১ জুন, ২০২৬

আমি ধর্ষণ করছি, রামিসাকে মারছে ডলার: সোহেল রানা

আমি ধর্ষণ করছি, রামিসাকে মারছে ডলার: সোহেল রানা

ছবিঃ সংগৃহীত

নিজ স্ত্রীকে নির্দোষ দাবি করে রামিসা আক্তার হত্যায় ‘ডলার’ নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন মামলার আসামি সোহেল রানা। তিনি বলেন, আমি ধর্ষণ করছি, মারছে ডলার। ডলার দুই লাখ টাকা দিছে। এ মামলায় চার্জ গঠনের শুনানির জন্য সোমবার (১ জুন) আদালতে তোলার সময় সাংবাদিকদের সামনে এমন দাবি করেন আসামি সোহেল রানা।

রাজবাড়ীতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানা

রাজবাড়ীতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানা

ছবিঃ সংগৃহীত

রাজবাড়ীতে গতকাল রোববার ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের দায়ে কয়েবটি বাস মালিককে জরিমানা করা হয়েছে। রোববার সন্ধ্যায় রাজবাড়ীর মুরগি ফার্ম এলাকায় যাত্রীদের নিকট থেকে ৫শ’ টাকার বদলে ৮শ’ টাকা করে ভাড়া আদায়ের অভিযোগে বাস মালিকদের নিকট থেকে ১৯ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

রাজবাড়ী সদরের মুরগি ফার্ম এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল ইসলাম এর নেতৃত্বে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। প্রতিটি বাস কাউন্টারে তদন্ত পূর্বক দেখা যায় বিআরটিএ নির্ধারিত হারের চেয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে।

সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ অনুসারে, সপ্তবর্ণা পরিবহন ও গোল্ডেন লাইন এবং জামান পরিবহনের নিকট থেকে মোট ১৯ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয় ও যাত্রীদের অতিরিক্ত ভাড়া ফেরতের নির্দেশনা প্রদান করা হয়।


সোর্স: বাসস

বিডিএলপিবি/এমএম

জজের বাসায় দুর্ধর্ষ চুরি, ধরা পড়ল সিসিক্যামেরায়

জজের বাসায় দুর্ধর্ষ চুরি, ধরা পড়ল সিসিক্যামেরায়


ছবি: সংগৃহীত 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ আমিনা ফারহিনের বাসায় চুরির ঘটনা ঘটেছে।

শনিবার (৩০ মে) ভোরে জেলা শহরের মৌলভীপাড়ার একটি বাসায় এ ঘটনা ঘটে। জজ আমিনা ফারহিন ওই ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ।

বাড়িটির কেয়ারটেকার রতন মিয়া বলেন, সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গেছে, ভোরে তিনজন ব্যক্তি পেছনের গ্রিল ভেঙে দ্বিতীয় তলায় ওঠেন। পরে ফ্ল্যাটের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন তারা। সেখানে দুটি আলমিরা ভেঙে মালামাল নিয়ে যায়। এছাড়াও অন্যান্য জিনিসপত্রও নিয়ে গেছে চোরের দল। সকালে বিষয়টি নজরে আসলে পুলিশকে অবগত করা হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এম এম রকিব উর রাজা বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিচারক ছুটিতে থাকার সুযোগে এই ঘটনা ঘটেছে। তিনি না থাকায় চুরি হওয়া মালামালের পরিমাণ এখনই জানা যায়নি। এ ঘটনায় পুলিশের অভিযান চলছে।


বিডিএলপিবি/এমএম

দুই শিবির নেতাকে গুলি : ৮ আসামির বিচার শুরু আজ

দুই শিবির নেতাকে গুলি : ৮ আসামির বিচার শুরু আজ


ছবি: সংগৃহীত 

যশোরের চৌগাছায় গ্রেপ্তারের পর বন্দুকযুদ্ধের নাটক সাজিয়ে ছাত্রশিবিরের দুই নেতাকে গুলির ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তৎকালীন এসপি আনিসুর রহমানসহ আট আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হচ্ছে আজ।

সোমবার (১ জুন) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে মামলাটির সূচনা বক্তব্য (ওপেনিং স্টেটমেন্ট) উপস্থাপন ও সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

এ মামলায় বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন তিন আসামি। তারা হলেন- চৌগাছা থানার তৎকালীন এসআই আকিকুল ইসলাম, কনস্টেবল সাজ্জাদুর রহমান ও কনস্টেবল জহরুল হক। 

পলাতক আসামিরা হলেন- তৎকালীন এসপি আনিসুর রহমান, চৌগাছা থানার তৎকালীন ওসি মশিউর রহমান, এসআই মোখলেছ, এসআই জামাল ও এসআই মাজেদুল।

এর আগে, ২০ এপ্রিল আট আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। অভিযোগ গঠনের সময় নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন গ্রেপ্তার আসামিরা। পরে সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আজকের দিন ধার্য করা হয়।

প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ৩ আগস্ট চৌগাছা উপজেলা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি ইসরাফিল হোসেন ও সাহিত্য সম্পাদক রুহুল আমিনকে একটি মিথ্যা মামলায় আটক করে পুলিশ। আদালতে হাজির না করে তাদের টানা দুই রাত নির্যাতন করা হয়। পরে বন্দুকযুদ্ধের নাটক সাজিয়ে অধীনস্থ পুলিশ সদস্যদের মাধ্যমে দুজনের পায়ে গুলি করানো হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর শিবিরের এই দুই নেতার ক্ষতস্থানে বালু ঢুকিয়ে গামছা দিয়ে বেঁধে মিথ্যা মামলায় চালান দেওয়া হয়। পরবর্তীতে অস্ত্র মামলাটি মিথ্যা প্রমাণিত হয়। এছাড়া ভুক্তভোগীদের পায়ে বালু ঢোকানোর কারণে পচন ধরে। শেষ পর্যন্ত তাদের পা কেটে ফেলতে হয়েছে।


বিডিএলপিবি/এমএম

প্রাইম এশিয়া ছাত্র হত্যা মামলা: আদালতে দুই ছাত্রীসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট

প্রাইম এশিয়া ছাত্র হত্যা মামলা: আদালতে দুই ছাত্রীসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট


ছবি: সংগৃহীত 

ঢাকার প্রাইম এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতা জাহিদুল ইসলাম পারভেজ হত্যাকাণ্ডে দীর্ঘ তদন্ত শেষে আদালতে চার্জশিট জমা দিয়েছে পুলিশ। তদন্তে উঠে এসেছে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মাধ্যমে বিরোধ মীমাংসার পরও পারভেজকে হত্যার ঘটনায় প্ররোচনা ও পরিকল্পনার অভিযোগ পাওয়া গেছে কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে।

প্রাইম এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতা জাহিদুল ইসলাম পারভেজ (২৩) হত্যা মামলায় দুই ছাত্রীসহ ৯ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ। রোববার (৩১ মে) মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বনানী থানার পুলিশ পরিদর্শক এ কে এম মঈন উদ্দিন আদালতে এই চার্জশিট জমা দেন। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় আটজনকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।

পুলিশি তদন্তে জানা গেছে, ঘটনার দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের নিষ্পত্তি করা হয়। সেখানে পারভেজ ক্ষমাও চেয়েছিলেন। তবে তদন্ত কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, দুই শিক্ষার্থী ঐশী ও টিনার প্ররোচনায় পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং শেষ পর্যন্ত প্রাণ হারান পারভেজ।

তদন্ত সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১৯ এপ্রিল বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে দুই বন্ধুর সঙ্গে সিঙ্গারা খাচ্ছিলেন পারভেজ। এ সময় পাশেই অবস্থান করা দুই ছাত্রী তার বিরুদ্ধে ইভটিজিংয়ের অভিযোগ তোলেন। পরে তারা নিজেদের পরিচিতদের ঘটনাস্থলে ডাকেন।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দ্রুত দুই পক্ষকে নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান করলেও ক্ষোভ প্রশমিত হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, ইংরেজি বিভাগের তিন শিক্ষার্থী মাহাথি, মেহেরাব ও আবুজর গিফারী ঘটনাটিকে নতুন মাত্রা দেন। তারা হাজারীপাড়া এলাকার কয়েকজন বহিরাগত যুবককে সঙ্গে নিয়ে পারভেজের ওপর হামলা চালান।

হামলার সময় পারভেজ ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন। প্রাণ বাঁচাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের দিকে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলেও তাকে আবারও আক্রমণ করা হয়। পরে সহপাঠীরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীরা হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে ওই রাতেই বনানী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। প্রায় এক বছরেরও বেশি সময় তদন্তের পর মামলার চার্জশিট আদালতে জমা দিল পুলিশ।


বিডিএলপিবি/এমএম

৩১ মে, ২০২৬

রামিসা হত্যা মামলার চার্জ শুনানি আগামীকাল (১ জুন)

রামিসা হত্যা মামলার চার্জ শুনানি আগামীকাল (১ জুন)


ছবি: সংগৃহীত 

আগামীকাল সোমবার (১ জুন) রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছর বয়সী শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর গলাকেটে হত্যা মামলাটির চার্জ (অভিযোগ) গঠন বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। আসামিপক্ষে কোন আইনজীবী না থাকায় রাষ্ট্রীয় খরচে আসামিপক্ষের আইনজীবী হিসেবে ঢাকা বারের সদস্য অ্যাডভোকেট মুসা কালিমুল্যাহকে নিয়োগ দেয় আইন মন্ত্রণালয়।

গত ২৪ মে বিকেলে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নিয়ে চার্জ গঠন বিষয়ে শুনানির জন্য এ দিন ধার্য করেন।

ওইদিন দুপুরের পর সোহেল রানা ও তার স্ত্রীকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান। এরপর চার্জশিটিটি ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে উপস্থাপন করা হয়। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হক মামলাটি বিচারের জন্য প্রস্তুত হওয়ায় ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে বদলির নির্দেশ দেন। ওইদিনই মামলার নথী ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। এরপর ট্রাইব্যুনাল আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জশিট আমলে নিয়ে চার্জ গঠন বিষয়ে শুনানির জন্য ১ জুন ধার্য করেন। এর আগে গত ২৩ মে বিকেলে রামিসার ডিএনএ রিপোর্ট তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

প্রসঙ্গত, গত ১৯ মে সকালে পল্লবীর মিরপুর-১১ নম্বর এলাকায় নিজেদের বাসার পাশের ফ্ল্যাটের একটি কক্ষ থেকে রক্তাক্ত ও খণ্ডিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় শিশু রামিসার মৃতদেহ। ঘটনার পরদিনই নিহত শিশুর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ সোহেল রানা ও তার স্ত্রীকে আটক করে।


বিডিএলপিবি/এমএম

৩০ মে, ২০২৬

সাড়ে নয় বছর পরে খালাস পেলেন জঙ্গিবাদের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গ্রেফতারকৃত সেই তিন ছাত্রী

সাড়ে নয় বছর পরে খালাস পেলেন জঙ্গিবাদের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় গ্রেফতারকৃত সেই তিন ছাত্রী

ছবি: সংগৃহীত 

প্রায় সাড়ে নয় বছর ধরে চলা আইনি লড়াইয়ের অবসান ঘটল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের নওয়াব ফয়জুন্নেছা হলের তিন ছাত্রীর ক্ষেত্রে। জঙ্গিবাদের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাদের খালাস দিয়েছেন।

গত ২৪ মে জেলা ও দায়রা জজ আদালত পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে এই তিন ছাত্রীকে অব্যাহতি প্রদান করেন। শনিবার (৩০ মে) মামলার আইনজীবী অ্যাডভোকেট বদিউল আলম সুজন গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, এই শিক্ষার্থীদের জঙ্গি তকমা দিয়ে রাষ্ট্র বা তদন্ত সংশ্লিষ্টরা কী অর্জন করেছে? তাদের কাছ থেকে কোনো অবৈধ বা নিষিদ্ধ বস্তু পাওয়া যায়নি, কেবল কোরআন, হাদিস এবং ডা. জাকির নায়েকের কিছু বই উদ্ধার করা হয়েছিল। অথচ জঙ্গি তকমার কারণে অভিযুক্তদের মধ্যে একজন শিক্ষার্থী মাস্টার্সে প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হওয়া সত্ত্বেও চাকরির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালত তাদের খালাস দিয়েছেন।

পরিবার চাইলে রাষ্ট্রের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারে জানিয়ে বদিউল আলম সুজন আরও বলেন, সেক্ষেত্রে আমরা আইনগত সহায়তা দিতে প্রস্তুত। একই সঙ্গে এ মামলার পেছনে কারা ভূমিকা রেখেছে, তা চিহ্নিত করে জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানাই।

মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ২৭ জুলাই রাতে কুমিল্লা শহরের নওয়াব ফয়জুন্নেছা হলে যৌথ অভিযান চালায় পুলিশ, র‌্যাব, সিআইডি ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। অভিযানের সময় হলের ২০২ নম্বর কক্ষে অবস্থানরত তিন ছাত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং তাদের কক্ষ তল্লাশি চালানো হয়।

তল্লাশিকালে কক্ষ থেকে কয়েকটি ধর্মীয় ও ইসলামী বিষয়ক বই জব্দ করা হয়। জব্দকৃত বইয়ের মধ্যে ছিল ড. জাকির নায়েকের লেকচার সমগ্র, ‘আদর্শ পরিবার পরিবেশ’, ‘পরকালের প্রস্তুতি’ এবং ‘ইসলামী আন্দোলনের পথ ও পাথেয়’ শীর্ষক গ্রন্থ।

পরে রাতভর জিজ্ঞাসাবাদ ও তল্লাশির পর তিন ছাত্রীকে জঙ্গিবাদের অভিযোগে কোতোয়ালি থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করে গ্রেপ্তার দেখানো হয় এবং আদালতের মাধ্যমে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।

ঘটনাটি সে সময় দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। জাতীয় ও স্থানীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়। কিছুদিন কারাভোগের পর তারা উচ্চ আদালত থেকে জামিন লাভ করেন।

এরপর মামলাটি ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, জেলা ও দায়রা জজ আদালত এবং উচ্চ আদালতসহ বিভিন্ন বিচারিক ধাপ অতিক্রম করে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার একপর্যায়ে আদালত অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণ না পাওয়ায় গত ২৪ মে তিন শিক্ষার্থীকে খালাসের আদেশ দেন।

রায়ের পর শিক্ষার্থীরা ও তাদের পরিবারের সদস্যরা সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, প্রায় এক দশক ধরে চলা একটি কঠিন অধ্যায়ের অবসান হয়েছে। তারা আদালতের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন।

মামলার শুরু থেকেই শিক্ষার্থীদের পক্ষে আইনি সহায়তা প্রদান করেন অ্যাডভোকেট শহীদ উল্লাহ, অ্যাডভোকেট বদিউল আলম সুজন এবং অ্যাডভোকেট ইব্রাহিম মনির।


বিডিএলপিবি/এমএম