটা হাতে নিয়েছেন সেটির প্রতি কমিটমেন্ট থাকতে হবে। বিচারপ্রার্থী আপনাকে প্রফেশনালি মামলায় এঙ্গেজ করেছেন, তাই আপনি আপনার কর্তব্য পালনে বাধ্য। এটা আপনার লিগ্যাল, ইথিক্যাল ও মোরাল দায়িত্বও। বিচার করবেন বিচারপতিরা। আপনি (আইনজীবী) তার মামলাটা প্রপারলি কোর্টে প্রেজেন্ট করেন। হার-জিত অন্য বিষয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার মো. কায়সার কামাল বলেন, দেশের গণতন্ত্রের জন্য, সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার জন্য এবং আইনের শাসন ও মৌলিক অধিকার রক্ষার জন্য ব্যারিস্টার জমিরউদ্দীন সরকারের মধ্যে সবসময় একটা আকুতি ছিল। তিনি অত্যন্ত প্রজ্ঞাবান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন। 

অনুষ্ঠানের আরেক বিশেষ অতিথি আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দীন সেই সৌভাগ্যবানদের একজন যিনি জীবনের প্রতিটা ক্ষেত্রে সফলতার চূড়ায় আরোহণ করেছেন।একজন মানুষ এক জীবনে এর থেকে বেশি কিছু অর্জন করতে পারে না। তিনি ব্যারিস্টার ছিলেন, ছয়বার এমপি হয়েছেন, শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন, স্পিকার ছিলেন, আবার ছিলেন অস্থায়ী রাষ্ট্রপতিও। 

অনুষ্ঠানে আরও বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি এস. এম. এমদাদুল হক, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান সিনিয়র অ্যাডভোকেট আলহাজ্ব জয়নুল আবেদীন (এমপি) এবং বিএনপির আইন সম্পাদক ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক ব্যারিস্টার মো. বদরুদ্দোজা (বাদল)। 


বিডিএলপিবি/এমএম

সোর্স: বাসস

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডিতে রাজনীতিকদের অযোগ্য ঘোষণা প্রশ্নে হাইকোর্টের রুল

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডিতে রাজনীতিকদের অযোগ্য ঘোষণা প্রশ্নে হাইকোর্টের রুল

ছবি: সংগৃহীত 

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটিতে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত বা রাজনৈতিক পদে থাকা ব্যক্তিদের নির্বাচন, মনোনয়ন কিংবা অনুমোদনের ক্ষেত্রে অযোগ্য ঘোষণা করে বিদ্যমান বিধিমালা সংশোধন অথবা নতুন বিধিমালা প্রণয়নের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগ।  

একই সঙ্গে রুলে স্থানীয়ভাবে স্বীকৃত শিক্ষানুরাগী, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, সৎ ও স্বনামধন্য সমাজসেবক, মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষাবিদ, আইনজীবী, চিকিৎসক এবং অন্যান্য বিশিষ্ট নাগরিকদের এসব কমিটিতে অন্তর্ভুক্তির সুযোগ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় বিধান প্রণয়নের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না এবং এ বিষয়ে বিচারিক নির্দেশনা (জুডিসিয়াল গাইডলাইন) কেন জারি করা হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে। 

এ সংক্রান্ত রিটের শুনানি শেষে সোমবার (২০ জুলাই) বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মো. নাদির খান ও মো. সোহেল রানা। এর আগে গত ৭ জুন রুবেল মিয়া একজন অভিভাবকের পক্ষে অ্যাডভোকেট নাদির খান জনস্বার্থে এ রিট দায়ের করেন। 

রিট আবেদনে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি প্রবিধানমালা, ২০২৪–এর বিধি ৭ সংশোধন অথবা সব শিক্ষা বোর্ডের জন্য নতুন বিধিমালা প্রণয়নের নির্দেশনা চাওয়া হয়। আবেদনে বলা হয়, রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত বা দলীয় পদধারী ব্যক্তিদের এসব কমিটিতে অন্তর্ভুক্তি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা, জবাবদিহি ও সুশাসনের প্রশ্নে বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে। তাই এসব কমিটিতে সমাজে গ্রহণযোগ্য, শিক্ষানুরাগী ও সৎ ব্যক্তিদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। 


বিডিএলপিবি/এমএম

প্রক্সির সহায়তায় চাকরি: যোগদান করতে এসে ধরা পড়ে ৪ জন কারাগারে

প্রক্সির সহায়তায় চাকরি: যোগদান করতে এসে ধরা পড়ে ৪ জন কারাগারে

ছবিঃ সংগৃহীত

প্রক্সি পরীক্ষার্থীর সহায়তায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক (গ্রেড-২০) পদে নিয়োগ পাওয়ার অভিযোগে চার চাকরিপ্রার্থীকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিজ্ঞ আদালত। সোমবার (২০ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মো. জোনাইদ শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে আসামিদের জামিন আবেদনের শুনানির জন্য মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দিন ধার্য করেন। কারাগারে পাঠানো চার আসামি হলেন- মো. রাসেল রানা লিটন (৩২), মো. আলিম (২৮), মো. আলী হায়দার (২৯) ও মো. মাসুদ ফকির (৩১)।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ২৪, ২৫ ও ২৮ আগস্ট জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক (গ্রেড-২০) পদের মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সে সময় অংশগ্রহণকারী সব প্রার্থীর ছবি তুলে রাখা হয়। এরপর চূড়ান্তভাবে নির্বাচিতদের ১৯ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টায় সচিবালয়ের ৩ নম্বর ভবনের ১ নম্বর কক্ষে যোগদানের জন্য ডাকা হয়।

নির্ধারিত সময়ে ওই চারজন যোগ দিতে এলে কর্মকর্তাদের সন্দেহ হয়। পরে মৌখিক পরীক্ষার দিন তুলে রাখা ছবির সঙ্গে মিলিয়ে দেখলে জালিয়াতির বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যায়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তারা মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে প্রক্সি পরীক্ষার্থীর মাধ্যমে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে নিয়োগপত্র পাওয়ার কথা স্বীকার করেন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনার পর রোববার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সচিবালয় থেকে চারজনকে আটক করে শাহবাগ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরদিন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা এইচ এম আরিফুর রহমান বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় প্রতারণার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন।

সোমবার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আবদুল গাফফার (হিমেল) চার আসামিকে আদালতে হাজির করে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানান।অন্যদিকে আসামিদের পক্ষে জামিন আবেদন করা হয়। আসামি রাসেল রানা লিটন ও আলী হায়দারের পক্ষে আইনজীবী নাজনীন আক্তার এবং মাসুদ ফকিরের পক্ষে আইনজীবী মো. মনির হোসাইন শুনানিতে অংশ নেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদনের শুনানির জন্য মঙ্গলবার দিন ধার্য করে চার আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।


বিডিএলপিবি/এমএম


২০ জুল, ২০২৬

বিচারকের স্বাক্ষর-সিল জালিয়াতি, আইনজীবীসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা

বিচারকের স্বাক্ষর-সিল জালিয়াতি, আইনজীবীসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা

ছবি: সংগৃহীত 

ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের এক বিচারকের স্বাক্ষর ও সরকারি সিল জাল করে ভুয়া হলফনামা তৈরির অভিযোগে রাজধানীর কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। আদালতের নথি যাচাইয়ের সময় জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ে। পরে আদালতের নির্দেশনা অনুসারে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

রোববার সন্ধ্যায় ঢাকার সিএমএম আদালতের নেজারত বিভাগের অফিস সহকারী ও কম্পিউটার অপারেটর মো. খালিদ হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলায় মো. নয়ন, মোসা. রিমা এবং আইনজীবী মো. তরিকুল ইসলাম (তরু) ছাড়াও অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রবিউল মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সন্ধ্যায় মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে। তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে থানার উপপরিদর্শক শহিদুল ইসলামকে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ জুলাই ঢাকার ১১ নম্বর আদালতের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের মৌখিক নির্দেশে মো. নয়ন ও ফাহিমা ইসলাম রিয়া নামে এক দম্পতির বিয়ের হলফনামা আদালতের সংরক্ষিত রেজিস্টারের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়। যাচাই-বাছাইয়ে দেখা যায়, উপস্থাপিত হলফনামাটি আদালতের প্রকৃত নথির সঙ্গে মিলছে না।

তদন্তে আরও জানা যায়, হলফনামায় উল্লেখ করা ২০২৬ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারির ৩০ নম্বর স্মারকে আদালতের রেজিস্টারে প্রকৃতপক্ষে মো. জাফরুল ইসলাম নামে অন্য এক ব্যক্তির হলফনামা নিবন্ধিত রয়েছে। অর্থাৎ একই স্মারক নম্বর ব্যবহার করে ভিন্ন তথ্য সংবলিত একটি জাল নথি তৈরি করা হয়েছিল।

এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, আসামিরা ঢাকার ১১ নম্বর আদালতের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের স্বাক্ষর ও সরকারি সিল জাল করে ভুয়া হলফনামা প্রস্তুত করেন। পরে সেই জাল নথি ব্যবহার করে বরগুনার বামনা আমলি আদালতে একটি সিআর (নালিশি) মামলা দায়েরের চেষ্টা করা হয়। তবে নথি যাচাইয়ের পর সংশ্লিষ্ট আদালত ফৌজদারি কার্যবিধির ২০৩ ধারায় অভিযোগটি খারিজ করে দেন।

মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধভাবে আদালতের নাম, বিচারকের স্বাক্ষর এবং সরকারি সিল জাল করে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিলেন। জাল নথি তৈরি ও তা ব্যবহার করে প্রতারণার চেষ্টা করায় তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪৬৫, ৪৬৬, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।


বিডিএলপিবি/এমএম

যুবককে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় ২ জনের মৃত্যুদণ্ড

যুবককে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় ২ জনের মৃত্যুদণ্ড

ছবি: সংগৃহীত 

রাজধানীর কল্যাণপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ছিনতাইকালে বাধা দেওয়ায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে শফিকুল আলম নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় দু’জনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত আসামিরা হলেন মো. সোহেল রানা ওরফে কালু ও মো. নাজিম উদ্দিন ওরফে নাজিম ওরফে নজু।

রোববার, ১৯ জুলাই ঢাকা অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ ৪র্থ আদালতের বিচারক মোসাদ্দেক মিনহাজ এ রায় ঘোষণা করেন।রায়ে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেক আসামিকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদ- করা হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মো. খলিলুর রহমান (খলিল) বাসস-কে বিষয়টি জানান।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০০৫ সালের ২২ জুন ভোর ৪টা ১৫ মিনিটের দিকে মামলার বাদী আকবর আলীর ছেলে শফিক বগুড়া হতে এসআর পরিবহনে ঢাকা কল্যাণপুর বাসস্ট্যান্ডে নেমে তার বন্ধুর বাসায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন। এশিয়া সিনেমা হলের সামনে পৌঁছালে তিনজন আসামি ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে তার পথরোধ করে ধারালো অস্ত্র দ্বারা ভয়ভীতি প্রদর্শন করে সঙ্গে থাকা নগদ অর্থ, মোবাইল জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেওয়ার সময় ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে শফিককে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্র দ্বারা এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। পরবর্তীতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভিকটিম শফিক মৃত্যুবরণ করেন। এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো. আকবর আলী বাদী হয়ে মিরপুর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

২০০৬ সালের ৫ এপ্রিল মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মিরপুর মডেল থানার পরিদর্শক মো. রেজাউল করিম আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরবর্তীতে একই বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন আদালত। মামলার বিচারকালে ১৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ৯ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেন।


বিডিএলপিবি/এমএম
সোর্স: বাসস