১০ সেপ, ২০২৬

এবার হংকংয়ে নাসা গ্রুপের নজরুল ইসলাম ও তার পরিবারের সম্পদ জব্দের আদেশ

ফাইল ছবি
বুধবার দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) যৌথ তদন্ত দলের (জেআইটি) টিম লিডার ও উপ-পরিচালক মো. রাউফুল ইসলামের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ শাহজাহান কবির এ আদেশ দেন। দুদকের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) তানজীর আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

জেআইটির আবেদনে বলা হয়, দুদকের তদন্তে নজরুল ইসলাম মজুমদার, তার পরিবারের সদস্য ও সহযোগীদের মাধ্যমে বাংলাদেশের ২৬টি ব্যাংক থেকে প্রতারণার মাধ্যমে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা বের করে নেওয়া, আত্মসাৎ এবং এর একটি অংশ যুক্তরাজ্য, আইল অব ম্যান, জার্সি ও হংকংয়ে পাচারের তথ্য পাওয়া গেছে।

তদন্তে নজরুল ইসলাম, তার ছেলে ওয়ালিদ ইবনে ইসলাম ও মেয়ে আনিকা ইসলামকে হংকংভিত্তিক চায়না সুপ্রিম লিমিটেডের প্রকৃত সুবিধাভোগী মালিক হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের দ্য ব্যাংক অব ইস্ট এশিয়া লিমিটেডে একটি সক্রিয় ব্যাংক হিসাব রয়েছে। দুদকের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি ছাড়াই বিদেশে অর্থ নেওয়া হয়েছে এবং বিদেশে অর্জিত সম্পদের তথ্য আয়কর রিটার্নেও গোপন করা হয়েছে।

আবেদনে আরও বলা হয়, অবৈধভাবে অর্জিত অর্থের মাধ্যমে হংকংয়ে সম্পদ কেনা হয়েছে। এসব সম্পদ হস্তান্তর বা সরিয়ে ফেলার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে সম্পদ সুরক্ষায় চায়না সুপ্রিম লিমিটেডের ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ এবং এর নামে থাকা স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ জব্দ, ফ্রিজ বা ব্লক করা জরুরি।

এ ঘটনায় নজরুল ইসলাম মজুমদার ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অর্থ পাচার, ক্ষমতার অপব্যবহার ও বিশ্বাস ভঙ্গের ঘটনায় দুটি মামলা রয়েছে। এছাড়া নজরুল ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে আরও দুটি মামলা হয়েছে। অর্থ পাচারের একটি মামলায় ইতোমধ্যে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে এবং মামলাটি বিচারাধীন।

এর আগে বিদেশে থাকা নজরুলের আরও সম্পদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয় দুদক। তদন্তে যুক্তরাজ্য, আইল অব ম্যান, জার্সি ও হংকংয়ে অর্থ ও সম্পদের তথ্য পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট দেশ এবং অঞ্চলে থাকা সম্পদ সুরক্ষায় ধারাবাহিকভাবে আদালতের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। হংকংয়ের সম্পদ জব্দ ও ব্যাংক হিসাব ফ্রিজের আদেশ-সেই ধারাবাহিকতারই অংশ।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: যুগান্তর (১০.০৯.২০২৬)


শেয়ার করুন

0 coment rios: