১৬ আগ, ২০২৬

নোয়াখালীতে আলোচিত তিন বন্ধু হত্যা মামলায় ৩ জনের ফাঁসি, ৩ জনের যাবজ্জীবন

নোয়াখালীতে আলোচিত তিন বন্ধু হত্যা মামলায় ৩ জনের ফাঁসি, ৩ জনের যাবজ্জীবন

ছবিঃ সংগৃহীত

জেলার মাইজদী বাজার এলাকায় ২০১৬ সালে সালিসি বৈঠককে কেন্দ্র করে সংঘটিত ট্রিপল মার্ডারের ঘটনায় ৩ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড, ৩ জনকে যাবজ্জীবন ও ২ জনকে খালাসের রায় দিয়েছেন আদালত। আজ রোববার দুপুর ১২ টার দিকে জেলা বিশেষ জজ আদালতের বিচারক শওকত আলী এ রায় প্রদান করেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, জেলা শহরের মাইজদী বাজার এলাকার কুদ্দুস উল্যাহর ছেলে ওমর নাছির সাজু (২৬), ওমর শরিফ সুলতান (২২) এবং একই এলাকার ফারুকের ছেলে সৌরভ (২৬)।

যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, একই এলাকার মৃত মফিজ উল্যাহর ছেলে কুদ্দুস উল্যাহ, নুরুল ইসলামের ছেলে ফিরোজ মাহমুদ বাপ্পি ও মোহাম্মদ উল্যাহর ছেলে হারুনুর রশিদ বাবুল।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ২১ মার্চ দুপুরে নোয়াখালী জেলা শহরের মাইজদী বাজার এলাকার নোয়াখালী সরকারি পুরাতন কলেজ-সংলগ্ন পুকুরে স্থানীয় কিশোর রাজীব (২৩) একটি কুকুরকে গোসল করাতে যায়। এ নিয়ে স্থানীয় অনন্তপুর গ্রামের মো. সৌরভের সঙ্গে রাজীবের কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সন্ধ্যায় সালিসে বসার কথা ছিল। কিন্তু সন্ধ্যার দিকে রাজীব ও তার দুই বন্ধু ওয়াসিম (২২) ও ইয়াছিন (২৩) নোয়াখালী সরকারি কলেজের পুরাতন ক্যাম্পাস এলাকায় পৌঁছালে স্থানীয় যুবক ওমর নাছির সাজু, ওমর শরিফ সুলতান, সৌরভ, কুদ্দুস উল্যাহ, ফিরোজ মাহমুদ বাপ্পি ও হারুনুর রশিদ বাবুল এবং তাদের সহযোগীরা তাদের ওপর অতর্কিত গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই রাজীব নিহত হন এবং বাকি দুই বন্ধু কয়েক দিন পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ ঘটনায় নিহত রাজীবের মা কামরুন্নাহার বেগম বাদী হয়ে ৮ জনের নাম উল্লেখ করে বেগমগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন।

নোয়াখালী জেলা বিশেষ জজ আদালতের পিপি তাফাক্তার হোসেন বলেন, নোয়াখালী পুরাতন কলেজের পাশে সুপরিকল্পিতভাবে রাজীব, ওয়াসিম ও ইয়াছিনকে গুলি করে হত্যার অপরাধে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে ১৯ জন সাক্ষী উপস্থাপন করা হয়। বিজ্ঞ আদালত অপরাধীদের অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় ৩ জন আসামির ফাঁসির আদেশ, ৩ জনের কারাদণ্ড এবং ২ জনকে বেকসুর খালাস দেন। এ মামলার রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে জানান তিনি।


বিডিএলপিবি/এমএম

সূত্রঃ বাসস (১৬.০৮.২০২৬)

কাপ্তাই লেকে থাকা অবৈধ দখলদারদের তালিকা দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট

কাপ্তাই লেকে থাকা অবৈধ দখলদারদের তালিকা দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট

ছবিঃ সংগৃহীত
রাঙামাটি জেলার কাপ্তাই লেকের সীমানা জরিপ করে অবৈধ দখলদারদের তালিকা দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এক সম্পূরক আবেদনের শুনানি শেষে রোববার (১৬ আগস্ট) বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমদ ভূঞার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।

তিনি জানান, চার মাসের মধ্যে কাপ্তাই লেকের প্রকৃত ম্যাপ অনুসারে সীমানা জরিপ করে এর ভেতরে থাকা অবৈধ স্থাপনার মালিকদের নাম-ঠিকানাসহ আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

একইসঙ্গে আদালত আগামী ২০২৭ সালের ৬ জানুয়ারি প্রতিবেদন দাখিলের জন্য তারিখ নির্ধারণ করেন। আদালতের আদেশে রাঙামাটি জেলার জেলা প্রশাসক ও জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে এ রিপোর্ট দাখিলের জন্য নির্দেশ দেন।

রাঙামাটি জেলার কাপ্তাই লেকে অবৈধ দখলদারদের দ্বারা দূষণ ও দখল করা হচ্ছে মর্মে মিডিয়ায় সংবাদ প্রচারিত হলে জনস্বার্থে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ একটি রিট পিটিশন দায়ের করে। ২০২২ সালের ১৭ অক্টোবর রুল জারি করেন।

এ অবস্থায় এইচ আর পি বির পক্ষে একটি সম্পূরক আবেদন দাখিল করে জেলা প্রশাসক রাঙামাটি ও জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে কাপ্তাই লেকের ম্যাপ অনুসারে সীমানা জরিপ ও অবৈধ দখলদারদের তালিকা দাখিলের নির্দেশনা প্রার্থনা করেন।

আইনজীবী মনজিল মোরসেদ জানান, বর্তমানে অনেক অবৈধ দখলদাররা তাদের নিজের মালিকানা দাবি করছেন এ কারণে তাদের উচ্ছেদ করা যাচ্ছে না। এই কারণে জরিপ করে প্রকৃত দখলদারদের চিহ্নিত করা প্রয়োজন এবং আদালতের নির্দেশনা প্রার্থনা করেন।


বিডিএলপিবি/এমএম

সূত্রঃ বিডি নিউজ ২৪


ঢাকার আদালত থেকে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা : হাতেনাতে গ্রেফতার ২ জনের বিরুদ্ধে মামলা

ঢাকার আদালত থেকে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা : হাতেনাতে গ্রেফতার ২ জনের বিরুদ্ধে মামলা

ছবিঃ সংগৃহীত 

ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণ থেকে এক আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার সময় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সাভার মডেল থানার প্রতারণার মামলার এক আসামিকে প্রিজন ভ্যানে তোলার সময় এ ঘটনা ঘটে।

রবিবার (১৬ আগস্ট) ঢাকা জেলার কোর্ট পরিদর্শক কামাল উদ্দীন সংবাদমাধ্যম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটের দিকে আদালত চত্বরে এ ঘটনা ঘটে। এসময় পুলিশ হাতেনাতে দুইজনকে আটক করে।

এ ঘটনায় চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের হাজতখানার ইনচার্জ পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) হুমায়ুন কবির বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেন।

​মামলার এজাহারে বলা হয়, সাভার মডেল থানার প্রতারণার একটি মামলায় আসামি মো. ইউসুফকে (৩৮) আদালতের কার্যক্রম শেষে জেলখানায় প্রেরণের উদ্দেশ্যে প্রাঙ্গণে রাখা প্রিজন ভ্যানে তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল পুলিশ। এ সময় অজ্ঞাতনামা ৫-৬ জন ব্যক্তি জোরপূর্বক ওই আসামিকে পুলিশ হেফাজত থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। ​দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুললে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এসময় আসামিপক্ষের হামলায় এটিএসআই হানিফ মাহমুদ এবং কনস্টেবল তোফায়েল আহম্মেদ গুরুতর আহত হন। হামলাকারীরা পুলিশ সদস্যদের বেধড়ক মারধর, কিল-ঘুষি মারে এবং এক কর্মকর্তার পরনের শার্ট ছিঁড়ে ফেলে প্রায় ২,০০০ টাকার আর্থিক ক্ষতিসাধন করে।

হামলা ও ধস্তাধস্তির মধ্যে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকেই দুইজনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। তারা হলেন, সোহাগ খান (৩৬) ও ​নাজমুল হাসান (১৯)। ​গ্রেপ্তার সোহাগ খান সেই মামলার এজাহারভুক্ত ১ নম্বর আসামি এবং নাজমুল হাসান প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদকালে পালিয়ে যাওয়া আসামিদের তথ্য সরবরাহ করেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। তবে ঘটনার সুযোগ নিয়ে অপর এক আসামিসহ অজ্ঞাতনামা ৫-৬ জন পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।​ ঘটনার পর আহত পুলিশ সদস্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তার দুইজনসহ অজ্ঞাতনামা ৫-৬ জনকে আসামি করে সরকারি দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদের ওপর আক্রমণ, সরকারি কাজে বাধা দান এবং আসামি ছিনতাইয়ের চেষ্টার অভিযোগে দণ্ডবিধির পৃথক ধারায় কোতোয়ালী থানায় মামলাটি দায়ের করে পুলিশ।



বিডিএলপিবি/এমএম

সূত্রঃ বাসস (১৬.০৮.২০২৬)

সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইডে ৩১ হাজার ৩৭ জনকে সরকারি খরচায় আইনি সেবা

সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইডে ৩১ হাজার ৩৭ জনকে সরকারি খরচায় আইনি সেবা

ছবি: সংগৃহীত 
সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে ৩১ হাজার ৩৭ জনকে সরকারি খরচে আইনি সেবা দেওয়া হয়েছে।জাতীয় আইনগত সহায়তা সংস্থার (লিগ্যাল এইড) ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। 

২০০৯ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত লিগ্যাল এইডের সামগ্রিক কার্যক্রমের বিস্তারিত তথ্য এতে তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড-এর যাত্রা শুরু হয়। শুরু থেকে ২০২৬ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত মোট ৩১ হাজার ৩৭ জন এ অফিসের মাধ্যমে সেবা পেয়েছেন। সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড’র মাধ্যমে ৩ হাজার ৪৫৭ টি মামলায় সরাসরি আইনি সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে ২ হাজার ৩৬৯ টি মামলা। এছাড়াও আইনি পরামর্শ সেবা দেয়া হয়েছে ২৭ হাজার ৫৮০টি।

আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল ও অসমর্থ বিচারপ্রার্থীদের আইনি সহায়তা দিতে ‘আইনগত সহায়তা প্রদান আইন’-এর অধীনে সরকারি খরচে এ সেবা দেওয়া হচ্ছে। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের অধীনে জাতীয় আইনগত সহায়তা সংস্থা এ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: বাসস (১৫.০৮.২০২৬)

যথাযথ সমন জারির প্রমান থাকলে একতরফা ডিক্রি বাতিলের আবেদন গ্রহণযোগ্য নয়: হাইকোর্টের রায়

যথাযথ সমন জারির প্রমান থাকলে একতরফা ডিক্রি বাতিলের আবেদন গ্রহণযোগ্য নয়: হাইকোর্টের রায়

ছবি: সংগৃহীত 
বিবাদীর সঠিক ঠিকানায় মামলার সমন যথাযথভাবে পৌঁছানোর প্রমাণ থাকলে, শুধু সমন পাওয়া যায়নি দাবি করে একতরফা ডিক্রি বাতিলের আবেদন গ্রহণযোগ্য হবে না মর্মে রায় দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ। দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮ এর ৯ ধারার ১৩ বিধির অধীনে দায়ের করা রিভিশনে জারি করা রুল খারিজ করে হাইকোর্ট এই রায় দেন। রায়ে বিচারিক আদালতের দেওয়া রায় ও আদেশের ওপর জারি করা স্থগিতাদেশও প্রত্যাহার করে নিয়েছেন হাইকোর্ট।

মো. মনজুর রহমান মণ্ডল এবং অন্যান্য বনাম মোছা. লতিফা বেওয়া এবং অন্যান্য মামলায় হাইকোর্ট এমন রায় দিয়েছেন। গত ২১ জুলাই বিচারপতি মো. রেজাউল করিমের একক হাইকোর্ট বেঞ্চের দেওয়া ওই রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে।

মামলার ফ্যাক্ট: ২০০০ সালে ৯১ একর জমির বাঁটোয়ারা চেয়ে জয়পুরহাটের সদর সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে একটি দেওয়ানি মামলা দায়ের করেন মোছা. লতিফা বেওয়াসহ অন্যরা। ওই মামলায় মো. মনজুর রহমান মণ্ডলসহ অন্যান্যরা বিবাদী ছিলেন। ২০০১ সালের ১৬ আগস্ট মামলাটি বিবাদীদের অনুপস্থিতিতে একতরফাভাবে ডিক্রি হয়। তখন বিবাদীরা (মনজুর রহমান মণ্ডলসহ অন্যান্যরা) দাবি করেন, তাদের নামে কখনোই কোনো সমন জারি করা হয়নি এবং তারা এই মামলা সম্পর্কে কিছুই জানতেন না; পরবর্তী সময়ে তারা এই একতরফা ডিক্রির বিষয়ে জানতে পারেন। এরপর সমন জারির বিষয়ে মিথ্যা সার্ভিস রিপোর্ট দিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে একতরফা ডিক্রি আদায় করেছে বাদীপক্ষ– এমন অভিযোগ এনে ২০০২ সালের ১৬ জুলাই দেওয়ানি কার্যবিধির ৯ ধারার ১৩ বিধি অনুযায়ী একতরফা ডিক্রি বাতিল চেয়ে তারা জয়পুরহাটের সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে একটি বিবিধ মামলা দায়ের করেন।

নথি পর্যালোচনা ও সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে সিনিয়র সহকারী জজ আদালত ২০০৮ সালের ৬ মার্চ ওই বিবিধ মামলাটি খারিজ করে দেন। ক্ষুব্ধ হয়ে আবেদনকারীরা সিনিয়র সহকারী জজ আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে একই বছরে জয়পুরহাটের জেলা জজ আদালতে মিস আপিল দায়ের করেন। পরে মামলাটি অতিরিক্ত জেলা জজ আদালতে স্থানান্তরিত হয়। পরে ২০১১ সালের ৫ জুন অতিরিক্ত জেলা জজের আদালত আপিল খারিজ করে সিনিয়র সহকারি জজ আদালতের রায় বহাল রাখেন।

অত:পর, অতিরিক্ত জেলা জজ আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে ২০১২ সালে হাইকোর্টে দেওয়ানি রিভিশন দায়ের করেন মো. মনজুর রহমান মণ্ডলসহ অন্যান্যরা। দেওয়ানি কার্যবিধির ১১৫(১) ধারায় ওই রিভিশনটি দায়ের করা হয়।ওই আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে রুল জারির পাশাপাশি বিচারিক আদালতের রায় ও আদেশের কার্যকারিতা ছয় মাসের জন্য স্থগিত করেন হাইকোর্ট।

পরবর্তীতে হাইকোর্টে মামলাটি শুনানির জন্য উত্থাপিত হলে সেদিন উভয় পক্ষের পক্ষেই কোনো আইনজীবী উপস্থিত হননি। ফলে বিচারপতি নিজেই রিভিশন আবেদন, এতে গৃহীত ব্যাখ্যাগুলো এবং নিম্ন আদালতগুলোের নথিপত্রসহ ১ নম্বর আবেদনকারীর সাক্ষ্য ও উভয় আদালতের সিদ্ধান্ত গভীরভাবে পর্যালোচনা করে রায় প্রদান করেন।

রায়ে হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ: হাইকোর্ট বলেন– বর্তমান মামলায়, উভয় আদালতই (বিচারিক আদালত এবং অতিরিক্ত জেলা জজ আদালত) সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে যৌথভাবে এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে, মূল মামলার সমন আরজিতে উল্লেখিত আবেদনকারীদের (মনজুর রহমান মণ্ডল ও অন্যান্যদের) ঠিকানায় জারি করা হয়েছিল। যা সংশ্লিষ্ট সময়ে তাদের প্রকৃত ঠিকানা ছিল এবং তাদের পক্ষে তাদের এক নিকটাত্মীয় তা গ্রহণ করেছিলেন। এটি ১ নম্বর আবেদনকারী নিজের দেওয়া সাক্ষ্যের জবানবন্দি ও জেরায় তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন। তাই এই সিদ্ধান্ত কেবল অনুমান বা ধারণার ওপর ভিত্তি করে নেওয়া হয়নি।
সমন জারির প্রশ্নে অধস্তন আদালতগুলোের এই যৌথ সিদ্ধান্তে কোনো আইনি ক্রটি বা বেআইনি কিছু খুঁজে পায়নি উল্লেখ করে হাইকোর্ট বলেন, অধস্তন আদালতদ্বয় পরষ্পরবিরোধী মতামত প্রদান করেছে বলে আবেদনে যে দাবি করা হয়েছে, তা নথিপত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। কারণ উভয় আদালতই একই সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে একই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে।

আদালত আরও বলেন, প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে নিম্ন আদালতের নেওয়া যৌথ সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করার মতো কোনো যুক্তি নেই। এসব বিবেচনায় আগে জারি করা রুলে কোনো সারবত্তা খুঁজে না পাওয়ায় রুলটি খারিজ করা হলো। পাশাপাশি বিচারিক আদালতের রায় ও আদেশের কার্যকারিতার ওপর জারি করা স্থগিতাদেশও প্রত্যাহার করে নেন হাইকোর্ট।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: চ্যানেল ২৪

অসচ্ছল বিচারপ্রার্থীদের জন্য ৩৮৭ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় করেছে লিগ্যাল এইড

অসচ্ছল বিচারপ্রার্থীদের জন্য ৩৮৭ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় করেছে লিগ্যাল এইড

ছবি: সংগৃহীত 
জাতীয় আইনগত সহায়তা সংস্থার (লিগ্যাল এইড) মাধ্যমে অসচ্ছল বিচারপ্রার্থীদের অনুকূলে ৩৮৭ কোটি ৮১ লাখ ৯২ হাজার ৭৪৫ টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় করা হয়েছে। জাতীয় আইনগত সহায়তা সংস্থার (লিগ্যাল এইড) ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

২০০৯ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত লিগ্যাল এইড-এর মাধ্যমে আইনি সহায়তার বিস্তারিত তথ্য এ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। শুরুতে জেলা পর্যায়ে অসচ্ছল জনগোষ্ঠীর জন্য এ আইনি সেবা প্রদান করা হয়। পরে সুপ্রিম কোর্ট, ঢাকা ও চট্টগ্রামে শ্রমিক আইনগত সহায়তা সেল এবং দেশের কারাগারগুলোতে এ সেবা চালু করে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, অসচ্ছল বিচারপ্রার্থীদের অনুকূলে প্রি ও পোস্ট-কেইসে ৩৮৭ কোটি ৮১ লাখ ৯২ হাজার ৭৪৫ টাকা টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় করা হয়েছে। এর মধ্যে দেশের ৬৪ জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের মাধ্যমে ৩৮০ কোটি ৭৮ লাখ ১১ হাজার ৩৭৯ টাকা এবং ঢাকা ও চট্টগ্রাম শ্রমিক আইনগত সহায়তা সেল-এর মাধ্যমে ৭ কোটি ৩ লাখ ৮১ হাজার ৩৬৬ টাকা ক্ষতিপূরণ আদায় করা হয়েছে।

এই সময়ের মধ্যে জাতীয় আইনগত সহায়তা সংস্থার অধীনে (লিগ্যাল এইড) সরকারি খরচায় আইনি সহায়তাপ্রাপ্ত উপকারভোগী ১৫ লাখ ৬৩ হাজার ৫৬৬ জন। দেশের ৬৪টি জেলা লিগ্যাল এইড অফিস, সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড অফিস, ঢাকা ও চট্টগ্রাম শ্রমিক আইনগত সহায়তা সেল, সরকারি আইনি সহায়তায় জাতীয় হেল্পলাইন কল সেন্টারে (টোল ফ্রি-‘১৬৬৯৯’) এই আইনি সেবা প্রদান করা হচ্ছে।

দেশে আর্থিকভাবে অসচ্ছল, অসমর্থ বিচারপ্রার্থী জনগণকে আইনি সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে ‘আইনগত সহায়তা প্রদান আইন’-এর অধীনে সরকারি খরচায় এ সেবা দেওয়া হয়। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগের অধীনে জাতীয় আইনগত সহায়তা সংস্থার কার্যক্রম পরিচালিত হয়।


বিডিএলপিবি/এমএম

সূত্র: বাসস 

১৫ আগ, ২০২৬

ডিএমপির অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার ৫৫৯, মামলা ৪৪

ডিএমপির অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার ৫৫৯, মামলা ৪৪

ছবি: সংগৃহীত 
রাজধানীতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৫৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সময়ে বিভিন্ন ঘটনায় ৪৪টি মামলা দায়ের করা হয়েছে

আজ শনিবার (১৫ আগস্ট) ডিএমপি জানায়, রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় পরিচালিত অভিযানে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র, মাদকদ্রব্য ও অন্যান্য আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।

ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তারদের মধ্যে রমনা বিভাগে ৩২ জন, লালবাগে ৩৩ জন, ওয়ারীতে ৮৭ জন, মতিঝিলে ৬৫ জন, তেজগাঁওয়ে ৭৯ জন, মিরপুরে ১১৮ জন, গুলশানে ১০৫ জন, উত্তরা বিভাগে ৩৭ জন এবং গোয়েন্দা বিভাগে ৩ জন রয়েছেন।

অভিযানকালে তিনটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগজিন, নয় রাউন্ড গুলি, একটি খেলনা পিস্তল, দুটি সুইচ গিয়ার, একটি চাকু ও একটি শার্প ব্লেড উদ্ধার করা হয়েছে।
এ ছাড়া ১৭টি মোবাইল ফোন, ৫১০ গ্রাম গাঁজা, ৩ হাজার।৭১০ পিস ইয়াবা, ১০০ পুরিয়া হেরোইন, ১৫ বোতল দেশি মদ, এক লিটার বিদেশি মদ এবং নগদ ২ হাজার ৭০০ টাকা উদ্ধার করা হয়।

ডিএমপি জানায়, রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা ও অন্যান্য আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।


বিডিএলপিবি/এমএম

সূত্র: ডিএমপি নিউজ