১৯ জুল, ২০২৬

সময় টিভির পরিচালকদের বিরুদ্ধে আহমেদ জুবায়েরের মামলা হাইকোর্টে স্থগিত

ছবিঃ সংগৃহীত 

সময় টেলিভিশন লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও অন্যান্য পরিচালকদের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে আহমেদ জুবায়েরের দায়ের করা একটি প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের মামলার কার্যক্রম স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে মামলাটি কেন বাতিল (কোয়াশ) করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত। আগামী ৪ আগস্ট এই মামলার পূর্ণাঙ্গ শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে। রোববার (১৯ জুলাই) বিচারপতির কে এম জাহিদ সারওয়ার কাজল ও শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

হাইকোর্টে সময় টেলিভিশনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী শিশির মনির। পরে সাংবাদিকদের সাথে  আলাপকালে তিনি জানান, সময় টেলিভিশনের পক্ষে আহমেদ জুবায়ের ‘সানী চৌধুরী’ নামের একজনকে ‘লেটার অব অথরিটি’ দিয়ে কোম্পানির চেয়ারম্যানসহ অন্যান্য পরিচালকদের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেছিলেন। নিম্ন আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে পরোয়ানাও (ওয়ারেন্ট) জারি করেন। কিন্তু পরবর্তীতে সময় টেলিভিশন লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ সিদ্ধান্ত নেয় যে, তারা এই মামলাটি পরিচালনা করবে না।

এ প্রসঙ্গে আইনজীবী বলেন, যেহেতু আহমেদ জুবায়ের এই মামলা দায়ের করেছেন সময় টেলিভিশনের পক্ষে, অথচ সময় টেলিভিশন লিমিটেড আহমেদ জুবায়েরকে কোনো ধরনের লেটার অব অথরিটি দেয়নি। কোনো ধরনের মামলা করার জন্য পাওয়ার (ক্ষমতা) দেয়নি। অথচ তিনি সময় টেলিভিশনের নামে মামলা করেছেন।

শিশির মনির জানান, কোম্পানির পক্ষ থেকে কোনো ক্ষমতা না দেওয়া সত্ত্বেও মামলা দায়ের হওয়ার পর সময় টেলিভিশন লিমিটেড নিম্ন আদালতে গিয়ে মামলাটি প্রত্যাহার (উইথড্র) করে নেওয়ার আবেদন করে। কিন্তু নিম্ন আদালত সেই আবেদন খারিজ করে দেন।

নিম্ন আদালতের সেই আদেশ ও সার্বিক পরিস্থিতিকে চ্যালেঞ্জ করে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৬১ (এ) ধারায় হাইকোর্টে আবেদন করেন তারা।

হাইকোর্টের আদেশের বিষয়ে তিনি বলেন, দরখাস্ত শুনানি শেষে আজকে  আদালত কেন এই ক্রিমিনাল প্রসিডিংটাকে (ফৌজদারি কার্যক্রম) কোয়াশ (বাতিল) করা হবে না— এই মর্মে রুল দিয়েছেন। তার সঙ্গে এক মাসের জন্য স্টে (স্থগিতাদেশ) দিয়েছেন। 

এই মামলার মূল আইনি প্রশ্নটি তুলে ধরে শিশির মনির সাংবাদিকদের বলেন, কোম্পানির পক্ষ হয়ে যদি কাউকে মামলা করতে হয়, তাহলে কোম্পানি তাকে অথোরাইজ (অনুমোদন) করতে হয়। কোম্পানির পক্ষ হয়ে নিজে কোনো মামলা করা যায় না। সময় টেলিভিশনের কোম্পানি রেজ্যুলেশন নিয়ে বলেছে যে, আমরা আহমেদ জুবায়ের সাহেবকে কোনো ধরনের কোনো মামলা দায়ের করার জন্য কোনো পাওয়ার কিংবা অথরিটি দান করিনি।

অনুমোদনহীন মামলার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি  বলেন, তাহলে তিনি এই মামলা কী করে করেছেন? অথচ সেই সময় টেলিভিশনই দরখাস্ত দিয়ে গিয়ে বলছে আমরা এই মামলা পরিচালনা করব না। প্রশ্ন, হু ইজ মিস্টার জুবায়ের? যাকে কোম্পানি অথরিটি না দিলেও কোম্পানির পক্ষে মামলা করতে পারেন? এটি একটি বিরাট আইনি প্রশ্ন। এটিই হাইকোর্ট ডিভিশন গ্রহণ করেছেন, এটি এক্সামিন করবেন।

কোম্পানির যথাযথ অনুমোদন বা ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সিদ্ধান্ত ছাড়া এভাবে মামলা দায়ের করাকে বেআইনি দাবি করে এই আইনজীবী বলেন, তাহলে যে কেউ কোম্পানির পক্ষে যেকোনো সময়, যার ইচ্ছা তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করার উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারবে। এটি আইনের দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য নয়।


বিডিএলপিবি/এমএম


শেয়ার করুন

0 coment rios: