২৬ অক্টো, ২০২৬

এফবিসিসিআইয়ের সালিশি ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রিট চলে না: হাইকোর্টের রায়

ছবি: সংগৃহীত 
ট্রেড অর্গানাইজেশনস অ্যাক্ট, ২০২২-এর অধীনে গঠিত এফবিসিসিআইয়ের সালিশি ট্রাইব্যুনালের (আরবিট্রেশন ট্রাইব্যুনাল) সিদ্ধান্ত বা রায়ের বিরুদ্ধে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদে দায়ের করা রিট আবেদন গ্রহণযোগ্য নয় বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের একটি পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ পাঁচটি রিট আবেদনের শুনানি শেষে এ সিদ্ধান্ত দেন। একই সঙ্গে আবেদনগুলোর বিষয়ে জারি করা রুলগুলো গ্রহণযোগ্যতার অভাবে খারিজ করা হয়েছে এবং আগে দেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন আদেশগুলো প্রত্যাহার করা হয়েছে।

বিচারপতি মো. ইকবাল কবির, বিচারপতি মো. রিয়াজ উদ্দিন খান এবং বিচারপতি সরদার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীরের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ ১১ মার্চ ২০২৬ তারিখে এ রায় দেন। রায়টির পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি ২৫ অক্টোবর, ২০২৬  তারিখে সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়।

মামলার পটভূমি

রিট আবেদনগুলোতে মূলত বাণিজ্য সংগঠনের নির্বাচন, সদস্যপদ বাতিল এবং এফবিসিসিআইয়ের সাধারণ পর্ষদে প্রতিনিধি মনোনয়ন নিয়ে সালিশি ট্রাইব্যুনালের দেওয়া বিভিন্ন সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করা হয়েছিল।

পাঁচটি রিটের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল—

  • রিট পিটিশন নং ৪১২৪/২০২২: বাংলাদেশ অর্গানিক প্রোডাক্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের মনোনীত প্রতিনিধির নাম এফবিসিসিআইয়ের সাধারণ পর্ষদ থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত।

  • রিট পিটিশন নং ৭৯৬৪/২০২২: দিনাজপুর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির নির্বাচন বাতিলের সিদ্ধান্ত।

  • রিট পিটিশন নং ১৫৭৩৮/২০২২: একটি বাণিজ্য সংগঠনের কয়েকজন সদস্যের সদস্যপদ বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করে সদস্যপদ পুনর্বহালের নির্দেশ।

  • রিট পিটিশন নং ৯১০২/২০২৩ ও ৯১০৩/২০২৩: এফবিসিসিআইয়ের নির্বাচনে বিভিন্ন বাণিজ্য সংগঠনের প্রতিনিধি মনোনয়ন ও ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তি নিয়ে বিরোধ।

এসব আবেদনে মূল প্রশ্ন ছিল, ট্রেড অর্গানাইজেশনস অ্যাক্ট, ২০২২-এর ২০ ধারা এবং ট্রেড অর্গানাইজেশনস (আরবিট্রেশন ট্রাইব্যুনাল) রুলস, ১৯৮১-এর অধীনে গঠিত এফবিসিসিআইয়ের সালিশি ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রিট করা যায় কি না।

আদালতের পর্যবেক্ষণ ও সিদ্ধান্ত

আবেদনকারীদের পক্ষে যুক্তি দেওয়া হয়, আইন অনুযায়ী গঠিত সালিশি ট্রাইব্যুনাল বাণিজ্য সংগঠনসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি করে এবং এর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কার্যকর বিকল্প প্রতিকার না থাকায় সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদে বিচারিক পর্যালোচনার সুযোগ থাকা উচিত। তাঁদের মতে, ট্রাইব্যুনালটি আইন দ্বারা নির্ধারিত ক্ষমতা প্রয়োগ করায় এর সিদ্ধান্ত রিট এখতিয়ারের আওতাভুক্ত।

অন্যদিকে, এফবিসিসিআইয়ের পক্ষে বলা হয়, ট্রাইব্যুনালটি সরকার কর্তৃক গঠিত কোনো কর্তৃপক্ষ বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষ নয়। এটি এফবিসিসিআইয়ের মাধ্যমে গঠিত একটি সালিশি ব্যবস্থা। ফলে এর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরাসরি রিট গ্রহণযোগ্য নয়। এ ছাড়া উপযুক্ত দেওয়ানি আদালত এবং বাণিজ্য সংগঠনবিষয়ক মহাপরিচালকের কাছে প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ রয়েছে বলেও যুক্তি দেওয়া হয়।

আদালত জেনারেল ক্লজেস অ্যাক্ট, ১৮৯৭-এর ৩(২৮) ধারায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সংজ্ঞা বিবেচনা করেন। আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বর্তমান আইনি কাঠামোয় এফবিসিসিআই এবং এর অধীনে গঠিত সালিশি ট্রাইব্যুনালকে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ হিসেবে গণ্য করা যায় না। সে কারণে ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দায়ের করা রিট আবেদনগুলো গ্রহণযোগ্য নয়।

রায়ের ফলাফল

হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ পাঁচটি রিট আবেদনই অগ্রহণযোগ্য ঘোষণা করে সংশ্লিষ্ট রুলগুলো খারিজ করেন। একই সঙ্গে পূর্বে দেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন আদেশগুলো প্রত্যাহার করা হয়।

মামলার মূলনীতি

এফবিসিসিআইয়ের সালিশি ট্রাইব্যুনাল ট্রেড অর্গানাইজেশনস অ্যাক্ট, ২০২২ এবং সংশ্লিষ্ট বিধিমালার অধীনে গঠিত হলেও, বর্তমান আইনের অবস্থায় সেটি স্থানীয় কর্তৃপক্ষ নয়। তাই ওই ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদে রিট আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে না।

মামলার বিবরণ

রিট পিটিশন নম্বর ৪১২৪/২০২২, ৭৯৬৪/২০২২, ১৫৭৩৮/২০২২, ৯১০২/২০২৩ এবং ৯১০৩/২০২৩।

রায়ের তারিখ: ১১ মার্চ ২০২৬

বিডি ল' পোস্ট/ মাসুম 


শেয়ার করুন

0 coment rios: