১৮ জুল, ২০২৬

দেয়াল টপকে পালালেন মহিলা কয়েদি: সাত কারারক্ষী বরখাস্ত

দেয়াল টপকে পালালেন মহিলা কয়েদি: সাত কারারক্ষী বরখাস্ত

ছবি: সংগৃহীত 

গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগার থেকে এক নারী বন্দির পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে তিন মেট্রন ও চার নারী কারারক্ষীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে দায়িত্ব পালনে গাফিলতির প্রমাণ পাওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

সাময়িক বরখাস্ত হওয়া ব্যক্তিরা হলেন, মেট্রন লায়লা আনজুমান সুমি, মেরিনা ও রেহেনা এবং নারী কারারক্ষী শায়লা, শারমিন, জেমি ও আসমা।

বিষয়টি নিশ্চিত করে কারা অধিদফতরের সহকারী কারা মহাপরিদর্শক (এআইজি) মো. জান্নাতুল ফরহাদ জানান, দায়িত্ব পালনে অবহেলার বিষয়টি তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে আসায় সংশ্লিষ্ট সাতজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

তিনি জানান, পলাতক বন্দিকে দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যেও কীভাবে ওই বন্দি পালিয়েছেন, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

কারাগার সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ৪০ জন নারী বন্দিকে দিয়ে কারাগারের ভেতরে বিভিন্ন কাজ করানো হচ্ছিল। এ সময় দায়িত্বে থাকা মেট্রনের অবহেলার সুযোগে সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি রিম্পা (২১) কারাগারের প্রশাসনিক ভবনের পাশের সীমানাপ্রাচীর টপকে পালিয়ে যান। পরে সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে তার পালানোর বিষয়টি নিশ্চিত হয় কারা কর্তৃপক্ষ।

পলাতক রিম্পা মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলার রায়পুরা গ্রামের মো. হাসান হাবিবের মেয়ে। তিনি ঢাকার ধানমন্ডি থানার একটি সিআর মামলায় তিন মাসের সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারে বন্দি ছিলেন।

ঘটনার পর শুক্রবার কারা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে গাজীপুরের কোনাবাড়ী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। একই সঙ্গে পলাতক বন্দিকে গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


বিডিএলপিবি/এমএম

৫ জেলায় ১৮ ‘স্পেশাল মেডিয়েটর’ নিয়োগ দেবে সরকার

৫ জেলায় ১৮ ‘স্পেশাল মেডিয়েটর’ নিয়োগ দেবে সরকার

ছবি: সংগৃহীত 

দেশে সরকারি খরচে দরিদ্র ও অসচ্ছল বিচারপ্রার্থীদের মামলা দ্রুত এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে আইনি সহায়তা এবং বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (ADR) কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে ‘স্পেশাল মেডিয়েটর’ (বিশেষ মধ্যস্থতাকারী) নিয়োগের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ‘বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা প্রদান অধিদপ্তর’ ১৫ জুলাই জরুরি ভিত্তিতে এই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আইনগত সহায়তা প্রদান (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর ধারা ১৫ক এবং আইনগত সহায়তা প্রদান (আইনি পরামর্শ ও মধ্যস্থতা) বিধিমালা, ২০১৫-এর বিধি ২৬-এর বিধান অনুযায়ী এই স্পেশাল মেডিয়েটরদের নিয়োগ দেওয়া হবে। প্রাথমিকভাবে দেশের ৫টি জেলার জেলা লিগ্যাল এইড অফিস ও চৌকি আদালতে মধ্যস্থতা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অভিজ্ঞ আইনজীবীদের কাছ থেকে আবেদন আহ্বান করা যাচ্ছে।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, কক্সবাজার, ভোলা, পটুয়াখালী, শরীয়তপুর ও টাঙ্গাইল জেলার বিভিন্ন আদালতে এই স্পেশাল মেডিয়েটর নিয়োগ দেওয়া হবে। উক্ত পদে আবেদনের যোগ্যতা, আবেদন প্রক্রিয়া ও সাক্ষাৎকার সম্পর্কে বিস্তারিত রয়েছে নিচের বিজ্ঞপ্তিতে:




বিডিএলপিবি/এমএম

১৭ জুল, ২০২৬

৭ মাসের মেয়েকে আছড়ে হত্যা: বাবার বিরুদ্ধে মামলার প্রতিবেদন ১ সেপ্টেম্বর

৭ মাসের মেয়েকে আছড়ে হত্যা: বাবার বিরুদ্ধে মামলার প্রতিবেদন ১ সেপ্টেম্বর

ছবি: সংগৃহীত 

রাজধানীর উত্তরার সিরাজ মার্কেট এলাকায় সাত মাস বয়সী কন্যাশিশু রাফা মনি কবিতাকে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় আগামী ১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। শিশুটির বাবা কবির ইসলামকে এ মামলার একমাত্র আসামি করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) মামলার এজাহার আদালতে উপস্থাপন করা হলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিবুজ্জামান তা গ্রহণ করেন এবং তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ওই তারিখ নির্ধারণ করেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক কলহের জেরে সাত মাস বয়সী কন্যাশিশু কবিতা (রাফা) কে আছড়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার বাবার বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুর আড়াইটার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের শিশু সার্জারি বিভাগের ২০০ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়।

নিহত শিশুর মা লিমা আক্তার গনমাধ্যমকে জানান, তার স্বামী ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালক। ভরণ-পোষণ ও সংসারের খরচ নিয়ে বুধবার সন্ধ্যায় তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তার স্বামী তাদের সাত মাসের মেয়েকে পা ধরে তুলে মাটিতে আছড়ে মারেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এতে শিশুটি গুরুতর আহত হলে প্রথমে তাকে টঙ্গীর একটি স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সেখানে অবস্থার অবনতি হলে বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে শিশুটিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার দুপুরে তার মৃত্যু হয়।

লিমা আক্তার আরও জানান, তাদের গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলায়, আর তার স্বামীর বাড়ি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায়। রাফাই ছিল তাদের একমাত্র সন্তান।


বিডিএলপিবি/এমএম

রিমান্ড শেষে কারাগারে সেই হরিদাস; রিমান্ডে  মিলেছে‘গুরুত্বপূর্ণ তথ্য’

রিমান্ড শেষে কারাগারে সেই হরিদাস; রিমান্ডে মিলেছে‘গুরুত্বপূর্ণ তথ্য’


ছবি: সংগৃহীত 

অর্থপাচারের মামলায় চার দিনের রিমান্ড শেষে হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। গাইবান্ধার পলাশবাড়ীর আলোচিত রাম বিগ্রহ নির্মাণের উদ্যোক্তা হরিদাসকে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে মামলার তদন্তে সহায়ক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছে তদন্ত সংস্থা সিআইডি।

ব্যবসার আড়ালে দেশি-বিদেশি মুদ্রা পাচার ও সংঘবদ্ধ অপরাধে সম্পৃক্ততার অভিযোগে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানার মানি লন্ডারিং মামলায় রোববার (১২ জুলাই) তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।  বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রিমান্ড শেষে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক কে এম রাকিবুল হুদা আসামি শ্রী হরিদাস চন্দ্র তরনীদাস ওরফে তৌহিদ ইসলামকে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। 

এর আগে গত রোববার দিনগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের মধ্য রামচন্দ্রপুর গ্রামের রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দির এলাকা থেকে হরিদাস চন্দ্র তরণীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা পাচারের অভিযোগে রোববার (১২ জুলাই) বাংলাদেশ পুলিশের সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম বিভাগের উপপরিদর্শক সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।

এ মামলার ভিত্তিতে অভিযোগের অনুসন্ধান শুরু করে সিআইডি। অনুসন্ধানে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়, অভিযোগ সংশ্লিষ্ট হরিদাস চন্দ্র তরণী দাস ব্যবসার আড়ালে দেশি-বিদেশি মুদ্রা পাচার এবং হুন্ডি কার্যক্রম পরিচালনা করতেন।

সিআইডির অনুসন্ধানে অভিযুক্তের নামে পাঁচটি ব্যাংক হিসাব এবং চারটি মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) হিসাব বিশ্লেষণ করা হয়। এতে ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে এসব হিসাবে মোট ৯ কোটি ৩৫ লাখ ৩২ হাজার ৪৫১ টাকা জমা এবং ৯ কোটি ৩৫ লাখ ৬৫ হাজার ৫২৮ টাকা উত্তোলনের তথ্য পাওয়া যায়।

সংস্থাটির দাবি, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে মামলার তদন্তে সহায়ক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে, যা এখন যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এ অবস্থায় জামিন পেলে তদন্তে বিঘ্ন ঘটতে পারে এই যুক্তিতে তার জামিন আবেদন নাকচ করে আদালত তাকে কারাগারে পাঠান।


বিডিএলপিবি/এমএম

ভরণপোষণ শিশুর আইনগত অধিকার, মা-বাবার তালাকের ওপর নির্ভরশীল নয় : হাইকোর্ট

ভরণপোষণ শিশুর আইনগত অধিকার, মা-বাবার তালাকের ওপর নির্ভরশীল নয় : হাইকোর্ট

ছবি: সংগৃহীত 

আইন অনুযায়ী প্রমাণিত বা কার্যকর নয় এমন তালাকের অজুহাতে স্ত্রী ও নাবালক সন্তানের ভরণপোষণ কিংবা দেনমোহরের ডিক্রির বাস্তবায়ন বন্ধ করা যাবে না বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, নাবালক সন্তানের ভরণপোষণ তার স্বতন্ত্র আইনগত অধিকার; এটি মা-বাবার বৈবাহিক বিরোধ বা তালাকসংক্রান্ত বিরোধের ওপর নির্ভরশীল নয়। বিচারপতি আবদুর রহমানের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ সম্প্রতি এ রায় দেন। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রায়ের অনুলিপি প্রকাশ করা হয়।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০১১ সালে বিয়ের পর স্ত্রী ও নাবালক কন্যার পক্ষে দেনমোহর ও ভরণপোষণের দাবিতে মামলা করা হয়। জবাবে স্বামী দাবি করেন, তিনি আগেই স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেন। তবে ফ্যামিলি কোর্টে সেই তালাক আইন অনুযায়ী প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত স্ত্রী ও সন্তানের পক্ষে দেনমোহর ও ভরণপোষণের ডিক্রি প্রদান করেন।

পরবর্তীতে স্বামী পৃথক একটি ঘোষণামূলক মামলা করে তালাক কার্যকর হয়েছে দাবি জানিয়ে ওই ডিক্রির বাস্তবায়ন স্থগিতের আবেদন করেন। নিম্ন আদালত আবেদন খারিজ করলে তিনি হাইকোর্টে রিট করেন।

হাইকোর্ট রায়ে বলেন, কেবল নতুন মামলা দায়েরের কারণে চূড়ান্ত ডিক্রির বাস্তবায়ন স্থগিত করা যাবে না। কোনো সক্ষম আদালত ডিক্রি স্থগিত না করা পর্যন্ত তা কার্যকর থাকবে এবং এক্সিকিউশন কোর্ট তা বাস্তবায়নে বাধ্য থাকবে।

আদালত আরও পর্যবেক্ষণ করেন, আইনসম্মতভাবে প্রমাণিত নয় এমন তালাকের কোনো আইনগত কার্যকারিতা নেই। ফলে এমন তালাকের দাবি দেখিয়ে স্ত্রী ও সন্তানের ভরণপোষণ কিংবা দেনমোহরের দায় এড়ানোর সুযোগ নেই।

রায়ে ফ্যামিলি কোর্টের একচ্ছত্র এখতিয়ারের বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করে বলা হয়, বিবাহ, তালাক, দেনমোহর, ভরণপোষণ ও বৈবাহিক অধিকারসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষমতা কেবল ফ্যামিলি কোর্টের রয়েছে। একই সঙ্গে এক্সিকিউশন কোর্টের দায়িত্ব শুধু বিদ্যমান ডিক্রি বাস্তবায়ন করা; তালাকের বৈধতা বা বৈবাহিক সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে সিদ্ধান্ত দেওয়ার এখতিয়ার তাদের নেই।

নাবালক সন্তানের ভরণপোষণ প্রসঙ্গে আদালত বলেন, এটি শিশুর স্বাধীন আইনগত অধিকার। তাই মা-বাবার মধ্যে তালাকসংক্রান্ত বিরোধ থাকলেও সন্তানের ভরণপোষণ বন্ধ করা যাবে না এবং পিতা এ দায়িত্ব এড়াতে পারবেন না।

রায়ে আরও বলা হয়, পূর্বে দাবি করা তালাক যদি আইনগতভাবে অকার্যকর হয়, তাহলে স্বামী আইন অনুযায়ী নতুন করে তালাক দিতে পারেন। তবে এতে পূর্বের দেনমোহর ও ভরণপোষণের বকেয়া দায় থেকে অব্যাহতি মিলবে না।

পরিশেষে, হাইকোর্ট রুল খারিজ করে নিম্ন আদালতের আদেশ বহাল রাখেন এবং স্বামীকে দেনমোহরের বকেয়া ও স্ত্রী-সন্তানের সব বকেয়া ভরণপোষণ পরিশোধের নির্দেশ দেন।


বিডিএলপিবি/এমএম

গণঅভ্যুত্থানের বৈধতা-অবৈধতার বিচার আদালতের বিষয় নয়, এ প্রশ্নে জনগণই সর্বোচ্চ বিচারক: শিশির মনির

গণঅভ্যুত্থানের বৈধতা-অবৈধতার বিচার আদালতের বিষয় নয়, এ প্রশ্নে জনগণই সর্বোচ্চ বিচারক: শিশির মনির

ছবি: সংগৃহীত 

গণঅভ্যুত্থানের বৈধতা-অবৈধতার প্রশ্নে জনগণই সর্বোচ্চ বিচারক বলে মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সমিতি ভবনের মিলনায়তনে ‘সংবিধান সংশোধন কমিটি, গণভোট, জুলাই সনদ ও পঞ্চদশ সংশোধনী মামলার রায়: বর্তমান বাস্তবতা ও গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ ল'ইয়ার্স কাউন্সিল এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।

শিশির মনির বলেন, গণঅভ্যুত্থানের বৈধতা বা অবৈধতার বিচার আদালতের বিষয় নয়। এক্ষেত্রে জনগণই সর্বোচ্চ বিচারক। ফলে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশই জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতা ও অভিপ্রায় প্রকাশের একমাত্র আইনগত মাধ্যম।

তিনি আরও বলেন, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে পাতানো নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করা হয়েছে। এতে একনায়কতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা হয়। ন্যায়বিচার, আইনের শাসন ও মানবাধিকারও ভূলুণ্ঠিত করে বিচারালয়কে রাজনৈতিক উদ্দেশে ব্যবহার করা হয়েছে। গুম-খুন, নির্যাতন ও আয়নাঘর ছিল নিত্যদিনের বাস্তবতা। এছাড়া একনায়কতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থাকে সুদৃঢ় করতে সংবিধানে পঞ্চদশ সংশোধনী যুক্ত করা হয়েছে। এই সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধান পুনর্লিখিত হয়। বিলুপ্ত করা হয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা। গণভোটের ব্যবস্থাও বিলুপ্ত করা হয়।

তিনি বলেন, বছরের পর বছর ক্ষমতার চরম অপব্যবহারে মানুষের মনে হতাশা ও গভীর ক্ষোভের জন্ম হয়। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে বিস্ফোরিত হয় দীর্ঘদিনের সেই চাপা ক্ষোভ। গঠিত হয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। জনগণের সার্বভৌম ইচ্ছার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে বিচার, সংস্কার ও নির্বাচন নিয়ে পথ চলতে শুরু করে এ সরকার। এর মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন হলেও বিচারপ্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। কিন্তু রাষ্ট্রসংস্কার এখনও অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে।

শিশির মনির বলেন, ২০২৫ সালের ১৩ নভেম্বর জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতাবলে 'জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ- ২০২৫' জারি করেন রাষ্ট্রপতি। এর মাধ্যমে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের পূর্ণাঙ্গ রোডম্যাপ নির্ধারণ করা হয়। আদেশের ৩ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতা প্রয়োগের উদ্দেশে এই আদেশ এবং জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত অংশ গণভোটে উপস্থাপন করা হবে। ‘হ্যাঁ’ ভোট বিজয়ী হলে তত্ত্বাবধায়ক সরকারসহ অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান জুলাই জাতীয় সনদে বর্ণিত পদ্ধতিতে গঠিত হবে। একই সঙ্গে জাতীয় সংসদ হবে দ্বি-কক্ষের ও উচ্চকক্ষে থাকবে ১০০ জন সদস্য। ৭ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী গণভোটে 'হ্যাঁ' ভোট বিজয়ী হলে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি 'সংবিধান সংস্কার পরিষদ' গঠন করা হবে। এই পরিষদ প্রথম অধিবেশন থেকে পরবর্তী ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারের কাজ সম্পন্ন করবে।

তিনি আরও বলেন, সংশোধিত চূড়ান্ত ফলাফল অনুযায়ী ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোটে ভোটদানের হার ছিল ৬০ দশমিক ২৬ শতাংশ। ১৭ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ীদের সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ পড়ানো হয়। একই অনুষ্ঠানে তাদের সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার কথা ছিল। বিরোধী দলীয় জোটের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা দ্বৈত শপথ নিলেও সরকার দলীয় নির্বাচিতরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিতে অস্বীকৃতি জানান। এর মাধ্যমে জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ- ২০২৫-এর বিধান লঙ্ঘন করেন তারা। সম্প্রতি পঞ্চদশ সংশোধনী মামলার রায় ঘোষণা করেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত।

‘গণঅভ্যুত্থানের পর এই সংশোধনীর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারের করা রিট শুনানি শেষে ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ও গণভোট সংক্রান্ত বিধান ফিরিয়ে আনার আদেশ দেন হাইকোর্ট বিভাগ। ওই রায়ের বিরুদ্ধে তিনটি আপিল করা হয়। গত ৯ জুলাই এসব আপিল খারিজ করে দিয়ে হাইকোর্টের রায় বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। ফলে সংবিধানের ৭ক ও ৭খ অনুচ্ছেদ বাতিল, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ও সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত গণভোটের ব্যবস্থা পুনর্বহাল এবং মৌলিক অধিকার বলবৎ করার ক্ষমতা একমাত্র হাইকোর্টের কাছেই ন্যস্ত থাকে। তবে পঞ্চদশ সংশোধনীর অবশিষ্ট বিষয়গুলো সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব জাতীয় সংসদের ওপরই ন্যস্ত থাকবে বলে পর্যবেক্ষণ দেন। এ রায়ের পর এখন সংবিধান সংস্কার এবং জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের পথ সুগম হয়েছে। অতএব গোটা জাতির প্রত্যাশা পূরণের এখনই মোক্ষম সময়।

শিশির মনির বলেন, গণঅভ্যুত্থানের আইন সংশ্লিষ্ট সবার ওপর বাধ্যকর। বাংলাদেশের কোনও আদালত এই আইনকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করেনি। কারণ এই আইনই জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতা ও অভিপ্রায়ের লিখিত রূপ। তাই জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ-২০২৫-এর ৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে। আদেশে নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণপূর্বক সংবিধানের প্রয়োজনীয় সব সংস্কার সম্পন্ন করাই হবে আইনসম্মত ও যথাযথ পদক্ষেপ।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ লইয়ার্স কাউন্সিলের সভাপতি অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন সরকার, সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, সাবেক চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন লিপু, ব্যারিস্টার এ. এস. এম. শাহরিয়ার প্রমুখ।


বিডিএলপিবি/এমএম

১৬ জুল, ২০২৬

সাবেক আইজিপি বেনজীরের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলায় ১৫ জনের সাক্ষ্য শেষ

সাবেক আইজিপি বেনজীরের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলায় ১৫ জনের সাক্ষ্য শেষ

ছবি: সংগৃহীত

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন বিটিএমসি বস্ত্র অধিদপ্তর (কারিগরি) সহকারী পরিচালক মো. ফয়সাল কবির। এ নিয়ে মামলাটির ২৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়েছে।

আজ ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক আব্দুল্লাহ আল মামুনের আদালতে সাক্ষ্য দেন মো. ফয়সাল কবির। এরপর আদালত মামলার পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আগামী ১৭ আগস্ট দিন ধার্য করেন। 
দুর্নীতি দমন কমিশন সম্পদ বিবরণী দাখিলের নির্দেশ দিলে বেনজীর আহমেদ ২০২৪ সালের ২৭ আগস্ট আইনজীবীর মাধ্যমে সম্পদের হিসাব দাখিল করেন। হিসাবে তিনি ৬ কোটি ৪৫ লাখ ৩৭ হাজার ৩৬৫ টাকার স্থাবর সম্পদ এবং ৫ কোটি ৭৪ লাখ ৮৯ হাজার ৯৬৬ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য দেন।

তবে দুদক-এর তদন্তে বেনজীরের নামে ৭ কোটি ৫২ লাখ ৬৮ হাজার ৯৮৭ টাকার স্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। অর্থাৎ তিনি ১ কোটি ৮৫ লাখ ৩১ হাজার ৬২২ টাকার স্থাবর সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন।

এছাড়া তার নামে ৮ কোটি ১৫ লাখ ৩১ হাজার ২৬৪ টাকার অস্থাবর সম্পদ থাকার প্রমাণ পেয়েছে দুদক, যা তার ঘোষণার তুলনায় ২ কোটি ৪০ লাখ ৪১ হাজার ২৯৮ টাকা বেশি। দুদক-এর হিসাবে, বেনজীর আহমেদ ১১ কোটি ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৫৭৬ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন।

সম্পদ বিবরণীতে তথ্য গোপন, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগ পাওয়ায় ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১-এ বেনজীরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন দুদক-এর উপ-পরিচালক হাফিজুল ইসলাম। মামলাটি তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর বেনজীরের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন দুদক-এর উপ-পরিচালক হাফিজুল ইসলাম।

চার্জশিটে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারা, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারা, এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা অনুযায়ী অভিযোগ আনা হয়েছে। গত ৩ মে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক আব্দুল্লাহ আল মামুন।


বিডিএলপিবি/এমএম
সোর্স: বাসস