২১ অক্টো, ২০২৬

মাদরাসার সিলেবাসে প্রোগ্রামিং, ব্যবসায় শিক্ষা ও স্পোকেন ভাষা যুক্ত করার দাবিতে লিগ্যাল নোটিশ

ছবি: সংগৃহীত 
দেশের মাদরাসা শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি আধুনিক ও কর্মমুখী শিক্ষায় দক্ষ করে তুলতে পাঠ্যক্রমে নতুন কয়েকটি বিষয় অন্তর্ভুক্তির দাবি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবিত বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে ‘ইসলামিক বিজনেস ও অ্যাকাউন্টিং’, ‘কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশন ও প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ’ এবং ব্যবহারিক আরবি ও ইংরেজি ভাষা শিক্ষা।

নোটিশে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে এসব বিষয় পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা এবং অনলাইনভিত্তিক ডিজিটাল শিক্ষাব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষায় হাইকোর্টে জনস্বার্থে রিট করার কথা জানানো হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন সোমবার (১৯ অক্টোবর ২০২৬) জনস্বার্থে এ লিগ্যাল নোটিশ পাঠান।

নোটিশের প্রাপক হিসেবে রয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আইসিটি বিভাগের সচিব, কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব, মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) চেয়ারম্যান।

ধর্মীয় শিক্ষার সঙ্গে আধুনিক জ্ঞানের সমন্বয়ের প্রস্তাব

নোটিশে বলা হয়েছে, দেশের বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী মাদরাসায় পড়াশোনা করেন। তাদের বিদ্যমান ধর্মীয় শিক্ষা ও পাঠ্যক্রম অপরিবর্তিত রেখে এর পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক কর্মবাজারে প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করা দরকার।

প্রস্তাবিত বিষয়গুলোর একটি ‘ইসলামিক বিজনেস ও অ্যাকাউন্টিং’। এ বিষয়ে পাঠদানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা, বিপণন, মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা ও হিসাবরক্ষণ সম্পর্কে বাস্তবভিত্তিক জ্ঞান অর্জন করতে পারবেন।

পাশাপাশি ইসলামের নৈতিক ও বাণিজ্যিক মূল্যবোধ অনুসরণ করে ব্যবসা পরিচালনা, সঠিক ওজনে পণ্য বিক্রি, ভেজাল পরিহার এবং কৃত্রিম সংকট তৈরির উদ্দেশ্যে পণ্য মজুদ করার মতো অনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার বিষয়েও শিক্ষা পাবেন।

নোটিশদাতার মতে, ধর্মীয় মূল্যবোধের সঙ্গে আধুনিক ব্যবসায়িক শিক্ষার সমন্বয় ঘটলে মাদরাসা শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৎ উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী তৈরির সম্ভাবনা বাড়বে। একই সঙ্গে ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে নৈতিকতা প্রতিষ্ঠায়ও তা সহায়ক হতে পারে।

তথ্যপ্রযুক্তি ও ভাষা দক্ষতা বাড়ানোর উদ্যোগ

নোটিশে বলা হয়েছে, বর্তমান বিশ্বে তথ্যপ্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব বিবেচনায় মাদরাসার শিক্ষার্থীদের কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশন ও প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ শেখানো প্রয়োজন। এ ধরনের শিক্ষা তাদের সফটওয়্যার উন্নয়ন, তথ্যপ্রযুক্তি খাত এবং বৈশ্বিক ডিজিটাল অর্থনীতিতে কাজ করার সুযোগ তৈরি করতে পারে।

এ ছাড়া আরবি ও ইংরেজি ভাষায় ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জনের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। আরবি ভাষায় শুধু পাঠ গ্রহণ নয়, কথোপকথন ও পেশাগত যোগাযোগে দক্ষতা অর্জন করতে পারলে মধ্যপ্রাচ্যের বাণিজ্যিক ও করপোরেট খাতে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা বাড়তে পারে। অন্যদিকে, ইংরেজিতে যোগাযোগের দক্ষতা আন্তর্জাতিক কর্মবাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়াবে।

নোটিশদাতার অভিমত, এসব বিষয়ে দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে মাদরাসা শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র সম্প্রসারণের পাশাপাশি দক্ষ জনশক্তি তৈরি ও বৈদেশিক আয় বৃদ্ধিতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব।

শিক্ষকসংকট মোকাবিলায় অনলাইন শিক্ষার প্রস্তাব

মাদরাসাগুলোতে বিশেষায়িত শিক্ষকের অভাব বিবেচনায় প্রস্তাবিত বিষয়গুলো পড়ানোর বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে অনলাইন ক্লাস চালুর কথা বলা হয়েছে নোটিশে।

এ জন্য আইসিটি বিভাগ, মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড ও ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের তত্ত্বাবধানে অভিজ্ঞ শিক্ষকদের মাধ্যমে মানসম্মত ভিডিও ক্লাস তৈরি করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এসব পাঠ সরকারি ওয়েব পোর্টাল অথবা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে বিনামূল্যে শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত রাখার কথা বলা হয়েছে।

এ ব্যবস্থায় প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীরাও অনলাইনে পাঠ গ্রহণ করতে পারবেন। পাশাপাশি কেন্দ্রীয়ভাবে মূল্যায়ন ও পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ তৈরির প্রস্তাবও রয়েছে।

সাংবিধানিক অধিকার রক্ষার যুক্তি

মাদরাসা শিক্ষার্থীদের জন্য যুগোপযোগী ও সর্বজনীন শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়ে নোটিশে সংবিধানের ১৭ অনুচ্ছেদ উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া সুযোগের সমতা, আইনের দৃষ্টিতে সমতা ও বৈষম্যহীনতার নীতির প্রসঙ্গে সংবিধানের ১৯, ২৭ ও ২৮ অনুচ্ছেদের উল্লেখ রয়েছে।

নোটিশদাতার দাবি, মাদরাসা শিক্ষার্থীদের আধুনিক ও কর্মমুখী শিক্ষার সুযোগ বাড়ানো হলে উচ্চশিক্ষা, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির ক্ষেত্রে তাদের সম্ভাবনা আরও বিস্তৃত হবে।

এ কারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে প্রস্তাবিত বিষয়গুলো পাঠ্যক্রমে যুক্ত করা এবং অনলাইনভিত্তিক ডিজিটাল শিক্ষাব্যবস্থা চালুর বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। অন্যথায়, শিক্ষার্থীদের সাংবিধানিক অধিকার সুরক্ষায় সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগে জনস্বার্থে রিট পিটিশন দায়ের করা হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।


সূত্র: জাগো নিউজ ২৪

বিডি ল' পোস্ট/মাসুম


শেয়ার করুন

0 coment rios: