১০ আগ, ২০২৬

পাউরুটিতে ক্যানসারের উপাদান পটাশিয়াম ব্রোমেট বন্ধে হাইকোর্টের রুল

পাউরুটিতে ক্যানসারের উপাদান পটাশিয়াম ব্রোমেট বন্ধে হাইকোর্টের রুল

ছবি: সংগৃহীত 
পাউরুটি উৎপাদনে ক্যানসার সৃষ্টিকারী রাসায়নিক ‘পটাশিয়াম ব্রোমেট’-এর ব্যবহার বন্ধে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে পাউরুটি বাজারজাত করার সময় প্যাকেটের গায়ে ‘পটাশিয়াম ব্রোমেট ব্যবহার হয়নি’- এই ঘোষণা লেখা কেন বাধ্যতামূলক করা হবে না, তাও জানতে চেয়েছেন আদালত।

জনস্বার্থে দায়ের করা এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে সোমবার (১০ আগস্ট) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে খাদ্য সচিব, বিএসটিআই-এর মহাপরিচালক, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং বাংলাদেশ অটো বিস্কুট অ্যান্ড ব্রেড ম্যানুফেকচারিং অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতিকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

এছাড়া দেশের শীর্ষস্থানীয় খাদ্যপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান প্রাণ ফুড, নাবিস্কো, ডেনিশ ফুড, মেঘনা গ্রুপ (ফ্রেশ), আকিজ ফুড এবং হক ফুডের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদেরও এই রুলের জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী সঞ্জয় মণ্ডল, তাকে সহযোগিতা করেন আইনজীবী জাহিদ তালুকদার।

অ্যাডভোকেট সঞ্জয় মণ্ডল  বলেন, ‘পাউরুটিতে পটাশিয়াম ব্রোমেটের মতো বিষাক্ত রাসায়নিকের ব্যবহার জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম হুমকিস্বরূপ। আদালত আজ রুল জারি করেছেন। আমরা দাবি জানিয়েছি যাতে প্রতিটি পাউরুটির প্যাকেটে স্পষ্টভাবে লেখা থাকে যে এতে পটাশিয়াম ব্রোমেট ব্যবহার করা হয়নি।’

গত ২৬ জুলাই ‘মুভমেন্ট ফর হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড গুড গভর্নেন্স ফাউন্ডেশন’ (এমএইচআরজিএফ)-এর পক্ষে এর চেয়ারম্যান কবীর আলমগীর রিটটি দায়ের করেন।
রিট আবেদনে বলা হয়, পটাশিয়াম ব্রোমেট একটি ‘ক্লাস টুবি’ কারসিনোজেন, যা মানবদেহে ক্যানসার ও জিনগত রোগ সৃষ্টি করতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, রাজধানীর ৮৪ শতাংশ পাউরুটিতেই এই ক্ষতিকর রাসায়নিকের উপস্থিতি রয়েছে। অথচ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ও বিএসটিআই-এর নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও অনেক বেকারি এটি ব্যবহার করে যাচ্ছে।

রিট আবেদনে উল্লেখ করা হয়, দেশে বর্তমানে প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষ ক্যানসারে আক্রান্ত এবং প্রতি বছর এক লাখের বেশি মানুষ এই রোগে মারা যাচ্ছেন। ভেজাল খাদ্যের কারণে জনস্বাস্থ্যের এই ঝুঁকি রোধে পাউরুটির উপকরণের সঠিক ঘোষণা এবং বিষাক্ত উপাদানের ব্যবহার বন্ধ করা জরুরি।

২০১৬ সালে বিএসটিআই পাউরুটির মান নির্ধারণ করে দিলেও ২০২১ সালের পরীক্ষায় বহু নামী-দামি ব্র্যান্ডের নমুনায় অতিরিক্ত মাত্রায় পটাশিয়াম ব্রোমেট পাওয়া গিয়েছিল।  সাম্প্রতিক ২০২৫ সালের পরিসংখ্যানেও এই ক্ষতিকর উপাদানের উপস্থিতি পাওয়ার তথ্য রিট আবেদনে তুলে ধরা হয়।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: কালবেলা

হত্যাচেষ্টা মামলায় আগাম জামিন পেলেন এমপি গাজী নজরুল

হত্যাচেষ্টা মামলায় আগাম জামিন পেলেন এমপি গাজী নজরুল

ছবি: সংগৃহীত 
হত্যাচেষ্টার অভিযোগের মামলায় হাইকোর্টে আগাম জামিন পেয়েছেন সাতক্ষীরা-৪ আসনের আলোচিত সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলাম। সোমবার (১০ আগস্ট) বিকেলে হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন পান তিনি। এদিন আদালতে গাজী নজরুলের আবেদনের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এস এম শাহজাহান।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। যেখানে তাকে একটি কক্ষে এক তরুণীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে দেখা যায়। ওই ঘটনায় পর অনৈতিক সম্পর্কের প্রতিবাদ ও ভিডিও ফাঁসের সন্দেহের জেরে মারধর ও শ্বাসরোধে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে গত ২২ জুলাই এমপি গাজী নজরুলসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার মামলা করেন ভুক্তভোগী ওই তরুণীর মামা ওবায়দুর রহমান।

ওইদিন রাজধানীর পল্লবী থানায় এ মামলা করা হয়। মামলার এজাহারের বিবরণ অনুযায়ী, বাদী ওবায়দুর রহমান পল্লবীর কালশী এলাকায় তার বোনের ‘রোজ গার্ডেন টাওয়ারের’ বাসায় থাকতেন। তিনি এমপি গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত গাড়িচালক হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন। আর আত্মীয়তার সূত্রে নজরুল ইসলাম ওই বাসায় যাতায়াত করতেন। একপর্যায়ে তার সঙ্গে ওবায়দুর রহমানের ভাগ্নির অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি টের পেয়ে ওবায়দুর রহমান তার পরিবারকে সেটি জানান এবং নজরুল ইসলামকে এই সম্পর্ক থেকে বিরত থাকার অনুরোধ করেন। তবে এতে ক্ষিপ্ত হয়ে এমপি নজরুল ইসলাম তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন।

বাদীর অভিযোগ, সম্প্রতি মগবাজারের একটি চক্র এমপি নজরুল ইসলাম ও তার ভাগ্নির কিছু ‘অপ্রীতিকর ভিডিও’ সংগ্রহ করে নজরুল ইসলামকে ব্ল্যাকমেইল করতে থাকে। এতে নজরুল ইসলামের ধারণা হয়, ওবায়দুর রহমানই গোপন ভিডিও ধারণ করে গণমাধ্যম ও ওই চক্রের হাতে সেগুলো তুলে দিয়েছেন। এ নিয়ে বিরোধের জেরে গত ১৪ জুলাই এমপি নজরুল ইসলামের নির্দেশে অন্য আসামিরা তার ওপর হামলা চালায়।

এজাহারে ওবায়দুর রহমান আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার দিন বেলা ১১টার দিকে আসামি আমিনুর রহমান তাকে কৌশলে ড্রয়িংরুমে ডেকে নেন। সেখানে অন্য আসামিরা মিলে তাকে লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। একপর্যায়ে আমিনুর তাকে ফ্লোরে ফেলে গলা টিপে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা করেন। ওই সময় ওবায়দুর রহমানের মা তাহমিনা ও ছোট বোন মীম এগিয়ে এসে তাকে বাঁচানোর চেষ্টার পাশাপাশি চিৎকার শুরু করলে হামলাকারীরা পালিয়ে যান। পরবর্তীতে ওবায়দুর রহমান কুর্মিটোলা হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: সমকাল

গাজীপুর-৫ আসনের সাবেক এমপি আক্তারুজ্জামান রিমান্ডে

গাজীপুর-৫ আসনের সাবেক এমপি আক্তারুজ্জামান রিমান্ডে

ছবি: সংগৃহীত 
সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় গাজীপুর-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য( এমপি) ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আক্তারুজ্জামানের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন ঢাকার একটি আদালত। আজ ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম শুনানি শেষে এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে বুধবার (৫ আগস্ট) রাতে গুলশানের একটি বাসা থেকে আখতারুজ্জামানকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরের দিন বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তাকে সাত দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। এদিন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেন তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। একই সঙ্গে রিমান্ড শুনানির জন্য সোমবার ১০ আগস্ট দিন ধার্য করেন।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, গত ১৮ জুন রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানাধীন শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ সরণি রোডস্থ মহাখালী বাস টার্মিনাল সংলগ্ন ইউটার্নে পাকা রাস্তার উপর নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের কতিপয় সদস্য অবৈধ মিছিল করে আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়াসহ বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে সরাসরি মিছিল করে ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। আসামিরা স্বাধীন রাষ্ট্রের সংহতি, জননিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করার কাজে সম্পৃক্ত থেকে সন্ত্রাসী কর্মকা- করার জন্য জনগণকে উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে ষড়যন্ত্র, প্ররোচিত করে প্রজাতন্ত্রের ক্ষতি সাধনের উদ্দেশে নেতাকর্মীদের উদ্বুদ্ধ করে। এ ঘটনায় তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: বাসস

হাইকোর্টের ৫৫ টি বেঞ্চ পুনর্গঠন, বিচারকাজ শুরু আগামীকাল থেকে

হাইকোর্টের ৫৫ টি বেঞ্চ পুনর্গঠন, বিচারকাজ শুরু আগামীকাল থেকে

ছবি: সংগৃহীত 
হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকাজ পরিচালনার জন্য ৫৫টি বেঞ্চ পুনর্গঠন করেছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল থেকে পুনর্গঠিত এসব বেঞ্চে বিচারিক কার্যক্রম শুরু হবে।

সোমবার (১০ আগস্ট) প্রধান বিচারপতির নির্দেশনার পর সুপ্রিমকোর্টের ওয়েবসাইটে এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি ও বিস্তারিত কার্যতালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, হাইকোর্ট বিভাগের মোট ৯৩ জন বিচারপতি নিয়ে বেঞ্চগুলো পুনর্গঠন করা হয়েছে।  এর মধ্যে দ্বৈত ও একক মিলিয়ে মোট ৫৫টি বেঞ্চ রয়েছে।

আদেশে দেখা যায়, পুনর্গঠিত বেঞ্চগুলোর মধ্যে ১০টি ফৌজদারি মোশন (আবেদন), ৬টি রিট মোশন এবং ৫টি ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ডাদেশ নিশ্চিতকরণ) বেঞ্চ রয়েছে।এরমধ্যে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী এবং বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চটিকে বিশেষ এখতিয়ার দেওয়া হয়েছে। এই বেঞ্চটি শুধুমাত্র নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন সংক্রান্ত মৃত্যুদণ্ডাদেশ কনফারমেশন (ডেথ রেফারেন্স) সংক্রান্ত রুল, আবেদন গ্রহণ ও শুনানি করবেন।

দেশের উচ্চ আদালতে বিচারপ্রার্থীদের জট কমাতে এবং বিচারিক কার্যক্রমে গতি আনতে নিয়মিত বিরতিতে প্রধান বিচারপতি বেঞ্চ পুনর্গঠন করে থাকেন।  আগামীকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে এই নতুন বিন্যাসে আদালত বসবে।

বিজ্ঞপ্তি:



















বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: সুপ্রিম কোর্টের বিজ্ঞপ্তি

পরিবেশ অধিদপ্তরের ডিজি ও ডিসিসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল

পরিবেশ অধিদপ্তরের ডিজি ও ডিসিসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল

ছবি: সংগৃহীত 
গাইবান্ধার অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদের আদেশ বাস্তবায়ন না করার অভিযোগে পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও গাইবান্ধার জেলা প্রশাসকসহ (ডিজি) তিনজনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

রোববার (৯ আগস্ট) এক আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি আসিফ সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।রুলের বিবাদীরা হলেন— পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. লুৎফর রহমান, অধিদপ্তরের রংপুরের বিভাগীয় পরিচালক নুরুল আমিন এবং গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান।

আদালতে রিট আবেদনের পক্ষের আইনজীবী আব্দুর রাজ্জাক নিজেই শুনানি করেন। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর মোহাম্মদ আজমী। পরে আইনজীবী আব্দুর রাজ্জাক সাংবাদিকদের বলেন, ‘আদালত অবমাননার দায়ে বিবাদীদের বিরুদ্ধে কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, রুলে তা জানতে চাওয়া হয়েছে।’

মামলার তথ্য বিবরণ থেকে জানা যায়, গাইবান্ধার লাইসেন্সবিহীন ১৭৯টি অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদের নির্দেশনা চেয়ে উচ্চ আদালতে রিট করেছিলেন আইনজীবী আব্দুর রাজ্জাক। ওই রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ২০২৪ সালের ৬ মে রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্ট।

রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি রায় দেন হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ। রায়ে গাইবান্ধার ওই ১৭৯টিসহ সব অবৈধ ইটভাটা ৬০ দিনের মধ্যে উচ্ছেদের নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও উচ্ছেদ অভিযান না চালানোয় হাইকোর্টে আদালত অবমাননার আবেদনটি দাখিল করেন রিটকারী আইনজীবী।

আইনজীবী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘আদালতের সুনির্দিষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর তা বাস্তবায়ন করেনি, যা সরাসরি আদালত অবমাননার শামিল।’


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: দেশ রূপান্তর

ট্রাইব্যুনালের মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে আবুল কালাম আযাদের আপিল

ট্রাইব্যুনালের মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে আবুল কালাম আযাদের আপিল

ছবি: সংগৃহীত 
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মাওলানা আবুল কালাম আযাদ আপিল করেছেন। তার আপিলটি সোমবারের আপিল বিভাগের কার্যতালিকাভুক্ত রয়েছে।

পলাতক থাকা অবস্থায় ২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাবেক সদস্য আবুল কালাম আযাদকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৪১ বছর পরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এটি প্রথম রায় ছিল। মুক্তিযুদ্ধের সময় ফরিদপুরের বিভিন্ন স্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছিল আবুল কালাম আযাদের বিরুদ্ধে।

দীর্ঘদিন পর চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করেন। তখন জানা যায়, আত্মসমর্পণ করে আপিলের শর্তে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আবুল কালাম আযাদের সাজা স্থগিত করেছিলেন রাষ্ট্রপতি। এর ধারাবাহিকতায় তিনি ২১ জানুয়ারি আত্মসমর্পণ করেছেন। এরপর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ আপিলের জন্য নথিপত্র সরবরাহের নির্দেশ দেন।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: স্টার নিউজ

নিয়োগকালীন বিধিমালা উপেক্ষা করে এমপিওভুক্তদের আইনগত অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যাবে না: হাইকোর্টের রায়

নিয়োগকালীন বিধিমালা উপেক্ষা করে এমপিওভুক্তদের আইনগত অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যাবে না: হাইকোর্টের রায়

ছবি: সংগৃহীত 
বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষেত্রে নিয়োগকালীন বিধিমালা উপেক্ষা করে নতুন কোনো শর্ত বা বিধি অতীত থেকে বলবৎ দেখিয়ে শিক্ষক-কর্মচারীদের আইনগত অধিকার থেকে বঞ্চিত করা যাবে না, মর্মে রায় দিয়েছেন মহামান্য হাইকোর্ট।

এমপিও সংক্রান্ত চার শিক্ষকের করা এক রিটের পরিপ্রেক্ষিতে জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে দেওয়া রায়ে এমন যুগান্তকারী পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন হাইকোর্ট। মো. আবু হানিফ ও অন্যান্য বনাম রাষ্ট্র এবং অন্যান্য শীর্ষক মামলায় হাইকোর্ট এমন পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন। গত ৩০ জুন বিচারপতি শশাঙ্ক শেখর সরকার এবং বিচারপতি উর্মি রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চের দেওয়া ওই রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি সোমবার (১০ আগস্ট) প্রকাশিত হয়েছে।

রায় প্রদানকালে আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. আতাউর রহমান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ ওয়ালিউল ইসলাম অলি ও মোহাম্মদ রাশেদুল হাসান।

মামলার ফ্যাক্ট: ২০১৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির আলোকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন প্রবিধান (রেগুলেশন ২০১৫) অনুসরণ করে নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার রোজি মোজাম্মেল মহিলা কলেজে অর্থনীতি, মনোবিজ্ঞান, ইংরেজি ও সমাজকল্যাণ বিভাগে প্রভাষক (তৃতীয় শিক্ষক) পদে ২০১৫ সালের ২৯ ডিসেম্বর নিয়োগ পান মো. আবু হানিফসহ চারজন শিক্ষক। নিয়োগের পরদিন ৩০ ডিসেম্বর তারা প্রভাষক পদে যোগদান করেন।
পরবর্তী সময়ে ২০২০ সালের ১৯ এপ্রিল কলেজটি এমপিওভুক্ত হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর তারিখের এনটিআরসিএ পরিপত্রের পূর্বে বিজ্ঞপ্তিপ্রাপ্ত এবং ২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে নিয়োগপ্রাপ্ত তৃতীয় শিক্ষকদের এমপিওভুক্তির সুযোগ দেওয়া হয়। সেই মোতাবেক মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) কর্তৃক প্রকাশিত ৭২৬ জন শিক্ষকের তালিকায় তাদের নামও অন্তর্ভুক্ত ছিল। কিন্তু চূড়ান্ত পর্যায়ে অনলাইন প্রক্রিয়ায় তাদের এমপিও আবেদন এই অজুহাতে নামঞ্জুর করা হয় যে, তাদের ‘NTRCA সনদ নেই’। পরে ওই সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করেই চার শিক্ষক উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করেন।

হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ ও সিদ্ধান্ত:  রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেছেন, নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের প্রশাসনিক প্রয়োজনে চাকরির বিধিমালা পরিবর্তন বা পরিমার্জনের এখতিয়ার রয়েছে, তবে তা কোনোভাবেই ইতোপূর্বে চাকরিতে যোগদানকারী কর্মচারীর অর্জিত অধিকারকে ক্ষুণ্ন করতে পারে না।

রায়ে নিয়োগকালীন প্রবিধানের প্রাধান্য পাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে আদালত বলেছেন, ২০১৫ সালে যখন এই চার শিক্ষককে নিয়োগ দেওয়া হয়, তখন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিমালায় এনটিআরসিএ সনদের কোনো শর্ত ছিল না। ডিগ্রি (পাস) পর্যায়ের কলেজ শিক্ষকদের জন্য এই সনদের বাধ্যবাধকতা ২০১৯ সালের প্রবিধানে প্রথম জারি করা হয়।

আদালত আরও বলেছেন, রাষ্ট্রপক্ষ তৃতীয় শিক্ষক পদটি জনবল কাঠামোতে নেই বলে দাবি করলেও সরকার নিজেই একাধিক পরিপত্রের মাধ্যমে তৃতীয় শিক্ষকদের এমপিও সুবিধার আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে এই দাবির কোনো আইনি ভিত্তি নেই।

আদালত বলেন, এমপিও মঞ্জুর করা সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের বিষয় হলেও, তা যদি যুক্তিসঙ্গত আইনি ভিত্তি ছাড়া খেয়ালখুশিমতো বা স্বেচ্ছাচারী উপায়ে করা হয়, তবে তা সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিচার্য বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

চূড়ান্ত রায়ে হাইকোর্ট এনটিআরসিএ সনদ না থাকার অজুহাতে চার প্রভাষকের এমপিও আবেদন প্রত্যাখ্যানের অনলাইন সিদ্ধান্তকে বাতিল করে ২০২৪ সালের নভেম্বর মাস থেকে রিটকারী চারজনের নাম মান্থলি পে অর্ডার (এমপিও) তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেন।

রায়ে আদেশের অনুলিপি প্রাপ্তির ৬০ (ষাট) দিনের মধ্যে ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে প্রযোজ্য সব বকেয়াসহ আর্থিক সুবিধাদি চার রিটকারীদের পরিশোধ করার জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিবসহ বিবাদীদের প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: ঢাকা পোস্ট