আইনজগতের প্রখ্যাত লেখক গাজী শামসুর রহমানের লেখা ‘বাংলাদেশ পুলিশ হ্যান্ডবুক’ কামরুল বুক হাউস প্রকাশ করতে পারবে না বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। বুধবার (১৫ জুলাই) বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহ ও বিচারপতি মো. লুৎফর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। উক্ত রায় এ হাইকোর্ট স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, কামরুল বুক হাউস আর এই বই প্রকাশ, মুদ্রণ কিংবা বাজারজাত করতে পারবে না। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট এস এম আরিফ মন্ডল।
আদালতে উপস্থাপিত
তথ্য অনুযায়ী, খোশরোজ কিতাব মহল ১৯৫৮ সালে প্রথম ‘পুলিশ হ্যান্ডবুক’ নামে একটি সংকলন
প্রকাশ করে। বইটিতে এক মলাটে স্থান পায় ফৌজদারি কার্যবিধি, দণ্ডবিধি, সাক্ষ্য আইন এবং
বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মাইনর অ্যাক্টস। আইন পেশার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের কাছে এটি দ্রুত
জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর বইটির নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘বাংলাদেশ পুলিশ হ্যান্ডবুক’। এরপর প্রতিটি আইন সংশোধন, নতুন বিধান, বিচারিক সিদ্ধান্ত এবং প্রাসঙ্গিক পরিবর্তন যুক্ত করে ধারাবাহিকভাবে নতুন সংস্করণ প্রকাশ হতে থাকে। বর্তমানে বইটির ৪২তম সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু বইটির ব্যাপক বাজারচাহিদাকে কেন্দ্র করে কপিরাইট বিরোধের সৃষ্টি হয়। অভিযোগ ওঠে, মূল প্রকাশকের অনুমতি ছাড়াই কামরুল বুক হাউস একই নামে বই মুদ্রণ ও বিক্রি করে দীর্ঘদিন ধরে আর্থিকভাবে লাভবান হয়ে আসছিল। যার প্রেক্ষিতে দায়েরকৃত এক আপিলে হাইকোর্ট আজ এ রায় দেন।
শুনানিতে
আবেদনকারী পক্ষের আইনজীবী এস এম আরিফ মন্ডল আদালতকে জানান, বৈধ প্রকাশক হিসেবে খোশরোজ
কিতাব মহলই দীর্ঘদিন ধরে বইটির প্রকাশনা, সম্পাদনা ও হালনাগাদ সংস্করণ প্রকাশ করে আসছে।
অথচ কপিরাইট আইনের বিধান উপেক্ষা করে অপর একটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান একই বই বাজারজাত
করছে, যা মেধাস্বত্বের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
তিনি আদালতে
আরও যুক্তি তুলে ধরেন, বইটির জনপ্রিয়তা ও বাজারমূল্য বিবেচনায় অবৈধ পুনর্মুদ্রণ শুধু
প্রকাশকের আর্থিক ক্ষতিই করেনি, বরং পাঠকদের মাঝেও বিভ্রান্তির সৃষ্টি করেছে। কারণ
একই নামে একাধিক সংস্করণ বাজারে থাকলে কোনটি প্রকৃত ও হালনাগাদ সংস্করণ- তা নির্ধারণ
করা কঠিন হয়ে পড়ে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের আইনবিষয়ক প্রকাশনার ইতিহাসে ‘বাংলাদেশ পুলিশ হ্যান্ডবুক’ একটি বিশেষ স্থান দখল করে আছে। আদালতে জানানো হয়, বইটির প্রথম অনুবাদক ও রচয়িতা ছিলেন অ্যাডভোকেট অধ্যাপক এটিএম কামরুল ইসলাম। পরবর্তীতে দেশের খ্যাতিমান আইনবিদ, গবেষক ও আইনগ্রন্থ রচয়িতা মরহুম গাজী শামসুর রহমান বইটির ব্যাপক সংশোধন, সংযোজন ও আধুনিকায়নের দায়িত্ব পালন করেন। নতুন আইন, সংশোধনী, গুরুত্বপূর্ণ বিচারিক সিদ্ধান্ত এবং প্রশাসনিক পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তিনি বইটিকে সময়োপযোগী রূপ দেন। পরবর্তীকালে বিচারপতি সিদ্দিকুর রহমান মিয়া বইটির সর্বশেষ হালনাগাদ সংস্করণে প্রয়োজনীয় সংযোজন ও সংশোধনের কাজ অব্যাহত রাখেন। ফলে কয়েক প্রজন্ম ধরে আইনবিদদের শ্রম, অভিজ্ঞতা ও গবেষণার সমন্বয়ে বইটি দেশের অন্যতম নির্ভরযোগ্য আইনগ্রন্থে পরিণত হয়েছে।
বিডিএল পিবি/এমএম

0 coment rios: