১ মে, ২০২৬

বন্ধ ঘর থেকে ফয়সাল বাদশার মরদেহ উদ্ধার, পলাতক রুমমেট

ছবি: সংগৃহীত 

পটুয়াখালী শহরের পৌর এলাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সফট বাইট-এর শাখা ব্যবস্থাপক ফয়সাল বাদশার রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে নতুন করে প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। একই ঘটনায় তার রুমমেট ও সহকারী নাইমুল ইসলাম চয়ন পলাতক থাকায় ঘটনাটি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। গতকাল বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিকেলে শহরের পৌর এলাকার সবুজবাগ ১০ নং লেনের একটি ভাড়া বাসা থেকে পুলিশ ফয়সালের মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহত ফয়সল বরগুনা জেলার পাথরঘাটা উপজেলার বাসিন্দা মো. জসিম উদ্দিনের ছেলে। তিনি  পটুয়াখালী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। পাশাপাশি তিনি সফট বাইটের স্থানীয় শাখায় ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, একটি বন্ধ ঘর থেকে মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এ সময় সিআইডি ও পিবিআইসহ সংশ্লিষ্ট ইউনিট বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে।

পটুয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. সাজেদুল ইসলাম সজল জানান, এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা তা নিশ্চিত হতে তদন্ত চলছে।

ঘটনার পেছনে আর্থিক অনিয়মের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে সামনে এসেছে। প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা যায়, ফয়সাল বাদশার বিরুদ্ধে প্রায় ৮ লাখ টাকা ও তার সহকারী নাইমুল ইসলাম চয়নের বিরুদ্ধে প্রায় ৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। নিয়মিত হিসাব যাচাইয়ের সময় এই অসঙ্গতি ধরা পড়ে। পরে দুজনই অভিযোগ স্বীকার করে প্রতিষ্ঠানের মালিকের কাছে চেক ও স্ট্যাম্প প্রদান করেন এবং কিস্তিতে অর্থ পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেন। এমন পরিস্থিতিতে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে কাজ চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ দিলেও হঠাৎ করেই তারা আত্মগোপনে চলে যান। এর মধ্যেই ফয়সালের মরদেহ উদ্ধার হওয়ায় ঘটনাটি নতুন মোড় নিয়েছে।

অন্যদিকে, সহকারী ও রুমমেট নাইমুল ইসলাম চয়ন এখনো পলাতক রয়েছেন। গত কয়েক মাসে ধাপে ধাপে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে।

পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। তবে এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। রহস্যজনক এ মৃত্যু ও আর্থিক অনিয়ম এই দুইয়ের যোগসূত্র খুঁজে বের করতে তদন্ত সংস্থাগুলো কাজ করছে।



শেয়ার করুন

0 coment rios: