৭ জুল, ২০২৬

আজও চলছে পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে আপিলের ওপর শুনানি

আজও চলছে পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে আপিলের ওপর শুনানি

ছবি: সংগৃহীত 

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলোপসহ বেশ কিছু বিষয় পরিবর্তন করে আনা সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে করা আপিলের ওপর পরবর্তী শুনানির জন্য আজ মঙ্গলবার দিন রেখেছিলেন আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চার সদস্যের আপিল বিভাগের বেঞ্চে গতকাল, সোমবার, শুনানি অনুষ্ঠিত হয় এবং পরবর্তী শুনানি তারিখ আজ মঙ্গলবার ধার্য করেন।

পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে তিনটি আপিল হয়েছে। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ চার ব্যক্তি একটি এবং নওগাঁর বাসিন্দা মো. মোফাজ্জল হোসেন আরেকটি আপিল করেন। এ ছাড়া জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার অপর আপিলটি করেন।

এর মধ্যে সুজন সম্পাদকসহ চার ব্যক্তির করা আপিলের ওপর আজ শুনানি শুরু হয়। সুজন সম্পাদকসহ চার ব্যক্তির পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শরীফ ভূইঁয়া, সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী কারিশমা জাহান। রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক উপস্থিত ছিলেন। জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেলের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির এবং অপর আপিলকারীর পক্ষে আইনজীবী এ এস এম শাহরিয়ার কবির।

পঞ্চদশ সংশোধনী একাধিক কারণে ক্রটিপূর্ণ বলে শুনানিতে উল্লেখ করেছেন বলে জানান জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শরীফ ভূইঁয়া। শুনানির বিষয়ে তিনি বলেন, যে প্রক্রিয়ায় এই সংশোধনী সংসদে গৃহীত হয়, তা ক্রটিপূর্ণ ছিল। সংশোধনীর জন্য সংসদীয় বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কমিটিতে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা রাখা হবে বলে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয়। তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা রাখার সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে সংসদে বিল আকারে উপস্থাপন করা হয়। এমনকি এ নিয়ে সংসদে কোনো ধরনের আলোচনা ছাড়াই পাস হয়। সংসদে আলোচনা ছাড়াই পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের মৌলিক চরিত্র পরিবর্তন করা হয়েছে।
শুনানির বিষয়ে শরীফ ভূইঁয়া আরও বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা প্রকৃতপক্ষে গণতন্ত্র ধ্বংস করে দেওয়া হয়। এর ফলে পরপর তিনটি ভোটারবিহীন নির্বাচন হয়। এতে করে দেশে একটা কর্তৃত্ববাদী শাসনব্যবস্থা তৈরি হয়। পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে নাগরিকের কথা বলার স্বাধীনতা ও সংবিধান বিষয়ে আলোচনা করার ক্ষমতা কেড়ে নেওয়াসহ মৌলিক অধিকার গুরুতরভাবে খর্ব করা হয়েছে। এই সংশোধনী যে প্রক্রিয়ায় পাস হয়েছিল, তা ক্রটিপূর্ণ ছিল, এটার মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা ধ্বংস করে কর্তৃত্ববাদী ব্যবস্থা চালু করা হয়। দেশে কার্যত একটা একদলীয় শাসনব্যবস্থা তৈরি করার জন্য এই সংশোধনীটা করা হয়। কাজেই এই সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের সাথে একধরনের প্রতারণা করা হয়েছে। এ কারনে পঞ্চদশ সংশোধনী পুরোপুরি বাতিল হওয়া উচিত।

আপিল বিভাগ দ্রুততম সময়ে আপিলগুলোর শুনানি করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছেন বলে জানান জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শরীফ ভূইঁয়া। তিনি বলেন, বর্তমানে চার সদস্যের আপিল বিভাগে শুনানি শুরু হয়েছে। বেঞ্চের একজন বিচারপতি ১৪ জুলাই অবসরে যাবেন। এর মধ্যে শুনানি শেষে রায় হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।পঞ্চদশ সংশোধনী নিয়ে রিট, হাইকোর্টের রায় ও আপিল

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলোপসহ বেশ কিছু বিষয়ে পরিবর্তন এনে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী এনেছিল আওয়ামী লীগ সরকার। ২০১১ সালের ৩০ জুন পঞ্চদশ সংশোধনী আইন জাতীয় সংসদে পাস হয়। ওই সংশোধনীতে সংবিধানে ৫৪টি ক্ষেত্রে পরিবর্তন এসেছিল। বিলোপ হয়েছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থাও।

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর পঞ্চদশ সংশোধনীর পুরো আইন ও আইনের কয়েকটি ধারার বৈধতা নিয়ে ২০২৪ সালে হাইকোর্টে আলাদা দুটি রিট হয়। চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০২৫ সালের ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট রায় দেন। তাতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং গণভোট বাদ দেওয়া সংক্রান্ত সেই সংবিধান আইনের ২০ ও ২১ ধারা বাতিল ঘোষণা করা হয়। ওই দুটিসহ পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের মাধ্যমে সংবিধানে যুক্ত ৭ক, ৭খ, ৪৪ (২) অনুচ্ছেদ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বাতিলও ঘোষণা করেন হাইকোর্ট।

হাইকোর্টের ১৩৯ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় গত বছরের ৮ জুলাই প্রকাশিত হয়। ওই রায়ের বিরুদ্ধে সুজন সম্পাদকসহ চার বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং অন্যরা পৃথক লিভ টু আপিল (আপিল করার অনুমতি চেয়ে আবেদন) করেন। এরপর আপিল বিভাগ গত বছরের ১৩ নভেম্বর লিভ মঞ্জুর (আপিল করার অনুমতি) করে আদেশ দেন। এরপর হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি আপিল করা হয়।

আপিলের ওপর গত বছরের ৩ ডিসেম্বর শুনানি শুরু হয়। এর ধারাবাহিকতায় গত বছরের ৪, ৭, ৮ ও ১০ ডিসেম্বর আপিলগুলোর ওপর শুনানি হয়। সর্বশেষ গত বছরের ১১ ডিসেম্বর তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন ছয় সদস্যের আপিল বিভাগ আপিল শুনানি চলতি বছরের ৫ মার্চ পর্যন্ত মুলতবি করেন।

এর ধারাবাহিকতায় পৃথক তিনটি আপিল আদেশের জন্য আপিল বিভাগের গত ৮ মার্চের কার্যতালিকায় ওঠে। সেদিন আপিল আংশিক শ্রুত (আংশিক শুনানি হয়েছে) হিসেবে বলে গণ্য হবে না বলে আদেশ দেন আপিল বিভাগ। এর ধারাবাহিকতায় আপিলগুলো গত জুন মাসে আদালতের কার্যতালিকায় ওঠে। গত ২৩ জুন আপিল বিভাগ শুনানি ৬ জুলাই পর্যন্ত মুলতবি করেন। গতকাল সোমবার আপিলের ওপর শুনানি হয় এবং আজও চলছে।


বিডিএলপিবি/এমএম

বিচারাধীন মামলার ডকেট সংরক্ষণের দায়িত্বে আবারো কোর্ট পুলিশ: গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা

বিচারাধীন মামলার ডকেট সংরক্ষণের দায়িত্বে আবারো কোর্ট পুলিশ: গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা

ছবি: সংগৃহীত 

আদালতে চাঞ্চল্যকর অনেক মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় মামলা-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ ডকেট (তালিকা বা রেকর্ড) গায়েব হওয়া অথবা নষ্ট হওয়ার একাধিক ঘটনা ঘটেছে অতীতে। আদালতের সেরেস্তায় থাকা কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে এসব ঘটনায় প্রায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছেন আদালত এমন নজিরও রয়েছে। 

ব্রিটিশ আমল থেকে বিচারাধীন মামলার ডকেট কোর্ট পুলিশের হেফাজতে থাকলেও আওয়ামিলীগ ক্ষমতায় আসার পর এক আদেশে ডকেট সংরক্ষণের দায়িত্ব চলে যায় আদালতের সেরেস্তা শাখায়। দীর্ঘদিন পর সেই দায়িত্ব আবার ফিরে পেয়েছে আদালত পুলিশ। এখন থেকে আদালত পুলিশের হেফাজতে থাকবে বিচারাধীন যেকোনো মামলার সব ধরনের ডকেট। 

আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে গত রোববার জারি করা পরিপত্রে বলা হয়, জিপি-পিপি শাখা থেকে আগে জারি করা মামলার ডকেট সংরক্ষণ সংক্রান্ত নির্দেশনা বাতিল করা হলো। একই সঙ্গে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, বিচারাধীন মামলার ডকেট এখন থেকে কোর্ট পুলিশ কর্মকর্তার হেফাজতে সংরক্ষণ করতে হবে। পরিপত্র অনুযায়ী, কোনো মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ বা শুনানির জন্য নির্ধারিত তারিখের আগে সংশ্লিষ্ট পাবলিক প্রসিকিউটরের কাছে কেস ডকেট হস্তান্তর করবেন কোর্ট পুলিশ কর্মকর্তা। সাক্ষ্যগ্রহণ বা শুনানি শেষ হওয়ার পর সেই ডকেট পুনরায় গ্রহণ করে নিজের হেফাজতে সংরক্ষণ করবেন তিনি। এই পুরো প্রক্রিয়ায় কোর্ট পুলিশ কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট পাবলিক প্রসিকিউটরকে প্রচলিত বিধি অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় রেকর্ড সংরক্ষণ এবং পারস্পরিক সমন্বয়ের ভিত্তিতে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


বিডিএলপিবি/এমএম


অস্ট্রেলিয়ান নারী পর্যটককে ধর্ষণচেষ্টা, ৩ জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড

অস্ট্রেলিয়ান নারী পর্যটককে ধর্ষণচেষ্টা, ৩ জনের ১০ বছর করে কারাদণ্ড

ছবি: সংগৃহীত 

কক্সবাজারে বেড়াতে আসা এক অস্ট্রেলিয়ান নারী পর্যটককে ধর্ষণচেষ্টার মামলায় তিনজনকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) রোকেয়া আক্তার এ রায় ঘোষণা করেন।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বেঞ্চ সহকারী মো. শামীম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মামলায় ছয়জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত এ রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।

দণ্ডিতরা হলেন, রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পেঁচার দ্বীপ এলাকার কলিম উল্লাহর ছেলে মো. আনছারুল্লাহ (২৯), আবদুল মোনাফের ছেলে আবদুল গফুর (২৬) এবং এজাহার মিয়ার ছেলে বেলাল উদ্দিন (৩৬)। একই মামলার কটেজ মালিক কাইয়ুমুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে খালাস দিয়েছে আদালত।

মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মীর মোশাররফ হোসেন টিটু এবং আসামি পক্ষে ছিলেন মহিউদ্দিন মঈন।

রায়ে আদালত উল্লেখ করেন, আসামিদের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(৪)(খ)/৩০ ধারার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। এজন্য প্রত্যেককে ১০ বছর সশ্রম কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৯ সালের ৮ ডিসেম্বর অন-অ্যারাইভাল ভিসায় বাংলাদেশে বেড়াতে আসেন অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক অ্যালিসা ব্রুক এলিয়ট। তিনি ১৪ ডিসেম্বর কক্সবাজারের পেঁচার দ্বীপ সংলগ্ন মারমেইড বিচ রিসোর্টের পাশে অবস্থিত ‘গুড ভাইব কটেজে’ ওঠেন। দুই দিন পর গভীর রাতে দণ্ডিত আসামিরা কটেজে ঢুকে ঘুমন্ত অবস্থায় তার মুখ চেপে ধরে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। এ সময় ধস্তাধস্তিতে তিনি আহত হন। পরে কটেজ থেকে বের হয়ে চিৎকার করলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়।

ঘটনার পর ওই নারী জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশের সহায়তা চান। খবর পেয়ে রামু থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজারে এনে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করে।

তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, কটেজের এক নিরাপত্তাকর্মী আব্দুল গফুর ও বেলালকে সেখানে ডেকে আনেন। তারা মূলত চুরির উদ্দেশ্যে কটেজে প্রবেশ করলেও পরে ওই নারী পর্যটককে ধর্ষণের চেষ্টা করে।

এ ঘটনায় হিমছড়ি পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন উপ-পরিদর্শক (এসআই) স্বরূপকান্তি দাশ বাদী হয়ে রামু থানায় মামলা করেন। পরবর্তীতে আনছারুল্লাহ ও আবদুল গফুরকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা ঘটনার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন।


বিডিএলপিবি/এমএম

৬ জুল, ২০২৬

গুলশানে সরকারি প্লট দখল: সালাম মুর্শেদীসহ ১৩ জনের বিচার শুরু

গুলশানে সরকারি প্লট দখল: সালাম মুর্শেদীসহ ১৩ জনের বিচার শুরু

ছবি: সংগৃহীত 

রাজধানীর গুলশান-২ এলাকার ২৭ কাঠার সরকারি প্লট দখল ও জালিয়াতির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় খুলনা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) আব্দুস সালাম মুর্শেদী, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান হুমায়ুন খাদেমসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (৬ জুলাই) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯ এর বিচারক মো. আব্দুস সালাম এ আদেশ দেন।
বিচারক আগামী ১৯ আগস্ট এ মামলার সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ঠিক করে দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

এ মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন– রাজউকের প্রকৌশলী এম আজিজুল হক, সাবেক উপপরিচালক আজহারুল ইসলাম, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক মো. হাবিব উল্লাহ, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সাবেক সহকারী সচিব আবদুস সোবহান, কক্সবাজারের রামুর বাসিন্দা মীর মোহাম্মদ হাসান এবং তার ভাই মীর মো. নুরুল আফছার।

মামলার নথি অনুযায়ী, গুলশান আবাসিক এলাকার সিইএন (ডি) ২৭ নম্বরের ২৭ কাঠার পরিত্যক্ত সরকারি প্লটটি অবমুক্ত না করেই জাল কাগজপত্র তৈরি ও ভুয়া রেকর্ড উপস্থাপনের মাধ্যমে দখলের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়। পরে হস্তান্তর অনুমতি ও নামজারি অনুমোদনের মাধ্যমে সরকারি সম্পত্তি আত্মসাতের পথ তৈরি করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

২০২৪ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি প্রথমে রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যানসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তবে তখন সালাম মুর্শেদীর নাম মামলায় ছিল না। পরে তদন্ত শেষে গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর তাকে অন্তর্ভুক্ত করে ১৩ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।


বিডিএলপিবি/এমএম

স্ত্রীর আত্মহত্যায় প্ররোচনা মামলায় অভিনেতা জাহের আলভীর জামিন নামঞ্জুর

স্ত্রীর আত্মহত্যায় প্ররোচনা মামলায় অভিনেতা জাহের আলভীর জামিন নামঞ্জুর

ছবি: সংগৃহীত 

স্ত্রীর আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ছোট পর্দার অভিনেতা জাহের আলভীর জামিন আবেদন ফের নামঞ্জুর করেছেন আদালত।সোমবার (৬ জুলাই) শুনানি শেষে ঢাকার মহানগর দায়রা জজ শাহজাহান কবির তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।

বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশীদ।আলভীর পক্ষে আইনজীবী শেখ রোবায়েত ইসলাম এই জামিন আবেদন করেন। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশীদ জামিনের বিরোধিতা করেন।

এর আগে গত ১৮ জুন আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন যাহের আলভী। শুনানি শেষে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরে ২১ জুন আলভীর ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। ২৪ জুন শুনানি শেষে আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড শেষে ৩০ জুন তাকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়। একই মামলায় গত ৪ জুন আত্মসমর্পণের পর জামিন পান আলভীর মা নাসরিন সুলতানা।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি বেলা পৌনে ১২টার দিকে পল্লবী ডিওএইচএসের বাসা থেকে ইকরাকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় উদ্ধার করেন পরিবারের সদস্যরা। পরে বাসার মালিক ও স্বজনরা তাকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং বাসা থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করে।

ইকরার মৃত্যুর পর ওই রাতেই তার বাবা কবির হায়াত খান মামলা দায়ের করেন। মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহ ও নানা ধরনের নির্যাতনের কারণে ইকরা আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন।


বিডিএলপিবি/এমএম

সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হককে গ্রেপ্তার দেখানোর শুনানি ৮ জুলাই

সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হককে গ্রেপ্তার দেখানোর শুনানি ৮ জুলাই

ছবি: সংগৃহীত 

বনানী থানায় দায়ের করা হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরক আইনের মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে গ্রেপ্তার দেখানোর বিষয়ে শুনানি পিছিয়ে বুধবার (৮ জুলাই) নির্ধারণ করেছেন আদালত। মামলার মূল নথি আদালতে না থাকায় সোমবার (৬ জুলাই) এ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়নি। সোমবার (৬ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মোক্তার হোসেন।

তিনি বলেন, ‘মামলার মূল নথি মহানগর দায়রা জজ আদালতে শুনানিতে গেছে। এজন্য আজ গ্রেপ্তার দেখানোর বিষয়ে শুনানি হয়নি। আগামী বুধবার (৮ জুলাই) ভার্চুয়ালি শুনানি হবে।’

শুনানিকে কেন্দ্র করে এ বি এম খায়রুল হককে আদালতে হাজির করা হয় এবং পরে তাকে ঢাকার সিএমএম আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়।

এর আগে ২ জুলাই বনানী থানার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। আদালত তখন আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য সোমবার দিন ধার্য করেছিলেন।

উল্লেখ্য, গত বছরের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে এ বি এম খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকেই তিনি কারাগারে রয়েছেন। গত ১৭ মে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া তাকে নতুন করে গ্রেপ্তার না দেখাতে এবং হয়রানি না করার নির্দেশ দিয়ে রুল জারি করেন।

এদিকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত দুটি হত্যা মামলায় গত ১২ মে হাইকোর্ট থেকে জামিন পান সাবেক এই প্রধান বিচারপতি। তার আইনজীবীরা দাবি করেন, সব মামলায় জামিন পাওয়ায় তার মুক্তিতে আর আইনি বাধা নেই। তবে রাষ্ট্রপক্ষ ওই আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করে।

পরে গত ২৩ মে পৃথক সাত মামলায় জামিন পাওয়ার পর তাকে যাত্রাবাড়ী থানার খোয়াইব হত্যা মামলায় নতুন করে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ওই মামলায় ৩০ জুন হাইকোর্ট তাকে জামিন দেন। এরপর রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করলে ২ জুলাই আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতও তার জামিন বহাল রাখেন।

এর আগে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় যুবদলকর্মী হত্যা, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের রায় জালিয়াতি এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা পাঁচ মামলাসহ মোট আটটি মামলায় তিনি জামিনে রয়েছেন। এর মধ্যেই বনানী থানার আরেকটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়েছে।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট জুলাই আন্দোলনের সময় মহাখালীতে সেতু ভবনের সামনে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা, গুলি ও হাতবোমা নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে উজ্জ্বল মিয়াসহ ২৫ থেকে ৩০ জন আহত হন। পরে উজ্জ্বল মিয়া বনানী থানায় হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা দায়ের করেন।


বিডিএলপিবি/এমএম

পতেঙ্গায় ধর্ষণ মামলায় ছয় বছর পর যুবকের যাবজ্জীবন

পতেঙ্গায় ধর্ষণ মামলায় ছয় বছর পর যুবকের যাবজ্জীবন

ছবি: সংগৃহীত 

চট্টগ্রামে ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ছয় বছর পর মো. রাজীব (২৮) নামে এক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। সোমবার (৬ জুলাই) চট্টগ্রাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭-এর বিচারক এস এম জিয়াউর রহমান এ রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি ট্রাইব্যুনালে  উপস্থিত ছিলেন। পরে সাজা পরোয়ানামূলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, ভুক্তভোগী তরুণী তার মায়ের সঙ্গে নগরীর পতেঙ্গা থানার কাটঘর হিন্দুপাড়ায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। দীর্ঘদিন ধরে আসামি রাজীব বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তরুণীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। ২০২০ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি দুপুরে তরুণীর মা কর্মস্থলে থাকার সুযোগে রাজীব ওই বাসায় যান। কথোপকথনের একপর্যায়ে তিনি ঘরের দরজা বন্ধ করে তরুণীর মুখ চেপে ধরে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। ঘটনার পর রাজীব ঘরের ওয়াশরুমে ঢুকলে ভুক্তভোগী বাইরে থেকে দরজা আটকে প্রতিবেশীদের খবর দেন। পরে বাড়ির মালিকসহ স্থানীয় লোকজন এসে রাজীবকে ওয়াশরুম থেকে বের করেন। পরবর্তীতে ভুক্তভোগীকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় ২০২০ সালের গত ৯ ফেব্রুয়ারি পতেঙ্গা থানায় মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগীর মা। ২০২০ সালের ১৩ ডিসেম্বর আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়।

ট্রাইবুনালের বেঞ্চ সহকারী কফিল উদ্দীন বলেন, পাঁচজন সাক্ষীর সাক্ষ্য-প্রমাণে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ট্রাইব্যুনাল আসামি মো. রাজীবকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন।


বিডিএলপিবি/এমএম