শিরোনাম
Loading...

১৩ জুল, ২০২৬

২৫ বছর পূর্ণ হবার আগে পদত্যাগ করলে মিলবে না পেনশন: আপীল বিভাগের রায়

২৫ বছর পূর্ণ হবার আগে পদত্যাগ করলে মিলবে না পেনশন: আপীল বিভাগের রায়

ছবি: সংগৃহীত 

সরকারি চাকরিতে ২৫ বছর পূর্ণ করার পূর্বে যে কেউ পদত্যাগ করে, তিনি পেনশন সুবিধার অধিকারী হবেন না, মর্মে আপিল বিভাগ রায় দিয়েছেন। রায়টি ৯ জুলাই সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে ২৮ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রূপে প্রকাশ করা হয়। রায়টি লিখেছেন বিচারপতি ফারাহ মাহবুব।

এর আগে, হাইকোর্টের এক রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করেন, উক্ত আপিল মঞ্জুর করে আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. রেজাউল হক, বিচারপতি এস এম এমদাদুল হক এবং বিচারপতি ফারাহ মাহবুবের সমন্বয়ে যে রায়টি হয়েছে, তা ১১ মার্চ প্রকাশিত হয়।

রাষ্ট্রপক্ষে আদালতে শুনানিতে অংশগ্রহণ করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ এবং অনীক আর হক। তাদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ। এছাড়া, রিট আবেদনের পক্ষে শুনানিতে অংশগ্রহণ করেন রিটকারী মাহবুব মোরশেদ নিজে।

রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে, আইনসভা প্রজ্ঞা ও যৌক্তিক বিবেচনার উপর ভিত্তি করেই এমন বিধান তৈরি করা হয়েছে যে ২৫ বছরের চাকরির টাইম লাইনে পূর্ণ হওয়ার পূর্বে যদি কোনো সরকারি কর্মচারী পদত্যাগ করেন, তাহলে তিনি কোনো সুবিধার অধিকারী হবেন না।

মামলার ফ্যাক্ট: মাহবুব মোরশেদ ১৯৯১ সালে সহকারী বিচারক হিসেবে জুডিশিয়াল সার্ভিসে যোগ দেন। ১৯ বছর সার্ভিস করে ২০১১ সালের ৩১ জানুয়ারি তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন, তখন তিনি অতিরিক্ত জেলা জজ ছিলেন। সার্ভিসে ১৯ বছর পূর্ণ হওয়ার পরে ৬১ শতাংশ পেনশন ও আনুতোষিকের জন্য ২০১৫ সালে আইন মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেন তিনি।

এরপর, প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ২০১৫ সালের ২৫ মার্চ আইন মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠিতে জানানো হয়, সরকারি চাকরিতে পদত্যাগ করলে পূর্ববর্তী চাকরিকাল আইনগতভাবে বাজেয়াপ্ত হবে। অর্থাৎ, পেনশনের জন্য সেটি গণনা করা হবে না (বিএসআর প্রথম খণ্ডের বিধি-৩০০ সেকশন-৩)। মাহবুব মোরশেদের চাকরিকাল ২৫ বছর পূর্ণ হয়নি, এবং তিনি ২৫ বছর পূর্তি সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট বিধানের আলোকে পেনশনের জন্য কোনো আবেদন করেননি, সুতরাং তিনি পেনশনপ্রাপ্ত নন (১৯৭৪ সালের গণকর্মচারী অবসর আইনের ৯ ধারা অনুযায়ী)।

এ অবস্থায়, বিধি-৩০০ এবং ওই চিঠির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে মাহবুব মোরশেদ ২০১৬ সালে রিট করেন। চূড়ান্ত শুনানির পর, হাইকোর্ট ২০২১ সালের ১৮ মার্চ রায় দেন, এবং এতে ২০১৫ সালের ২৫ মার্চের ওই চিঠিকে আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হয়। একইসাথে, রায়ের অনুলিপি পাওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে, চাকরির মেয়াদ অনুসারে মাহবুব মোরশেদের পেনশনসহ অন্যান্য বকেয়া সুবিধার গণনা ও মঞ্জুর করতে নির্দেশ দেয়া হয়।

এই রায়ের বিরোধিতায় রাষ্ট্রপক্ষ লিভ টু আপিল (আপিল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন) করে। ২০২২ সালের ২৪ অক্টোবর লিভ টু আপিল মঞ্জুর করে আপিল বিভাগ, এবং সেইসাথে হাইকোর্টের রায়ের স্থগিতাদেশ চলমান রাখে। এর ধারাবাহিকতায়, রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করে। রাষ্ট্রপক্ষের করা ওই আপিল মঞ্জুর করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়টি বাতিল করে গত ১১ মার্চ আপিল বিভাগ রায় দেন।

আপিল বিভাগের রায়ের পুনশ্চ: BSR-এর ৩০০(এ) বিধির পদত্যাগ সংক্রান্ত অংশটি সম্পূর্ণ সাংবিধানিক এবং বৈধ। ফলস্বরূপ, রাষ্ট্রপক্ষের আপিলটি মঞ্জুর করা হয় এবং হাইকোর্ট বিভাগের ১৮.০৩.২০২১ তারিখের রায় ও আদেশটি সম্পূর্ণ বাতিল (Set aside) করা হয়।

রায়ের পক্ষে আপিল বিভাগের যুক্তি: আদালত BSR-এর ৩০০(এ) বিধির উদ্ধৃতি দিয়ে বলে যে, পদত্যাগের ফলে অতীতের সমস্ত চাকরিকাল বাজেয়াপ্ত হয়। 'পেনশন' ধারণার ব্যাখ্যা দিয়ে আদালত বলে, এটি সন্তোষজনকভাবে নির্দিষ্ট চাকরিকাল সম্পন্ন করার পর অর্জিত হয়। আদালত ভারতের সুপ্রিম কোর্টের নজির (UCO Bank case) টেনে 'পদত্যাগ' (Resignation) এবং 'অবসর' (Retirement)-এর মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট করে। পদত্যাগ হলো মালিক-শ্রমিক সম্পর্কের সম্পূর্ণ অবসান, আর অবসর হলো বিধিবদ্ধ নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে সম্পর্কের সমাপ্তি।

আদালত দ্ব্যর্থহীনভাবে ঘোষণা করে যে, পদত্যাগ কোনো 'শাস্তি' (Punishment) নয়। অসদাচরণের জন্য চাকরিচ্যুতি ও পদত্যাগ এক বিষয় নয়। ৩০০(এ) বিধিতে এই শব্দগুলো একসাথে ব্যবহৃত হলেও তাদের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। তাই এখানে সংবিধানের ২৭ বা ৩১ অনুচ্ছেদ লঙ্ঘনের বা বৈষম্যের কোনো সুযোগ নেই।

এছাড়া এ সংক্রান্ত অর্থমন্ত্রব্যাখ্যায় স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, ৫-২৪ বছরের পেনশন কেবল তখনই প্রাপ্য হবে যদি: (১) সরকারি কর্মচারী মৃত্যুবরণ করেন বা মেডিকেল বোর্ড দ্বারা স্থায়ীভাবে অক্ষম ঘোষিত হন, অথবা (২) স্থায়ী পদ বিলুপ্তির কারণে চাকরি থেকে ছাঁটাই হন। যেহেতু এই শর্তগুলোর মধ্যে 'পদত্যাগ' অন্তর্ভুক্ত নেই, তাই আপিল বিভাগ সিদ্ধান্ত নেয় যে, হাইকোর্ট বিভাগ প্রজ্ঞাপনের মূল শর্ত বা 'ব্যাখ্যা' উপেক্ষা করে শুধু টেবিল দেখে রায় দিয়ে আইনি ভুল করেছে।


বিডিএলপিবি/এমএম

১২ জুল, ২০২৬

হামে শিশুর মৃত্যু : ড. ইউনূসসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা নেয়নি আদালত

হামে শিশুর মৃত্যু : ড. ইউনূসসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা নেয়নি আদালত

ছবি: সংগৃহীত 

হামের প্রাদুর্ভাবে শিশু মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে দায়িত্বে অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নুরজাহান বেগমসহ চারজনের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী এক শিশুর বাবার করা মামলার আবেদন খারিজ করেছেন আদালত। রবিবার (১২ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত মামলা গ্রহণ করার মতো উপাদান না থাকায় এ আদেশ দেন।

এর আগে গত ৫ জুলাই একই আদালতে সিরাজুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি মামলার আবেদন করেন। ওইদিন আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে আদেশের জন্য ১২ জুলাই তারিখ নির্ধারণ করেন।

আবেদনে অপর আসামিরা হলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ডা. মো. আবু জাফর ও সাবেক প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

বাদী সিরাজুল ইসলাম মামলার আবেদনে উল্লেখ করেন, ৯ মাসের শিশু কন্যা সাউদা মুসকান জ্বরে আক্রান্ত হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে শয্যা সংকট, অক্সিজেনের অভাব, চিকিৎসক ও নার্সদের অবহেলা এবং যথাযথ চিকিৎসা না পাওয়ার কারণে অবস্থার অবনতি ঘটে। সঠিক সময়ে হামের টিকা সরবরাহ না থাকায় শিশুটি টিকা নিতে পারেনি এবং এ কারণেই হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার, স্বাস্থ্য উপদেষ্টা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালনে অবহেলা করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে হামের টিকা সংগ্রহ, সরবরাহ ও টিকাদান কর্মসূচি যথাযথভাবে বাস্তবায়নে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। এই অবহেলার ফলে দেশব্যাপী শত শত শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে এবং হাজারো শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে।

বিডিএলপিবি/এমএম

৫৮ বিচারককে বদলি, আইন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন জারি

৫৮ বিচারককে বদলি, আইন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন জারি

ছবি: সংগৃহীত

আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় একসঙ্গে ৫৮ জন সিভিল জজকে বদলি করেছে। রোববার এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। উক্ত বদলি আদেশে সংশ্লিষ্ট বিচারকদের আগামী ১৬ জুলাইয়ের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শক্রমে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের সিভিল জজদের তাদের নামের পাশে উল্লেখিত নতুন পদ ও কর্মস্থলে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাদের বর্তমান কর্মস্থলের দায়িত্ব হস্তান্তর করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে হবে।

এতে আরও বলা হয়, যেসব বিচারক বর্তমানে প্রশিক্ষণ বা ছুটিতে রয়েছেন, তারা প্রশিক্ষণ বা ছুটি শেষ হওয়ার পরপরই নতুন কর্মস্থলে যোগদান করবেন। যোগদানের সময় তারা বর্তমান পদের দায়িত্বভার যথাযথভাবে হস্তান্তর করবেন।


প্রজ্ঞাপনটি নিম্নে দেওয়া হল:






বিডিএলপিবি/এমএম

ফাতাহ কমব্যাট সিস্টেমের সাত সদস্য তিন দিনের রিমান্ডে

ফাতাহ কমব্যাট সিস্টেমের সাত সদস্য তিন দিনের রিমান্ডে

ছবিঃ সংগৃহীত 

মার্শাল আর্ট শেখার আড়ালে উগ্রবাদী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে যাত্রাবাড়ী থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ফাতাহ কমব্যাট সিস্টেমের (এফসিএস) সাত সদস্যের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ রবিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুল ইসলাম শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। আসামিরা হলেন- শাহ আমানত সাবির, মো. হোসাইন তানিম, মো. জুনায়েদ, আতাউল্লাহ শাহ, মো. আবিদুর রহমান, মো. বায়োজিত, মো. তাহসীন ইসলাম ওরফে সুলতান ওরফে মুসান্না৷

এদিন কারাগার আটক সাতজনকে আদালতে হাজির করা হয়। প্রথম ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হক তাদের এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন। এরপর তাদের জিজ্ঞাসাবাদে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন কাউন্টার টেররিজম ইনভেস্টিগেশন বিভাগের উপপরিদর্শক মনিরুজ্জামান।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী সাদ্দাম হোসেনসহ কয়েকজন আসামিদের রিমান্ড বাতিল চেয়ে শুনানি করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তাদের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

গত ৫ জুলাই যাত্রাবাড়ী থেকে এফসিএস প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান প্রশিক্ষক শাহ আমানত সা‌বিরসহ ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে ৯ জুলাই যশোর থেকে এফসিএস সদস্য তাহসীন ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে উগ্রবাদী কাজে তাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়। এ ঘটনায় শনিবার দুপুরে যাত্রাবাড়ী থানার পরিদর্শক এবি সিদ্দিক বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করেন। এতে ১৬ জনের নাম উল্লেখ করা হয়।

বিডিএলপিবি/এমএম


মিডফোর্ডে ব্যবসায়ী সোহাগ হত্যা: ২১ আসামির বিচার শুরু

মিডফোর্ডে ব্যবসায়ী সোহাগ হত্যা: ২১ আসামির বিচার শুরু

ছবিঃ সংগৃহীত 

ঢাকার মিটফোর্ড হাসপাতালের সামনে ভাঙারি ও পুরনো তারের ব্যবসায়ী সোহাগ ওরফে লাল চাঁদকে প্রকাশ্যে মাথা থেঁতলে হত্যার ঘটনায় ২১ আসামির বিরুদ্ধে বিচার শুরু হয়েছে। আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ১৯ জুলাই দিন ধার্য করেছেন। রোববার (১২ জুলাই) ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মোসাদ্দেক মিনহাজ এ আদেশ দেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী জিয়াউল হক জানান, ২১ আসামির মধ্যে ১০ জন কারাগারে, আটজন পলাতক এবং তিনজন জামিনে রয়েছেন। অভিযোগ গঠনের শুনানিতে জামিনে থাকা তিন আসামি আদালতে হাজির হন। কারাগারে থাকা ১০ আসামিকেও আদালতে উপস্থিত করা হয়। তাদের আইনজীবীরা অব্যাহতির আবেদন করলেও আদালত তা নাকচ করে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন। এ সময় ১৩ আসামি নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৯ জুলাই বিকেলে মিটফোর্ড হাসপাতালের ৩ নম্বর ফটকের সামনে কংক্রিটের বোল্ডার দিয়ে সোহাগ ওরফে লাল চাঁদের শরীর ও মাথা থেঁতলে হত্যা করা হয়। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।

পুলিশ ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের অধিকাংশই সোহাগের পূর্বপরিচিত ছিলেন। তাদের কয়েকজন একসময় তার ব্যবসায়িক সহযোগীও ছিলেন। ব্যবসায়িক বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে তদন্তে উঠে আসে।

ঘটনার পর সোহাগের বড় বোন মঞ্জুয়ারা বেগম কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে চলতি বছরের ১০ মে ২১ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। পরে মামলাটি বিচারের জন্য মহানগর দায়রা জজ আদালতে পাঠানো হলে রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়।


বিডিএলপিবি/এমএম

বাগেরহাটের নিখোঁজ মিরাজ শেখকে হাজিরের নির্দেশ হাইকোর্টের

বাগেরহাটের নিখোঁজ মিরাজ শেখকে হাজিরের নির্দেশ হাইকোর্টের

ছবিঃ সংগৃহীত

প্রায় তিন মাস ধরে নিখোঁজ থাকা বাগেরহাট জেলার মোংলা উপজেলার জয়মনি এলাকার বাসিন্দা মোটরসাইকেল ভাড়া চালক মিরাজ শেখকে হাজির করতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। 

এ সংক্রান্ত রিটের পরিপ্রেক্ষিতে রবিবার (১২ জুলাই) বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এ আদেশ দেন। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন। তিনি জানান, ১৫দিনের মধ্যে মিরাজ শেখকে হাজির করতে নির্দেশনা দিয়েছেন হাইকোর্ট।

এর আগে গত ২২ জুন মিরাজ শেখের বাবা এ রিট দায়ের করেন। রিটে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সচিব, কোস্টগার্ডের ডিজিসহ ৯ জনকে বিবাদী করা হয়েছে। মিরাজ শেখের নিখোঁজ নিয়ে একটি প্রতিবেদন ১৬ মে জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদন রিটে যুক্ত করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘‘আমি দেখছি, কোস্টগার্ড আমার স্বামীকে নিয়া গ্যাছে। এহন তারা অস্বীকার করে।’’ কথাগুলো বলছিলেন সুন্দরবন-সংলগ্ন বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার জয়মনির ঘোল এলাকার মুক্তা খাতুন। তিনি কোস্টগার্ডের বিরুদ্ধে তার স্বামীকে গুম করার অভিযোগ করেছেন।

স্বজনরা জানান, মিরাজ সুন্দরবনে মাছ ধরার পাশাপাশি ভাড়ায় মোটরসাইকেল চালাতেন। ১০ এপ্রিল বেলা ১১টার দিকে মাছ ধরে বাড়িতে এসে ঘুমান। সন্ধ্যার আগে অচেনা নম্বর থেকে কয়েকবার ফোন এলে তিনি বাড়ি থেকে বের হন। সন্ধ্যা ৭টার দিকে জয়মনির ঠোটা এলাকার একটি চায়ের দোকানের সামনে থেকে মিরাজকে সাদাপোশাকে থাকা দুজন ধরে নিয়ে যান। খবর পেয়ে মিরাজের স্ত্রী মুক্তা ছুটে গিয়ে দেখেন, কোস্টগার্ডের স্পিডবোটে তুলে মিরাজকে মোংলার দিকে নেওয়া হচ্ছে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী জয়মনির ঘোল ও ঠোটা এলাকার এক নারী ও তিনজন পুরুষের সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তারা চারজনই মিরাজকে কোস্টগার্ডের স্পিডবোটে তুলে নিয়ে যেতে দেখেছেন বলে জানিয়েছেন। তবে তারা নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি।

মিরাজকে ধরে নিয়ে যাওয়ার সময় তার মোটরসাইকেলটি দোকানি আল-আমিনের জিম্মায় রেখে যায়। পরে ২১ এপ্রিল কোস্টগার্ড সদস্য রবিন পরিচয়ে এক ব্যক্তি চাবি দিয়ে খুলে মোটরসাইকেলটি নিয়ে যান। যদিও ২২ এপ্রিল কোস্টগার্ডের কয়েকজন মোটরসাইকেলটি আবার নিয়ে আসেন।

বিডিএলপিবি/এমএম

সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার মারা গেছেন, অর্ধবেলা বন্ধ থাকবে সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগ

সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার মারা গেছেন, অর্ধবেলা বন্ধ থাকবে সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগ

ছবিঃ সংগৃহীত

বাংলাদেশের প্রবীণ রাজনীতিক সাবেক স্পিকার  এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।রোববার ভোর ৪টা ১৯ মিনিটে তিনি ইন্তেকাল করেন। বাধক্যজনিত অসুস্থতার কারণে রাজধানীর শ্যামলীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।

এদিকে, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে তার প্রতি সম্মান জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগ অর্ধবেলা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।  এ সংক্রান্ত একটি নোটিশ সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। উক্ত নোটিশ মোতাবেক, ব্যারিস্টার মোহাম্মদ জমির উদ্দিন সরকারের স্মৃতির প্রতি সম্মান প্রদর্শনের অংশ হিসেবে সুপ্রিম  কোর্টের উভয় বিভাগের জন্য আজ (রোববার) অর্ধবেলা ছুটি ঘোষণা করেছেন প্রধান বিচারপতি। আপিল বিভাগের কার্যক্রম বেলা ১১টা পর্যন্ত ও হাইকোর্ট বিভাগের কার্যক্রম দুপুর ১টা পর্যন্ত চলবে। চেম্বার জজ আজ বসবেন না। (নোটিশের কপি সংযুক্ত)।

ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ১৯৩১ খ্রিষ্টাব্দের ১ ডিসেম্বর পঞ্চগড় জেলার তেতুঁলিয়া থানার নয়াবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি দুই দফা বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া দুইবার বাংলাদেশের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

বিডিএলপিবি/এমএম