![]() |
| ছবিঃ সংগৃহীত |
M/S. AMS Faraj Construction v.
Government of Bangladesh and others
(Civil Appeal No. 47 of 2025) মামলায় গত
২২
ফেব্রুয়ারি ২০২৬
তারিখে
দেওয়া
রায়ে
আপিল
বিভাগ
এ
পর্যবেক্ষণ দেন।
রাইয়ের অনুলিপি সুপ্রিম কোর্টের
ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয় ২৪ আগস্ট, ২০২৬ তারিখে।
মামলার পটভূমি
কুমিল্লার দৌলতপুরে অবস্থিত চিশতি
টেক্সটাইল মিলস
লিমিটেড ১৯৬২
সালে
প্রতিষ্ঠিত হয়।
পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানটি জাতীয়করণ করা
হয়
এবং
লোকসানের কারণে
একপর্যায়ে বন্ধ
হয়ে
যায়।
মিলটি
বিক্রির জন্য
বিভিন্ন সময়ে
দরপত্র
আহ্বান
করা
হলেও
তা
সফল
হয়নি।
পরবর্তীতে ১
জানুয়ারি ২০১৪
তারিখে
৩৫
কোটি
টাকায়
মিলটি
বিক্রির জন্য
আপিলকারী M/S. AMS Faraj Construction-এর সঙ্গে একটি
চুক্তি
করা
হয়।
চুক্তি
অনুযায়ী ১৫
কোটি
টাকা
এককালীন এবং
বাকি
২০
কোটি
টাকা
পাঁচ
কিস্তিতে পরিশোধের কথা
ছিল।
আপিলকারী মোট
২২
কোটি
টাকা
পরিশোধ
করে
মিলের
দখল
গ্রহণ
করেন।
তবে
পরবর্তীতে মিল
বিক্রির প্রক্রিয়া নিয়ে
বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ
ওঠে।
তদন্ত
কমিটির
প্রতিবেদনে দরপত্র
ছাড়া
বিক্রয়সহ বিভিন্ন বিষয়
উল্লেখ
করা
হয়।
এরপর
সরকার
চুক্তিটি সম্পন্ন করতে
অস্বীকৃতি জানায়।
হাইকোর্টের রায় ও পরবর্তী আপিল
চুক্তি
বাস্তবায়নের দাবিতে
আপিলকারী হাইকোর্ট বিভাগে
রিট
আবেদন
করেন।
হাইকোর্ট বিভাগ
১৫
জুন
২০১৫
তারিখে
রায়
দিয়ে
সংশ্লিষ্টদের আপিলকারীকে মিলের
কার্যক্রম পুনরায়
শুরু
করার
সুযোগ
দেওয়া,
বকেয়া
কিস্তি
গ্রহণ
এবং
চুক্তি
অনুযায়ী বিক্রয়
দলিল
সম্পাদন ও
নিবন্ধনের ব্যবস্থা নেওয়ার
নির্দেশ দেন।
পরবর্তীতে সরকার
ও
সংশ্লিষ্টরা আপিল
করলে
আপিল
বিভাগ
Civil Appeal No. 181 of 2016-এ হাইকোর্টের রায়
বাতিল
করেন।
এরপর
আপিলকারী রিভিউ
আবেদন
করেন
এবং
সেই
রিভিউ
কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় বর্তমান আপিলের
সৃষ্টি
হয়।
সালিশি ধারা নিয়ে আপিল বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ
মামলাটির অন্যতম
গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
ছিল
চুক্তিতে থাকা
সালিশি ধারা।
আপিল
বিভাগ
উল্লেখ
করেন,
পক্ষগুলোর মধ্যে
সম্পাদিত চুক্তিতে বিরোধ
নিষ্পত্তির জন্য
সালিশির ব্যবস্থা রাখা
হয়েছিল। ফলে
চুক্তি
বাস্তবায়ন, অর্থ
পরিশোধ
বা
অন্যান্য চুক্তিগত অধিকার
নিয়ে
বিরোধ
দেখা
দিলে
চুক্তিতে নির্ধারিত সালিশি
প্রক্রিয়া অনুসরণ
করার
সুযোগ
ছিল।
কিন্তু
আপিলকারী সেই
সালিশি
ব্যবস্থা গ্রহণ
না
করে
রিট
এখতিয়ারের আশ্রয়
নেন।
আপিল
বিভাগ
বলেন,
কোনো
চুক্তিতে বিরোধ
নিষ্পত্তির জন্য
কার্যকর ও সমানভাবে কার্যকর বিকল্প প্রতিকার (equally efficacious alternative remedy) থাকলে
সাধারণত সেই
প্রতিকার গ্রহণ
করতে
হয়।
বিশেষ
করে
চুক্তিতে সালিশি
ধারা
থাকলে
এবং
সেটি
কার্যকর থাকলে,
চুক্তিগত বিরোধ
নিষ্পত্তির জন্য
প্রথমে
সেই
ব্যবস্থাই অনুসরণ
করা
উচিত।
আদালত
এ
বিষয়ে
Bangladesh Telecom (Pvt.) Ltd. v. T&T, 48 DLR (AD) 1996 এবং Md. Mobarak Hossain v.
Government of Bangladesh, VII ADC (2010) 835 মামলার নীতির
ওপর
নির্ভর
করেন।
এসব
সিদ্ধান্তে চুক্তিতে নির্ধারিত কার্যকর সালিশি
প্রতিকার থাকা
অবস্থায় চুক্তিগত বাধ্যবাধকতা বাস্তবায়নের জন্য
রিট
এখতিয়ার ব্যবহারের সীমাবদ্ধতার কথা
বলা
হয়েছে।
চুক্তির শর্তও মানতে হবে
আপিল
বিভাগ
আরও
বিবেচনা করেন
যে,
আপিলকারী চুক্তিতে নির্ধারিত অর্থ
পরিশোধের সময়সূচি যথাযথভাবে অনুসরণ
করেননি। চুক্তি
অনুযায়ী দ্বিতীয় কিস্তি
৩০
এপ্রিল
২০১৪-এর মধ্যে পরিশোধ
করার
কথা
থাকলেও
তা
সময়মতো
পরিশোধ
করা
হয়নি—যা প্রতিপক্ষের পক্ষ
থেকে
চুক্তিভঙ্গ হিসেবে
উত্থাপন করা
হয়।
আদালতের দৃষ্টিতে, কোনো
পক্ষ
চুক্তি
বাস্তবায়নের দাবি
করলে
তাকে
একই
সঙ্গে
চুক্তির শর্ত
ও
নিজের
চুক্তিগত দায়িত্ব পালনের
বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে
হবে।
রিভিউ আবেদনের ক্ষেত্রেও সীমাবদ্ধতা
আপিল
বিভাগ
আরও
বলেন,
রিভিউ (Review)
কোনো
মামলার
পুনঃশুনানি নয়।
রিভিউয়ের মাধ্যমে আগের
সিদ্ধান্ত নতুন
করে
মূল্যায়ন করার
সুযোগ
সীমিত।
রিভিউ
গ্রহণের জন্য
সাধারণত রেকর্ডে সুস্পষ্ট ভুল (error apparent on the face of the record) থাকতে
হয়।
আদালত
দেখতে
পান,
আপিলকারী মূলত
আগের
আপিলে
উত্থাপিত একই
যুক্তিগুলো পুনরায়
উপস্থাপন করেছেন। কিন্তু
আগের
সিদ্ধান্তে এমন
কোনো
সুস্পষ্ট ভুল
দেখাতে
পারেননি, যা
রিভিউয়ের মাধ্যমে সংশোধনের প্রয়োজন তৈরি
করে।
আপিল খারিজ
সবশেষে
আপিল
বিভাগ
চুক্তির শর্ত,
সালিশি
ধারার
অস্তিত্ব, পক্ষগুলোর আচরণ
এবং
রিভিউয়ের সীমিত
এখতিয়ার বিবেচনায় Civil Appeal No. 47 of 2025 খারিজ করেন। একই সঙ্গে
মামলায়
কোনো
খরচের
আদেশ
দেননি।
সর্বোপরি, চুক্তিতে সালিশি ধারা থাকলে বিরোধ দেখা দেওয়ার পর সেই ধারাকে উপেক্ষা করে সরাসরি রিটের আশ্রয় নেওয়া যাবে কি না, তা নির্ভর করবে বিকল্প প্রতিকারের কার্যকারিতা ও মামলার প্রকৃতির ওপর; তবে কার্যকর সালিশি প্রতিকার বিদ্যমান থাকলে সেটিই অনুসরণের ওপর আপিল বিভাগ বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন।

0 coment rios: