১৫ জুল, ২০২৬

সাবেক ডেপুটি গভর্নর এস কে সুরের বিরুদ্ধে দুদকের মামলার রায় ২৮ জুলাই

সাবেক ডেপুটি গভর্নর এস কে সুরের বিরুদ্ধে দুদকের মামলার রায় ২৮ জুলাই


ছবিঃ সংগৃহীত

সম্পদ বিবরণী দাখিল না করায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর সিতাংশু কুমার (এস কে) সুর চৌধুরীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলার রায়ের ঘোষণার জন্য আগামী ২৮ জুলাই দিন ধার্য করেছেন আদালত।

আজ ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-২-এর বিচারক আয়েশা নাসরিন রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণার জন্য এ দিন ধার্য করেন। ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-২-এর বেঞ্চ সহকারী মো. দেওয়ান আশিক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, আয়বহির্ভূত সম্পদের অভিযোগে এস কে সুরকে নিজের ও তার ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের নামে বা বেনামে থাকা স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ, দায়-দেনা, আয়ের উৎস ও সম্পদ অর্জনের বিস্তারিত বিবরণ ২১ কার্যদিবসের মধ্যে দাখিলের নোটিশ দেওয়া হয়। 

তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি সম্পদ বিবরণী দাখিল করেননি।

এ ঘটনায় ২০২৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর দুদক-এর উপপরিচালক নাজমুল হুসাইন বাদী হয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ৪ আগস্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদক-এর উপপরিচালক মো. আহসান উদ্দিন আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

গত ২০২৫ সালের ৬ নভেম্বর আদালত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। মামলার বিচার চলাকালে সাত জন সাক্ষীর মধ্যে সাত জনই আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেন। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১৪ জানুয়ারি রাজধানীর সেগুনবাগিচা এলাকা থেকে এস কে সুর চৌধুরীকে গ্রেফতার করে দুদক। বর্তমানে তিনি কারাগারে আটক আছেন।


বিডিএলপিবি/এমএম 

সোর্সঃ বাসস

 কপিরাইট আইন ভঙ্গঃ গাজী শামসুর রহমানের বই ‘বাংলাদেশ পুলিশ হ্যান্ডবুক’ প্রকাশ করতে পারবে না কামরুল বুক হাউজঃ হাইকোর্ট

কপিরাইট আইন ভঙ্গঃ গাজী শামসুর রহমানের বই ‘বাংলাদেশ পুলিশ হ্যান্ডবুক’ প্রকাশ করতে পারবে না কামরুল বুক হাউজঃ হাইকোর্ট

ছবিঃ সংগৃহীত

আইনজগতের প্রখ্যাত লেখক গাজী শামসুর রহমানের লেখা ‘বাংলাদেশ পুলিশ হ্যান্ডবুক’ কামরুল বুক হাউস প্রকাশ করতে পারবে না বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। বুধবার (১৫ জুলাই) বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহ ও বিচারপতি মো. লুৎফর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।  উক্ত রায় এ হাইকোর্ট স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, কামরুল বুক হাউস আর এই বই প্রকাশ, মুদ্রণ কিংবা বাজারজাত করতে পারবে না। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট এস এম আরিফ মন্ডল।

আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, খোশরোজ কিতাব মহল ১৯৫৮ সালে প্রথম ‘পুলিশ হ্যান্ডবুক’ নামে একটি সংকলন প্রকাশ করে। বইটিতে এক মলাটে স্থান পায় ফৌজদারি কার্যবিধি, দণ্ডবিধি, সাক্ষ্য আইন এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মাইনর অ্যাক্টস। আইন পেশার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের কাছে এটি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর বইটির নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘বাংলাদেশ পুলিশ হ্যান্ডবুক’। এরপর প্রতিটি আইন সংশোধন, নতুন বিধান, বিচারিক সিদ্ধান্ত এবং প্রাসঙ্গিক পরিবর্তন যুক্ত করে ধারাবাহিকভাবে নতুন সংস্করণ প্রকাশ হতে থাকে। বর্তমানে বইটির ৪২তম সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু বইটির ব্যাপক বাজারচাহিদাকে কেন্দ্র করে কপিরাইট বিরোধের সৃষ্টি হয়। অভিযোগ ওঠে, মূল প্রকাশকের অনুমতি ছাড়াই কামরুল বুক হাউস একই নামে বই মুদ্রণ ও বিক্রি করে দীর্ঘদিন ধরে আর্থিকভাবে লাভবান হয়ে আসছিল। যার প্রেক্ষিতে দায়েরকৃত এক আপিলে হাইকোর্ট আজ এ রায় দেন।

শুনানিতে আবেদনকারী পক্ষের আইনজীবী এস এম আরিফ মন্ডল আদালতকে জানান, বৈধ প্রকাশক হিসেবে খোশরোজ কিতাব মহলই দীর্ঘদিন ধরে বইটির প্রকাশনা, সম্পাদনা ও হালনাগাদ সংস্করণ প্রকাশ করে আসছে। অথচ কপিরাইট আইনের বিধান উপেক্ষা করে অপর একটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান একই বই বাজারজাত করছে, যা মেধাস্বত্বের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

তিনি আদালতে আরও যুক্তি তুলে ধরেন, বইটির জনপ্রিয়তা ও বাজারমূল্য বিবেচনায় অবৈধ পুনর্মুদ্রণ শুধু প্রকাশকের আর্থিক ক্ষতিই করেনি, বরং পাঠকদের মাঝেও বিভ্রান্তির সৃষ্টি করেছে। কারণ একই নামে একাধিক সংস্করণ বাজারে থাকলে কোনটি প্রকৃত ও হালনাগাদ সংস্করণ- তা নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের আইনবিষয়ক প্রকাশনার ইতিহাসে ‘বাংলাদেশ পুলিশ হ্যান্ডবুক’ একটি বিশেষ স্থান দখল করে আছে। আদালতে জানানো হয়, বইটির প্রথম অনুবাদক ও রচয়িতা ছিলেন অ্যাডভোকেট অধ্যাপক এটিএম কামরুল ইসলাম। পরবর্তীতে দেশের খ্যাতিমান আইনবিদ, গবেষক ও আইনগ্রন্থ রচয়িতা মরহুম গাজী শামসুর রহমান বইটির ব্যাপক সংশোধন, সংযোজন ও আধুনিকায়নের দায়িত্ব পালন করেন। নতুন আইন, সংশোধনী, গুরুত্বপূর্ণ বিচারিক সিদ্ধান্ত এবং প্রশাসনিক পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তিনি বইটিকে সময়োপযোগী রূপ দেন। পরবর্তীকালে বিচারপতি সিদ্দিকুর রহমান মিয়া বইটির সর্বশেষ হালনাগাদ সংস্করণে প্রয়োজনীয় সংযোজন ও সংশোধনের কাজ অব্যাহত রাখেন। ফলে কয়েক প্রজন্ম ধরে আইনবিদদের শ্রম, অভিজ্ঞতা ও গবেষণার সমন্বয়ে বইটি দেশের অন্যতম নির্ভরযোগ্য আইনগ্রন্থে পরিণত হয়েছে।


বিডিএল পিবি/এমএম

আইন ও বিচার বিভাগে ১২ জেলা রেজিস্ট্রারের পদোন্নতি

আইন ও বিচার বিভাগে ১২ জেলা রেজিস্ট্রারের পদোন্নতি

ছবিঃ সংগৃহীত

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ ১২ জন জেলা রেজিস্ট্রারকে পদোন্নতি দিয়ে নিবন্ধন অধিদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক, নিবন্ধন (এআইজিআর) পদে পদায়ন করেছে। মঙ্গলবার (১৩ জুলাই) আইন বিচার বিভাগের বিচার শাখা- থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে তথ্য জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৪০,০০০-৫৩,১৭০ টাকা বেতন স্কেলের ষষ্ঠ গ্রেডে নিবন্ধন ক্যাডারভুক্ত সহকারী পরিদর্শক (আইআরঅ্যান্ডএস) পদ থেকে সহকারী মহাপরিদর্শক, নিবন্ধন (এআইজিআর) পদে তাদের পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।

পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা হলেন, মো. মোহছেন মিয়া (বরিশাল), মো. খন্দকার জামীলুর রহমান (চট্টগ্রাম), দীপক কুমার সরকার (পাবনা), মো. হেলাল উদ্দিন (ঠাকুরগাঁও), মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম (টাঙ্গাইল), মুনসী মোখলেছুর রহমান (ঢাকা), মো. আবদুল মালেক (নেত্রকোণা), মুহাম্মদ আবু তালেব (যশোর), মহসীন আলম (ঝালকাঠি), মোহা: আবদুল হাফিজ (নারায়ণগঞ্জ), মো. মিজানুর রহমান (খুলনা) এবং মো. আব্দুল বারী (জয়পুরহাট)। 


বিডিএলপিবি/এমএম

সিলেটে ছাত্রাবাসে গৃহবধূকে ধর্ষণ: একজনের মৃত্যুদন্ড, তিনজনের যাবজ্জীবন

সিলেটে ছাত্রাবাসে গৃহবধূকে ধর্ষণ: একজনের মৃত্যুদন্ড, তিনজনের যাবজ্জীবন

ছবি: সংগৃহীত 

সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে বহুল আলোচিত গৃহবধূ গণধর্ষণ মামলায় অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা সাইফুরের মুত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া তিনজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ৪ জনকে খালাস দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সিলেট দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার এ রায় ঘোষণা করেন।

দ্রুতবিচার ট্রাইব্যুনালের পিপি আবুল হোসেন জানান, গত ৮ জুলাই দুইপক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায়ের এই তারিখ নির্ধারণ করেন আদালত। আজ এই মামলায় অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা সাইফুরের মুত্যুদণ্ড এবং তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এ ছাড়া ৪ জনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

উল্লখ্য, ২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে রেখে এক গৃহবধূকে দলবেধে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এতে অভিযুক্ত ৮ জনই নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী। আসামি সবাই কারাগারে রয়েছেন।

বিডিএলপিবি/এমএম

গুলশানে অবৈধভাবে বাড়ি দখল, নাসা চেয়ারম্যানের রেজিস্ট্রি অবৈধ ঘোষণা আপিল বিভাগের

গুলশানে অবৈধভাবে বাড়ি দখল, নাসা চেয়ারম্যানের রেজিস্ট্রি অবৈধ ঘোষণা আপিল বিভাগের


ছবি: সংগৃহীত 

জালিয়াতি ও ভুয়া দলিলের মাধ্যমে গুলশানের একটি বাড়ি দখলের বহুল আলোচিত মামলায় নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারের নামে করা সম্পত্তির রেজিস্ট্রি এবং পরবর্তী সব হস্তান্তর ও নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

এ রায়ে প্রকৃত মালিকের কাছে সম্পত্তি ফিরে পাওয়ার পথ সুগম হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাদীপক্ষের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম। সোমবার (১৩ জুলাই) আপিল বিভাগ এ রায় দেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, গুলশানের সিডব্লিউএন (নর্থ) এলাকার একটি বাড়ি বন্ধক রেখে এআরএ জুট ট্রেডিং করপোরেশন অগ্রণী ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়। পরে ঋণ খেলাপি হলেও বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিমালা অনুযায়ী পাওনা পরিশোধ করে সম্পত্তি ছাড়িয়ে নেওয়ার আবেদন করা হয়। কিন্তু পরবর্তীসময়ে একটি ভুয়া সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) দেখিয়ে নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারের নামে সম্পত্তিটি রেজিস্ট্রি করা হয়। 

মামলায় আরও অভিযোগ করা হয়, আপিল বিভাগে মামলা বিচারাধীন থাকাকালে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ারুল কবির খানকে গুম করে মামলা প্রত্যাহারে বাধ্য করা হয়। পরে দেশে ফিরে তিনি গুম কমিশনে অভিযোগ করেন এবং জোরপূর্বক মামলা প্রত্যাহারের বিষয়টি তুলে ধরে রিভিউ আবেদন করেন। সেই আবেদন গ্রহণ করে পুনরায় শুনানির পর আপিল বিভাগ তার আপিল মঞ্জুর করেন।

বাদীপক্ষের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম বলেন, আদালতে উপস্থাপিত তথ্য-প্রমাণে ভুয়া সমঝোতা স্মারক (এমওইউ), জাল স্বাক্ষর ও অসত্য তথ্যের বিষয়টি প্রতীয়মান হয়েছে। এসব বিবেচনায় আপিল বিভাগ সম্পত্তির মূল হস্তান্তরসহ পরবর্তী সব নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করেন। ফলে প্রকৃত মালিকের সম্পত্তি ফিরে পেতে আর কোনো আইনি বাধা নেই।


বিডিএলপিবি/এমএম

সোর্স: প্রথম আলো, সমকাল

‘বিদায় নিচ্ছি বিচারকের আসন থেকে, ন্যায়ের আদর্শ থেকে নয়’—বিচারপতি আশফাকুল ইসলাম

‘বিদায় নিচ্ছি বিচারকের আসন থেকে, ন্যায়ের আদর্শ থেকে নয়’—বিচারপতি আশফাকুল ইসলাম

ছবিঃ সংগৃহীত

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম বলেছেন, ‘আমি আজ বিদায় নিচ্ছি বিচারকের আসন থেকে, কিন্তু ন্যায়ের আদর্শ থেকে নয়। সংবিধানের প্রতি আমার আনুগত্য, আইনের শাসনের প্রতি আমার বিশ্বাস এবং এই মহান প্রজাতন্ত্রের প্রতি আমার অঙ্গীকার আজীবন অক্ষুণ্ণ থাকবে।’

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের এজলাস কক্ষে শেষ কর্মদিবসে দেওয়া বিদায়ী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ উপলক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে তাকে বিদায়ী সংবর্ধনা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি, আপিল বিভাগের বিচারপতিরা, অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল এবং সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন উপস্থিত ছিলেন।

বিদায়ী বক্তব্যে বিচারপতি আশফাকুল ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে দুই দশকেরও বেশি সময় দায়িত্ব পালনের পর তিনি অবসর নিচ্ছেন। তবে এটিকে তিনি শুধু বিচারিক জীবনের সমাপ্তি হিসেবে নয়, বরং আইনাঙ্গনে চার দশকেরও বেশি সময়ের পথচলার একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি হিসেবে দেখেন।’

তিনি বলেন, ‘বিচার বিভাগ কেবল বিচারক বা আইনজীবীদের নয়; এটি সবার প্রতিষ্ঠান। বিচারক, আইনজীবী, কর্মকর্তা-কর্মচারী সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বিচার বিভাগের মর্যাদা, স্বাধীনতা ও জনগণের আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে। ভবিষ্যতেও বিচার বিভাগের কল্যাণে বার ও বেঞ্চ একসঙ্গে কাজ করবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।’

বিচারপতি আশফাকুল ইসলাম বলেন, ‘বিচারকের পদ থেকে অবসর নেওয়া গেলেও ন্যায়বিচারের আদর্শ থেকে অবসর নেওয়া যায় না। যতদিন সামর্থ্য থাকবে, ততদিন দেশের কল্যাণে, বিশেষ করে বিচার বিভাগের উন্নয়নে নিজের অভিজ্ঞতা ও সামর্থ্য দিয়ে অবদান রাখার চেষ্টা করবেন।’

নবীন আইনজ্ঞদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘একজন আইনজ্ঞের সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো সততা, এরপর চরিত্র এবং তারপর অধ্যয়ন। আইন প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে, তাই নিয়মিত সংবিধান, আইন, দেশি-বিদেশি রায় ও বিচারতত্ত্ব অধ্যয়ন করার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অনলাইনেও পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।’

বিচার বিভাগের ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘মামলার জট কমানো, বিচারপ্রক্রিয়াকে আরও দ্রুত, কার্যকর ও সেবামুখী করা এখন সময়ের দাবি। শুধু বিচার প্রতিষ্ঠিত হলেই হবে না, জনগণের কাছে তা দৃশ্যমান ও বিশ্বাসযোগ্য হতে হবে। বিচার বিভাগের সবচেয়ে বড় শক্তি জনগণের আস্থা, আর সেই আস্থা রক্ষা করাই সর্বোচ্চ দায়িত্ব।’

প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার নিয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেন বিচারপতি আশফাকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘বিচক্ষণভাবে প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বিচার বিভাগের দক্ষতা বাড়াবে, মানুষের ভোগান্তি কমাবে এবং ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার আরও সহজ করবে।’

জেলা পর্যায়ের বিচারকদের উদ্দেশে তিনি সীমাবদ্ধতা ও প্রতিকূলতা জয় করে নির্ভয়ে ন্যায়ের পক্ষে থাকার আহ্বান জানান। তার মতে, নতুন প্রজন্মের বিচারকদের আন্তরিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে বিচার বিভাগের প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তিগত উৎকর্ষ আরও বৃদ্ধি পাবে।

বক্তব্যের শেষাংশে আলেকজান্ডার হ্যামিল্টনের একটি বক্তব্য উদ্ধৃত করে বিচারপতি আশফাকুল ইসলাম বলেন, ‘বিচার বিভাগের প্রকৃত শক্তি বলপ্রয়োগে নয়; বরং বিচারবোধ, স্বাধীনতা ও জনগণের আস্থায় নিহিত।’ এসময় তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘একজন বিচারকের আনুগত্য কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা ক্ষমতার প্রতি নয়; তার আনুগত্য সংবিধান, আইন এবং নিজের বিবেকের প্রতি।’ 


বিডিএলপিবি/এমএম

আইনাঙ্গনে শূন্যতা বিরাজ করছে : অ্যাটর্নি জেনারেল

আইনাঙ্গনে শূন্যতা বিরাজ করছে : অ্যাটর্নি জেনারেল

ছবিঃ সংগৃহীত 
অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেছেন, অভিজ্ঞ বিচারপতিরা অবসরে চলে যাচ্ছেন। এছাড়া আমাদের অনেক সিনিয়র আইনজীবী মৃত্যুর মাধ্যমে আমাদের মাঝ থেকে একেবারে হারিয়ে যাচ্ছেন। এ কারণে বিচার বিভাগে, আইনাঙ্গনে শূন্যতা বিরাজ করছে। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামের বিদায় সংবর্ধনায় তিনি এসব কথা বলেন।

অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামকে বিদায়ী সংবর্ধনা দেওয়া হয়। অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল ও বার সভাপতি ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বক্তব্য রাখেন। এসময় প্রধান বিচারপতি, আপিল বিভাগের বিচারপতিরা উপস্থিত ছিলেন।অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, সিনিয়র আইনজীবী খন্দকার মাহবুব উদ্দিন আহমেদ, বিচারপতি টিএইচ খান সর্বশেষ ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুর মাধ্যমে আমাদের সিনিয়র আইনজীবীরা আমাদের মাঝ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। 

উনারা যে মানের আইনজীবী ছিলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেই মানের আইনজীবী আমরা তৈরি করতে পারছি না। এখনকার তরুণ আইনজীবীদের মধ্যে লেখাপড়া অধ্যাবসায়ের বড় অভাব দেখা যাচ্ছে। এরকম চলতে থাকলে ভবিষ্যতে এই আইন অঙ্গনে একটা বিরাট শূন্যতা সৃষ্টি হবে। আমাদের সময় এসেছে এই শূন্যতা পূরণ করে এখনই আমাদের কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে।

ব্যারিস্টার কাজল বলেন,বার কাউন্সিলে আমরা অতি সম্প্রতি যে পরীক্ষা নিয়েছি, সেখানে সৃজনশীল প্রশ্নপত্রের মাধ্যমে মেধাবীদেরকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করেছি। এই পেশায় যদি সততা, অধ্যবসায় না থাকে তাহলে এই পেশায় কেউ ভালো করতে পারে না। সবাই কেমন যেন শর্টকার্ট রাস্তায় অর্থবিত্তের মালিক হতে চায়। জ্ঞান অর্জন করতে চায় না। আমাদের প্রয়োজন জ্ঞান অর্জন করা। 

এসময় প্রধান বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, আমাদের সময় এসেছে আগামী দিনের প্রজন্মকে একটা সৎ, যোগ্য এবং মেধাবী আইনজীবী সমাজ গড়ে তোলার জন্যে, বিচারকদের গড়ে তোলার জন্যে আমাদের এখনই কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে হবে।

তিনি বলেন, আমি যখন আইন পেশার শুরুতে যে সমস্ত বিচারপতিদের সামনে দাঁড়িয়ে মামলা করতাম আজকে সে ধরনের, সেই মানের নীতি-নৈতিকতার বিচারপতিদের বড্ড অভাব। বার এবং বেঞ্চে আইনজীবীদের মধ্যে এবং বিচারকদের মধ্যে এই যে মেধার যে ঘাটতি রয়েছে, এই মেধার ঘাটতিটাকে কাটিয়ে উঠার জন্য এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে।

বিডিএলপিবি/এমএম