![]() |
| ছবি: সংগৃহীত |
গত ২০ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান।
তিনজন সরাসরি অভিযুক্ত, একজনের বিরুদ্ধে পরিকল্পনায় জড়িত থাকার অভিযোগ
অভিযোগপত্রে সাইফুল ইসলাম তুহিন, মোজাফ্ফর হোসেন ফাহাদ ও কামরুল হাসানকে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া সিয়াম হত্যার পরিকল্পনায় জড়িত ছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
যেভাবে ঘটে হত্যাকাণ্ড
পুলিশের তদন্ত অনুযায়ী, গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে অপ্রতীমকে সঙ্গে নিয়ে লালমাই পাহাড়-সংলগ্ন সানন্দা এলাকার একটি নির্জন পাহাড়ি বনে যায় তুহিন। সেখানে অপ্রতীমের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হলে সে বাধা দেয়। এ নিয়ে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়।
একপর্যায়ে তুহিন এবং পরে ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের লাঠি দিয়ে অপ্রতীমের মাথায় আঘাত করে। এতে তার মৃত্যু হয় বলে তদন্তে উল্লেখ করেছে পুলিশ। অপ্রতীমের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তিনজন তার মোবাইল ফোন নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে।
যেভাবে শনাক্ত হয় অভিযুক্তরা
অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধারের পর আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে তার সঙ্গে থাকা তুহিনকে শনাক্ত করে পুলিশ। পরে তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফাহাদ ও কামরুলকে আটক করা হয়। এ ছাড়া তুহিনের বাসায় অভিযান চালিয়ে অপ্রতীমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
দ্রুত বিচারের দাবি পরিবারের
অপ্রতীম কুমিল্লার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার মোবাইল ফোন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।
অভিযোগপত্র দাখিলের বিষয়টি তদন্তকারী কর্মকর্তা ফোন করে তাঁকে জানিয়েছেন বলে জানান অপ্রতীমের বাবা। ছেলেকে ঘিরেই তাঁর বেঁচে থাকার স্বপ্ন ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেই স্বপ্ন হত্যাকারীরা কেড়ে নিয়েছে।
তিনি মামলার দ্রুত বিচার ও আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন। একই সঙ্গে আসামিদের বয়সের বিষয়টি যেন বিচারপ্রক্রিয়ায় দায় এড়ানোর সুযোগ তৈরি না করে, সে বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
সূত্র: ইউএনবি, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

0 coment rios: