১৮ আগ, ২০২৬

তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মানারাতের  ছাত্র নাসিম হত্যা, বন্ধু আসিফের মৃত্যুদণ্ড

তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মানারাতের ছাত্র নাসিম হত্যা, বন্ধু আসিফের মৃত্যুদণ্ড

ছবিঃ সংগৃহীত
প্রায় নয় বছর আগে রাজধানীর পূর্ব বাড্ডা এলাকায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মানারাত আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নাসিম আহমেদ ইমাদ উদ্দিন হত্যা মামলায় তার বন্ধু আসিফ শিকদারকে প্রাণদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে আসামিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।আসিফ পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানার পাশাপাশি গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করেছেন আদালত। 

মামলার বিবরণে বলা হয়, ২০১৭ সালের ৫ নভেম্বর রাত ৯টার দিকে পূর্ব বাড্ডা পোস্ট অফিস গলির একটি ফ্লেক্সিলোডের দোকানের সামনে দিয়ে যাচ্ছিলেন নাসিম। সেখানে কয়েকজনের চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে তিনি তাদের থামতে বলেন। সেখানে থাকা রমজান তাকে জানান, তারা টেলিভিশনে ক্রিকেট খেলা দেখা নিয়ে বাজি ধরছিলেন। নাসিম তাদের বাজি ও চিৎকার-চেঁচামেচি করতে নিষেধ করলে এ নিয়ে তাদের মধ্যে তর্কাতর্কি হয়।

এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে রমজান নামে এক তরুণকে থাপ্পড় মারেন আসিফ। পরে বিষয়টি নিয়ে আসিফের বাসায় গিয়ে হুমকি-ধামকি দেওয়া হয়। পরদিন ৬ নভেম্বর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাজার করার জন্য আসিফ বাসা থেকে নিচে নামলে নাসিমের সঙ্গে তার আবার বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে আসিফ ধারালো ছুরি দিয়ে নাসিমকে আঘাত করেন।

 

রক্তাক্ত অবস্থায় নাসিম দৌড়ে বাসার নিচে গিয়ে লুটিয়ে পড়েন। পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক নাসিমকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার দিনই নাসিমের বাবা আলী আহমেদ সাইফুদ্দীন বাদী হয়ে বাড্ডা থানায় মামলা দায়ের করেন। এতে আসিফ, রমজান ও আবদুর রশীদের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরো তিন-চারজনকে আসামি করা হয়।

মামলা তদন্ত শেষে ২০১৮ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর গুলশান জোনাল টিমের পরিদর্শক আবদুস সোবহান কেবল আসিফকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় রমজান ও আবদুর রশীদকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।

আদালত ২০২২ সালের ১৯ জানুয়ারি আসিফের বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ দেন। বিচার চলাকালে মোট ২০ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। আসিফ পলাতক থাকায় ২০২২ সালের ১৯ মে তার বিরুদ্ধে প্রথম গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না পেলেও দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আজ এ মামলার সর্বোচ্চ শাস্তির রায় এলো।


বিডিএলপিবি/এমএম

সূত্রঃ বিডি নিউজ ২৪

দুদকের সহকারী পরিচালক পদে ১০ রিটকারীকে কেন নিয়োগ নয়

দুদকের সহকারী পরিচালক পদে ১০ রিটকারীকে কেন নিয়োগ নয়

ছবিঃ সংগৃহীত

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সহকারী পরিচালকের শূন্য পদে ১০ আবেদনকারীকে নিয়োগের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে সহকারী পরিচালকের শূন্য পদে রিট আবেদনকারীদের নিয়োগ দিতে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা কেন কর্তৃত্ব বহির্ভূত হবে না রুলে তাও জানতে চেয়েছেন আদালত। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

এক রিট আবেদনের শুনানি নিয়ে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. হামিদুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

দিলরুবা বেগমসহ ১০ চাকরিপ্রার্থী গত ৯ আগস্ট এ রিট আবেদন করেন। রিটে দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান ও সচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে।

আদালতে রিট আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির পল্লব। তাকে সহযোগিতা করেন আইনজীবী মাকসুদুর রহমান ও মারুফ হাসান তমাল। দুদকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আশরাফুল ইসলাম।

রিট আবেদনে বলা হয়, ২০১৯ সালের ১৮ নভেম্বর দুদক সহকারী পরিচালক, উপসহকারী পরিচালক ও কোর্ট পরিদর্শক পদে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। এর মধ্যে সহকারী পরিচালকের ১৩২টি পদের বিপরীতে রিট আবেদনকারীরা আবেদন করেন। তারা লিখিত ও অন্যান্য পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে মৌখিক পরীক্ষায় (ভাইভা) অংশ নেন। পরে পূর্ণাঙ্গ ফল প্রকাশ না করে ভাইভায় অংশ নেওয়া ১৩০ জনকে বিজ্ঞাপিত ১৩০টি পদে ২০২২ সালের ২১ জুন নিয়োগ দেওয়া হয় বলে রিটে উল্লেখ করা হয়েছে।

রিটকারীদের দাবি, নিয়োগের জন্য সুপারিশ পাওয়া প্রার্থীদের অনেকে অন্য চাকরিতে যোগ দেওয়ায় বিজ্ঞাপিত বেশ কয়েকটি পদ এখনো শূন্য রয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা পরিপত্র অনুযায়ী, নিয়োগের জন্য সুপারিশ পাওয়া কোনো ব্যক্তি নির্ধারিত সময়ে চাকরিতে যোগদান না করলে ওই শূন্য পদে একই নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে মেধার ভিত্তিতে প্রার্থী সুপারিশ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

রিটে আরও বলা হয়, একই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির কোর্ট পরিদর্শক পদে এই নিয়ম অনুসরণ করা হলেও সহকারী পরিচালক পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে তা অনুসরণ করা হয়নি। এ কারণে বিজ্ঞাপিত শূন্য পদগুলোতে যোগ্যতা অনুযায়ী রিট আবেদনকারীদের নিয়োগ দিতে নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির পল্লব বলেন, ‘সুপ্রতিষ্ঠিত নিয়োগ প্রক্রিয়ার নিয়ম ভঙ্গের কারণে রিট আবেদনকারীদের সংবিধানস্বীকৃত মৌলিক অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে। চাকরিপ্রার্থীদের নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা জরুরি। কিন্তু এ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ন্যায়বিচারের লঙ্ঘন হয়েছে।’

তিনি আরও জানান, গত ২৯ জুলাই আবেদনকারীদের পক্ষে বিবাদীদের আইনি নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো সাড়া না পাওয়ায় হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়। অতঃপর, উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত রুল জারি করেন।



বিডিএলপিবি/এমএম

সূত্রঃ কালবেলা (১৮.০৮.২০২৬)

বিসিএস প্রশ্নফাঁস মামলায় পিএসসি প্রোগ্রামারের জামিন নাকচ

বিসিএস প্রশ্নফাঁস মামলায় পিএসসি প্রোগ্রামারের জামিন নাকচ

ছবিঃ সংগৃহীত 
বিসিএস পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের মামলায় বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) প্রোগ্রামার কৌশিক দেবনাথের জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। 

সোমবার (১৭ আগস্ট) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. শাহজাহান কবির শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। এদিন আসামি কৌশিক দেবনাথ  গতকাল আদালতে আত্মসমর্পণ করেন তিনি। 

২০২৪ সালে সিআইডির উপপরিদর্শক নিপ্পন চন্দ্র চন্দ মামলাটি করেন। মামলায় ৩১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৫০-৬০ জনকে আসামি করা হয়। তদন্ত শেষে গত ১৮ মে আবেদ আলীসহ ৫৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুমন কুমার সাহা। 

অভিযোগপত্রে বলা হয়, প্রশ্নফাঁস চক্রের মূলহোতা আবেদের নেতৃত্বে পরীক্ষার আগেই নির্বাচিত প্রার্থীদের কাছে প্রশ্নসহ উত্তর পৌঁছে দেওয়া হতো।


বিডিএলপিবি/এমএম

সূত্রঃ স্টার নিউজ 

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল স্থগিত চেয়ে দায়ের করা রিট খারিজ

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল স্থগিত চেয়ে দায়ের করা রিট খারিজ

ছবি: সংগৃহীত 
সংবিধানের ৭০ নম্বর অনুচ্ছেদের বৈধতা চ্যালেঞ্জ এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল স্থগিত চেয়ে দায়ের করা রিট খারিজ করে আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ এফ এম সাইফুল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। আর রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভেকেট ইউনুছ আলী আকন্দ।

এর আগে সোমবার (১৭ আগস্ট) বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ. এফ. এম. সাইফুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানি শেষে আদেশের জন্য মঙ্গলবার দিন ধার্য করেন।

গত বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) আইনজীবী মো. ইউনুস আলী আকন্দ নিজেই আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মামুন চৌধুরী এবং ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আখতার হোসেন মো. আব্দুল ওয়াহাব।

রিটে সংবিধানের ৭০ নম্বর অনুচ্ছেদের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো রাজনৈতিক দলের মনোনয়নে নির্বাচিত সংসদ সদস্য দল থেকে পদত্যাগ করলে বা সংসদে দলের বিপক্ষে ভোট দিলে তার সংসদ সদস্য পদ শূন্য হয়ে যাবে। তবে এ কারণে তিনি ভবিষ্যতে সংসদ সদস্য নির্বাচনে অংশ নিতে অযোগ্য হবেন না।

রিটকারী আইনজীবীর দাবি, সংবিধানের ৭০ নম্বর অনুচ্ছেদের কারণে সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে বা মত প্রকাশ করতে পারেন না। এতে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার ও সংসদীয় স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ হয়। এ কারণেই অনুচ্ছেদটির বৈধতা চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল স্থগিতের আবেদন জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য ৬ আগস্ট তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তফসিল অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটগ্রহণের তারিখ ২০ আগস্ট।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: ঢাকা ট্রিবিউন

১২ বছর পর অপহরনকারীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

১২ বছর পর অপহরনকারীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

ছবি: প্রতীকী 
ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে ২০১৪ সালে সাত বছর বয়সী এক শিশুকে অপহরণের দায়ে অভিযুক্ত আসামি মো. ইমাম হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি তাকে ১ লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক মুন্সি মো. মশিয়ার রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মো. এরশাদ আলম (জর্জ) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সাজাপ্রাপ্ত ইমাম হোসেন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের চর মীরবাগ এলাকার বাসিন্দা।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১৪ সালের ১২ অক্টোবর সকালে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের খেজুরবাগ এলাকায় নিজ বাসার সামনে খেলছিল সাত বছরের শিশু ইমু আক্তার। এ সময় আসামি ইমাম হোসেন তাকে নদীর পাড়ে মেলা দেখানোর লোভ দেখিয়ে অপহরণ করে নিয়ে যান। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় শিশুটিকে উদ্ধার করা গেলেও আসামি পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।​ঘটনার দিনই ভুক্তভোগী শিশুর বাবা মো. ইব্রাহিম শেখ বাদী হয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ঘটনা তদন্ত শেষে এবং ভুক্তভোগী শিশুর জবানবন্দি রেকর্ড করে ওই বছরের শেষ দিকেই আদালতে আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। আসামি শুরুতে পলাতক থাকলেও পরে গ্রেপ্তার হন।

​বিচারকালে রাষ্ট্রপক্ষ আসামির অপরাধ প্রমাণে মোট ৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করে। আসামিপক্ষ থেকে তাকে নির্দোষ দাবি করা হলেও আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণ বিচার-বিশ্লেষণ করে আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে এই রায় দেন।

আদালত রায়ে উল্লেখ করে, আসামির জরিমানা বাবদ আদায় করা ১ লাখ টাকা ভুক্তভোগী শিশু ও তার পরিবারকে প্রদান করতে হবে। ঢাকার জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে আসামির স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রয় করে এই অর্থ আদায়ের ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: কালের কণ্ঠ (১৮.০৮.২০২৬)

সাবেক সেনাপ্রধান আজিজকে ফেরাতে রেড নোটিশ জারির অনুরোধ জানিয়ে ইন্টারপোলকে চিঠি

সাবেক সেনাপ্রধান আজিজকে ফেরাতে রেড নোটিশ জারির অনুরোধ জানিয়ে ইন্টারপোলকে চিঠি

ছবি: সংগৃহীত 
২০১৩ সালে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে অভিযান ও হতার অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সেনাপ্রধান ও তৎকালীন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মহাপরিচালক আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 

এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সোমবার পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এবং পুলিশের ইন্টারপোল ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোর (এনসিবি) অতিরিক্ত আইজিকে চিঠি দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন বিভাগ। গতকাল সোমবার রাতে এ তথ্য জানা গেছে।

চিফ প্রসিকিউটর জানান, মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা মামলায় প্রথম কোনো পলাতক আসামিকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদ মধ্যপ্রাচ্য বা অন্য কোনো দেশে পালিয়ে গেছেন বলে আমরা জানতে পেরেছি। ইন্টারপোলের মাধ্যমে তাকে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে পারব বলে আমরা মনে করি।’

মামলাটিতে দেশের বাইরে অবস্থানরত অন্য পলাতক আসামিদের ক্ষেত্রেও পর্যায়ক্রমে একই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠিতে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থার (ইন্টারপোল) সংশ্লিষ্ট বিধি অনুযায়ী আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারির প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে অনুরোধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে এ বিষয়ে অগ্রগতি জানাতে এবং প্রয়োজন হলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনকে অবহিত করতে বলা হয়েছে।

চিঠিটি বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শকের পাশাপাশি পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (এনসিবি), বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তরেও পাঠানো হয়েছে।

এর আগে গত ২৭ জুলাই রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত পলাতক দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে মামলার পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি এবং অন্য মামলায় গ্রেপ্তার আসামিদের ট্রাইব্যুনালে হাজিরের নির্দেশ দেওয়া হয়।

শেখ হাসিনা ছাড়া মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীর, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু, সাবেক তথ্যমন্ত্রী ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ।

এ ছাড়া আসামিদের তালিকায় রয়েছেন তৎকালীন তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী, সাবেক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস, তৎকালীন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, তৎকালীন যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরী, সাবেক সংসদ সদস্য সালাউদ্দিন মাহমুদ এবং গণজাগরণ মঞ্চের আহ্বায়ক ও মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: সমকাল (১৮.০৮.২০২৬)

মাদক মামলায় হেরোইন ব্যবসায়ীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

মাদক মামলায় হেরোইন ব্যবসায়ীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

ছবি: প্রতীকী 
রাজধানীর কাফরুল থানাধীন এলাকায় কাজীপাড়া ওভারব্রিজের নিচে ২২৫ পুরিয়া হেরোইন উদ্ধারের ঘটনায় করা মামলায় মো. রব মিয়ার নামে এক মাদক ব্যবসায়ীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় ঘোষণা করেছে আদালত। 

সোমবার (১৭ আগস্ট) ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক মো. রহিবুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রায় ঘোষণার সময় আসামি পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. আব্দুর রশিদ মোল্লা এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১৬ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি কাফরুল থানার মিরপুর ১৪ নম্বর মোড়ে অবস্থানকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, কাজীপাড়া ওভারব্রিজের নিচে সড়কে কয়েকজন মাদক বিক্রির উদ্দেশ্যে অবস্থান করছে।

রাত সোয়া ১১টার দিকে পুলিশ সেখানে গেলে উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় মো. রব মিয়াকে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে ২২৫ পুরিয়া হেরোইন উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক মূল্য ছিল ৪০ হাজার টাকা।

এ ঘটনায় কাফরুল থানার সহকারী উপপরিদর্শক মো. আবু জাহিদ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেন। পরে একই থানার উপপরিদর্শক মো. বায়েজীদ মোস্তফা ২০১৬ সালের ৩১ মার্চ রব মিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

ওই বছরের ৩ আগস্ট আদালত তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। মামলার বিচার চলাকালে আটজন সাক্ষীর মধ্যে পাঁচজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: প্রথম আলো (১৭.০৮.২০২৬)