২৩ মে, ২০২৬

আরেক হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো খায়রুল হককে

আরেক হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো খায়রুল হককে


ছবি: সংগৃহীত 

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যত্রাবাড়ী থানার খোবাইব হত্যা মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হককে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। শনিবার (২৩ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হক আবেদন মঞ্জুর করে আদেশ দেন।

অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন মারা গেছেন

অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন মারা গেছেন


ছবি: সংগৃহীত 

ভোলা-২ (বোরহানউদ্দিন-দৌলতখান) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯০ বছর।

প্রধানমন্ত্রীর এপিএস পরিচয়ে প্রতারণা, অত:পর গ্রেপ্তার

প্রধানমন্ত্রীর এপিএস পরিচয়ে প্রতারণা, অত:পর গ্রেপ্তার


ছবি: সংগৃহীত 

নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস), সাংবাদিক ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী পরিচয় দিয়ে প্রতারণার অভিযোগে একাধিক মামলার সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি আব্দুল্লাহ আল মামুনকে (৪৬) কে গ্রেপ্তার করেছে মানিকগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ।

শুক্রবার (২২ মে) বিকেলে মানিকগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মাসুম ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ইনচার্জ মানবেন্দ্র বালো উপস্থিত ছিলেন।

গ্রেপ্তার আব্দুল্লাহ আল মামুন মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার উলাইল গ্রামের আব্দুল হামিদের ছেলে। বর্তমানে তিনি ঢাকার সাভারের জালেশ্বর এলাকার রাঢ়ীবাড়ী বি-ব্লক ২/৯ নম্বর বাসায় বসবাস করতেন।

পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে জমি ও ফ্ল্যাট ব্যবসার নামে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন মামুন। এছাড়া নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব, সাংবাদিক ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী পরিচয় দিয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের বদলি ও পদোন্নতির প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া, নিয়োগ বাণিজ্য এবং বিভিন্ন মামলার আসামিদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিলেন।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গত ১৮ মে তিনি তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর থেকে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী ও খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে ফোন করে নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব হিসেবে পরিচয় দেন। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর এপিএস-১ জানতে পেরে ধানমন্ডি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। 

পরে পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তার অবস্থান শনাক্ত করে। এর আগে, বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাত ১১টার দিকে সাভারের জালেশ্বর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

এ সময় তার কাছ থেকে প্রতারণায় ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন, ভুয়া সাংবাদিক পরিচয়পত্র, ‘প্রেস’ লেখা একটি জিপ গাড়ি, ‘আইনজীবী বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট’ সম্বলিত লিফলেট এবং জমি ক্রয়-বিক্রয়ের দলিলের ফটোকপি উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম বলেন, সে প্রতারণার কাজে বিশেষ একটি মোবাইল ব্যবহার করত এবং সে দীর্ঘদিন যাবত এই ধরনের প্রতারণার কাজে জড়িত ছিল।তার বিরুদ্ধে পূর্বে চেক জালিয়াতিসহ মোট ছয়টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে দুটি মামলায় তিনি সাজাপ্রাপ্ত ছিলেন।


বিডিএলপিবি/এমএম


রামিসা ধর্ষণ-হত্যা : দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান সুপ্রিম কোর্ট বার সম্পাদক

রামিসা ধর্ষণ-হত্যা : দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান সুপ্রিম কোর্ট বার সম্পাদক


ছবি: সংগৃহীত 

শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নৃশংস ও মর্মান্তিক হত্যার ঘটনায় গভীর শোক, তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট বারের নব নির্বাচিত সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী।

শুক্রবার (২২ মে) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী বলেন, একটি নিষ্পাপ শিশুর প্রতি এমন পাশবিকতা সমগ্র জাতির বিবেককে নাড়া দিয়েছে। এ ধরনের জঘন্য অপরাধ কোনো সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

আমি প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানাই ইতোমধ্যে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের ন্যায়বিচারের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার নির্দেশ প্রদান করেছেন।

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচিত সম্পাদক হিসেবে আমি রামিসার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় যে কোনো আইনি সহায়তা প্রদানে প্রস্তুত আছি। শিশুদের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ব। আসুন, আমরা সবাই অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হই।


বিডিএলপিবি/এমএম

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা, ৮ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা, ৮ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা


ছবি: সংগৃহীত 

ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের ওপর হামলা, মারধর ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে মামলা হয়েছে। মামলায় ছাত্রদলের ৮ নেতার নামসহ অজ্ঞাতনামা আরো ১১০ থেকে ১১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

‎‎শুক্রবার (২২ মে) রাতে ঝিনাইদহ সদর থানায় মামলাটি দায়ের করেন এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব তারেকুল ইসলাম তারেক রেজা।‎

আসামিরা হলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক শাহেদ আহম্মেদ, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ইমরান হোসেন, সাবেক সভাপতি এসএম সমিনুজ্জামান সমিন, সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার রাসেল, সাবেক সহসভাপতি নয়ন হাওলাদার, পৌর ছাত্রদলের সভাপতি মোবারেক হোসেন ইমন, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক হাদুসহ ৮ জন।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে ঝিনাইদহ শহরের পুরাতন ডিসি কোর্ট জামে মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় এনসিপির কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়কারী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ নেতাকর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়।‎‎ এ সময় হামলাকারীরা ঘুষি, ইট-পাটকেল, জিআই পাইপ, বেসবল ব্যাট ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা করে বলে অভিযোগ করা হয়।

‎হামলায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, তানাইম, আসিফ, আলামিন, হাসিবুর রহমান, নাহিয়ান খান নিয়াজ ও অয়ন রহমান খানসহ কয়েকজন আহত হন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

‎এ ছাড়া হামলার সময় একটি ডিএসএলআর ক্যামেরা, কয়েকটি মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগও আনা হয়েছে। ছিনতাই হওয়া মালামালের মধ্যে একটি সনি আলফা এ৬৪০০ ক্যামেরা, ট্যামরন লেন্স ও মেমোরি কার্ড রয়েছে, যার মূল্য প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা বলে দাবি করা হয়েছে।‎ ‎মামলায় আরো বলা হয়, স্থানীয় এনসিপি নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। যাওয়ার সময় হামলাকারীরা এনসিপির নেতাকর্মীদের হত্যার হুমকি দেয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

‎ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী কর্তৃক দায়েরকৃত মামলায় আসামীদের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হলে দণ্ডবিধির যেসকল ধারায় হতে পারে শাস্তি:
ধারা ৩৫২: অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ বা উসকানি ছাড়া আঘাত করলে সর্বোচ্চ তিন মাস কারাদণ্ড বা পাঁচশ টাকা জরিমানা।
ধারা ৩২৩: গুরুতর আঘাত ছাড়া স্বেচ্ছায় আঘাত করলে এক মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা জরিমানা।
ধারা ৩২৪: কোনো অস্ত্র বা মারাত্মক হাতিয়ার দ্বারা স্বেচ্ছায় সাধারণ আঘাত (Hurt) করার শাস্তি দণ্ডবিধির সর্বোচ্চ ৩ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড, অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে
ধারা ৫০৪: প্রকাশ্য অপমান বা জনসমক্ষে উত্তেজনা সৃষ্টি করলে সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড বা জরিমানা।
ধারা ৩৯২: পাবলিক নুইসেন্স, সর্বোচ্চ দুইশ টাকা জরিমানা।
ধারা ৪৯৯–৫০০: সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হলে মানহানি মামলা, সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড।
ধারা ৩৭৯: অনুযায়ী বলপ্রয়োগের মাধ্যমে ছিনতাই করলে সর্বোচ্চ ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। 


বিডিএলপিবি/এমএম

২২ মে, ২০২৬

আসামির পক্ষে লড়বেন না ঢাকা বারের কোনো আইনজীবী

আসামির পক্ষে লড়বেন না ঢাকা বারের কোনো আইনজীবী


ফইল ছবি

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত সোহেল রানার পক্ষে কোনো আইনজীবী আইনি লড়াইয়ে অংশ নেবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছে ঢাকা আইনজীবী সমিতি।

শুক্রবার (২২ মে) সকালে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ কালাম খান তার ফেসবুক প্রোফাইলে এক পোস্টের মাধ্যমে জানান, রামিসা হত্যাকাণ্ডের মতো পৈশাচিক ও জঘন্য অপরাধের আসামির পক্ষে ঢাকা বারের কোনো সদস্য আদালতে দাঁড়াবেন না। শিশুটির প্রতি মানবিক দায়বদ্ধতা এবং অপরাধের ভয়াবহতা বিবেচনায় আইনজীবীরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা গত বুধবার (২০ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে। জবানবন্দিতে সে শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও পরবর্তীতে গলাকেটে হত্যার রোমহর্ষক বর্ণনা দেয়। জবানবন্দি রেকর্ড শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এদিকে, শুক্রবার রাতে নিহত রামিসার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি শোকসন্তপ্ত বাবা-মায়ের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং শিশুটির ওপর চালানো এই পৈশাচিকতার বিচার দ্রুততম সময়ে শেষ করার প্রতিশ্রুতি দেন। 

প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দিয়ে বলেন, এই ঘৃণ্য অপরাধের বিচার দৃষ্টান্তমূলক হবে যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ শিশুদের ওপর এমন হাত দেওয়ার সাহস না পায়।

উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন আগে পল্লবীতে ৮ বছরের শিশু রামিসাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দার ঝড় ওঠে। বর্তমানে মামলাটি দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ার দিকে এগুচ্ছে এবং আসামির স্বীকারোক্তি ও আইনজীবীদের বর্জনের ফলে বিচারিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বিডিএলপিবি/এমএম

মামলা না নেয়ার অভিযোগ পাটওয়ারীর, পুলিশ বলছে সার্ভার ডাউন

মামলা না নেয়ার অভিযোগ পাটওয়ারীর, পুলিশ বলছে সার্ভার ডাউন


ছবি: সংগৃহীত 

ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপির) মুখ্য সংগঠন নাসির উদ্দিন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় সন্ধ্যা পর্যন্ত সদর থানায় অবস্থান করলেও মামলা নেয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী।

শুক্রবার (২২ মে) দুপুর ২টার দিকে ঝিনাইদহ পুরাতন কালেক্টরেট মসজিদের সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, শুক্রবার জুম্মার নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হচ্ছিলেন নাসির উদ্দিন পাটওয়ারী। এ সময় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ নাসির উদ্দিন পাটওয়ারীর সঙ্গে কথা বলতে আসেন। কথা বলার এক পর্যায়ে ছাত্রদল নেতা সাহেদ আহম্মেদের পেছন দিক কিছু যুবক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপ করে। এ সময় উভয়পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে এনসিপির কয়েকজন স্থানীয় কর্মী আহত হয়। এ ঘটনার পর এনসিপির নেতারা বিক্ষোভ করেন।

পরে হামলার ঘটনায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে ঝিনাইদহ সদর থানায় অবস্থান নেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। এ সময় এনসিপি, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা থানার বাইরে অবস্থান নেন।

হামলার ঘটনায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বিভিন্ন জেলায় সফরে গিয়ে বিএনপির সিনিয়র নেতাদের নিয়ে নানা করুচিপূর্ণ বক্তব্য দিচ্ছেন। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঝিনাইদহ সফরে এলে আমি তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য না দেয়ার বিষয়ে আলাপ করতে যাই। এ সময় স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা ডিম নিক্ষেপ করে। মারামারি বা ডিম নিক্ষেপের সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই।’

‎এদিকে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগের প্রতিবাদে বিক্ষোভ ঝিনাইদহ জেলা ছাত্রদল। বিকাল ৫টার দিকে শহরের শহীদ মিনার চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে পায়রা চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ইমরান হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার রাসেল, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রদলের আহবায়ক সাহেদ আহমেদ।

‎সমাবেশ বক্তারা বলেন, ‘এনসিপির মূখ্য সংগঠন নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারীকে কে-বা কারা ডিম নিক্ষেপ ও হামলা করেছে তা তাদের জানা নেই। অথচ ছাত্রদলকে দোষ দেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ছাত্রদল।’ এ সময় ঘটনার তদন্ত করার দাবি জানান বক্তারা।

এদিকে বিকাল সন্ধ্যা সোয়া ৭টা পর্যন্ত লিখিত অভিযোগ দায়ের করতে ঝিনাইদহ সদর থানায় অবস্থান করেন নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী সহ এনসিপি নেতাকর্মীরা। তবে থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়ার পরেও পুলিশ তা গ্রহণ করেনি বলে অভিযোগ করেছেন নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী।

এর আগে হামলার বিষয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করে বলেন, ‘আইনমন্ত্রী ও ঝিনাইদহ বিএনপির সভাপতি আব্দুল মজিদের লোকজন হামলা চালিয়েছে। তারা ডিম নিক্ষেপ করেছে। আমাদের ৩/৪ জন আহত হয়েছেন। আমরা এই ন্যাক্কারজনক হামলার বিচার চাইবো। আইনমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করছি। আইনমন্ত্রীর এলাকাতেই যদি আইন শৃঙ্খলার এরকম অবস্থা হয়, তাহলে তার মন্ত্রী থাকার দরকার নেই।’

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদউজ্জামান বলেন, ‘পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী থানায় এসেছেন। এখন পর্যন্ত লিখিত অভিযোগ পাইনি।’

মামলা গ্রহণে এনসিপির অভিযোগের বিষয়ে তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘সার্ভার ডাউন রয়েছে। যে কারণে এখনো অভিযোগ নেয়া সম্ভব হয়নি। তবে যেহেতু আমলযোগ্য অপরাধ বিষয়ে অভিযোগ, কাজেই অভিযোগপত্র না নেয়ার সুযোগ নেই। সার্ভার স্বাভাবিক হলেই আমরা অভিযোগ অনলাইনে এন্ট্রি করব।’