২২ অক্টো, ২০২৬

সৌদি আরবে প্রবাসীদের মৃত্যুদণ্ড: কূটনৈতিক সুরক্ষাসহ চার দাবিতে আইনি নোটিশ

প্রতীকী ছবি 
সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশি অভিবাসীদের বিচারপ্রক্রিয়া, আইনি জটিলতা ও মৃত্যুদণ্ডের বিষয়ে আগাম তথ্য নিশ্চিত করতে কার্যকর কূটনৈতিক সুরক্ষা এবং রিয়েল-টাইম ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালুর দাবি জানানো হয়েছে। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্তৃপক্ষের কাছে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন দুই আইনজীবী।

নোটিশে অভিযোগ করা হয়েছে, সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির বিচার ও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে যথাযথ যোগাযোগের ঘাটতি ছিল। এ পরিস্থিতিতে প্রবাসী কর্মীদের আইনি সহায়তা ও কূটনৈতিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিদ্যমান ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বাংলাদেশ ইমিগ্রেশন লইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট মহিউদ্দিন জুয়েল এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আবুল কালাম আজাদ এ আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন।

নোটিশে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব, সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এবং জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) মহাপরিচালককে বিবাদী করা হয়েছে।

নোটিশে উল্লেখ করা হয়, গত ১৪ থেকে ১৬ অক্টোবর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির বিচার ও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর প্রকাশিত হয়। নোটিশদাতাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট বিচারপ্রক্রিয়া ও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে বাংলাদেশ দূতাবাস অবগত ছিল না। তাঁদের মতে, এ ধরনের ঘটনা প্রবাসীদের ন্যায়বিচার, আইনি সহায়তা এবং কূটনৈতিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বিদ্যমান ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে।

নোটিশে উত্থাপিত চারটি দাবি

১. রিয়েল-টাইম ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালু

সৌদি আরবের সংশ্লিষ্ট বিচারিক ও ডিজিটাল ব্যবস্থার সঙ্গে এপিআই (অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেস) সমন্বয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশি কর্মীদের ইকামা, পাসপোর্ট এবং আইনি অবস্থার তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য সমন্বিত ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

‘আমি প্রবাসী’ অ্যাপ অথবা কূটনৈতিক সেবাসংশ্লিষ্ট অ্যাপে জরুরি যোগাযোগ ও এসওএস সুবিধা জোরদারের দাবি জানানো হয়েছে। এর মাধ্যমে কোনো বাংলাদেশি কর্মী গ্রেপ্তার, আটক কিংবা অন্য কোনো আইনি সংকটে পড়লে দ্রুত বাংলাদেশ মিশনের সহায়তা চাইতে পারবেন—এমন ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রস্তাব রয়েছে।

৩. আদালতের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও পরিবারের তথ্যপ্রাপ্তি

সৌদি আরবের রিয়াদ ও জেদ্দায় অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনের লেবার উইংয়ের মাধ্যমে আদালত ও বিচারিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের জন্য একটি বিশেষ পোর্টাল চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রবাসী কর্মীদের পরিবারের সদস্যরা যাতে তাঁদের স্বজনদের আইনি অবস্থাসম্পর্কিত তথ্য জানতে পারেন, সে জন্য একটি ট্র্যাকিং ড্যাশবোর্ড তৈরির দাবি জানানো হয়েছে।

৪. উচ্চপর্যায়ের তদন্ত ও প্রতিবেদন প্রকাশ

নজরুল বাছিরের বিচার ও মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগের ঘাটতি কেন তৈরি হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে তদন্তের ফলাফলসংবলিত আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন প্রকাশের আহ্বান জানানো হয়েছে।

১৫ দিনের সময়সীমা, অন্যথায় রিট দায়ের

আইনি নোটিশে বলা হয়েছে, নোটিশ পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে কনস্যুলার সুরক্ষা প্রটোকল বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া না হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তার বিরুদ্ধে রিট পিটিশনসহ অন্যান্য আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছেন নোটিশদাতারা।

নোটিশদাতাদের মতে, বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করাই প্রবাসী কর্মীদের প্রতি রাষ্ট্রের দায়িত্বের শেষ কথা নয়। বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের বিচারিক সংকট মোকাবিলা, আইনি অধিকার রক্ষা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত কূটনৈতিক সহায়তা নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রবাসীদের নিরাপত্তা ও অধিকার সুরক্ষায় আরও কার্যকর, সমন্বিত ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন।


বিডি ল' পোস্ট/ মাসুম 

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪



শেয়ার করুন

0 coment rios: