![]() |
| ছবিঃ সংগৃহীত |
মামলার বিবরণে বলা হয়, ২০১৭ সালের ৫ নভেম্বর রাত ৯টার দিকে পূর্ব বাড্ডা পোস্ট অফিস গলির একটি ফ্লেক্সিলোডের দোকানের সামনে দিয়ে যাচ্ছিলেন নাসিম। সেখানে কয়েকজনের চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে তিনি তাদের থামতে বলেন। সেখানে থাকা রমজান তাকে জানান, তারা টেলিভিশনে ক্রিকেট খেলা দেখা নিয়ে বাজি ধরছিলেন। নাসিম তাদের বাজি ও চিৎকার-চেঁচামেচি করতে নিষেধ করলে এ নিয়ে তাদের মধ্যে তর্কাতর্কি হয়।
এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে রমজান নামে এক তরুণকে থাপ্পড় মারেন আসিফ। পরে বিষয়টি নিয়ে আসিফের বাসায় গিয়ে হুমকি-ধামকি দেওয়া হয়। পরদিন ৬ নভেম্বর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাজার করার জন্য আসিফ বাসা থেকে নিচে নামলে নাসিমের সঙ্গে তার আবার বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে আসিফ ধারালো ছুরি দিয়ে নাসিমকে আঘাত করেন।
রক্তাক্ত অবস্থায় নাসিম দৌড়ে বাসার নিচে গিয়ে লুটিয়ে পড়েন। পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক নাসিমকে মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার দিনই নাসিমের বাবা আলী আহমেদ সাইফুদ্দীন বাদী হয়ে বাড্ডা থানায় মামলা দায়ের করেন। এতে আসিফ, রমজান ও আবদুর রশীদের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরো তিন-চারজনকে আসামি করা হয়।
মামলা তদন্ত শেষে ২০১৮ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর গুলশান জোনাল টিমের পরিদর্শক আবদুস সোবহান কেবল আসিফকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় রমজান ও আবদুর রশীদকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়।
আদালত ২০২২ সালের ১৯ জানুয়ারি আসিফের বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ দেন। বিচার চলাকালে মোট ২০ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। আসিফ পলাতক থাকায় ২০২২ সালের ১৯ মে তার বিরুদ্ধে প্রথম গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না পেলেও দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আজ এ মামলার সর্বোচ্চ শাস্তির রায় এলো।
বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্রঃ বিডি নিউজ ২৪