৬ অক্টো, ২০২৬

আবরার ফাহাদ হত্যা: দ্রুত বিচার ও রায় কার্যকরের প্রত্যাশা অ্যাটর্নি জেনারেলের

কোলাজ ছবি 
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডকে ‘ফ্যাসিবাদ আমলের চরম উদাহরণ’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।

আগামী ৭ অক্টোবর আবরার ফাহাদের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এই হত্যাকাণ্ডের বিচারিক অগ্রগতি তুলে ধরে সাংবাদিকদেরকে তিনি বলেন, রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকা ব্যক্তিরা একসময় মনে করতেন, অপরাধ করেও তারা পার পেয়ে যাবেন। তবে আবরার হত্যা মামলার বিচার ও রায়ের মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়েছে—অপরাধ করলে শেষ পর্যন্ত বিচার ও শাস্তির মুখোমুখি হতে হয়।

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতের দেওয়া রায় হাইকোর্ট বহাল রাখায় রাষ্ট্রপক্ষ ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেনি। রাষ্ট্রপক্ষের অবস্থান হলো, মামলাটির বিচারপ্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের বিলম্ব করা হবে না।

তিনি বলেন, নাগরিকের দ্রুত বিচার পাওয়ার যে সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে, রাষ্ট্র তা নিশ্চিত করতে চায়। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে মামলাটির শুনানি শুরু হলে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে কোনো ধরনের বিলম্ব করা হবে না। এমনকি শুনানি মুলতবির জন্যও রাষ্ট্রপক্ষ আবেদন করবে না।

অ্যাটর্নি জেনারেল আরও বলেন, “এই হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত সম্পন্ন হওয়া উচিত। মানুষ এই মামলার রায় কার্যকর হতে দেখতে চায়।”

যেভাবে হত্যাকাণ্ড

২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলে তড়িৎ ও ইলেকট্রনিকস প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের পর দেশজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ ও প্রতিবাদের সৃষ্টি হয়। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডে জড়িতরা তৎকালীন বুয়েট শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মী ছিলেন।

বিচারিক আদালতে ২৫ জনের সাজা

আলোচিত এ হত্যা মামলায় ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে ২০ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ১৬ মার্চ হাইকোর্ট ২০ আসামির মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচ আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রেখে রায় দেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ২০ আসামি হলেন—মেহেদী হাসান (রাসেল), মো. অনিক সরকার, মেহেদী হাসান (রবিন), ইফতি মোশাররফ, মো. মনিরুজ্জামান, মো. মেফতাহুল ইসলাম, মো. মাজেদুর রহমান, মো. মুজাহিদুর রহমান, খন্দকার তাবাককারুল ইসলাম, হোসাইন মোহাম্মদ তোহা, মো. শামীম বিল্লাহ, এ এস এম নাজমুস সাদাত, মোর্শেদ অমর্ত্য ইসলাম, মুনতাসির আল (জেমি), মো. শামসুল আরেফিন, মো. মিজানুর রহমান, এস এম মাহমুদ, মোর্শেদ-উজ-জামান মণ্ডল, এহতেশামুল রাব্বি ও মুজতবা রাফিদ।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচ আসামি হলেন—মুহতাসিম ফুয়াদ হোসেন, মো. আকাশ হোসেন, মুয়াজ আবু হুরায়রা, অমিত সাহা ও ইশতিয়াক আহমেদ।

আপিল বিভাগে বিচারপ্রক্রিয়ার অপেক্ষা

হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের কয়েকজন আপিল ও লিভ টু আপিল করেছেন। ফলে মামলাটি এখন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পরবর্তী বিচারিক প্রক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষ থেকে মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির বিষয়ে অবস্থান স্পষ্ট করে অ্যাটর্নি জেনারেল জানিয়েছেন, আপিল বিভাগে শুনানি শুরু হলে রাষ্ট্রপক্ষ কোনো ধরনের বিলম্বের চেষ্টা করবে না। দ্রুত বিচার সম্পন্ন করে রায় কার্যকরের পথ সুগম করাই রাষ্ট্রপক্ষের প্রত্যাশা।

বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: বাসস (০৫.০৯.২০২৬)


শেয়ার করুন

0 coment rios: