সংসদ ও আইন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
সংসদ ও আইন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

২৩ এপ্রি, ২০২৬

মনোনয়ন বাতিল, যে সিদ্ধান্ত জানালেন মনিরা শারমিন

মনোনয়ন বাতিল, যে সিদ্ধান্ত জানালেন মনিরা শারমিন


ছবি: সংগৃহীত 

সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে মনোনয়ন বাতিল সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছেন জামায়াত জোট মনোনীত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন। তিনি বলেন, ‘আমি রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করব।’

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. মঈন উদ্দিন খান তার মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ কথা বলেন।

এ সময় তার আইনজীবী নাজমুস সাকিব বলেন, ‘প্রার্থিতা ফিরে পেতে আগামী রবিবার নির্বাচন কমিশনে আপিল করা হবে। আশা করি, আপিলে আমরা প্রার্থিতা ফেরত পাব।’

এর আগে বুধবার জামায়াত জোট মনোনীত ১৩ প্রার্থীর মধ্যে ১২ জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে মনিরা শারমিনের মনোনয়নের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হয়।

শুনানিতে জানা যায়, মনিরা শারমিন আগে সরকারি চাকরিতে কর্মরত ছিলেন এবং বেতন-ভাতা গ্রহণ করেছেন। তিনি ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে চাকরি থেকে অব্যাহতি নেন।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ অনুযায়ী সরকারি চাকরি থেকে অবসর বা অব্যাহতির পর ৩ বছর অতিক্রান্ত না হলে নির্বাচনে অংশগ্রহণের যোগ্যতা অর্জিত হয় না। এই বিধান বিবেচনায় নিয়েই তার প্রার্থিতা যাচাই করা হয়।

এ কারণে তার মনোনয়নপত্রের বিষয়ে সিদ্ধান্তের জন্য বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত সময় দেয় নির্বাচন কমিশন। এ সময়ের মধ্যে আত্মপক্ষ সমর্থনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয় এবং তিনি তা দাখিলও করেন।

উল্লেখ্য, সংরক্ষিত নারী আসনের তফসিল অনুযায়ী আপিল গ্রহণ করা হবে ২৬ এপ্রিল এবং আপিল নিষ্পত্তি হবে ২৭ ও ২৮ এপ্রিল। নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ১২ মে।

নারী আসনে বিএনপির ৩৬ প্রার্থীরই মনোনয়নপত্র বৈধ

নারী আসনে বিএনপির ৩৬ প্রার্থীরই মনোনয়নপত্র বৈধ

ছবি: সংগৃহীত 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনে বিএনপির দাখিল করা ৩৬ প্রার্থীর মনোনয়নপত্রই বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) নির্বাচন ভবনের অডিটরিয়ামে মনোনয়নপত্র বাছাই শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তা তাদের বৈধ ঘোষণা করেন।

বৈধ প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন-সেলিমা রহমান, শিরিন সুলতানা, রাশেদা বেগম হিরা, রেহানা আক্তার রানু, নেওয়াজ হালিমা আর্লি, মোছাম্মৎ ফরিদা ইয়াসমিন, বিলকিস ইসলাম, শাকিলা ফারজানা, হেলেন জেরিন খান, নিলুফার চৌধুরী মনি, নিপুণ রায় চৌধুরী, জেবা আমিন খান, মাহমুদা হাবিবা, সাবিরা সুলতানা, সানসিলা জেবরিন, সানজিদা ইসলাম তুলি, সুলতানা আহমেদ, ফাহমিদা হক, আন্না মিঞ্জ, সুবর্ণা শিকদার, শামীম আরা বেগম স্বপ্না, শাম্মী আক্তার, ফেরদৌসী আহমেদ, বিথীকা বিনতে হুসাইন, সুরাইয়া জেরিন, মানছুরা আক্তার, জহরত আদিব চৌধুরী, মমতাজ আলম, ফাহিমা নাসরিন, আরিফা সুলতানা, সানজিদা ইয়াসমিন, শওকত আর আক্তার, মাধবী মারমা, সেলিনা সুলতানা ও রেজেকা সুলতানা।

তফসিল অনুযায়ী, রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আগামী ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনে আপিল করা যাবে। আপিল নিষ্পত্তি হবে ২৭ ও ২৮ এপ্রিল। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৯ এপ্রিল এবং প্রতীক বরাদ্দ ৩০ এপ্রিল। নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ১২ মে। 

২২ এপ্রি, ২০২৬

এনসিপির নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়ন বাতিল, মনিরা শারমিনের মনোনয়পত্র স্থগিত

এনসিপির নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়ন বাতিল, মনিরা শারমিনের মনোনয়পত্র স্থগিত


ছবিঃ সংগৃহীত

সংরক্ষিত নারী আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র স্থগিতের পর দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক নুসরাত তাবাসসুমের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। বুধবার (২২ এপ্রিল) এ ঘোষণা দেয় নির্বাচন কমিশন। মূলত নির্ধারিত সময়ের পরে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ায় নির্বাচন কমিশন তার আবেদনটি গ্রহণ করেনি।

জানা গেছে, মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিকেল ৪টা ১৯ মিনিটে মনোনয়নপত্র জমা দেন মনোনয়নপত্র জমা দেন। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ছিল বিকাল ৪টা পর্যন্ত। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মনোনয়নপত্র জমা না দেওয়ায় কমিশন আইনগতভাবে তার প্রার্থিতা বাতিল বা অযোগ্য ঘোষণা করেছে। 

এদিকে সরকারি চাকরি থেকে পদত্যাগের তিন বছর পূর্ণ না হওয়ায় এনসিপির আরেক প্রার্থী মনিরা শারমিনের মনোনয়পত্র স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন। আরপিওতে প্রার্থীর অযোগ্যতা প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের ১২(১)(চ) ধারা অনুযায়ী, কোনও ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচতি হওয়ার অযোগ্য হবেন যদি তিনি প্রজাতন্ত্রের বা সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষের কোনও চাকরি থেকে পদত্যাগ করেছেন বা অবসর নিয়েছেন এবং এই পদত্যাগ ও অবসরগ্রহণ যদি তিন বছর অতিবাহিত না হয়।

৮ এপ্রি, ২০২৬

আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ রেখেই সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশ সংসদে পাস

আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ রেখেই সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশ সংসদে পাস

ছবিঃ সংরক্ষিত

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ রেখেই জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের (সংশোধিত) অধ্যাদেশ। অন্তর্বর্তী সরকার এই অধ্যাদেশ জারি করেছিল। আজ বুধবার (৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে এই অধ্যাদেশটি পাশ হয়।

কয়েক দিন আগে, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ‘সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশকে’ আইনে রূপান্তর করার সিদ্ধান্ত নেয় বিএনপি সরকার। অধ্যাদেশটি সংশোধন করে শাস্তির বিধান যুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়। আজ সেই সংশোধনীসহ অধ্যাদেশটি পাস হলো।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিএনপি বলেছিল, নির্বাহী আদেশে কোনো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার পক্ষে নয় তারা। এ বিষয়ে জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে। কিন্তু সরকার গঠনের পর বিএনপি অধ্যাদেশটিকে আইনে পরিণত করল। শাস্তির বিধানসহ এটি আইনে পরিণত হওয়ায় আওয়ামী লীগের রাজনীতি করতে আরও বেগ পেতে হবে।

অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩ অধ্যাদেশ ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম দিনে, গত ১৩ মার্চ উত্থাপন করা হয়। সেদিন গঠিত ১৪ সদস্যের বিশেষ কমিটি অধ্যাদেশগুলো যাচাই-বাছাই করে। সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, অধ্যাদেশ সংসদে পাস না হলে ৩০ দিন তথা ১২ এপ্রিলের পর তা কার্যকারিতা হারাবে।

গত সপ্তাহের বৃহস্পতিবার বিশেষ কমিটি ৯৮টি অধ্যাদেশ পরির্বতন ছাড়াই আইনে পরিণত করতে সংসদে বিল উত্থাপনের সুপারিশ করে। ১৫টি অধ্যাদেশ সংশোধন করে বিল উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়। ১৬টি অধ্যাদেশে এখনই উত্থাপন নয় এবং চারটি রহিত করে হেফাজতের সুপারিশ রয়েছে প্রতিবেদনে।

যে ১৫টি অধ্যাদেশ সংশোধন করে বিল হিসেবে সংসদে উত্থাপনের সুপারিশ করা হয় এর অন্যতম ছিল—২০২৫ সালের ১১ মে জারি করা ‘সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশ’। এই অধ্যাদেশ বলে ২০০৯ সালের সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ১৮ এবং ২০ ধারা সংশোধন করে গত বছর আওয়ামী লীগ এবং দলটির সব সহযোগী ও অঙ্গসংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়। একই আইনে ২০২৪ সালের অক্টোবরে নিষিদ্ধ করা হয় ছাত্রলীগকে।

এনসিপি নেতারা গত বছরের ৯ মে রাতে তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বাসভবন যমুনার কাছে অবস্থান নিয়ে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন। পরে এতে জামায়াতে ইসলামী, গণঅধিকার পরিষদ, ইসলামী আন্দোলন, এবি পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসসহ বিভিন্ন দল যোগ দেয়।

গত বছরের ১১ মে রাতে যমুনায় উপদেষ্টা পরিষদের জরুরি বৈঠক করে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের দুটি ধারা সংশোধন করে অন্তর্বর্তী সরকার। এতে বলা হয়, কোনো ব্যক্তি বা সত্তা সন্ত্রাসী কাজের জন্য জড়িত থাকলে নির্বাহী আদেশে সরকার তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে পারবে। একই দিনে সরকারি প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকবে।

অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগকে সরাসরি নিষিদ্ধ করেনি। তবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় অধ্যাদেশের ২০ ধারা অনুযায়ী আওয়ামী লীগ মিছিল-সভা-সমাবেশ করতে পারবে না, দলটির কার্যালয় বন্ধ থাকবে, ব্যাংক হিসাব জব্দ হবে, পোস্টার-ব্যানার প্রচার করতে পারবে না, সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিতে পারবে না, গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে তা প্রকাশ করা যাবে না এবং সংবাদ সম্মেলন করতে পারবে না দলটি।

আইনে বলা হয়েছে, নিষিদ্ধ সংগঠন এসব কার্যক্রম পরিচালনা করলে চার থেকে ১৪ বছর কারাদণ্ড হতে পারে। তবে অধ্যাদেশে বলা হয়নি কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন সভা-সমাবেশ করলে কী শাস্তি হবে। ফলে এতদিন আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকলেও নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার শাস্তির বিধান ছিল না।

অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশগুলোর বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের মতামত নিয়েছে সংসদের বিশেষ কমিটি। সন্ত্রাসবিরোধী অধ্যাদেশটি সংসদে পাসের সুপারিশ করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের মতামতে বলা হয়েছে, ‘কার্যক্রম নিষিদ্ধ সত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করলে সাজার বিধান নেই অধ্যাদেশে। সাজার বিধান যুক্ত করা যেতে পারে।’

৭ এপ্রি, ২০২৬

স্পীকারের সাথে ঢাকায় নিযুক্ত ইউএনডিপি এর আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফান লিলার এর সৌজন্য সাক্ষাৎ

স্পীকারের সাথে ঢাকায় নিযুক্ত ইউএনডিপি এর আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফান লিলার এর সৌজন্য সাক্ষাৎ

ছবি: সংগৃহীত 

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পীকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম এমপি'র সাথে তাঁর কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ইউএনডিপি(UNDP) এর আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফান লিলার। 

স্পীকারের সাথে এ সময় সাক্ষাৎ করেন ইউএনডিপি এর  উপ-আবাসিক প্রতিনিধি সোনালি দয়ারত্নে, সহকারী আবাসিক প্রতিনিধি আনোয়ারুল হক, সহকারী প্রোগ্রাম উপদেষ্টা গভর্ন্যান্স ড্রাগন পপোভিক এবং সিনিয়র গভর্ন্যান্স স্পেশালিষ্ট তানভীর মাহমুদ।

সাক্ষাৎকালে তারা ই-গভর্ন্যান্স, ই-পার্লামেন্ট ও সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বিভিন্ন কর্মকান্ড, জাতীয় সংসদের অধিবেশন, সংসদের কার্যপ্রণালি বিধিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন।

স্পীকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেন, ইউএনডিপি ও জাতীয় সংসদের মধ্যে সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো নির্ধারণ করতে হবে।ইউএনডিপি নতুন সংসদ-সদস্যদের জন্য ওরিয়েন্টেশন কোর্সের মাধ্যমে তাদের প্রাথমিক দায়িত্ব, কার্যাবলি এবং এখতিয়ারের বিষয় আলোচনায় সহযোগিতা করতে পারে। তিনি বলেন, সংসদ-সদস্যদের মধ্য হতে বিশেষ করে নারী সংসদ সদস্যগণের একটি প্রতিনিধিদল ইউএনডিপি'র সাথে দ্বিপাক্ষিক সফর বিনিময় করতে পারে।

স্পীকার বলেন, বর্তমান সংসদে বিরোধী দল খুবই সহযোগিতামূলক ভূমিকা পালন করছে। সরকার সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংশোধনে খুবই উদার ও সচেষ্ট।

তিনি বলেন, সংসদে ডিজিটাইজড লাইব্রেরি ব্যবস্থার প্রবর্তন, অধিবেশনকালীন দিনের কার্যসূচিতে স্মার্ট প্রযুক্তির ব্যবহার, সংসদের নিজস্ব প্রিন্টিং ও প্রেস থাকা অত্যাবশ্যক।

ঢাকায় নিযুক্ত ইউএনডিপি’র আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফান লিলার বলেন, বর্তমান সংসদ অত্যন্ত প্রাণবন্ত। ইউএনডিপি বাংলাদেশ ও জাতীয় সংসদের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত সহযোগী। ইউএনডিপি’র সহযোগিতামূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। 

এসময় তারা চলমান জ্বালানি সংকট ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা নিয়ে তাদের মতামত বিনিময় করেন। এই পরিস্থিতিতে  ইউরোপের দেশগুলো যেমন- যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও ফ্রান্সের নিরপেক্ষ অবস্থানের প্রশংসা করেন।

সাক্ষাৎকালে ইউএনডিপির সংসদ বিষয়ক ফোকাল পার্সন মাহমুদুল হাসানসহ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

৪ এপ্রি, ২০২৬

আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধের অধ্যাদেশ সংশোধনীসহ পাস হচ্ছে সংসদে

আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধের অধ্যাদেশ সংশোধনীসহ পাস হচ্ছে সংসদে


ছবি: সংগৃহীত 

  • গুমের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড : কার্যকর হচ্ছে না অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশ।
  • বাতিল হচ্ছে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগসহ ৪ অধ্যাদেশ।
  • আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করার বিধান সংবলিত ‘সন্ত্রাস বিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ সংশোধনীসহ পাসের সুপারিশ করেছে সংসদীয় বিশেষ কমিটি। ১৩৩টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনা শেষে বিশেষ কমিটি চূড়ান্ত রিপোর্টে এই সিদ্ধান্ত জানায়।

গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে বিশেষ কমিটির প্রধান জয়নুল আবদিন এমপি এই প্রতিবেদনটি পেশ করেন।আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিয়ে কমিটির সিদ্ধান্ত। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মূল অধ্যাদেশে আওয়ামী লীগের নাম উল্লেখ করে রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধের যে ধারা ছিল, সেখানে কিছু পরিবর্তন বা পরিমার্জন এনে এটি পাসের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে ঠিক কী ধরনের সংশোধনী আনা হচ্ছে, তা প্রতিবেদনে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি।


রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিষেধাজ্ঞা: অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্তৃক জারিকৃত এই অধ্যাদেশে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক সত্তা বা সংগঠনের সভা, সমাবেশ, মিছিল এবং প্রকাশনা নিষিদ্ধ করার ক্ষমতা সরকারকে দেওয়া হয়েছিল। বিশেষ করে ফ্যাসিবাদী শাসনের অভিযোগে আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যেই এই আইনটি আনা হয়। বিশেষ কমিটি এই অধ্যাদেশটি সরাসরি বাতিলের তালিকায় না রেখে কিছু পরিবর্তনের মাধ্যমে স্থায়ী আইনে রূপান্তরের পক্ষে মত দিয়েছে।

আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করার বিধান সংবলিত ‘সন্ত্রাস বিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ সংশোধনীসহ পাসের সুপারিশ করেছে সংসদীয় বিশেষ কমিটি। ১৩৩টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনা শেষে বিশেষ কমিটি চূড়ান্ত রিপোর্টে এই সিদ্ধান্ত জানায়। গত বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে বিশেষ কমিটির প্রধান জয়নুল আবদিন এমপি এই প্রতিবেদনটি পেশ করেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মূল অধ্যাদেশে আওয়ামী লীগের নাম উল্লেখ করে রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধের যে ধারা ছিল, সেখানে কিছু পরিবর্তন বা পরিমার্জন এনে এটি পাসের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে ঠিক কী ধরনের সংশোধনী আনা হচ্ছে, তা প্রতিবেদনে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি।

রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিষেধাজ্ঞা: অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্তৃক জারিকৃত এই অধ্যাদেশে কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক সত্তা বা সংগঠনের সভা, সমাবেশ, মিছিল এবং প্রকাশনা নিষিদ্ধ করার ক্ষমতা সরকারকে দেওয়া হয়েছিল। বিশেষ করে ফ্যাসিবাদী শাসনের অভিযোগে আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যেই এই আইনটি আনা হয়। বিশেষ কমিটি এই অধ্যাদেশটি সরাসরি বাতিলের তালিকায় না রেখে কিছু পরিবর্তনের মাধ্যমে স্থায়ী আইনে রূপান্তরের পক্ষে মত দিয়েছে।

গুম ও মানবাধিকার সংক্রান্ত প্রস্তাবনা: গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকারে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেওয়া কঠোর আইনি পদক্ষেপটি বর্তমান সংসদীয় অধিবেশনে কার্যকর হচ্ছে না। গুমের দায়ে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে জারি করা অধ্যাদেশটি আপাতত স্থগিত রাখার সুপারিশ করেছে সংসদীয় বিশেষ কমিটি। সংসদে জমা দেওয়া কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার সংক্রান্ত অধ্যাদেশ’ সহ মোট ১৬টি অধ্যাদেশ বর্তমানে অনুমোদন না দিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পরবর্তীতে বিল আকারে পেশ করতে বলা হয়েছে। এর ফলে গুম বিরোধী এই কঠোর আইনের প্রয়োগ আপাতত ঝুলে গেল।

কেন এই স্থগিতাদেশ? কমিটির প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, মানবাধিকার কমিশন আইনের সংশোধন, তথ্য অধিকার আইন এবং গুম বিরোধী আইনের মতো বিষয়গুলো আরও বিস্তারিত পর্যালোচনার প্রয়োজন। তড়িঘড়ি করে এগুলো পাস না করে পরবর্তী সময়ে পূর্ণাঙ্গ বিল হিসেবে সংসদে আনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে চলতি অধিবেশনে এই অধ্যাদেশটি আর আইনে পরিণত হচ্ছে না।

মৃত্যুদণ্ডের বিধান ও পটভূমি: বিগত সরকারের আমলে ঘটা এনফোর্সড ডিসঅ্যাপিয়ারেন্স বা গুমের ঘটনা তদন্ত ও বিচার করতে অন্তর্বর্তী সরকার এই অধ্যাদেশটি জারি করেছিল। এতে গুমকে জামিন অযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড এবং সর্বনিম্ন যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছিল। মানবাধিকার কর্মীদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল গুম বিরোধী আইনটি দ্রুত কার্যকর করা। কিন্তু সংসদীয় কমিটির এই ‘স্থগিত’ রাখার সিদ্ধান্তে বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইনটি বাতিল করা হয়নি বরং প্রক্রিয়াগত কারণে এটি পরবর্তী অধিবেশনে বিল হিসেবে আসবে।

সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগসহ ৪ অধ্যাদেশ বাতিল হচ্ছে: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ ও পৃথক সচিবালয় সংক্রান্তসহ মোট ৪টি অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ করেছে সংসদীয় বিশেষ কমিটি। এছাড়া বিচার বিভাগ পৃথকীকরণ, গুম প্রতিরোধ এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ আরও ১৬টি অধ্যাদেশ আপাতত স্থগিত বা ‘শেলভড’ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

বাতিল হচ্ছে যেসব অধ্যাদেশ: কমিটির প্রতিবেদনে যে ৪টি অধ্যাদেশ বাতিলের (Repealed) প্রস্তাব করা হয়েছে সেগুলো হলো: ১. জাতীয় সংসদ সচিবালয় (অন্তর্বর্তীকালীন বিশেষ বিধান) অধ্যাদেশ, ২০২৪। ২. সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ, ২০২৫। ৩. সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫। ৪. সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬।

বিচার বিভাগীয় স্বাধীনতার উদ্যোগের ভবিষ্যৎ: বাতিলের তালিকায় থাকা সুপ্রিম কোর্ট সংক্রান্ত তিনটি অধ্যাদেশ মূলত বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত ও প্রধান বিচারপতির অধীনে পৃথক সচিবালয় গঠনের লক্ষ্যে জারি করা হয়েছিল। এর মাধ্যমে অধস্তন আদালতের বিচারকদের বদলি, পদোন্নতি ও শৃঙ্খলার ক্ষমতা সুপ্রিম কোর্টের হাতে ন্যস্ত করার কথা ছিল। এছাড়া ‘সুপ্রিম জুডিশিয়াল অ্যাপয়েন্টমেন্ট কাউন্সিল’ গঠনের মাধ্যমে বিচারক নিয়োগের স্বচ্ছ প্রক্রিয়া চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে বিশেষ কমিটির সুপারিশে এই ঐতিহাসিক সংস্কারগুলো বাতিলের মুখে পড়ল।

বিরোধীদের নোট অফ ডিসেন্ট: বিশেষ কমিটির প্রতিবেদনে ২০টি অধ্যাদেশের ওপর ভিন্নমত (নোট অফ ডিসেন্ট) পোষণ করেছেন বিরোধী দলীয় সদস্যরা, বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্যরা। বিশেষ করে বিচার বিভাগ ও পুলিশ কমিশন সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিলের বিষয়ে তারা আপত্তি জানিয়েছেন।

সোমবার থেকে সংসদে উত্থাপন: স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী পর্যালোচিত বিলগুলো আগামী সোমবার (৬ এপ্রিল) থেকে পর্যায়ক্রমে সংসদে উত্থাপন করা হবে। সংবিধান অনুযায়ী, সংসদ অধিবেশন শুরুর ৩০ দিনের মধ্যে এই অধ্যাদেশগুলো অনুমোদন বা প্রত্যাখ্যানের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।


৩০ মার্চ, ২০২৬

বাতিল হচ্ছে ‘গণভোট অধ্যাদেশ’, উঠবে না সংসদে

বাতিল হচ্ছে ‘গণভোট অধ্যাদেশ’, উঠবে না সংসদে


ছবি: সংগৃহীত 

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের অধিকাংশ যাচাই-বাছাই শেষে আগামী ২ এপ্রিল সংসদে উত্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশেষ কমিটি। তবে গণভোটের অধ্যাদেশের ব্যবহার হয়ে গেছে উল্লেখ করে তা বিল আকারে সংসদে উত্থাপন না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে আপত্তি তুলেছে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী।

এদিকে যেসব অধ্যাদেশ সংসদে উত্থাপন করা হচ্ছে, এর মধ্যে মানবাধিকার কমিশন, পুলিশ কমিশন, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার, সুপ্রিম কোর্টের পৃথক সচিবালয়সহ কয়েকটি অধ্যাদেশের সংশোধনীসহ উত্থাপনের সুপারিশ করেছে সরকারি দল। এর বিরোধিতা করেছেন কমিটিতে থাকা বিরোধী দল জামায়াতের সংসদ সদস্যরা। এমন ১৫ অধ্যাদেশের বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট (আপত্তি) দিয়েছেন বিরোধী দলের সদস্যরা।

রোববার (২৯ মার্চ) রাতে জাতীয় সংসদের ক্যাবিনেট কক্ষে বিশেষ কমিটির বৈঠকে এমন সিদ্ধান্ত হয়। রাতে সাড়ে ৮টায় শুরু হয়ে বৈঠকটি চলে প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী। তৃতীয় দিনের বৈঠকে শেষে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের বিষয়ে যাচাই-বাছাই শেষ করে কমিটি। ২ এপ্রিল কমিটি সংসদে প্রতিবেদন পেশ করবে।

সংবিধানে গণভোটের বিধান রাখা না রাখা নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা প্রসঙ্গে বিশেষ কমিটির সদস্য ও বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘গণভোটের সাথে গোটা জাতি জড়িত। ওনারা এটি বাতিল করার কথা বলছেন, যা আমরা প্রত্যাখ্যান করেছি। যদি গণভোট সংবিধানবহির্ভূত হয়, তবে একই দিনে হওয়া জাতীয় সংসদ নির্বাচন কীভাবে বৈধ হয়? জনগণ “হ্যাঁ” জয়যুক্ত করেছে, সুতরাং গণভোটের রায় কার্যকর করতে হবে—এটাই আমাদের মূল দাবি।’

তবে গণভোটের অধ্যাদেশ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, গণভোট অধ্যাদেশের ব্যবহার হয়ে গেছে। যে কারণে প্রণয়ন করা হয়েছিল, এটার অধীনে সামনে আর কোনো গণভোট হবে না। এটাকে বিল আকারে এনে আইন বানানোর কোনো অর্থ নেই। এটা রেটিফিকেশনের প্রয়োজন নেই।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীন। এতে অংশ নেন কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। এ ছাড়া মুহাম্মদ ওসমান ফারুক, এ এম মাহবুব উদ্দিন, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী, মুহাম্মদ নওশাদ জমির, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, সংসদ সদস্য মো. মুজিবুর রহমান, মো. রফিকুল ইসলাম খান এবং জি এম নজরুল ইসলাম অংশ নেন বৈঠকে। বিশেষ কমিটির আমন্ত্রণে মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।

বৈঠক ১৩৩টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই প্রসঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম খান বলেছেন, কিছু মৌলিক বিষয়ে তারা আগে থেকে একমত ছিলেন না। আজও একমত হতে পারেননি। সরকারি দল কিছুটা সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে পাস করার চেষ্টা করেছে। যার মধ্যে ১৪-১৫টি বিষয়ে বিরোধী দল নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছে। বিশেষ করে মানবাধিকার কমিশন, পুলিশ কমিশন এবং গুম-খুন প্রতিরোধ কমিশনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে তারা আগের মতো দলীয়করণের লাইনে নিয়ে যেতে চাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠা এবং বিচারপতি নিয়োগের বাছাই কমিটি, যেগুলো সংস্কারের মাধ্যমে আনা হয়েছিল, সেগুলো তারা রহিত করে আগের অবস্থায় ফিরে যেতে চায়। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) স্বাধীনতা খর্ব করার বিষয়েও আমরা তীব্র আপত্তি জানিয়েছি।’

কমিটির বৈঠকে যেসব বিষয়ে একমত হওয়া সম্ভব হয়নি, সেগুলো চূড়ান্ত আলোচনার জন্য পুনরায় সংসদ অধিবেশনে উত্থাপন করা হবে বলে জানান রফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, ‘১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ১০-১৫টি বিষয়ে আমরা কিছু সংশোধনীসহ একমত হয়েছি। বাকি যেগুলোতে জনগণের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা আছে, সেগুলোতে আমরা ছাড় দেব না। সংসদে এসব নিয়ে ভোটাভুটি বা বিস্তারিত আলোচনা হবে।’

এ প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘১৩৩টি অধ্যাদেশের প্রতিটির বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। অনেকগুলো যেভাবে আছে, সেভাবে পাস করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। কিছু কিছু সংশোধিত আকারে বিল আনা হবে। আর কিছু হয়তো বিল আনার সময় পাওয়া যাবে না। সেগুলো নিয়ে চিন্তা হলো, পরবর্তী অধিবেশনে যেগুলো পাস করতে চাইবে, বিল আকারে আনব।’ 

তিনি বলেন, বিরোধীদলীয় ও সরকারি দলের সদস্যরা কিছু কিছু বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছেন। সেগুলো যথাযথভাবে রিপোর্টে প্রতিফলিত হবে। বিল আকারে যখন উত্থাপিত হবে, তখন আইন প্রণয়নের সময় যার যার বক্তব্য দিতে পারবেন।

২৪ মার্চ, ২০২৬

জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠক আজ

জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠক আজ

ছবি: সংগৃহীত 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠক মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিভিন্ন বিষয়ে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনার দায়িত্ব পেয়েছে এই বিশেষ কমিটি। জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনের ক্যাবিনেট কক্ষে বিশেষ কমিটির প্রথম বৈঠক বসবে। স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন।

গত ১৫ মার্চ স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। এই কমিটি সংসদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিভিন্ন বিষয়ে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনা করে কোন অধ্যাদেশ বহাল থাকবে এবং কোনটি বাতিল হবে তা যাচাই-বাছাই করবে এই বিশেষ কমিটি। পর্যালোচনা শেষে বিষয়গুলো নিয়ে কমিটিতে আলোচনা হবে এবং পরে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

৯ এপ্রি, ২০২৫

বিবাহ এবং তালাক নিবন্ধন করা যাবে অনলাইনে

বিবাহ এবং তালাক নিবন্ধন করা যাবে অনলাইনে


ছবিঃ সংগৃহীত

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এর আইন ও বিচার বিভাগ এর এস. আর. ও. নং- ৯২/আইন/২০২৫, তারিখ- ২৪/০৩/২০২৫ মূলে মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) বিধিমালা, ২০০৯ এর  সংশোধন সংক্রান্ত প্রাজ্ঞাপন জারি করা হয়।  Muslim Marriages and Divorces (Registration) Act, 1974 (Act No. LII of 1974) এর section 14 এ প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকার, মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) বিধিমালা, ২০০৯ এর উক্ত সংশোধন করেন।  

উক্ত সংশোধন অনুযায়ী এখন থেকে বিবাহ এবং তালাক নিবন্ধন আগের মতো ম্যানুয়াল পদ্ধতির পাশপাশি অনলাইনেও করা যাবে এবং সেক্ষেত্রে নিবন্ধনের ফি জমা দিতে হবে অনলাইনে। এতদিন শুধুমাত্র ম্যানুয়ালি বিবাহ এবং তালাক নিবন্ধন এর সুযোগ থাকার ফলে বিভিন্ন ধরনের জটিলতা তৈরী হতো। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলার লক্ষ্যে এবং একই সাথে দুর্নীতি এবং পাবলিক হ্যারাসমেন্ট কমানোর লক্ষ্যে উক্ত বিধিতে এই সংশোধন আনা হয়।

৫ আগ, ২০২৪

খেলাপি ঋণ আদায়ে ব্যাংকের আইন সেলকে কার্যকর করার নির্দেশনা দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার প্রকাশ

খেলাপি ঋণ আদায়ে ব্যাংকের আইন সেলকে কার্যকর করার নির্দেশনা দিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার প্রকাশ


ছবি: সংগৃহীত 

মামলা জালে আটকে থাকা খেলাপি ঋণ আদায়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিআরপিডি বিভাগ রোববার (আগস্ট ০৪, ২০২৪) ব্যাংকের আইন সেলকে কার্যকর করার নির্দেশ দিয়ে এ সম্পর্কিত বিআরপিডি সার্কুলার নং- ১৪/২০২৪ জারি করে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের পাঠানো হয়েছে।

সার্কুলারে উল্লেখ করা হয়, এতদিন খেলাপি ঋণ কমাতে নানা উদ্যোগ নেওয়ার পর মামলা ছাড়া খেলাপি ঋণ আদায়ে উন্নতি হলেও মামলা আটকে থাকার বিপরীতে খেলাপি ঋণে উন্নতি হয়নি। আবার প্রচলিত ধারাতে মামলার মাধ্যমে খেলাপি ঋণ আদায়ে ব্যবস্থা নেওয়া হলেও তার উন্নতি হয়নি।

এ অবস্থা থেকে উত্তরণে ব্যাংকগুলোতে সামগ্রিক ঋণ ব্যবস্থাপনায় আদায় কার্যক্রম সুসংহত করার ক্ষেত্রে ব্যাংকের আইন বিভাগ বা লিগ্যাল টিমের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবল এর ফলে অর্থ ঋণ আদালত ও সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগ বা আপিল বিভাগে বিচারাধীন মামলা দ্রুত নিষ্পত্তিতে সহায়ক হবে বলে মনে করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সার্কুলারে আরো উল্লেখ করা হয়, এতে একদিকে আদালতে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা কমে আসবে, অন্যদিকে সুষ্ঠু ঋণ ব্যবস্থাপনা  ও ব্যাংকের খেলাপি ঋণ আদায়ের মাধ্যমে শ্রেণিকৃত ঋণের হার কমে আসবে। এতে ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতা বাড়বে। এছাড়া খেলাপি ঋণ আদায়ে ব্যাংকগুলোর আইন বিভাগ বা লিগ্যাল টিমের অবয়ব, যোগ্যতা ও আইন কর্মকর্তা ও প্যানেল আইনজীবীদের নিয়োগ পরবর্তী কাজের পারফেন্স পর্যবেক্ষণের ধরনও তুলে ধরে বাংলাদেশ ব্যাংক।

২ আগ, ২০২৪

বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশনের আকার ও কর্মপরিধি বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি

বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশনের আকার ও কর্মপরিধি বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি

বাংলাদেশ সরকার বৃহস্পতিবার শিক্ষার্থীদের কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় ১৬ জুলাই থেকে ২১ জুলাই পর্যন্ত সংঘটিত সব হত্যাকাণ্ড ও সহিংসতার তদন্তের জন্য বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশনের পরিধি ও এখতিয়ার প্রশস্ত করেছে।  বৃহস্পতিবার জারি করা মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের গেজেট অনুসারে কমিশনের সদস্যদের সংখ্যা এক থেকে বাড়িয়ে তিন করা হয়েছে এবং তদন্ত শেষ করার পর ৪৫ কার্যদিবসের মধ্যে সরকারের কাছে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ গত ১৬ জুলাই কোটাবিরোধী আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের হত্যার তদন্তে বিচারপতি খন্দকার দিলীরুজ্জামানের নেতৃত্বে এক সদস্যের বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠনের ঘোষণা দিয়ে ১৮ জুলাইয়ের গেজেট বাতিল করে নতুন গেজেট জারি করে।

নতুন গেজেট অনুযায়ী, বিচারপতি দিলীরুজ্জামানকে কমিশনের চেয়ারম্যান করা হয়েছে এবং বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি মোহাম্মদ শওকত আলী চৌধুরীকে সদস্য করা হয়েছে। গত ১ আগস্ট পর্যন্ত সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে অন্তত ২১৪ জন নিহত হয়েছেন।

২৮ জুলাই, সরকার প্রকাশ করে যে সহিংসতায় সারাদেশে সাধারণ মানুষ, ছাত্র, পুলিশ, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ কর্মীসহ ১৪৭ জন নিহত হয়েছেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোঃ মাহবুব হোসেন ২৯ জুলাই জানান, সরকারিভাবে মৃতের সংখ্যা ১৫০-এ পৌঁছেছে।

কমিশনের টার্ম অব রেফারেন্সের মধ্যে রয়েছে '১৬ জুলাই থেকে ২১ জুলাই পর্যন্ত যারা নিহত হয়েছেন তাদের মৃত্যুর কারণ খুঁজে বের করা এবং মৃত্যুর জন্য দায়ীদের খুঁজে বের করা। কমিশনের টার্ম অব রেফারেন্সে ১৬-২১ জুলাই সহিংসতা, নাশকতা, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট এবং অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করাও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

একই সময়ে বিভিন্ন সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতির মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের দায়িত্বও কমিশনকে দেওয়া হয়েছে। কমিশনের চেয়ারম্যান খন্দকার দিলীরুজ্জামান পরে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেন, আন্দোলন চলাকালে ১৬ জুলাই বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে হত্যার ঘটনায় কমিশন ৫ আগস্ট সাক্ষীদের জবানবন্দি রেকর্ড করবে।

আগামী ৬ আগস্ট রংপুরে সাজ্জাদ হোসেন, মোসলেমউদ্দিন মিলন ও মানিক মিয়া হত্যাকাণ্ডে সাক্ষীদের জবানবন্দি রেকর্ড করার কথা রয়েছে কমিশনের। জেলায় মিরাজুল ইসলাম ও আবদুল্লাহ আল তাহের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সাক্ষীদের জবানবন্দি রেকর্ড করার জন্য ৭ আগস্ট দিন ধার্য করা হয়েছে। কমিশন তিন কার্যদিবসের প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে সব সাক্ষীকে রংপুর সার্কিট হাউসে হাজির হওয়ার জন্য তাদের সাক্ষ্য-প্রমাণ উপস্থাপনের জন্য অনুরোধ করেছে।

১ আগ, ২০২৪

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবির নিষিদ্ধ: গেজেট প্রকাশ

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবির নিষিদ্ধ: গেজেট প্রকাশ

ছবি- উইকিপিডিয়া

সরকার আজ সন্ত্রাসবিরোধী আইন-২০০৯ এর অধীনে জামায়াতে ইসলামী, তার ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবির এবং এর সকল ফ্রন্ট সংগঠনকে রাজনৈতিক দল ও সত্তা হিসেবে নিষিদ্ধ করেছে। আইন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিকেলে এই রাজনৈতিক দল ও এর সব ফ্রন্ট সংগঠনকে নিষিদ্ধ করে গেজেট প্রজ্ঞাপন জারি করে।

২৪ জুল, ২০২৪

সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি সংস্কারের প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার

সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি সংস্কারের প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার

সরকার মঙ্গলবার সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ কর্তৃপক্ষ এবং বিভিন্ন কর্পোরেশনের চাকরিতে সমস্ত প্রবেশ পদে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগের শতাংশ বাড়িয়ে ৯৩ শতাংশ করেছে।