কক্সবাজারের চকরিয়া-সুন্দরবনকে সংরক্ষিত বন থেকে অবমুক্তকরণ (ডি-রিজার্ভ) কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না এবং সেখান থেকে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে বনভূমি কেন পুনরুদ্ধার করা হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট।
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) করা এক জনস্বার্থমূলক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে রোববার (১৯ জুলাই) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করে। আদালতে বেলার পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মো. আশরাফ আলী। তাকে সহায়তা করেন ব্যারিস্টার রুমানা শারমিন।
বেলার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আদালত তার রুলে চকরিয়া-সুন্দরবনকে সংরক্ষিত বন থেকে অবমুক্ত করার প্রজ্ঞাপন এবং বনভূমি পুনরুদ্ধারে বিবাদীদের ব্যর্থতাকে কেন ‘অসাংবিধানিক, স্বৈরাচারী, বেআইনি, আইনি কর্তৃত্ববহির্ভূত এবং জনস্বার্থবিরোধী’ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়েছে।
একইসঙ্গে দক্ষিণ চট্টগ্রামের উপকূলীয় এলাকায় বিস্তৃত ২১ হাজার ২০ দশমিক ৪৫ একর আয়তনের ‘চকরিয়া-সুন্দরবন’ থেকে ‘সকল অবৈধ ইজারা বা বরাদ্দ বাতিল করে এবং সকল অবৈধ ও অননুমোদিত দখলদারদের উচ্ছেদ করে’ কেন ওই বনভূমি সুরক্ষা, সংরক্ষণ ও পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার নির্দেশ দেওয়া হবে না- রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে- ওই বনভূমির সকল ইজারাদার ও বরাদ্দপ্রাপকদের একটি তালিকা প্রস্তুত করা এবং প্রধান বন সংরক্ষকসহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের মাধ্যমে উক্ত বনের জন্য একটি ‘পুনঃপ্রতিষ্ঠা পরিকল্পনা’ (Restoration Plan) প্রস্তুত করে তা আদালতের নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে দাখিল করা।
রিট আবেদনে চকরিয়া উপজেলার চরণদ্বীপ, রামপুর, রিংভং, পালকাটা, বদরখালীঘোনা, ডেমুশিয়া, কোনাখালীরঘোনা, বেহুলামাণিকচর, পেকুয়া, মগনামা, উজানটিয়া, খিলসাদেকসহ বিস্তীর্ণ মৌজার নাম উল্লেখ করে এসব এলাকা অবৈধ দখলমুক্ত করার আবেদন জানানো হয়েছে।
চকরিয়া-সুন্দরবনের বর্তমান বেহাল দশার চিত্র তুলে ধরে বেলার বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঐতিহাসিকভাবে এটি কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলার একটি বিস্তীর্ণ সংরক্ষিত ম্যানগ্রোভ বনভূমি। কালক্রমে অপরিকল্পিত ইজারা প্রদান, অবৈধ দখল এবং গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ডি-রিজার্ভেশনের ফলে এটি প্রায় সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত হয়ে গেছে।
কর্তৃপক্ষ একাধিকবার এ বনভূমি পুনরুদ্ধারের স্মারক জারি করলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি জানিয়ে বেলা বলছে, এটি বন আইন-১৯২৭ এবং সংবিধানের পরিবেশ সংরক্ষণ সংক্রান্ত ১৮(ক) অনুচ্ছেদের ‘সুস্পষ্ট লঙ্ঘন’।
রিটে ভূমি, পরিবেশ ও বন, মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব, বন অধিদফতরের প্রধান বন সংরক্ষক, মৎস্য অধিদফতরের মহাপরিচালক, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, বন সংরক্ষক (চট্টগ্রাম বিভাগ) এবং চকরিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়েছে।
বিডিএলপিবি/এমএম

0 coment rios: