অপরাধ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
অপরাধ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

৬ মার্চ, ২০২৬

গাঁজা সেবন দেখে ফেলায় হত্যা করা হয় মাদ্রাসার ছাত্রকে

গাঁজা সেবন দেখে ফেলায় হত্যা করা হয় মাদ্রাসার ছাত্রকে


ছবি: সংগৃহীত 

গাজীপুরে গাঁজা সেবনের দৃশ্য দেখে তা অন্যকে বলে দেওয়ার কথা বলায় মাদ্রাসা ছাত্র শিশু মাহাবুব ইসলাম রনিকে (১৩) শ্বাসরোধে হত্যার পর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয় এক যুবক। এ ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত আসামিকে গ্রেপ্তারের পর এমনটাই জানিয়েছে পিবিআই।

এই ঘটনায় গ্রেপ্তার ছাব্বির আহম্মেদ (১৯) গাজীপুর সদর উপজেলার ভবানীপুর ফকিরা গার্মেন্টস সংলগ্ন এলাকায় হাজী ইকবাল হোসেনের বাড়ির ভাড়াটিয়া। তার গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ থানার নিজতুলন্দর দেওয়ানগঞ্জ বাজার এলাকায়।

বৃহস্পতিবার (৫ বৃহস্পতিবার) রাতে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় গাজীপুর জেলার জয়দেবপুর থানার ভবানীপুর এলাকা থেকে ছাব্বিরকে গ্রেপ্তার করা হয়। শুক্রবার বিকালে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআইয়ের এসআই বিশ্বজিৎ বিশ্বাস জানান, মাহাবুব ইসলাম রনি (১৩) ভবানীপুরর পূর্বপাড়া এলাকায় খুরশিদিয়া মারকাজুল উলুম কওমী মাদ্রাসা ও এতিমখানার নাজেরা বিভাগে অধ্যয়নরত ছিল।

গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রাত ৯টার দিকে জয়দেবপুর ভবানীপুর পূর্বপাড়া দারুস সালাম জামে মসজিদে তারাবির নামাজ আদায় করে বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। পরে রনি বাসায় ফিরে না আসায় তার পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পায়নি।

পর দিন বেলা ১১টার দিকে স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে খবর পায় যে; ভবানীপুর পূর্বপাড়া এলাকায় জঙ্গলের ভেতরে আগুনে পোড়া অবস্থায় ১৩/১৪ বছর বয়সের এক কিশোরের মরদেহ পড়ে আছে। পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে কোমর থেকে মাথা পর্যন্ত আগুনে পোড়া অবস্থায় মরদেহটি দেখে স্বজনরা মাহাবুব ইসলাম রনিকে (১৩) শনাক্ত করেন।

পরে এই ঘটনায় নিহত কিশোর রনির দাদা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। পিবিআই মামলাটির তদন্ত করে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় জয়দেবপুর থানাধীন ভবানীপুর এলাকা হতে গত বৃহস্পতিবার রাতে ঘটনা সঙ্গে জড়িত ছাব্বির আহম্মেদ গ্রেপ্তার করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে সে এ ঘটনার সঙ্গে নিজে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে বিজ্ঞ আদালতে ১৬৪ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পিবিআইয়ের এসআই বিশ্বজিৎ বিশ্বাস। নওগাঁয় স্ত্রী-সন্তানকে জবাই করে হত্যার পর স্বামীর আত্মহত্যাএ বিষয়ে পিবিআই গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো।

আবুল কালাম আজাদ জানান, নিরপরাধ একটি শিশুকে নির্মমভাবে হত্যা করে মরদেহ পুড়িয়ে ফেলার মতো নৃশংস অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। তিনি আরও জানান, আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে পুলিশকে জানায়- ঘটনার দিন রাত অনুমান ৯টার ছাব্বির আহম্মেদ গাঁজা সেবনের জন্য জঙ্গলের ভেতরে যায়।

সে পূর্বেও মাঝে মাঝে ঐ জঙ্গলে গিয়ে গাঁজা সেবন করত। এ সময় মাহাবুব ইসলাম রনি সেখানে ছাব্বিরকে গাঁজা সেবন করতে দেখে এবং বিষয়টি অন্যদের জানিয়ে দেওয়ার কথা বলে।

এতে ছাব্বির তাকে বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য বারবার অনুরোধ করে। কিন্তু রনি পুনরায় লোকজনকে জানিয়ে দেওয়ার কথা বললে ছাব্বির আহম্মেদ ক্ষিপ্ত হয়ে রনিকে ধাক্কা দিয়ে মাটিতে ফেলে দেয় এবং পেছন দিক থেকে রনির গলায় হাত দিয়ে চেপে ধরে। এক পর্যায়ে ছাব্বির শিশু রনির ঘাড় মোচড় দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে মরদেহে আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে পালিয়ে যায়।

বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করে মালয়েশিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে গেছে এফবিআই

বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করে মালয়েশিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে গেছে এফবিআই

ছবি: সংগৃহীত 

আন্তর্জাতিক শিশু যৌন নিপীড়নের চক্র পরিচালনাসহ বিভিন্ন অভিযোগে জোবাইদুল আমিন (২৮) নামের এক বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তারের পর মালয়েশিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে গেছে মার্কিন কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা (এফবিআই)।

এফবিআইয়ের পরিচালক কাশ প্যাটেল আজ শুক্রবার এক এক্স পোস্টে এই তথ্য জানান। পোস্টে তিনি বলেন, এফবিআইসহ মার্কিন অংশীদাররা জোবাইদুলকে গ্রেপ্তার করে। তিনি ২০২২ সাল থেকে পলাতক ছিলেন। এফবিআইয়ের পরিচালক লিখেছেন, জোবাইদুলকে মালয়েশিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কায় নিয়ে এসেছে এফবিআই। আলাস্কায় তিনি তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের মুখোমুখি হবেন। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পরে প্রকাশ করা হবে।

তদন্ত ও গ্রেপ্তারে সহযোগিতার জন্য মালয়েশিয়া সরকারসহ যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় অংশীদারদের ধন্যবাদ জানান এফবিআইয়ের পরিচালক। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের ওয়েবসাইটে গতকাল বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক শিশু যৌন নিপীড়নের চক্র পরিচালনার অভিযোগে ৫ মার্চ ডিস্ট্রিক অব আলাস্কার আদালতে এক বাংলাদেশিকে হাজির করার বিষয়টি নির্ধারিত আছে। ২০২২ সালের জুলাইয়ে জোবাইদুলকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল গ্র্যান্ড জুরি আলাস্কাসহ যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য স্থান ও বিদেশে শত শত শিশুকে নিপীড়নের সঙ্গে সম্পর্কিত অভিযোগে অভিযুক্ত করেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, জোবাইদুল ইনস্টাগ্রাম, স্ন্যাপচ্যাটসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে অপ্রাপ্তবয়স্কদের খুঁজে বের করতেন। তিনি তাদের যৌনতামূলক ছবি–ভিডিও তৈরিতে বাধ্য করতেন। যুক্তরাষ্ট্রে অভিযোগ আনার আগে জোবাইদুল মালয়েশিয়ায় বসবাস করছিলেন। তিনি মালয়েশিয়ায় চিকিৎসাশাস্ত্রে পড়াশোনা করছিলেন।

২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে মালয়েশিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় জোবাইদুলকে শিশু পর্নোগ্রাফি নিজের কাছে রাখা ও তৈরিসংক্রান্ত অভিযোগে অভিযুক্ত করে। জোবাইদুলের বিষয়ে এফবিআই ও যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করে আসছে। ৪ মার্চ তাঁকে মালয়েশিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কায় নেওয়া হয়। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জোবাইদুল যদি দোষী সাব্যস্ত হন, তবে তাঁর ২০ বছর থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে।

২৮ ফেব, ২০২৬

বাড়ির উঠানে দাদির, সরিষাক্ষেতে মিলল নাতনির বিবস্ত্র ম'র'দে'হ

বাড়ির উঠানে দাদির, সরিষাক্ষেতে মিলল নাতনির বিবস্ত্র ম'র'দে'হ


ছবি: সংগৃহীত 

পাবনার ঈশ্বরদীতে মধ্যরাতে দাদীকে হত্যা করে বাড়ি থেকে অপহরণ করা হয়েছিল নাতনিকে। পরে তাকে খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে বিবস্ত্র অবস্থায় সরিষার ক্ষেতে পাওয়া গেল মরদেহ। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) রাতের কোনো এক সময় উপজেলার দাশুড়িয়া ইউনিয়নের ভবানিপুর উত্তরপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, গভীর রাতে বাড়িতে ঢুকে দাদিকে নৃশংভাবে কুপিয়ে করে হত্যা করা হয়েছে এবং কিশোরী নাতনি ঘর থেকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমিনুজ্জামান দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নিহতরা হলেন, ভবানিপুর উত্তরপাড়া গ্রামের নজিমুদ্দিনের স্ত্রী সুফিয়া খাতুন (৬৫) ও তার নাতনি জামিলা আক্তার (১৫)।

পারিবারিক সুত্রে জানা গেছে, মধ্যরাতে হঠাৎ কান্নাকাটির আওয়াজ শুনে রাস্তায় বের হয় স্থানীয়রা। পরে কান্নার আওয়াজ থেমে গেলে বাড়িতে চলে যান তারা। সকালে বাড়ির উঠানে সুফিয়া খাতুনের রক্তাক্ত মরদেহ পাওয়া যায়। এক পর্যায়ে নাতনী জামিলাকে খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে বাড়ির পাশে সরিষার ক্ষেতে বিবস্ত্র অবস্থায় লাশ পাওয়া যায়।

‎সোহেল রানা নামের এক নিকট আত্মীয় জানান, গতকাল রাতে ওই মেয়েকে ধর্ষণ করতে আসে। কিন্তু দাদি টের পেয়ে যাওয়াতে দাদিকে হত্যা করে। পরে মেয়েকে অপহরণ করে সরিষা ক্ষেতে ধর্ষণ করে হত্যা করা হয়েছে। কে বা কারা এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, মধ্যরাতে নাতনিকে তুলে নিতে বাধা দিলে দাদিকে হত্যা করা হয়। আর নাতনিকে ধর্ষণের পর হত্যা করে সরিষা ক্ষেত্রে ফেলে যায় দুর্বৃত্তরা। তার মরদেহ বিবস্ত্র অবস্থায় পাওয়া যায়।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমিনুজ্জামান বলেন, খবর পেয়ে সকালে দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। কারা, কি কারণে তাদের হত্যা করলো পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। নাতনীকে ধর্ষণের পর হত্যা কি না খীতয়ে দেখা হচ্ছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, খবর পেয়ে আমরা সেখানে গিয়েছি। বিবস্ত্র অবস্থায় কিশোরীর মরদেহ এবং বাড়ি থেকে তার দাদির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাটির বিষয়ে পুলিশের কয়েকটি টিম তদন্ত করছে। তদন্তের মাধ্যমে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। 

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় নরসিংদী সদর উপজেলার মাধবদী থানার মহিষাশুড়া ইউনিয়নের বিলপাড় ও দড়িকান্দীর মধ্যবর্তী একটি সরিষাখেত থেকে ১৫ বছর বয়সি এক কিশোরীর লাশ উদ্ধার করা হয়। ধর্ষণের বিচার চাওয়ায় কিশোরীকে বাবার কাছ থেকে অপহরণের পর হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ।

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে ৯ জনের নামোল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ২-৩ জনকে আসামি করে মাধবদী থানায় মামলা করেন ওই কিশোরীর মা। মূল অভিযুক্তসহ অধিকাংশ আসামি ইতিমধ্যে গ্রেপ্তারও হয়েছেন।

ছাত্রদল নেতার নেতৃত্বে যুবদল নেতার দুই পায়ের রগ কেটে হত্যা

ছাত্রদল নেতার নেতৃত্বে যুবদল নেতার দুই পায়ের রগ কেটে হত্যা


ছবি: সংগৃহীত 

খুলনার দিঘ‌লিয়ায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে পায়ের রগ কেটে যুবদল নেতা মো. মুরাদ খাঁকে হত্যা করা হয়েছে। থানা ছাত্রদল নেতা সাজ্জাদ ও তার ভাই সজিবের নেতৃত্বে এই ঘটনা ঘটেছে ‍বলে জানিয়েছে পুলিশ। আজ শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উপজেলার সেনহাটি ইউনিয়নের বকশি বাড়ি কবরস্থানের সামনে এ রগ কাটার ঘটনা ঘটে। পরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মুরাদকে মৃত ঘোষণা করেন।
মুরাদ খাঁ উপজেলা সেনহা‌টি ইউনিয়ন যুবদলের সি‌নিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। তিনি ওই এলাকার মুনসুর খাঁ-এর ছেলে। অপরদিকে সাজ্জাদ থানা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক।

নিহতের বোনের স্বামী মো. মিঠু জানান, প্রায় এক সপ্তাহ আগে মুরাদের সঙ্গে সাজ্জাদের ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। পরে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা হলেও তা সফল হয়নি। শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে মুরাদ বকশিবাড়ির দিকে যাওয়ার সময় সাজ্জাদ ও তার ভাই সজিবসহ কয়েকজন মুরাদকে ঘিরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে।

খুলনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা) আবির সিদ্দিকী শুভ্র জানান, তুচ্ছ ঘটনায় বাগবিতণ্ডার জের ধরে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সাজ্জাদসহ ৪-৫ জন মুরাদের গতিরোধ করে এবং তার ওপর হামলা চালায়। আত্মরক্ষার জন্য মুরাদ বক্সিবা‌ড়ি মস‌জিদ সংলগ্ন এক‌টি দোকানে আশ্রয় নেন। দুর্বৃত্তরা ওই দোকানের তালা ভেঙে দোকানের ভেতরই পুনরায় হামলা করে। এসময় তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে মুরাদের দুই পায়ের রগ কেটে দেয়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে খুলনা মে‌ডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার কর্তব্যরত চি‌কিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান মন্টু বলেন, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে মুরাদকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানতে পেরেছি। স্থানীয় চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা এই ঘটনা ঘটিয়েছে। মুরাদের দুই পায়ের রগ কেটে দেওয়ায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনা অত্যন্ত ন্যাক্করজনক। রগ কেটে তাকে আটকে রাখায় শরীর থেকে সমস্ত রক্ত বের হয়ে সে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। এটা অমানবিক। আমরা অমানবিক এবং এই ঘৃণ্য হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানাই।

তিনি বলেন, হত্যাকারী যেই হোক, তার রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক না কেন, আমরা প্রশাসনের কাছে জানাব, অবিলম্বে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে। এখানে হত্যাকারীর রাজনৈতিক পরিচয় দেখার প্রয়োজন নেই এবং কার সঙ্গে কি সম্পর্ক রয়েছে এটাও বিবেচ্য বিষয় নয়। আমাদের একজন রাজনৈতিক কর্মী শুধু নয়, একজন মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। হত্যাকারীরা যেন গ্রেপ্তার হয়। 

২৬ ফেব, ২০২৬

বিন্তি হত্যার সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ, উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

বিন্তি হত্যার সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ, উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য


ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর হাজারীবাগে শাহরিয়ার শারমিন বিন্তি নামে এক স্কুলছাত্রীকে হত্যার ঘটনায় একটি সিসিটিভি ফুটেজে পাওয়া গেছে। আর এ নিয়ে এখন শুরু হয়েছে চাঞ্চল্য। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে হাজারীবাগ থানাধীন হায়দার হোটেলের গলির ভেতরে ওই স্কুলছাত্রীকে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটে। পরে এ ঘটনায় সিয়াম নামে এক তরুণকে বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) ভোরে রাজধানীর কাঁঠালবাগান এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, বুধবার রাত সোয়া ৯টার দিকে হায়দার হোটেলের গলি ধরে এক তরুণের সঙ্গে হাঁটছে বিন্তি। কিছুক্ষণ পর পাশের অন্ধকার গলি থেকে রক্তাক্ত বিন্তির চিৎকারে প্রতিবেশীরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। এরপর তাকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা।

বিন্তির বাবা বেল্লাল হোসেন বলেন, বুধবার রাতে বিন্তি তার ছোট ভাই নাবিলকে নিয়ে বাইরে যায়। এর কিছুক্ষণ পর হইচই শুনে বাসার নিচে নেমে দেখেন কে বা কারা তার মেয়েকে কুপিয়ে ফেলে রেখে গেছে। মা নাদিয়া বলেন, রাতে বিন্তি ও তার ভাই নাবিল নিচে নামে। সবজি কিনে বোনকে বাসার নিচে এগিয়ে দিয়ে নাবিল মসজিদে চলে যায়। এরপর হইচই শুনে নিচে নেমে দেখি, বিন্তিকে ঘিরে অনেকেই দাঁড়িয়ে আছে।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক বলেন, ‘বিন্তির কাঁধে ও পিঠে একাধিক জখম রয়েছে। তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে।

হাজারীবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে আমরা জানতে পেরেছি, প্রেমঘটিত বিষয় নিয়ে ছুরিকাঘাত করে এই শিক্ষার্থীকে হত্যা করা হয়েছে।

৬ ফেব, ২০২৬

সন্দ্বীপে আগ্নেয়াস্ত্রের সরঞ্জাম উদ্ধার ও অস্ত্র তৈরির কারিগর আটক

সন্দ্বীপে আগ্নেয়াস্ত্রের সরঞ্জাম উদ্ধার ও অস্ত্র তৈরির কারিগর আটক

ছবিঃ সংগৃহীত

অপারেসন ডেভিল হান্ট ফেজ-২ চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে কোস্ট গার্ড ও নৌবাহিনীর যৌথ অভিযানে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির সরঞ্জামাদিসহ ২ দুস্কৃতিকারী আটক। আজ বৃহস্পতিবার ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ বিকালে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ বৃহস্পতিবার মধ্যরাত ৩টায় কোস্ট গার্ড স্টেশন সন্দ্বীপ ও নৌবাহিনীর সমন্বয়ে সন্দ্বীপ থানাধীন গুপ্তছড়া বেড়িবাঁধের ইটের ভাটা সংলগ্ন এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালীন উক্ত এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে ১ টি দেশীয় একনলা বন্দুক, ২ রাউন্ড তাজা কার্তুজ ও আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির সরঞ্জামাদিসহ ২ জন আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির কারিগরকে আটক করা হয়।

আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন-২০২৬ উপলক্ষ্যে বিভিন্ন নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের অস্ত্র সরবরাহের মাধ্যমে সহযোগিতা করে আসছিল। জব্দকৃত আলামত ও আটককৃত ব্যক্তিদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তিনি আরও বলেন, দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে। 


৫ নভে, ২০২৫

চট্টগ্রাম-৮ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ গণসংযোগের সময় গুলিবিদ্ধ

চট্টগ্রাম-৮ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ গণসংযোগের সময় গুলিবিদ্ধ


ছবি: সংগৃহীত 

চট্টগ্রামে গণসংযোগ কার্যক্রম চলাকালে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বিএনপি নেতা ও চট্টগ্রাম-৮ আসনের মনোনীত প্রার্থী এরশাদ উল্লাহ। বুধবার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে পাঁচলাইশ থানার হামজারবাগ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তিনি বর্তমানে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত।

স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীরা জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর এরশাদ উল্লাহ এলাকায় প্রথমবারের মতো গণসংযোগে অংশ নিতে যান। ওই সময় হঠাৎ অজ্ঞাত দিক থেকে গুলি ছোড়া হয় এবং তিনি গুলিবিদ্ধ হন। সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে এভারকেয়ার হাসপাতালে নিয়ে যান, যেখানে তার চিকিৎসা চলছে।

ঘটনার পর এলাকাজুড়ে উত্তেজনা ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। এখন পর্যন্ত কে বা কারা এই হামলার সঙ্গে জড়িত—তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে এবং হামলাকারীদের শনাক্তে তথ্য সংগ্রহ করছে।

এরশাদ উল্লাহ দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রেখে আসছেন। তৃণমূল থেকে সংগঠন গড়ে তোলায় তার ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৮ আসনে বিএনপির সম্ভাবনাময় প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় তার উপর হামলার ঘটনা রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

স্থানীয় নেতাকর্মীরা এটিকে পরিকল্পিত হামলা বলে অভিযোগ করেছেন এবং এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে পরিবার ও দলের নেতারা তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন এবং নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানাচ্ছেন।

চাঁদপুর পাসপোর্ট অফিসে আটক ২ রোহিঙ্গা নারী

চাঁদপুর পাসপোর্ট অফিসে আটক ২ রোহিঙ্গা নারী

ছবিঃ সংগৃহীত 
নতুন পাসপোর্ট সংগ্রহের চেষ্টা করার সময় জাল কাগজপত্র বহন করতে দেখা যাওয়ার পর মঙ্গলবার চাঁদপুর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস থেকে দুই রোহিঙ্গা নারীকে আটক করা হয়েছে।

জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সহ জাল কাগজপত্র আবিষ্কারের পর পাসপোর্ট অফিসের কর্মকর্তারা ওই নারীদের স্থানীয় পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছেন। আটককৃতদের মধ্যে রয়েছে কক্সবাজারের কুতুপালংয়ের ই-১১ ব্লকের ক্যাম্প নং-২ এর সহিসু আলমের মেয়ে সুরাইয়া (১৮) এবং সোনা আলীর মেয়ে জুহুরা বেগম (৩৫)।

চাঁদপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এম. বাহার মিয়া বলেন, যেহেতু উভয় নারীই ক্যাম্পে বৈধভাবে বসবাস করছেন, তাই ক্যাম্প কর্তৃপক্ষ তাদের আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশ পাহারায় তাদের ক্যাম্পে ফেরত পাঠিয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে, নারীরা স্বীকার করেছেন যে তারা সৌদি আরবে যাওয়ার জন্য বাংলাদেশি পাসপোর্ট সংগ্রহের চেষ্টা করছিলেন।