দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন' পত্রিকার চারজন সাংবাদিকের নামে মামলার ঘটনা ও সাংবাদিক গ্রেপ্তারের বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বিষয়টির শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহবান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে নিজেকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে বলে প্রতিবাদ জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।
শুক্রবার (১৯ জুন) রাতে প্রতিমন্ত্রীর প্রেস সেক্রেটারি মো. আতিকুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপিকে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের অপতথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে প্রচারিত হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রীর নাম ব্যবহার করে বা তার পক্ষে দাবি করে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কোনো মামলা, বিবৃতি বা অন্য কোনো পদক্ষেপ না নিতে সবার প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এ ধরনের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রীর কোনো অনুমোদন বা নির্দেশনা নেই বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সম্প্রতি দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন-এর চারজনকে নিয়ে উদ্ভূত ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ পারস্পরিক আলোচনা ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিষয়টির শান্তিপূর্ণ সমাধানে পৌঁছাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, গ্রেুপ্তার হওয়া সাংবাদিক দ্রুত মুক্তি পাবেন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উদ্ভূত মামলার বাদীও একজন সাংবাদিক এবং বগুড়া প্রেসক্লাবের নির্বাচিত কোষাধ্যক্ষ। তাই এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে যেন কোনো ধরনের ভুল বোঝাবুঝি বা উত্তেজনা সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, 'দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন' পত্রিকায় প্রকাশিত 'বগুড়ায় প্রধানমন্ত্রীর সাথে দুর্নীতিবাজ প্রতিমন্ত্রীর জালিয়াতি ফাঁস' শীর্ষক সংবাদ প্রকাশের জেরে সাইবার সুরক্ষা ও চাঁদাবাজি মামলায় পত্রিকাটির ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মো. রেজানুর ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে বগুড়া জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।
মামলায় রেজানুর ইসলামসহ মোট ৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। অন্য আসামিরা হলেন—পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক মেহেদী হাসান, বার্তা সম্পাদক আশরাফ আলী ফারুকী, বগুড়া প্রতিবেদক শামস ও জেলা প্রতিনিধি মো. সাব্বির হাসান।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, 'দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন'-এর ফেসবুক পেজে গত ৪ মে "দুর্নীতির বিতর্কে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম" শিরোনামে মানহানিকর ও ভুয়া তথ্য প্রকাশ করা হয়। পরবর্তীতে ১১ জুন "বগুড়ায় প্রধানমন্ত্রীর সাথে দুর্নীতিবাজ প্রতিমন্ত্রী জালিয়াতি ফাঁস" এবং ১২ জুন "এবার সাংবাদিকের উপদেশ দিলেন রাস্তা কাণ্ডে বিতর্কিত প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম" শীর্ষক সংবাদ প্রচার করা হয়।
এজাহারে বাদী তানভীর আলম আরও দাবি করেন, এসব সংবাদের বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতির সময় পত্রিকার সম্পাদক মেহেদী হাসান তার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে কল করে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দিলে মন্ত্রীর পাশাপাশি তানভীর আলমকেও মানহানি করা হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়।
বিডিএলপিবি/এমএম

0 coment rios: