২৩ মে, ২০২৬

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা, ৮ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা


ছবি: সংগৃহীত 

ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের ওপর হামলা, মারধর ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে মামলা হয়েছে। মামলায় ছাত্রদলের ৮ নেতার নামসহ অজ্ঞাতনামা আরো ১১০ থেকে ১১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

‎‎শুক্রবার (২২ মে) রাতে ঝিনাইদহ সদর থানায় মামলাটি দায়ের করেন এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব তারেকুল ইসলাম তারেক রেজা।‎

আসামিরা হলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক শাহেদ আহম্মেদ, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ইমরান হোসেন, সাবেক সভাপতি এসএম সমিনুজ্জামান সমিন, সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার রাসেল, সাবেক সহসভাপতি নয়ন হাওলাদার, পৌর ছাত্রদলের সভাপতি মোবারেক হোসেন ইমন, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক হাদুসহ ৮ জন।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়, শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে ঝিনাইদহ শহরের পুরাতন ডিসি কোর্ট জামে মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় এনসিপির কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়কারী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ নেতাকর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়।‎‎ এ সময় হামলাকারীরা ঘুষি, ইট-পাটকেল, জিআই পাইপ, বেসবল ব্যাট ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা করে বলে অভিযোগ করা হয়।

‎হামলায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, তানাইম, আসিফ, আলামিন, হাসিবুর রহমান, নাহিয়ান খান নিয়াজ ও অয়ন রহমান খানসহ কয়েকজন আহত হন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

‎এ ছাড়া হামলার সময় একটি ডিএসএলআর ক্যামেরা, কয়েকটি মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগও আনা হয়েছে। ছিনতাই হওয়া মালামালের মধ্যে একটি সনি আলফা এ৬৪০০ ক্যামেরা, ট্যামরন লেন্স ও মেমোরি কার্ড রয়েছে, যার মূল্য প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা বলে দাবি করা হয়েছে।‎ ‎মামলায় আরো বলা হয়, স্থানীয় এনসিপি নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। যাওয়ার সময় হামলাকারীরা এনসিপির নেতাকর্মীদের হত্যার হুমকি দেয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

‎ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী কর্তৃক দায়েরকৃত মামলায় আসামীদের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হলে দণ্ডবিধির যেসকল ধারায় হতে পারে শাস্তি:
ধারা ৩৫২: অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ বা উসকানি ছাড়া আঘাত করলে সর্বোচ্চ তিন মাস কারাদণ্ড বা পাঁচশ টাকা জরিমানা।
ধারা ৩২৩: গুরুতর আঘাত ছাড়া স্বেচ্ছায় আঘাত করলে এক মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা জরিমানা।
ধারা ৩২৪: কোনো অস্ত্র বা মারাত্মক হাতিয়ার দ্বারা স্বেচ্ছায় সাধারণ আঘাত (Hurt) করার শাস্তি দণ্ডবিধির সর্বোচ্চ ৩ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড, অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে
ধারা ৫০৪: প্রকাশ্য অপমান বা জনসমক্ষে উত্তেজনা সৃষ্টি করলে সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড বা জরিমানা।
ধারা ৩৯২: পাবলিক নুইসেন্স, সর্বোচ্চ দুইশ টাকা জরিমানা।
ধারা ৪৯৯–৫০০: সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হলে মানহানি মামলা, সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড।
ধারা ৩৭৯: অনুযায়ী বলপ্রয়োগের মাধ্যমে ছিনতাই করলে সর্বোচ্চ ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। 


বিডিএলপিবি/এমএম


শেয়ার করুন

0 coment rios: