প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার ১৫তম বৈঠকে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে প্রণীত হতে যাওয়া এই আইনের খসড়ায় ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এ গুমের অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
প্রস্তাবিত এই আইনের খসড়ায় গুমকে একটি স্বতন্ত্র, আমলযোগ্য, জামিন-অযোগ্য ও আপস-অযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। গুমের অপরাধে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। আর গুমের কারণে কোনো ব্যক্তির মৃত্যু হলে, মরদেহ উদ্ধার হলে কিংবা পাঁচ বছর পার হওয়ার পরও ওই ব্যক্তিকে জীবিত বা মৃত অবস্থায় খুঁজে না পাওয়া গেলে অভিযুক্তের জন্য মৃত্যুদণ্ড অথবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা জরিমানার বিধান যুক্ত করা হয়েছে।
আইনটির লক্ষ্য মানবাধিকার, মানবিক মর্যাদা, ব্যক্তি-স্বাধীনতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি গুম প্রতিরোধ, দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা এবং নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের অধিকার, ক্ষতিপূরণ এবং পুনর্বাসনের জন্য একটি সমন্বিত আইনি কাঠামো গড়ে তোলার কথাও এতে উল্লেখ রয়েছে।
খসড়া আইনে আদালতের মাধ্যমে তল্লাশি পরোয়ানা জারি করে গুম হওয়া ব্যক্তিকে উদ্ধারের উদ্যোগ, অভিযুক্ত পলাতক থাকলেও বিচার পরিচালনার সুযোগ, ডিজিটাল সাক্ষ্যের গ্রহণযোগ্যতা এবং সাক্ষী, অভিযোগকারী, তথ্য প্রকাশকারী ও ভুক্তভোগীদের পরিচয় ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া ভুক্তভোগীদের তদন্তের অগ্রগতি, ঘটনার প্রকৃত তথ্য এবং গুম হওয়া ব্যক্তির অবস্থান বা পরিণতি জানার অধিকারও আইনি স্বীকৃতি পেয়েছে।
এছাড়া সরকারি আইনগত সহায়তা, চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও ক্ষতিপূরণের জন্য পৃথক তহবিল গঠন, দণ্ডিত ব্যক্তির সম্পত্তি থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের ব্যবস্থা এবং তা সম্ভব না হলে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের বিধানও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। গুম হওয়া ব্যক্তির স্ত্রী ও নির্ভরশীল পরিবারের ভরণপোষণের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্পত্তি ব্যবহারের অনুমতি, পাঁচ বছর পর উত্তরাধিকারীদের মধ্যে সম্পত্তি বণ্টনের উদ্দেশ্যে গুম সনদ প্রদান, কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডার সংরক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ব্যবস্থাও আইনে যুক্ত করা হয়েছে। তদন্ত ও বিচার—উভয় প্রক্রিয়া সর্বোচ্চ ১২০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: বাসস

0 coment rios: