২১ জুল, ২০২৬

এক বছরের মধ্যে বিচারাধীন মামলা ২০ লাখে নামিয়ে আনা সম্ভব: আইনমন্ত্রী

এক বছরের মধ্যে বিচারাধীন মামলা ২০ লাখে নামিয়ে আনা সম্ভব: আইনমন্ত্রী

ছবি:সংগৃহীত 

বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (এডিআর) কার্যক্রমকে কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে, আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের বিচারাধীন মামলার সংখ্যা প্রায় ২০ লাখে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এমপি।

তিনি দেশে বিচারাধীন মামলার দীর্ঘসূত্রতা কমাতে এবং সাধারণ মানুষের জন্য দ্রুত ও সহজলভ্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বাধ্যতামূলক মামলাপূর্ব মধ্যস্থতা (প্রি-ফাইলিং মেডিয়েশন) কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত করার আহ্বান জানিয়েছেন।

আজ সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা প্রদান আইন, ২০২৬-এর ধারা ২১ অনুযায়ী অত্যাবশ্যক বাধ্যতামূলক মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতা কার্যক্রমের উদ্বোধনী সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব, অতিরিক্ত সচিব, যুগ্ম সচিব, বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা প্রদান অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বিভিন্ন জেলার জেলা ও দায়রা জজ, চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, জেলা লিগ্যাল এইড কর্মকর্তা, আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দ ও বিচার বিভাগের কর্মকর্তাসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া বগুড়া, ঠাকুরগাঁও, পটুয়াখালী, ভোলা, নড়াইল, যশোর, ফরিদপুর, কক্সবাজার, পঞ্চগড় ও টাঙ্গাইল জেলার বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তারা ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে যুক্ত হন।

আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো: আসাদুজ্জামান বলেন, বিভিন্ন আইনে গড়ে ৬২ দশমিক ২ শতাংশ মামলা হ্রাস পাওয়া গেছে। এটি বিচারব্যবস্থার জন্য আশাব্যঞ্জক। এই ধারা অব্যাহত থাকলে প্রতিদিন নতুন করে যে বিপুলসংখ্যক মামলা আদালতে জমা হচ্ছে, তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। যেসব মামলায় আপস-মীমাংসার সুযোগ রয়েছে, সেগুলোকে অনুমোদিত মধ্যস্থতাকারীদের কাছে পাঠানোর উদ্যোগ নিতে হবে, বিচারকদের উদ্দেশে বলেন আইনমন্ত্রী।

মো. আসাদুজ্জামান বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, মামলা দায়েরের আগেই বিরোধ নিষ্পত্তির পাশাপাশি বিচারাধীন মামলাগুলোর মধ্যেও কার্যকর মধ্যস্থতা চালানো গেলে, আগামী এক বছরের মধ্যে বর্তমানে বিচারাধীন প্রায় সাড়ে ৪৫ লাখ মামলা ২০ লাখে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বগুড়া, ঠাকুরগাঁও, পটুয়াখালী, ভোলা, নড়াইল, যশোর, ফরিদপুর, কক্সবাজার, পঞ্চগড় ও টাঙ্গাইল—এই ১০ জেলায় আনুষ্ঠানিকভাবে বাধ্যতামূলক মামলা-পূর্ব মধ্যস্থতা কার্যক্রম শুরু হয়েছে।


বিডিএলপিবি/এমএম
সোর্স: বাসস


জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার আসামি মোজাফফরকে ২৩ জুলাই হাজিরের নির্দেশ ট্রাইব্যুনালের

জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার আসামি মোজাফফরকে ২৩ জুলাই হাজিরের নির্দেশ ট্রাইব্যুনালের

ফাইল ছবি

মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার আসামি মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনকে আগামী ২৩ জুলাই (বৃহস্পতিবার) হাজিরের নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ নির্দেশ দেন। প্যানেলের অন্য সদস্যরা হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি, গ্রেপ্তার মোজাফফরকে ট্রাইব্যুনালে হাজিরের আবেদন করেন।

এর আগে প্রায়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার অন্যতম পলাতক আসামী অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোজাফফর হোসেনের বিচার হবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে। এজন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজিরের আবেদন করেছে প্রসিকিউশন। মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে এ আবেদন করা হয় এবং শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

উল্লেখ্য, ৪৫ বছর ধরে পলাতক ছিলেন মেজর (অব.) মোজাফফর। ১৫ জুলাই রাতে রাজধানীর বনানীর একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন ঢাকা সেনানিবাসের মিলিটারি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।


বিডিএলপিবি/এমএম


মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আসামি হচ্ছেন জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার আসামি মোজাফফর

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আসামি হচ্ছেন জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার আসামি মোজাফফর

ফাইল ছবি

প্রায়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার অন্যতম পলাতক আসামী অবসরপ্রাপ্ত মেজর মোজাফফর হোসেনের বিচার হবে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে। এজন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজিরের আবেদন করেছে প্রসিকিউশন। মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে এ আবেদন করা হয় এবং আজ শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

এদিকে, মোজাফফরের বিচার সেনা আইনে জেনারেল কোর্ট মার্শালের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। গতকাল সোমবার (২০ জুলাই) রাজধানীর পিলখানায় শহীদ ক্যাপ্টেন আশরাফ হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।

উল্লেখ্য, ৪৫ বছর ধরে পলাতক ছিলেন মেজর (অব.) মোজাফফর। ১৫ জুলাই রাতে রাজধানীর বনানীর একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন ঢাকা সেনানিবাসের মিলিটারি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।


বিডিএলপিবি/এমএম
সোর্স: এনপিবি নিউজ

পুরুষ নির্যাতন দমনে আইন চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের

পুরুষ নির্যাতন দমনে আইন চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের

ছবি: সংগৃহীত 

‘পুরুষ নির্যাতন দমন ও প্রতিরোধ আইন’ নামে একটি নতুন আইন প্রণয়নের নির্দেশনা চেয়ে মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে একটি রিট দায়ের করা হয়েছে যেখানে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিচারপতি রাজিক আল জলিলের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চে রিট আবেদনটি শুনানির জন্য কার্যতালিকায় রয়েছে।

রিট বলা হয়েছে, যদি একটি ‘পুরুষ নির্যাতন দমন ও প্রতিরোধ আইন’ প্রণয়ন করা হয়, তবে আইনের সমতা ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে নারীরা ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন’-এর অপব্যবহার করতে পারবে না। এছাড়া বিবাদীদের ওপর ‘পুরুষ নির্যাতন দমন ও প্রতিরোধ আইন’ নামে একটি নতুন আইন প্রণয়ন করার জন্য নির্দেশনা দেওয়ার জন্য প্রার্থনা করা হয়েছে রিটে।

রিটে ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন’ অপব্যবহারের মাধ্যমে পুরুষদের অপ্রয়োজনীয় হয়রানি থেকে রক্ষা করার জন্য ‘পুরুষ নির্যাতন দমন ও প্রতিরোধ আইন’ নামে একটি নতুন আইন প্রণয়নে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা এবং ব্যর্থতা কেন আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত এবং আইনগতভাবে অকার্যকর ঘোষণা করা হবে না; এবং ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন’ বা ‘যৌতুক আইন’ অপব্যবহারের মাধ্যমে পুরুষদের অপ্রয়োজনীয় হয়রানি থেকে রক্ষা করার জন্য বিবাদীদের কেন ‘পুরুষ নির্যাতন দমন ও প্রতিরোধ আইন’ নামে একটি নতুন আইন প্রণয়নের নির্দেশ দেওয়া হবে না, এই মর্মে রুল জারির আর্জি জানানো হয়েছে।

এছাড়া, রিটে রুল শুনানি পেন্ডিং থাকা অবস্থায়, ‘পুরুষ নির্যাতন দমন ও প্রতিরোধ আইন’-এর অপব্যবহারের মাধ্যমে পুরুষদের অপ্রয়োজনীয় হয়রানি থেকে রক্ষা করার জন্য বিবাদীদেরকে  ‘পুরুষ নির্যাতন দমন ও প্রতিরোধ আইন’ নামে একটি নতুন আইন প্রণয়নের নির্দেশ দিতে অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ চাওয়া হয়েছে।


বিডিএলপিবি/এমএম

চকরিয়া-সুন্দরবনের ২১ হাজার একর বনভূমি রক্ষায় হাইকোর্টের রুল

চকরিয়া-সুন্দরবনের ২১ হাজার একর বনভূমি রক্ষায় হাইকোর্টের রুল

ছবি: সংগৃহীত 

কক্সবাজারের চকরিয়া-সুন্দরবনকে সংরক্ষিত বন থেকে অবমুক্তকরণ (ডি-রিজার্ভ) কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না এবং সেখান থেকে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে বনভূমি কেন পুনরুদ্ধার করা হবে না- তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট।

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) করা এক জনস্বার্থমূলক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে রোববার (১৯ জুলাই) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করে। আদালতে বেলার পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মো. আশরাফ আলী। তাকে সহায়তা করেন ব্যারিস্টার রুমানা শারমিন।

বেলার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আদালত তার রুলে চকরিয়া-সুন্দরবনকে সংরক্ষিত বন থেকে অবমুক্ত করার প্রজ্ঞাপন এবং বনভূমি পুনরুদ্ধারে বিবাদীদের ব্যর্থতাকে কেন ‘অসাংবিধানিক, স্বৈরাচারী, বেআইনি, আইনি কর্তৃত্ববহির্ভূত এবং জনস্বার্থবিরোধী’ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়েছে।

একইসঙ্গে দক্ষিণ চট্টগ্রামের উপকূলীয় এলাকায় বিস্তৃত ২১ হাজার ২০ দশমিক ৪৫ একর আয়তনের ‘চকরিয়া-সুন্দরবন’ থেকে ‘সকল অবৈধ ইজারা বা বরাদ্দ বাতিল করে এবং সকল অবৈধ ও অননুমোদিত দখলদারদের উচ্ছেদ করে’ কেন ওই বনভূমি সুরক্ষা, সংরক্ষণ ও পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার নির্দেশ দেওয়া হবে না- রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।

এর মধ্যে রয়েছে- ওই বনভূমির সকল ইজারাদার ও বরাদ্দপ্রাপকদের একটি তালিকা প্রস্তুত করা এবং প্রধান বন সংরক্ষকসহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের মাধ্যমে উক্ত বনের জন্য একটি ‘পুনঃপ্রতিষ্ঠা পরিকল্পনা’ (Restoration Plan) প্রস্তুত করে তা আদালতের নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে দাখিল করা।

রিট আবেদনে চকরিয়া উপজেলার চরণদ্বীপ, রামপুর, রিংভং, পালকাটা, বদরখালীঘোনা, ডেমুশিয়া, কোনাখালীরঘোনা, বেহুলামাণিকচর, পেকুয়া, মগনামা, উজানটিয়া, খিলসাদেকসহ বিস্তীর্ণ মৌজার নাম উল্লেখ করে এসব এলাকা অবৈধ দখলমুক্ত করার আবেদন জানানো হয়েছে।

চকরিয়া-সুন্দরবনের বর্তমান বেহাল দশার চিত্র তুলে ধরে বেলার বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঐতিহাসিকভাবে এটি কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলার একটি বিস্তীর্ণ সংরক্ষিত ম্যানগ্রোভ বনভূমি। কালক্রমে অপরিকল্পিত ইজারা প্রদান, অবৈধ দখল এবং গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ডি-রিজার্ভেশনের ফলে এটি প্রায় সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত হয়ে গেছে।

কর্তৃপক্ষ একাধিকবার এ বনভূমি পুনরুদ্ধারের স্মারক জারি করলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি জানিয়ে বেলা বলছে, এটি বন আইন-১৯২৭ এবং সংবিধানের পরিবেশ সংরক্ষণ সংক্রান্ত ১৮(ক) অনুচ্ছেদের ‘সুস্পষ্ট লঙ্ঘন’।

রিটে ভূমি, পরিবেশ ও বন, মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব, বন অধিদফতরের প্রধান বন সংরক্ষক, মৎস্য অধিদফতরের মহাপরিচালক, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, বন সংরক্ষক (চট্টগ্রাম বিভাগ) এবং চকরিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়েছে।


বিডিএলপিবি/এমএম

বিচারপ্রার্থীর মামলা সঠিকভাবে আদালতে উপস্থাপনের আহ্বান প্রধান বিচারপতির

বিচারপ্রার্থীর মামলা সঠিকভাবে আদালতে উপস্থাপনের আহ্বান প্রধান বিচারপতির

ছবি: সংগৃহীত 

বিচারপ্রার্থীর মামলা সঠিকভাবে আদালতে উপস্থাপন করতে আইনজীবীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ও জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমিরউদ্দীন সরকারের স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে  ২০ জুলাই, সোমবার তিনি এ আহ্বান জানান।

আইন পেশায় ব্যারিস্টার জমিরউদ্দীন সরকারের সততা ও দায়িত্ববোধের কথা স্মরণ করে প্রধান বিচারপতি আইনজীবীদের উদ্দেশে বলেন, আপনি (আইনজীবী) যে মামলাটা হাতে নিয়েছেন সেটির প্রতি কমিটমেন্ট থাকতে হবে। বিচারপ্রার্থী আপনাকে প্রফেশনালি মামলায় এঙ্গেজ করেছেন, তাই আপনি আপনার কর্তব্য পালনে বাধ্য। এটা আপনার লিগ্যাল, ইথিক্যাল ও মোরাল দায়িত্বও। বিচার করবেন বিচারপতিরা। আপনি (আইনজীবী) তার মামলাটা প্রপারলি কোর্টে প্রেজেন্ট করেন। হার-জিত অন্য বিষয়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার মো. কায়সার কামাল বলেন, দেশের গণতন্ত্রের জন্য, সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার জন্য এবং আইনের শাসন ও মৌলিক অধিকার রক্ষার জন্য ব্যারিস্টার জমিরউদ্দীন সরকারের মধ্যে সবসময় একটা আকুতি ছিল। তিনি অত্যন্ত প্রজ্ঞাবান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন। 

অনুষ্ঠানের আরেক বিশেষ অতিথি আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দীন সেই সৌভাগ্যবানদের একজন যিনি জীবনের প্রতিটা ক্ষেত্রে সফলতার চূড়ায় আরোহণ করেছেন।একজন মানুষ এক জীবনে এর থেকে বেশি কিছু অর্জন করতে পারে না। তিনি ব্যারিস্টার ছিলেন, ছয়বার এমপি হয়েছেন, শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন, স্পিকার ছিলেন, আবার ছিলেন অস্থায়ী রাষ্ট্রপতিও। 

অনুষ্ঠানে আরও বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি এস. এম. এমদাদুল হক, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান সিনিয়র অ্যাডভোকেট আলহাজ্ব জয়নুল আবেদীন (এমপি) এবং বিএনপির আইন সম্পাদক ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক ব্যারিস্টার মো. বদরুদ্দোজা (বাদল)। 


বিডিএলপিবি/এমএম

সোর্স: বাসস

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডিতে রাজনীতিকদের অযোগ্য ঘোষণা প্রশ্নে হাইকোর্টের রুল

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডিতে রাজনীতিকদের অযোগ্য ঘোষণা প্রশ্নে হাইকোর্টের রুল

ছবি: সংগৃহীত 

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটিতে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত বা রাজনৈতিক পদে থাকা ব্যক্তিদের নির্বাচন, মনোনয়ন কিংবা অনুমোদনের ক্ষেত্রে অযোগ্য ঘোষণা করে বিদ্যমান বিধিমালা সংশোধন অথবা নতুন বিধিমালা প্রণয়নের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগ।  

একই সঙ্গে রুলে স্থানীয়ভাবে স্বীকৃত শিক্ষানুরাগী, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক, সৎ ও স্বনামধন্য সমাজসেবক, মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষাবিদ, আইনজীবী, চিকিৎসক এবং অন্যান্য বিশিষ্ট নাগরিকদের এসব কমিটিতে অন্তর্ভুক্তির সুযোগ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় বিধান প্রণয়নের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না এবং এ বিষয়ে বিচারিক নির্দেশনা (জুডিসিয়াল গাইডলাইন) কেন জারি করা হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে। 

এ সংক্রান্ত রিটের শুনানি শেষে সোমবার (২০ জুলাই) বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মো. নাদির খান ও মো. সোহেল রানা। এর আগে গত ৭ জুন রুবেল মিয়া একজন অভিভাবকের পক্ষে অ্যাডভোকেট নাদির খান জনস্বার্থে এ রিট দায়ের করেন। 

রিট আবেদনে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি প্রবিধানমালা, ২০২৪–এর বিধি ৭ সংশোধন অথবা সব শিক্ষা বোর্ডের জন্য নতুন বিধিমালা প্রণয়নের নির্দেশনা চাওয়া হয়। আবেদনে বলা হয়, রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত বা দলীয় পদধারী ব্যক্তিদের এসব কমিটিতে অন্তর্ভুক্তি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা, জবাবদিহি ও সুশাসনের প্রশ্নে বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে। তাই এসব কমিটিতে সমাজে গ্রহণযোগ্য, শিক্ষানুরাগী ও সৎ ব্যক্তিদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। 


বিডিএলপিবি/এমএম