মামলা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
মামলা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

৩১ অক্টো, ২০২৬

তাহসিফের মৃত্যু: বাবার দায়ের করা হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার বন্ধু দীপ

তাহসিফের মৃত্যু: বাবার দায়ের করা হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার বন্ধু দীপ

কোলাজ ছবি 
বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় তার জুনিয়র বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে গ্রেপ্তার করেছে নৌ পুলিশ। তাহসিফ নিখোঁজ হওয়ার আগে দীপের সঙ্গে প্রায় ছয় ঘণ্টা সময় কাটিয়েছিলেন বলে জানা গেছে।

দীপের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এর আগে তুরাগ নদসংলগ্ন এলাকা থেকে নম্বরপ্লেটবিহীন একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। এবার তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিমের দায়ের করা হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) তাকে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে নৌ পুলিশ। নৌ পুলিশের তুরাগ ফাঁড়ির ডিউটি অফিসার উপপরিদর্শক (এসআই) মোস্তাফিজ জানান, উত্তরখান থানায় দায়ের করা হত্যা মামলায় দীপকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হবে।

এর আগে একই দিন সকালে তাহসিফের বাবা অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে উত্তরখান থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিব জানান, নিহতের বাবা বাদী হয়ে মামলাটি করেছেন।

নিখোঁজ হওয়ার আগে দীপের সঙ্গে সাক্ষাৎ

গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় রাজধানীর উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন তাহসিফ। পরিবারের সদস্যদের দাবি, তার জুনিয়র বন্ধু দীপের ডাকে সাড়া দিয়েই তিনি বাসা থেকে বের হয়েছিলেন।

সেদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রাজউক উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের একটি গ্যারেজের সামনে স্থাপিত সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে তাহসিফ ও দীপকে একসঙ্গে দেখা যায়। ফুটেজে তাদের হাত মেলানোর পর পৃথক দুটি মোটরসাইকেলে করে সেখান থেকে চলে যেতে দেখা গেছে।

পরিবারকে দীপ জানিয়েছিলেন, তাহসিফের মোটরসাইকেলে যান্ত্রিক সমস্যা দেখা দেওয়ায় তারা একটি ওয়ার্কশপে গিয়েছিলেন। পরে মোটরসাইকেল মেরামত শেষে একসঙ্গে খাবার খেয়ে তিনি চলে যান। তবে ওই রাতে তাদের অবস্থান ও যোগাযোগের বিষয়টি পরবর্তী সময়ে তদন্তের আওতায় আসে।

তুরাগ নদ থেকে উদ্ধার হয় মরদেহ

গত ২৮ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তুরাগ নদে একটি মরদেহ ভাসতে থাকার খবর পেয়ে টঙ্গী নদী পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে সেটি উদ্ধার করেন। পরে হাতঘড়ি ও পকেটে থাকা আইফোনের সূত্র ধরে মরদেহটি তাহসিফের বলে শনাক্ত করা হয়।

পরদিন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। পরে উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে জানাজা শেষে ১২ নম্বর সেক্টরের কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

দীপের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মোটরসাইকেল উদ্ধার

তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় গত ২৯ অক্টোবর দিবাগত রাতে মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের একটি বাসা থেকে দীপকে হেফাজতে নেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

পরদিন শুক্রবার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) সদস্যরা তাকে নিয়ে টঙ্গীর তুরাগ নদসংলগ্ন মাজার বস্তি এলাকায় যান। সেখানে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নম্বরপ্লেটবিহীন কালো রঙের একটি সুজুকি জিক্সার ১৫০ মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।

পিবিআইয়ের জিজ্ঞাসাবাদে দীপ দাবি করেন, ঘটনার রাতে তিনি ও তাহসিফ তুরাগ নদসংলগ্ন এলাকায় গিয়েছিলেন। সেখানে কয়েকজন ব্যক্তি তাদের ধাওয়া করলে তাহসিফ নদীতে ঝাঁপ দেন। তবে তার দেওয়া এ বক্তব্যের সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

পরে পিবিআই তার বক্তব্যের অসংগতিসহ ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত যাচাই করে সেগুলো নৌ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। একই সঙ্গে দীপকেও নৌ পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

ছেলের মৃত্যু নিয়ে বাবার সন্দেহ

তাহসিফের মৃত্যুর পর থেকেই ঘটনাটিকে হত্যাকাণ্ড বলে সন্দেহ প্রকাশ করে আসছিলেন তার বাবা কে এম এনায়েতুল করিম। তার দাবি, তাহসিফ সাঁতার জানতেন। তাই নদীতে ঝাঁপ দেওয়ার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে—এমন বক্তব্য নিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন।

এ ঘটনায় বাবার দায়ের করা হত্যা মামলায় এবার দীপকে গ্রেপ্তার করা হলো। তবে তাহসিফের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ, কীভাবে তিনি তুরাগ নদে পৌঁছালেন এবং ঘটনার সঙ্গে আর কারা জড়িত—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো তদন্তসাপেক্ষ। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটিত হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সূত্র: বাংলা নিউজ ২৪

২৮ অক্টো, ২০২৬

ছুরিকাঘাতের খবর পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে ছেলের মরদেহ দেখতে পাই: আদালতে সাম্যর বাবা

ছুরিকাঘাতের খবর পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে ছেলের মরদেহ দেখতে পাই: আদালতে সাম্যর বাবা

ছবি: সংগৃহীত 
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদল নেতা এস এম শাহরিয়ার আলম সাম্য হত্যা মামলায় আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন তাঁর বাবা ফখরুল আলম। জবানবন্দিতে তিনি জানান, ছুরিকাঘাতে ছেলের আহত হওয়ার খবর পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে মর্গে তাঁর মরদেহ দেখতে পান।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) ঢাকার ১৯তম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. মমিনুল ইসলামের আদালতে সাক্ষ্য দেন ফখরুল আলম। তাঁর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আগামী ১৮ নভেম্বর পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে।

জবানবন্দিতে ফখরুল আলম বলেন, সাম্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্স শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। ২০২৫ সালের ১৩ মে রাত সাড়ে ১২টার দিকে পরিবারের কাছে ফোন আসে—সাম্যকে কয়েকজন ছুরিকাঘাত করেছে। খবর পেয়ে তিনি দ্রুত সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে যান। সেখানে মর্গে ছেলের মরদেহ দেখতে পান।

তিনি আদালতকে আরও জানান, ওই রাতে সাম্য তাঁর বন্ধু বায়েজিদ ও রাফির সঙ্গে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে খাবার খেতে গিয়েছিলেন। খাবার শেষে ফেরার পথে রাত ১২টা ৫ মিনিটের দিকে উদ্যানের মুক্তমঞ্চের উত্তর-পশ্চিম কোণায় পৌঁছালে কয়েকজন দুর্বৃত্ত সাম্যকে ছুরিকাঘাত করে। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

সাক্ষ্য শেষে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা ফখরুল আলমকে জেরা করেন।

মামলার বেঞ্চ সহকারী আশরাফুল আমিন জানান, এ নিয়ে মামলায় তিনজনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়েছে। এর আগে গত ৮ আগস্ট মামলার বাদী ও সাম্যর বড় ভাই এস এ এএম শরীফুল আলম এবং ২৭ সেপ্টেম্বর সাম্যর সহপাঠী আশরাফুল আলম রাফি আদালতে সাক্ষ্য দেন।

গত ৩ মে মামলার সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। আসামিরা হলেন—মেহেদী হাসান, মো. রাব্বি ওরফে কবুতর রাব্বি, মো. রিপন ওরফে আকাশ, নাহিদ হাসান পাপেল, মো. হৃদয় ইসলাম, মো. হারুন অর রশিদ সোহাগ ওরফে লম্বু সোহাগ এবং মো. রবিন। তাঁদের মধ্যে রাব্বি ও হৃদয় পলাতক; অন্যরা জামিনে রয়েছেন।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৩ মে রাতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ভেতর দিয়ে মোটরসাইকেলে যাওয়ার সময় ছুরিকাঘাতে আহত হন ২৫ বছর বয়সী শাহরিয়ার আলম সাম্য। রাত ১২টার দিকে বন্ধুরা তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

পরদিন ১৪ মে সকালে সাম্যর বড় ভাই শরীফুল ইসলাম শাহবাগ থানায় ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে ডিবির রমনা বিভাগের পরিদর্শক মো. আখতার মোর্শেদ গত বছরের ৩০ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

অভিযোগপত্রে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গাঁজা বিক্রিতে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে সাম্যকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়।

সাম্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি এফ রহমান হল ছাত্রদলের সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন 

জিয়াউল আহসানের অভিযানের পক্ষে সিসিটিভি ফুটেজ ও ডিজিটাল প্রমাণ সংগ্রহের বিষয়ে যা জানালেন তদন্ত কর্মকর্তা

জিয়াউল আহসানের অভিযানের পক্ষে সিসিটিভি ফুটেজ ও ডিজিটাল প্রমাণ সংগ্রহের বিষয়ে যা জানালেন তদন্ত কর্মকর্তা

ছবি: সংগৃহীত 
মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তদন্তের সময় সংশ্লিষ্ট অভিযানগুলোর সমর্থনে সিসিটিভি ফুটেজ, ডিজিটাল প্রমাণপত্র এবং চলাচলসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করতে পারেননি বলে জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ আসামিপক্ষের আইনজীবীর জেরার জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্য অনুযায়ী, র‍্যাব-৮-এর আর্কাইভ থেকে অভিযানের পক্ষে প্রয়োজনীয় ডিজিটাল তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেও তিনি সফল হননি। জিয়াউল আহসান ও গোয়েন্দা শাখার সদস্যদের চলাচলসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টাও ব্যর্থ হয়।

অভিযানের প্রতিবেদনেও জিয়াউলের নাম ছিল না

জেরার একপর্যায়ে তদন্ত কর্মকর্তা জানান, সংশ্লিষ্ট অভিযানগুলোর বিষয়ে নির্বাহী তদন্তের যেসব প্রতিবেদন তিনি সংগ্রহ করেছিলেন, সেগুলোতে জিয়াউল আহসানের নাম উল্লেখ ছিল না। তবে তিনি প্রতিবেদনগুলোকে ‘ফরমায়েশি প্রতিবেদন’ বলে অভিহিত করেন।

অভিযানের প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হতো কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যেসব অভিযান সঠিকভাবে পরিচালিত হতো, সেগুলোর প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হতো। অন্যদিকে, যেসব অভিযান সঠিকভাবে পরিচালিত হতো না, সেগুলোর প্রতিবেদন পাঠানো হতো না।

তদন্ত কর্মকর্তা আরও জানান, অভিযানে আহত ও নিহত ব্যক্তিদের নাম এবং সংশ্লিষ্ট র‍্যাব সদস্যদের পরিচয় সংগ্রহের জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে গিয়েছিলেন। তবে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক চাহিদাপত্র দেননি বলে স্বীকার করেন।

তিনটি অভিযোগে চলছে বিচার

জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় প্রসিকিউশন তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনেছে।

প্রথম অভিযোগে ২০১১ সালের ১১ জুলাই রাতে গাজীপুরের পুবাইলে সজলসহ তিনজনকে হত্যার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। দ্বিতীয় অভিযোগে ২০১০ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী এলাকায় বলেশ্বর নদীর মোহনায় নজরুল, মল্লিকসহ ৫০ জনকে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।

তৃতীয় অভিযোগেও একই সময়কালে বলেশ্বর নদী ও বাগেরহাটের শরণখোলা-সংলগ্ন সুন্দরবন এলাকায় বনদস্যু দমনের অভিযানের আড়ালে মাসুদসহ ৫০ জনকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে।

মামলায় প্রসিকিউশনের ১৫তম সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম। গত ৩০ সেপ্টেম্বর তাঁর সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। এরপর থেকে আসামিপক্ষের আইনজীবী সাহিদুর রহমান তাঁকে জেরা করছেন।

সূত্র: ঢাকা পোস্ট, ২৮ অক্টোবর ২০২৬।


২৭ অক্টো, ২০২৬

রাজউকের প্লট বরাদ্দের প্রলোভনে ৬ কোটি টাকার বেশি আত্মসাতের অভিযোগ, কারাগারে মঞ্জুরুল

রাজউকের প্লট বরাদ্দের প্রলোভনে ৬ কোটি টাকার বেশি আত্মসাতের অভিযোগ, কারাগারে মঞ্জুরুল

ছবি: সংগৃহীত 

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) প্লট বরাদ্দ দেওয়ার কথা বলে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৬ কোটি ২৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মুন্সী মঞ্জুর-ই-এলাহী ওরফে মঞ্জুরুল আলমকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ঢাকার একটি আদালত তাঁর জামিন আবেদন নাকচ করে এ আদেশ দেন।

পাঁচ কাঠার প্লট দেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়ার অভিযোগ

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযোগকারী মো. নাসির ‘প্রশান্তি এন্টারপ্রাইজ’-এর স্বত্বাধিকারী। অভিযুক্তদের সঙ্গে তাঁর জমি কেনাবেচার ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিল। সেই সূত্রে উত্তরা এলাকায় রাজউকের পাঁচ কাঠার একটি প্লট বরাদ্দ পাওয়া যাবে বলে তাঁকে প্রস্তাব দেওয়া হয়।

অভিযোগে বলা হয়েছে, প্লটটির মূল্য ৫ থেকে ৬ কোটি টাকা হলেও পরবর্তী সময়ে তা ৯ থেকে ১০ কোটি টাকায় বিক্রি করা সম্ভব হবে বলে তাঁকে আশ্বস্ত করা হয়েছিল। এ প্রস্তাবে রাজি হয়ে নাসির বিনিয়োগে সম্মত হন।

কিস্তিতে ৬ কোটি ২৩ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ

মামলার বিবরণে বলা হয়, প্লটের অগ্রিম মূল্য ও নিবন্ধনের খরচের কথা বলে বিভিন্ন সময়ে নাসিরের কাছ থেকে পে-অর্ডার ও নগদে মোট ৬ কোটি ২৩ লাখ টাকা নেওয়া হয়। এর মধ্যে কয়েক কোটি টাকা সিটি ব্যাংক ও আইএফআইসি ব্যাংকের পে-অর্ডারের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অনুকূলে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।

কিন্তু টাকা নেওয়ার পরও প্লট বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন নাসির। একপর্যায়ে অভিযুক্তরা তাঁর ফোনকলের উত্তর দেওয়া বন্ধ করে দেন এবং উত্তরা ১৬ নম্বর সেক্টরে তাঁদের কার্যালয় বন্ধ করে চলে যান বলে মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে।

পরে টাকা ফেরত চাইলে তা দিতে অস্বীকৃতি জানানো হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

আদালতে মামলা, তদন্ত করে প্রতিবেদন সিআইডির

মামলার তথ্য অনুযায়ী, টাকা ফেরত না পেয়ে ২০২৪ সালের ২৯ ডিসেম্বর আদালতে সিআর মামলা করেন নাসির। ওই দিনই আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) তদন্তের নির্দেশ দেন। তদন্ত শেষে চলতি বছরের ৩০ জুন আদালতে প্রতিবেদন জমা দেয় সিআইডি।

এদিকে মঞ্জুরুল আলমের বিচারের দাবিতে মঙ্গলবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত আদালত প্রাঙ্গণে মানববন্ধন করেন অভিযোগের শিকার ব্যক্তিরা। তাঁরা এ ঘটনায় জড়িত বলে অভিযুক্ত অন্য ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার, আত্মসাৎ করা অর্থ উদ্ধার এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেন।

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন


অপহরণ ও ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ: দুই ডিজিএফআই সদস্যের বিচার হবে সামরিক আইনে

অপহরণ ও ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ: দুই ডিজিএফআই সদস্যের বিচার হবে সামরিক আইনে

ছবি: সংগৃহীত 
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে এক মোটরসাইকেল ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে গ্রেফতার প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) দুই সদস্যের বিরুদ্ধে সামরিক আইনে বিচারিক প্রক্রিয়া শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে তদন্ত আদালত গঠন ও প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাদের সামরিক কর্তৃপক্ষের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত।

সামরিক কর্তৃপক্ষের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন মঞ্জুর

সোমবার (২৬ অক্টোবর) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে শুনানি শেষে এ আদেশ দেওয়া হয়। অভিযুক্ত দুই সদস্য হলেন সার্জেন্ট আল মামুন ও সৈনিক নুরুজ্জামান।

ডিজিএফআই মহাপরিচালকের পক্ষে লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. শরীফ উল্যাহ আদালতে আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্ত আদালত গঠন করে সেনা আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে তাদের সামরিক কর্তৃপক্ষের হেফাজতে নেওয়া প্রয়োজন। এ প্রক্রিয়ার অগ্রগতি ও ফলাফল পরবর্তী সময়ে আদালতকে জানানো হবে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী জানান, ফৌজদারি কার্যবিধি ও সেনা আইনের বিধান অনুযায়ী, কর্মরত সামরিক সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা হলে তদন্ত বা কোর্ট মার্শালের প্রয়োজনে সামরিক কর্তৃপক্ষ তাদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন করতে পারে। তবে অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় ভুক্তভোগীর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্ব দিতে হবে।

 যেভামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ২৫ অক্টোবর রাজধানীর শ্যামলীর মোটরসাইকেল ব্যবসায়ী মো. শরীফকে অপহরণ করে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে ডিজিএফআইয়ের দুই সদস্যসহ ছয়জনকে গ্রেফতার করে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ।

অভিযোগে বলা হয়, পূর্বপরিচয়ের সূত্র ধরে সোহেল রানা নামে এক আনসার সদস্য মোটরসাইকেল কেনার কথা বলে শরীফকে মোহাম্মদপুরের চন্দ্রিমা মডেল টাউনের একটি বাসায় ডেকে নেন। সেখানে তাঁকে আটকে রেখে মারধর করা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়।

পরে অভিযুক্তরা শরীফকে নিয়ে যাওয়ার পথে শিশু হাসপাতালের সামনে অবস্থিত পুলিশ চেকপোস্টে তিনি পুলিশের সহায়তা চান। এরপর পুলিশ তাঁদের আটক করে। এ ঘটনায় শরীফ বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেন।

মামলার অন্য আসামিরা

মামলার অন্য আসামিরা হলেন আনসার সদস্য সোহেল রানা এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তাপ্রহরী মুকুল গাজী, মাহফুজুর রহমান ও জিয়াউল ইসলাম।

গ্রেফতারের পর ছয়জনকেই কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত। পরবর্তী সময়ে দুই ডিজিএফআই সদস্যকে সামরিক কর্তৃপক্ষের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন মঞ্জুর করা হয়।

সূত্র: যুগান্তর, ২৭ অক্টোবর ২০২৬।


জাল সনদে বিসিএসে চাকরির অভিযোগ: সঞ্জয় ও মুসার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

জাল সনদে বিসিএসে চাকরির অভিযোগ: সঞ্জয় ও মুসার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

ছবি: সংগৃহীত 
জাল সনদ ব্যবহার করে বিসিএসে চাকরি পাওয়ার অভিযোগে করা মামলার তদন্তের স্বার্থে ৩৮তম বিসিএসে নিয়োগ পাওয়া দুই কর্মকর্তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত।

৩৮তম বিসিএসের মাধ্যমে প্রশাসন ক্যাডারে যোগ দেওয়া সঞ্জয় দাস এবং পররাষ্ট্র ক্যাডারের কর্মকর্তা আবু সালেহ মো. মুসার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন আদালত। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ শাহজাহান কবির এ আদেশ দেন।

দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম জানান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও দুদকের সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ হোসেন দুই কর্মকর্তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আদালতে আবেদন করেন।

আবেদনে অভিযোগ করা হয়, সরকারি চাকরি পাওয়ার উদ্দেশ্যে সঞ্জয় ও মুসা প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে জাল সনদ তৈরি করেন। পরে সেগুলোকে বৈধ সনদ হিসেবে ব্যবহার করে নিজেদের যোগ্য প্রার্থী হিসেবে উপস্থাপন করেন। এর মাধ্যমে তাঁরা বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনকে (পিএসসি) বিভ্রান্ত করে নিয়োগের সুপারিশ পেতে সক্ষম হন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

দুদকের আবেদনে আরও বলা হয়, নিয়োগ পাওয়ার পর দুই কর্মকর্তা সরকারি চাকরিতে যোগ দিয়ে বেতন-ভাতাসহ সরকারি অর্থ গ্রহণ করেন। জাল সনদের মাধ্যমে চাকরি নেওয়া এবং এর ফলে সরকারি অর্থ উত্তোলনের অভিযোগে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

তদন্ত কর্মকর্তা আদালতকে জানান, দুই কর্মকর্তা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন বলে তিনি জানতে পেরেছেন। এ অবস্থায় মামলার তদন্ত নির্বিঘ্নে পরিচালনার স্বার্থে তাঁদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া প্রয়োজন।

জাল সনদ ব্যবহার করে বিসিএসে চাকরি পাওয়ার অভিযোগে ২০২৬ সালের ২৭ জানুয়ারি সঞ্জয় দাস, আবু সালেহ মো. মুসা এবং ৪১তম বিসিএসের প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা সুকান্ত কুন্ডুর বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। 

সূত্র: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ২০ জানুয়ারি

সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ২০ জানুয়ারি

২৫১ কোটি টাকার শেয়ার অধিগ্রহণে অনিয়মের অভিযোগ

সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে ২৫১ কোটি টাকার শেয়ার অধিগ্রহণে দুর্নীতি, প্রতারণা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে দায়ের করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ পিছিয়েছে। আগামী ২০ জানুয়ারি প্রতিবেদন দাখিলের নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. শাহজাহান কবিরের আদালতে মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল। তবে তদন্তকারী সংস্থা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এদিন প্রতিবেদন দাখিল করতে না পারায় আদালত নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, পারস্পরিক যোগসাজশে পরিকল্পিতভাবে দুর্নীতি, প্রতারণা ও অবৈধ বল প্রয়োগের মাধ্যমে ব্যাংকের অর্থ আত্মসাতের উদ্দেশ্যে ব্রিলিয়ান্ট বিজনেস কোম্পানি লিমিটেডের নামে ২৫১ কোটি টাকার শেয়ার অধিগ্রহণ করা হয়।

২০২৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির পক্ষে প্রতিষ্ঠানটির সিনিয়র অফিসার মো. আবদুচ ছামাদ মামলাটি দায়েরের আবেদন করেন। ওই দিন আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে দুদককে অভিযোগ তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

মামলায় যাঁদের আসামি করা হয়েছে

সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ছাড়াও মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন ব্রিলিয়ান্ট বিজনেস কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল ওয়াহেদ ও চেয়ারম্যান মিস মিরফাত আরা বেগম, এস আলম গ্রুপ ও এস আলম সেন্টারের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম ওরফে এস আলম এবং ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির একাধিক পরিচালক।

ব্যাংকটির পরিচালক হিসেবে আসামি করা হয়েছে মো. জয়নাল আবেদিন, আরাস্ত খান, অধ্যাপক মো. নাজমুল হাসান, আবু সাইদ মোহাম্মদ কাশেম, সাইফুল ইসলাম, মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, সৈয়দ আবু আসাদ, মো. কামরুল হোসেন, আহসান আলম, অধ্যাপক ডা. মো. সেলিম উদ্দিন, শওকত হোসেন, খুরশিদ-উল-আলম, অধ্যাপক ডা. কাজী শহীদুল আলম, অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল ইঞ্জিনিয়ার আবদুল মতিন, জামাল মোস্তফা চৌধুরী ও অধ্যাপক ডা. মো. সিরাজুল করিমকে।

২৫১ কোটি টাকার শেয়ার অধিগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ব্রিলিয়ান্ট বিজনেস কোম্পানি লিমিটেড ইসলামী ব্যাংকের ৭ কোটি ৭৫ লাখ ৩৬ হাজার ৩৯৩টি শেয়ার অধিগ্রহণ করে, যা ব্যাংকটির মোট শেয়ারের ৪ দশমিক ৮১৬০ শতাংশ। এসব শেয়ারের মোট মূল্য ছিল ২৫১ কোটি টাকা।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ব্রিলিয়ান্ট বিজনেস কোম্পানি লিমিটেডের অনুমোদিত মূলধন ছিল ৫০ কোটি টাকা। তবে কোম্পানিটির পরিশোধিত মূলধন ছিল মাত্র ৮ লাখ টাকা। এত কম পরিশোধিত মূলধনের একটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে ২৫১ কোটি টাকার শেয়ার অধিগ্রহণের আর্থিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। অভিযোগকারীর দাবি, আসামিরা পরস্পরের যোগসাজশে ও একই অভিপ্রায়ে পরিকল্পিতভাবে এই লেনদেন সম্পন্ন করেন।

২৪টি কোম্পানির মাধ্যমে শেয়ার অধিগ্রহণের অভিযোগ

মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির মোট শেয়ারের ৮১ দশমিক ৯২ শতাংশ অধিগ্রহণ করে ২৪টি শেয়ারহোল্ডার কোম্পানি। এসব কোম্পানির অনেকগুলোই এস আলম গ্রুপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

শেয়ার হস্তান্তরের প্রক্রিয়া, অর্থের উৎস এবং শেয়ার কেনাবেচার তারিখ বিশ্লেষণের বরাতে অভিযোগে বলা হয়, ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয় পক্ষের ক্ষেত্রে একই দিনে শেয়ার লেনদেন সম্পন্ন হয়েছিল। এ থেকে শেয়ার হস্তান্তরের প্রক্রিয়াটি পূর্বপরিকল্পিত ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছিল বলে অভিযোগে দাবি করা হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, এস আলম গ্রুপ, এর মালিক ও উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা, সংশ্লিষ্ট ২৪টি কোম্পানি এবং তাদের নিয়োগ করা পরিচালকেরা সম্মিলিতভাবে ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার কৌশল গ্রহণ করেন। এ প্রক্রিয়ায় ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বার্থসংশ্লিষ্ট লেনদেন এবং বিনিয়োগের মাধ্যমে ব্যাংকের স্বচ্ছতা ক্ষুণ্ন করে নিজেদের অবৈধভাবে লাভবান হওয়ার পাশাপাশি জনগণের অর্থ আত্মসাৎ ও ফৌজদারি বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগও আনা হয়েছে।


সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার মামলা: শ্রমিক লীগ নেতা সোহাগের ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর

খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার মামলা: শ্রমিক লীগ নেতা সোহাগের ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর

ছবি: সংগৃহীত 
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির তৎকালীন চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় শ্রমিক লীগ নেতা মো. আজমাইন হোসেন সোহাগকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। মামলার তদন্তের স্বার্থে পুলিশ তাঁকে ১০ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেছিল।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হক উভয় পক্ষের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও তেজগাঁও থানার পরিদর্শক আব্দুল হান্নান সোহাগকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. রফিকুল ইসলাম রিমান্ড বাতিল করে তাঁর জামিন প্রার্থনা করেন। রাষ্ট্রপক্ষ রিমান্ড মঞ্জুরের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করে জামিনের বিরোধিতা করে। শুনানি শেষে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

যেসব অভিযোগে রিমান্ড আবেদন

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ২০ এপ্রিল ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়ালের পক্ষে প্রচারে অংশ নিতে গিয়ে রাজধানীর কারওয়ান বাজার এলাকায় হামলার শিকার হন খালেদা জিয়া। বাপেক্স ভবন, পল্লী ভবন, পরিবার পরিকল্পনা অফিস ও কাব্যকস সুপার মার্কেটের সামনে তাঁর গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে দাবি করা হয়, আওয়ামী লীগ ও দলটির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা সংঘবদ্ধভাবে ওই হামলা চালান। এতে খালেদা জিয়ার গাড়িবহরের একাধিক গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। তাঁর নিরাপত্তায় নিয়োজিত সিএসএফ সদস্যসহ বিএনপির বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন।

রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার, হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার এবং ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটনের জন্য সোহাগকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। পুলিশের দাবি, তিনি এ মামলার এজাহারভুক্ত ৬০ নম্বর আসামি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততার বিষয়ে তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

১০৮ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা

এজাহার সূত্রে জানা যায়, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে ঘটনার সময় মামলা করা সম্ভব হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে ন্যায়বিচারের স্বার্থে ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট ঢাকা মহানগর বিএনপির ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক মো. বেল্লাল হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি করেন। এতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১০৮ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ৫০০ থেকে ৭০০ জনকে আসামি করা হয়।

পুলিশ গত ১২ জুন রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে সোহাগকে গ্রেপ্তার করে। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।


সূত্র: জাগোনিউজ২৪.কম


২৬ অক্টো, ২০২৬

বাদীকে হুমকির অভিযোগে তানজিন তিশার বিরুদ্ধে আরেক মামলা, আদালতে তলব

বাদীকে হুমকির অভিযোগে তানজিন তিশার বিরুদ্ধে আরেক মামলা, আদালতে তলব

ছবি: সংগৃহীত 
বাদীকে হত্যার হুমকি দেওয়া ও বাসায় লোকজন পাঠানোর অভিযোগে অভিনেত্রী তানজিন তিশার বিরুদ্ধে আরও একটি মামলা করেছেন ফ্যাশন ডিজাইনার সানায়া আনাম ওয়াফিকাহ চৌধুরী। এ মামলায় অভিযোগ আমলে নিয়ে আগামী ২৩ নভেম্বর তানজিন তিশাকে আদালতে হাজির হয়ে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) ঢাকার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মু. মাহবুব-উল-আলমের আদালতে মামলাটি করেন সানায়া চৌধুরী। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে অভিযোগ আমলে নেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী শুভ্র সিনহা রায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আগামী ২৩ নভেম্বর তানজিন তিশাকে আদালতে হাজির হয়ে কারণ দর্শাতে হবে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, শাড়ি নিয়ে প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগে এর আগে অভিনেত্রী তানজিন নাহার তিশার বিরুদ্ধে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেছিলেন সানায়া চৌধুরী। তবে ওই মামলার তদন্ত শেষে সম্প্রতি পুলিশ তানজিন তিশাকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করে।

পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে গত ২৫ অক্টোবর আদালতে নারাজি আবেদন করেন বাদী। পরে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম আবেদনটি মঞ্জুর করে মামলাটি পুনরায় তদন্তের জন্য অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) নির্দেশ দেন।

সানায়া চৌধুরীর নতুন মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, আগের মামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তানজিন তিশা বিভিন্ন ব্যক্তির মাধ্যমে তাঁকে হত্যার হুমকি দিয়েছেন এবং তাঁর বাসায় লোকজন পাঠিয়েছেন। এসব ঘটনার কারণে তিনি নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন বলে অভিযোগে উল্লেখ করেছেন।

সূত্র: ইত্তেফাক ডিজিটাল রিপোর্ট 


পদ্মায় অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ ও সেতুর নিরাপত্তা নিশ্চিতে হাইকোর্টে রিট

পদ্মায় অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ ও সেতুর নিরাপত্তা নিশ্চিতে হাইকোর্টে রিট

ছবি: সংগৃহীত 
পদ্মা নদী থেকে অবৈধ ও অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা এবং পদ্মা সেতু ও এর আশপাশের অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান রিটকারী আইনজীবী ও মানবাধিকার ও সমাজ উন্নয়ন সংস্থার (মওসুস) চেয়ারম্যান ড. মো. গোলাম রহমান ভূঁইয়া। তিনি জানান, হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের কার্যতালিকায় আবেদনটি অন্তর্ভুক্ত হলে এর শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

রিট আবেদনে বলা হয়েছে, পদ্মা নদী থেকে অবৈধ ও অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের কারণে নদীর প্রাকৃতিক গঠন, নদীতীরের স্থিতিশীলতা, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় অবকাঠামো পদ্মা সেতুর নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

আবেদনে সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষকে তাদের আইনগত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের নির্দেশনা দেওয়ার জন্য হাইকোর্টের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে। পাশাপাশি আইন লঙ্ঘন করে বালু উত্তোলনের অভিযোগ তদন্ত, দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নদী ও পরিবেশ রক্ষায় কার্যকর প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়ারও আবেদন করা হয়েছে।

ড. মো. গোলাম রহমান ভূঁইয়া বলেন, পদ্মা নদী বাংলাদেশের অর্থনীতি, পরিবেশ, কৃষি, মৎস্যসম্পদ ও জনজীবনের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও পরিবেশগত ভারসাম্য বিঘ্নিত হলে নদীতীরবর্তী মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষিজমি এবং প্রাকৃতিক সম্পদ মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।

তিনি আরও বলেন, পদ্মা সেতু ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন, নিয়মিত নজরদারি এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।

সূত্র: দেশ রূপান্তর 
শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে ট্রাকচালক হত্যা মামলায় অভিযোগ গঠন, বিচার শুরু

শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে ট্রাকচালক হত্যা মামলায় অভিযোগ গঠন, বিচার শুরু

ছবি: সংগৃহীত 
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ট্রাকচালক মো. হোসেনকে গুলি করে হত্যার মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত। আসামিদের অব্যাহতির আবেদন নাকচ করে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে মামলাটির আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়েছে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) ঢাকার চতুর্থ বিশেষ জজ আদালতের বিচারক রবিউল আলম এ আদেশ দেন। একই সঙ্গে আগামী ২৫ নভেম্বর মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।

২০২৪ সালের আগস্টে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ঢাকার আদালতে কোনো হত্যা মামলায় এই প্রথম বিচার কার্যক্রম শুরু হলো বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেন।

যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান ট্রাকচালক মো. হোসেন। এ ঘটনায় সাজ্জাদ ও শাহিন নামে আরও দুজন আহত হন।

হোসেনের মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর মা মোসাম্মৎ রীনা বেগম ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট শেখ হাসিনাসহ ১৬ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

পরবর্তী সময়ে তদন্ত শেষে মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আকরামুজ্জামান শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। গত বছরের ২৩ নভেম্বর জমা দেওয়া ওই অভিযোগপত্রের ভিত্তিতেই সোমবার অভিযোগ গঠনের আদেশ দেওয়া হয়।

আসামি পলাতক, কারাগারে চারজন

মামলার নথি অনুযায়ী, শেখ হাসিনাসহ ২০ জন আসামি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে গত ২৬ জানুয়ারি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

অন্যদিকে, সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক ও সাবেক সংসদ সদস্য সাদেক খানসহ চারজন কারাগারে রয়েছেন। এ ছাড়া ১০ জন আসামি জামিনে আছেন।

শেখ হাসিনা ছাড়াও মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাসান মাহমুদ এবং সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক।

এ ছাড়া ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনান, আসিফ আহম্মেদ, তারেকুজ্জামান রাজিব, শেখ বজলুর রহমান ও নুর মোহাম্মদ সেন্টুসহ আরও কয়েকজন এ মামলার আসামি।

২৫ নভেম্বর সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু

আদালত আগামী ২৫ নভেম্বর মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করেছেন। নির্ধারিত দিনে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হলে মামলাটির বিচারিক কার্যক্রম পরবর্তী ধাপে অগ্রসর হবে।

অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে ট্রাকচালক মো. হোসেন হত্যা মামলাটি এখন আনুষ্ঠানিক বিচার পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণ ও পরবর্তী শুনানির মাধ্যমে মামলার বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে যাবে।

সূত্র: প্রথম আলো 


৫ শহরে পুকুর দখল-ভরাট বন্ধে মনিটরিং টিম গঠনের নির্দেশ হাইকোর্টের

৫ শহরে পুকুর দখল-ভরাট বন্ধে মনিটরিং টিম গঠনের নির্দেশ হাইকোর্টের

ছবি: সংগৃহীত 
দেশের পাঁচ জেলা শহরে রেকর্ডভুক্ত পুকুর দখল ও অবৈধভাবে ভরাট বন্ধে মনিটরিং টিম গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে এসব শহরে রেকর্ড অনুযায়ী কতটি পুকুর রয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ তালিকা হলফনামা আকারে আদালতে দাখিল করতে সংশ্লিষ্ট পাঁচ জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শহরগুলো হলো—বগুড়া, সিলেট, ময়মনসিংহ, বরিশাল ও চট্টগ্রাম।

এ-সংক্রান্ত এক রিটের শুনানি শেষে সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজী ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এসব আদেশ দেন।

চার সপ্তাহের রুল

আদালত চার সপ্তাহের রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, পাঁচ শহরে রেকর্ডভুক্ত পুকুর সংরক্ষণে প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না এবং এসব পুকুর কার্যকরভাবে সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা কেন দেওয়া হবে না।

একই সঙ্গে পুকুরের শ্রেণি ও বৈশিষ্ট্য পরিবর্তন এবং দখল ও ভরাটের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

সাত সদস্যের মনিটরিং কমিটি

অন্তর্বর্তীকালীন আদেশে হাইকোর্ট পাঁচ জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপারদের (এসপি) ১৫ দিনের মধ্যে সাত সদস্যের মনিটরিং কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন।

কমিটিতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও পরিবেশ অধিদফতরের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করতে বলা হয়েছে। রেকর্ডভুক্ত পুকুর যাতে নতুন করে দখল বা ভরাট করা না হয়, তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে এই কমিটি।

আদেশ বাস্তবায়নের বিষয়ে চার সপ্তাহের মধ্যে আদালতে কমপ্লায়েন্স প্রতিবেদন দাখিল করতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পুকুরের পূর্ণাঙ্গ তালিকা দিতে হবে

অন্য এক আদেশে বগুড়া, সিলেট, ময়মনসিংহ, বরিশাল ও চট্টগ্রাম শহরে রেকর্ড অনুযায়ী কতটি পুকুর রয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ তালিকা হলফনামা আকারে তিন মাসের মধ্যে আদালতে দাখিল করতে পাঁচ জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রিটের পটভূমি

হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) জনস্বার্থে রিটটি দায়ের করে। রিটে পরিবেশ, অর্থ ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব, পরিবেশ অধিদফতরের মহাপরিচালক, পাঁচ জেলার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের বিবাদী করা হয়েছে।

এইচআরপিবির পক্ষে রিটের পিটিশনার হিসেবে রয়েছেন মোহাম্মদ সারোয়ার আহাদ চৌধুরী, অ্যাডভোকেট রিপন বারই ও অ্যাডভোকেট সঞ্জয় মণ্ডল।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন এইচআরপিবির প্রেসিডেন্ট ও সিনিয়র অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ। তাঁকে সহায়তা করেন অ্যাডভোকেট নাসরিন সুলতানা। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) নূর মোহাম্মদ আজম এবং সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল (এএজি) এস এম ইমামুল মুশফিকুর।

আইনি প্রেক্ষাপট

এর আগে ২০০০ সালের জলাধার সংরক্ষণ আইন এবং বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫-এর বিভিন্ন বিধান অনুযায়ী জলাশয় হিসেবে স্বীকৃত পুকুর দখল ও ভরাট বন্ধে প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে একটি সংবাদমাধ্যমে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

ওই প্রতিবেদনে পাঁচ জেলা শহরে পুকুর দখল ও ভরাটের চিত্র উঠে আসার পর পুকুর সংরক্ষণ এবং অবৈধ দখল-ভরাট বন্ধে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চেয়ে এইচআরপিবি রিটটি করে।

শুনানিতে এইচআরপিবির পক্ষে সিনিয়র অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ বলেন, দেশের বিভিন্ন শহরে পুকুর ও জলাধার ভরাট আইন অনুযায়ী নিষিদ্ধ। এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ারও বিধান রয়েছে।

তবে আইন থাকা সত্ত্বেও বগুড়া, সিলেট, ময়মনসিংহ, বরিশাল ও চট্টগ্রাম শহরে শত শত পুকুর দখল ও ভরাট করা হচ্ছে বলে গণমাধ্যমে প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

তিনি বলেন, এসব পুকুর সংরক্ষণ এবং অবৈধ দখল ও ভরাট বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিশ্চিত করতেই জনস্বার্থে রিটটি করা হয়েছে।

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা: প্রথমবার বিচারের মুখোমুখি হচ্ছেন মির্জা আজম, আমু ও শাজাহান খান

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা: প্রথমবার বিচারের মুখোমুখি হচ্ছেন মির্জা আজম, আমু ও শাজাহান খান

মির্জা আজম, আমু ও শাজাহান খানঃ কোলাজ ছবি 
জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে প্রথমবারের মতো বিচারের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগের পাঁচ নেতা। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন দলটির সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমু এবং সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান।

এ মামলায় আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক সাতজন মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও সংশ্লিষ্ট নেতার বিরুদ্ধে দীর্ঘ তদন্ত শেষে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে তদন্ত সংস্থা। প্রতিবেদনটি যাচাই-বাছাই শেষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রসিকিউশন।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন সাবেক বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) ফারুক খান, সাবেক কৃষিমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক, সাবেক বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী এবং সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

প্রসিকিউশন সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তা চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। এতে জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে হামলা ও উসকানিসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের তথ্য-প্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদন যাচাই-বাছাই শেষে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হলে মির্জা আজম, আমির হোসেন আমু, শাজাহান খান, ফারুক খান ও তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী প্রথমবারের মতো এ মামলায় বিচারের মুখোমুখি হবেন।

তবে একই ধরনের অভিযোগে এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগের মুখোমুখি হয়েছেন সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি ও আবদুর রাজ্জাক। শাপলা চত্বরে সংঘটিত ঘটনার মামলায় তাঁদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।

প্রসিকিউশনের পরবর্তী পদক্ষেপের মধ্য দিয়ে জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান ঘিরে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতাদের বিচারপ্রক্রিয়া আরও এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

সুত্রঃ ইত্তেফাক 

প্রধানমন্ত্রীর বাস নিয়ে ‘স্নাইপারের অভাব ছিল’ মন্তব্য: যুবকের ৭ দিনের রিমান্ড

প্রধানমন্ত্রীর বাস নিয়ে ‘স্নাইপারের অভাব ছিল’ মন্তব্য: যুবকের ৭ দিনের রিমান্ড

ছবি: সংগৃহীত 
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বহনকারী বাসের ছবি ফেসবুকে প্রকাশের পর সেখানে ‘স্নাইপারের অভাব ছিল’ মন্তব্য করার অভিযোগে গ্রেপ্তার মো. আবু বকর সিদ্দিকের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। শুনানিতে ওই মন্তব্য মজা করে করেছেন বলে দাবি করে ভুল স্বীকার করেন তিনি।

রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারজানা হক শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

এদিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগের উপপরিদর্শক মো. ইয়াছিন পাইক আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর সামছুদ্দোহান সুমন রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন। তবে আসামির পক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না।

শুনানির একপর্যায়ে বিচারক আসামির বক্তব্য জানতে চাইলে আবু বকর সিদ্দিক বলেন, তিনি মজা করে মন্তব্যটি করেছিলেন। এর পেছনে কোনো উদ্দেশ্য ছিল না এবং ভুল হয়ে গেছে বলেও জানান তিনি। পরে আদালত তার সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সামছুদ্দোহান সুমন বলেন, আসামি ভুল স্বীকার করলেও প্রধানমন্ত্রীর বাসের ছবি নিয়ে করা মন্তব্যটিকে নিছক সাধারণ মন্তব্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্‌ঘাটনের জন্য তাকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

রিমান্ড আবেদনে যেসব বিষয়

তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে বলা হয়, মামলার প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন এবং এজাহারে উল্লেখ করা অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনকে শনাক্ত করতে আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। আবেদনে আরও দাবি করা হয়, আসামি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।

এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীকে হত্যার ষড়যন্ত্রে অন্য কেউ জড়িত কি না, কোনো সংগঠিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠী কিংবা স্নাইপার বা অস্ত্র সরবরাহকারী চক্রের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে চায় পুলিশ। আসামি কোনো নিষিদ্ধ সংগঠন বা চক্রের সদস্য কি না এবং ঘটনার পেছনে কোনো পরিকল্পনাকারী রয়েছেন কি না, সেসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে।

রিমান্ড আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, গ্রেপ্তারের পর আসামির ব্যবহৃত মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। ফোনটি পর্যালোচনা করে বিভিন্ন ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে আপত্তিকর মন্তব্যের তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছে তদন্তকারী সংস্থা।

যেভাবে গ্রেপ্তার

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২১ অক্টোবর ফেসবুকের ‘দ্য বিউটি অব রাজশাহী’ নামের একটি গ্রুপে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বহনকারী একটি বাসের তিনটি ছবি প্রকাশ করা হয়। পোস্টটিতে রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত লাল-সবুজ রঙের বুলেটপ্রুফ বাসের পরিবর্তে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) বাস ব্যবহারের বিষয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল।

ওই পোস্টের মন্তব্যের ঘরে ‘এমডি আবু বকর সিদ্দিক’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে লেখা হয়, ‘ইস একটা বড় সুযোগ ছিল, শুধু একটা স্নাইপার এর অভাব ছিল।’

পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আইডিটির ব্যবহারকারীকে শনাক্ত করে পুলিশ। এরপর রাজশাহী মহানগরীর পবা থানার ঘোলহাড়িয়া দক্ষিণপাড়া এলাকা থেকে আবু বকর সিদ্দিককে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার বাবা মো. আয়নাল হককেও আটক করা হয়েছিল। তবে প্রাথমিক তদন্তে তার বাবার সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এর আগে গত ২৩ অক্টোবর আদালত আবু বকর সিদ্দিককে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছিলেন।

এ ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে রাজধানীর রমনা থানায় মামলা করেন ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগের উপপরিদর্শক মো. মানিক হোসেন।


সূত্র: ইত্তেফাক ডিজিটাল রিপোর্ট

সরকারি চাকরির প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে সাতজন দুই দিনের রিমান্ডে

সরকারি চাকরির প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে সাতজন দুই দিনের রিমান্ডে

ছবি: সংগৃহীত 
সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে রাজধানীর মতিঝিল থানায় দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার সাত আসামিকে দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

রোববার (২৫ অক্টোবর) শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী কাওসার আহম্মেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

রিমান্ডে নেওয়া আসামিরা হলেন মো. মফিজুল ইসলাম (২৭), মো. রুবেল ইসলাম (৩৩), মো. হাসিনুর রহমান ওরফে সুজন (৩২), আসাদুল ইসলাম (৩১), এসএম এমদাদুল রহমান (৩৫), মো. জাহাঙ্গীর আলম (৩৮) ও নূর মোহাম্মদ (৩০)।

এর আগে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সাইবার পুলিশ সেন্টারের অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার মো. মোহাইমিনুল ইসলাম সাত আসামিকে আদালতে হাজির করে প্রত্যেকের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

পরীক্ষার আগে প্রশ্ন সরবরাহের চুক্তির অভিযোগ

রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা বিভিন্ন সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস চক্রের সক্রিয় সদস্য বলে অভিযোগ রয়েছে। তাঁরা চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে নগদ অর্থ ও চেকের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ টাকা নিয়ে পরীক্ষার আগে প্রশ্ন সরবরাহ এবং প্রশ্নের উত্তর মুখস্থ করিয়ে দেওয়ার চুক্তি করতেন বলে আবেদনে দাবি করা হয়েছে।

এ চক্রের সঙ্গে সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং শিক্ষার্থীদের আরও অনেকে জড়িত থাকতে পারেন বলে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মামলার ঘটনার সঙ্গে আসামিদের প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততার তথ্য মিলেছে বলেও রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

মামলার আরও তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ এবং চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের স্বার্থে আসামিদের নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন বলে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতকে জানান।

প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় স্থগিত হয় নিয়োগ পরীক্ষা

মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১১ অক্টোবর মতিঝিল থানায় দ্য পাবলিক এক্সামিনেশনস (অফেন্সেস) অ্যাক্ট, ১৯৮০-এর ৪, ৫ ও ৯(৪) ধারায় মামলাটি দায়ের করা হয়। এ মামলায় সাতজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। গ্রেপ্তারের সময় তাঁদের কাছ থেকে বেশ কিছু চেকবই, স্ট্যাম্প, জাতীয় পরিচয়পত্র ও শিক্ষাগত সনদ জব্দ করা হয় বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের রাজস্ব খাতভুক্ত সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা (গ্রেড-১১) পদে ২৪২ জন নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছিল। নিয়োগের প্রথম ধাপে গত ১০ অক্টোবর সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ঢাকা মহানগরীর ৯৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমসিকিউ পদ্ধতিতে বাছাই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। এতে অংশ নেওয়ার জন্য ৩১ হাজার ৮৭৯ জন প্রার্থীকে যোগ্য ঘোষণা করা হয়।

অভিযোগে বলা হয়, পরীক্ষা শুরুর প্রায় ৫৪ মিনিট আগে, সকাল ১০টা ৬ মিনিটের দিকে মতিঝিলের দিলকুশায় জীবন বীমা ভবনে অবস্থিত যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কার্যালয়ে অবস্থানকালে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মুঠোফোনে প্রশ্নপত্র ফাঁসের তথ্য পান। পরে ফেসবুকে ‘আব্দুল্লাহ আল ইমারন’ নামের একটি অ্যাকাউন্টে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রকাশিত হওয়ার বিষয়টি কর্মকর্তাদের নজরে আসে।

এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত প্রশ্নপত্রের সঙ্গে অধিদপ্তরে সংরক্ষিত মূল প্রশ্নপত্র মিলিয়ে দেখা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, দুটি প্রশ্নপত্রের মধ্যে সম্পূর্ণ মিল পাওয়া যায়।

প্রশ্নপত্র প্রকাশের উৎস নিয়ে তদন্ত

পরীক্ষা শুরুর আগেই গোপনীয় প্রশ্নপত্র কীভাবে প্রকাশিত হলো, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে সন্দেহ দেখা দেয়। প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, মুদ্রণ, সংরক্ষণ, পরিবহন কিংবা বিতরণের কোনো পর্যায়ে দায়িত্বে অবহেলা, অসাধু কর্মকাণ্ড অথবা বাইরের কোনো ব্যক্তি বা চক্রের সঙ্গে যোগসাজশের মাধ্যমে ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এবং সব পরীক্ষার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে পরীক্ষাটি স্থগিত করে। এর ফলে পরীক্ষা আয়োজনের জন্য বরাদ্দ সরকারি অর্থ, জনবল ও অন্যান্য সম্পদের অপচয় হয় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি নিয়োগব্যবস্থার প্রতি জনসাধারণের আস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

এ ঘটনায় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের বিভাগীয় নিয়োগ কমিটির উপপরিচালক (প্রশাসন-১) ও সদস্যসচিব মো. আতিকুর রহমান অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মতিঝিল থানায় মামলা করেন।

সূত্র: দ্য বিজনেস স্টান্ডার্ড 

ব্যবসায়ীকে আটকে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ডিজিএফআই-আনসার সদস্যসহ ৬ জন কারাগারে

ব্যবসায়ীকে আটকে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ডিজিএফআই-আনসার সদস্যসহ ৬ জন কারাগারে

ছবি: সংগৃহীত 
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে এক ব্যবসায়ীকে আটকে রেখে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, মারধর ও অপহরণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ডিজিএফআই ও আনসার সদস্যসহ ছয়জনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

রোববার (২৫ অক্টোবর) রাতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হক এ আদেশ দেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. রাসেল ইসলামের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এ সিদ্ধান্ত নেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মো. মিজানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

কারাগারে পাঠানো ছয় আসামি হলেন ডিজিএফআই সদর দপ্তরের সার্জেন্ট আল মামুন (৩৯) ও ল্যান্স করপোরাল নুরুজ্জামান (৩১), আনসার সদস্য সোহেল রানা (৩২), বেসরকারি নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান লগ এরিয়া সিকিউরিটি কোম্পানির নিরাপত্তাপ্রহরী মুকুল গাজী (২৬), নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার মাহফুজুর রহমান (২২) এবং লালমনিরহাটের কালীগঞ্জের জিয়াউল ইসলাম (৩৫)।

মোটরসাইকেল কেনার কথা বলে ডেকে নেওয়ার অভিযোগ

মামলার এজাহার অনুযায়ী, বাদী মো. শরিফ (৩২) মোটরসাইকেল কেনাবেচার ব্যবসা করেন। প্রতিবেশী জিয়াউল ইসলামের সঙ্গে তাঁর পরিচয় ও সুসম্পর্ক ছিল। গত ২৪ অক্টোবর রাত ৯টার দিকে মোটরসাইকেল কেনার কথা বলে জিয়াউল তাঁকে মোহাম্মদপুরের চন্দ্রিমা মডেল টাউনের ৬ নম্বর সড়কের ১৭ নম্বর বাসার ষষ্ঠ তলার একটি ফ্ল্যাটে নিয়ে যান।

এজাহারে বলা হয়েছে, শরিফকে ফ্ল্যাটে রেখে জিয়াউল ওয়াশরুমে যাওয়ার কথা বলে বেরিয়ে যান। কিছুক্ষণ পর আল মামুন, নুরুজ্জামান, সোহেল রানা ও মামলার অপর এক আসামি সেখানে প্রবেশ করে শরিফকে আটকে রাখেন। এ সময় তাঁর কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁদের কবল থেকে মুক্তি পেতে শরিফ মোটরসাইকেল কেনার জন্য সঙ্গে রাখা ৭০ হাজার টাকা দিতে বাধ্য হন। তবে ওই টাকা নেওয়ার পরও আসামিরা সন্তুষ্ট না হয়ে তাঁকে মারধর করেন এবং আবারও ১০ লাখ টাকা দাবি করেন।

গাড়িতে তুলে অন্য স্থানে আটকে রাখার অভিযোগ

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, শরিফ পরিবারের সদস্যদের ফোন করে টাকা সংগ্রহের চেষ্টা করেন। পরে ২৫ অক্টোবর রাত আনুমানিক ৩টার দিকে তিনজন অভিযুক্ত তাঁকে বাসা থেকে নামিয়ে মুকুল গাজীর সঙ্গে থাকা একটি সাদা রঙের টয়োটা প্রোবক্স গাড়িতে তোলেন। গাড়িটি চালাচ্ছিলেন মাহফুজুর রহমান।

এরপর তাঁকে শ্যামলীতে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালের বিপরীত পাশে নিয়ে আটকে রাখা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একপর্যায়ে অভিযুক্তরা গাড়ি থেকে নেমে চা খেতে গেলে শরিফ পুলিশের একটি গাড়ি দেখতে পান। এ সময় তিনি গাড়ি থেকে লাফ দিয়ে বেরিয়ে আসেন এবং শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশকে বিষয়টি জানান।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজনকে আটক করে। পরে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ তাঁদের নিজেদের হেফাজতে নেয়। এ সময় ঘটনায় ব্যবহৃত টয়োটা প্রোবক্স গাড়িটিও জব্দ করা হয়।

তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে রাখার আবেদন

ঘটনার পর শরিফ মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে আবেদনে উল্লেখ করেন, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আসামিদের কারাগারে রাখা প্রয়োজন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত ছয়জনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

এ মামলায় সোনিয়া (৩০) ও ফনিরুল ওরফে মনিরুল (৪৫) নামের আরও দুজনকে আসামি করা হয়েছে।


সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

২৫ অক্টো, ২০২৬

ধর্ষণ ও ব্ল্যাকমেইলিংয়ের অভিযোগ: ৩০ দিনের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ হাইকোর্টের

ধর্ষণ ও ব্ল্যাকমেইলিংয়ের অভিযোগ: ৩০ দিনের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ হাইকোর্টের

ছবি: সংগৃহীত 
বিয়ের আশ্বাস দিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ এবং আপত্তিকর ছবি ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর জামিন আবেদন খারিজ করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে রায়ের অনুলিপি পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে তাঁকে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রোববার (২৫ অক্টোবর ২০২৬) প্রকাশিত বাংলা ট্রিবিউনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী তাসমিম মাহিদ চঞ্চলের জামিনসংক্রান্ত এ আদেশ দেন বিচারপতি মো. খায়রুল আলম ও বিচারপতি মো. রফিজুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ। রায়টি গত ১২ অক্টোবর প্রকাশিত হয়।

মামলার অভিযোগ

মামলার এজাহার অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পরিচয়ের সূত্র ধরে ভুক্তভোগী ও অভিযুক্তের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে অভিযুক্ত ভুক্তভোগীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন এবং একপর্যায়ে গোপনে আপত্তিকর ছবি ধারণ করেন। পরবর্তী সময়ে ওই ছবি ব্যবহার করে তাঁকে ব্ল্যাকমেইল করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়, পরবর্তী সময়ে অভিযুক্ত বিয়েতে অস্বীকৃতি জানান এবং এ নিয়ে ভুক্তভোগী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। আপস-মীমাংসার উদ্যোগ ব্যর্থ হওয়ার পর ২০২৫ সালের ১৮ অক্টোবর তিনি ধানমন্ডি থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।

পুলিশি তদন্ত শেষে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(খ) ধারায় অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। মামলাটি বর্তমানে ঢাকার ৬ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন।

যেভাবে জামিন আবেদন খারিজ হলো

প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিযুক্ত প্রথমে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। পরে তাঁর জামিন নামঞ্জুর হলে তিনি হাইকোর্টের শরণাপন্ন হন। পরীক্ষায় অংশগ্রহণ এবং আপস-মীমাংসার উদ্যোগের বিষয় বিবেচনায় হাইকোর্ট তাঁকে শর্তসাপেক্ষে অন্তর্বর্তী জামিন দিয়েছিলেন।

তবে পরবর্তী শুনানিতে দেখা যায়, তাঁর পরীক্ষা শেষ হলেও আপস-মীমাংসা হয়নি। এরপর হাইকোর্ট জামিন বহাল রাখার যথেষ্ট ভিত্তি না থাকায় আবেদন খারিজ করেন।

৩০ দিনের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ

হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, রায়ের অনুলিপি পাওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে অভিযুক্তকে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আত্মসমর্পণ না করলে তাঁকে গ্রেফতারের বিষয়ে আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন বিচারিক আদালত।


সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬

টঙ্গীর সেই মাদ্রাসাশিক্ষকের জামিন নামঞ্জুর

টঙ্গীর সেই মাদ্রাসাশিক্ষকের জামিন নামঞ্জুর

ছবি: সংগৃহীত 
গাজীপুরের টঙ্গীতে সাত বছর বয়সী এক শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় একটি মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ মোসলেম উদ্দিনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রোববার (২৫ অক্টোবর) গাজীপুরের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক ওমর হায়দার এ আদেশ দেন। আদালত পুলিশের পরিদর্শক আহসানুল্লাহ চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

যেভাবে সামনে আসে অভিযোগ

অভিযুক্ত মোসলেম উদ্দিন (৩০) টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকার একটি মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। অভিযোগকারী শিশুটি ওই মাদ্রাসার প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

শিশুটির পরিবারের অভিযোগ, গত ১৯ অক্টোবর মাদ্রাসার নিচতলার সিঁড়িতে তাকে যৌন নিপীড়ন করা হয়। এরপর থেকে শিশুটি মাদ্রাসায় যেতে অনীহা প্রকাশ করে। পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি জানতে চাইলে একপর্যায়ে সে তার মা-বাবার কাছে ঘটনার কথা জানায়।

এ ঘটনায় শিশুটির বাবা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। পরে বৃহস্পতিবার ওই মামলায় মোসলেম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হয়। সেদিনই আদালতে শিশুটির জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

তদন্তে আলামত সংগ্রহ

মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে শনিবার মাদ্রাসাটি পরিদর্শন করে পুলিশ। এ সময় সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়।

আদালত পুলিশের পরিদর্শক আহসানুল্লাহ চৌধুরী জানান, তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে শিশুটিকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।

মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের পাল্টা অভিযোগ

এদিকে, ঘটনার বিষয়ে জানতে শিশুটির স্বজনেরা মাদ্রাসায় গেলে সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজন জড়ো হন এবং অভিযুক্ত শিক্ষককে মারধর করা হয়। পরে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, এ সময় প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুর, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মারধর এবং ১৭ লাখ টাকা ও পাঁচটি মুঠোফোন লুটের ঘটনা ঘটে। এসব অভিযোগে শিশুটির বাবা ও তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা করা হয়েছে।

তবে শিশুটির বাবা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, মেয়ের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিচার চাইতেই তাঁরা মাদ্রাসায় গিয়েছিলেন। হামলা বা লুটপাটের কোনো উদ্দেশ্য তাঁদের ছিল না। তিনি নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পাল্টা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং মেয়ের প্রতি নিপীড়নের ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।

দুটি অভিযোগেরই তদন্ত চলছে

অভিযুক্ত শিক্ষককে মারধরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। বর্তমানে শিশুটিকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ এবং মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের করা পাল্টা অভিযোগ—উভয় বিষয়েই তদন্ত করছে পুলিশ।

সূত্র: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম।

২৪ অক্টো, ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীর রাজশাহী সফর: ‘শুধু একটা স্নাইপারের অভাব ছিল’ মন্তব্য করা সেই যুবক কারাগারে

প্রধানমন্ত্রীর রাজশাহী সফর: ‘শুধু একটা স্নাইপারের অভাব ছিল’ মন্তব্য করা সেই যুবক কারাগারে

ছবি: সংগৃহীত 
রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরে ব্যবহৃত বাসের ছবি নিয়ে ফেসবুকে স্নাইপার দিয়ে গুলি করার ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করার অভিযোগে গ্রেফতার আবু বকর সিদ্দিককে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর ২০২৬) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসান এ আদেশ দেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) শাহ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের এসআই ইয়াছিন পাইক আসামিকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, পরবর্তী সময়ে আসামির রিমান্ড চেয়ে আবেদন করা হবে।

এর আগে বুধবার গভীর রাতে রাজশাহীর পবা থানার কচুয়াতৈল এলাকায় নিজ বাসা থেকে আবু বকর সিদ্দিককে আটক করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। পরে ডিবি পুলিশের সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগের এসআই মানিক হোসেনের করা অভিযোগের ভিত্তিতে রাজধানীর রমনা থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।

যেভাবে বিতর্কিত মন্তব্যের সূত্রপাত

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার বিকেল ৩টার দিকে সামরিক বিমানে রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিমানবন্দর থেকে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) একটি বাসে করে তিনি নগরীতে যান এবং ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত সমাবেশে যোগ দেন। পরে দুর্গাপূজা উপলক্ষে একটি মন্দির পরিদর্শন শেষে একই বাসে বিমানবন্দরে ফিরে যান।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ‘দ্য বিউটি অব রাজশাহী’ নামের একটি ফেসবুক পেজে প্রধানমন্ত্রীর ব্যবহৃত বাসের ছবি দিয়ে পোস্ট করা হয়। সেখানে লেখা হয়েছিল, ‘সবই বুঝলাম রাজশাহীতে আমাদের প্রধানমন্ত্রীর লাল-সবুজ বুলেটপ্রুফ বাসটা কই, রুয়েটের বাসে কেন? আপনারা কি জানেন রাজশাহীবাসী?’

ওই পোস্টের মন্তব্যের ঘরে ‘এমডি আবু বকর সিদ্দিক’ নামের একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে লেখা হয়, ‘ইস! একটা বড় সুযোগ ছিল। শুধু একটা স্নাইপারের অভাব ছিল।’

মন্তব্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে শনাক্ত করে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়।

সূত্র: গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন

২৩ অক্টো, ২০২৬

কুমিল্লায় অপ্রতীম হত্যা: ৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল

কুমিল্লায় অপ্রতীম হত্যা: ৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল

ছবি: সংগৃহীত 
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম (১৩) হত্যা মামলায় চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছে পুলিশ। মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিতে বাধা দেওয়ায় অপ্রতীমকে বাঁশের লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

গত ২০ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান।

তিনজন সরাসরি অভিযুক্ত, একজনের বিরুদ্ধে পরিকল্পনায় জড়িত থাকার অভিযোগ

অভিযোগপত্রে সাইফুল ইসলাম তুহিন, মোজাফ্ফর হোসেন ফাহাদ ও কামরুল হাসানকে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া সিয়াম হত্যার পরিকল্পনায় জড়িত ছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

যেভাবে ঘটে হত্যাকাণ্ড

পুলিশের তদন্ত অনুযায়ী, গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে অপ্রতীমকে সঙ্গে নিয়ে লালমাই পাহাড়-সংলগ্ন সানন্দা এলাকার একটি নির্জন পাহাড়ি বনে যায় তুহিন। সেখানে অপ্রতীমের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হলে সে বাধা দেয়। এ নিয়ে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়।

একপর্যায়ে তুহিন এবং পরে ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের লাঠি দিয়ে অপ্রতীমের মাথায় আঘাত করে। এতে তার মৃত্যু হয় বলে তদন্তে উল্লেখ করেছে পুলিশ। অপ্রতীমের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তিনজন তার মোবাইল ফোন নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে।

যেভাবে শনাক্ত হয় অভিযুক্তরা

অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধারের পর আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে তার সঙ্গে থাকা তুহিনকে শনাক্ত করে পুলিশ। পরে তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফাহাদ ও কামরুলকে আটক করা হয়। এ ছাড়া তুহিনের বাসায় অভিযান চালিয়ে অপ্রতীমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।

দ্রুত বিচারের দাবি পরিবারের

অপ্রতীম কুমিল্লার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার মোবাইল ফোন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।

অভিযোগপত্র দাখিলের বিষয়টি তদন্তকারী কর্মকর্তা ফোন করে তাঁকে জানিয়েছেন বলে জানান অপ্রতীমের বাবা। ছেলেকে ঘিরেই তাঁর বেঁচে থাকার স্বপ্ন ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেই স্বপ্ন হত্যাকারীরা কেড়ে নিয়েছে।

তিনি মামলার দ্রুত বিচার ও আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন। একই সঙ্গে আসামিদের বয়সের বিষয়টি যেন বিচারপ্রক্রিয়ায় দায় এড়ানোর সুযোগ তৈরি না করে, সে বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

সূত্র: ইউএনবি, ২৩ অক্টোবর ২০২৬