২৬ এপ্রি, ২০২৬

জামায়াতের এমপিকে অবরুদ্ধ করে গাড়ি ভাঙচুর, যুবদলের ৯ কর্মী গ্রেপ্তার

ছবি: সংগৃহীত

নেত্রকোনা-৫ (পূর্বধলা) আসনে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য (এমপি) মাছুম মোস্তফাকে অবরুদ্ধ করে গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় মামলা হয়েছে। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাত সোয়া দুইটার দিকে মাছুম মোস্তফার ব্যক্তিগত সহকারী মো. আল আমিন বাদী হয়ে পূর্বধলা থানায় মামলাটি করেন। 

এসময় অভিযান চালিয়ে এজাহারনামীয় এক আসামিসহ ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার সকাল ৯টার দিকে নেত্রকোনা পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া ৯ জনের মধ্যে মামলার এজাহারে উল্লেখিত ২০ নম্বর আসামি মো. খায়রুল ইসলাম রয়েছেন, অন্যরা সন্দেহভাজন। তাদেরকে আদালতে তোলার প্রস্তুতি চলছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

জানা যায়, মামলায় ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে মাছুম মোস্তফার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষের প্রার্থী পূর্বধলা উপজেলার বিএনপির আহ্বায়ক মো. আবু তাহের তালুকদারকে প্রধান আসামি করে ৬০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। একইসঙ্গে আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।

আসামিদের সবাই স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী। এর মধ্যে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম–আহ্বায়ক ইশতিয়াক আহমেদসহ (বাবু), যুবদল নেতা মো. আনার, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব সাজু আহমেদ, যুগ্ম আহ্বায়ক সোলাইমান কবির (পাপ্পু) প্রমুখ রয়েছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেলে মাছুম মোস্তফা একটি মাদ্রাসার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে উপজেলা সদরে ফিরছিলেন। সন্ধ্যায় পথে শ্যামগঞ্জ-বিরিশিরি সড়কের উপজেলা সদরের আতকাপাড়া গিরিপথ ফিলিং স্টেশনে যান গাড়িতে জ্বালানি তেল ভরার জন্য। পরে গাড়ি রেখে ফিলিং স্টেশনেই নামাজখানায় মাগরিবের নামাজ আদায় করার জন্য যান। কিছুক্ষণ পর ১৫টির মতো মোটরসাইকেলে ২৫ থেকে ৩০ জন যুবক পাম্পে এসে মোটরসাইকেলে তেল নিতে চান এবং সেখানে হট্টগোল সৃষ্টি করেন। একপর্যায়ে তারা মাছুম মোস্তফার গাড়িতে ভাঙচুর চালান। এ সময় মাছুম মোস্তফা নামাজ শেষ করে ঘর থেকে বের হতে চাইলে বিক্ষুব্ধ যুবকেরা তাকে ধাওয়া করে অবরুদ্ধ করে রাখেন। ঘটনার সময় ফিলিং স্টেশনে দায়িত্বরত কয়েকজন পুলিশ সদস্য ছিলেন। তারা পরিস্থিতি সামাল দিতে পারছিলেন না।

এমতাবস্থায় খবর পেয়ে ঘণ্টাখানেক পর উপজেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক বাবুল আলম তালুকদারসহ পূর্বধলা থানা থেকে আরও পুলিশ সদস্য এসে সংসদ সদস্যকে সেখান থেকে উদ্ধার করেন। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পাঠানো গাড়িতে করে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে রাত ১০টার দিকে মাছুম মোস্তফা উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, হামলাকারীরা স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মী এবং তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে এ হামলা চালানো হয়। 

এদিকে আজ সকাল পৌনে ৯টার দিকে সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফা বলেন, ‘আমি পাম্পে গাড়ি রেখে নামাজ আদায় করতে গেলে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা আমার গাড়ি ভাঙচুর করে এবং আমার সঙ্গে থাকা উপজেলা জামায়াতের আমির জয়নাল আবেদিনসহ দলীয় নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। অনেকক্ষণ পর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি বাবুল আলমসহ পুলিশ সদস্যরা আমাকে উদ্ধার করে। ঘটনায় উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু তাহের তালুকদারকে প্রধান আসামি করে মামলা হয়েছে। হামালায় নেতৃত্ব দিয়েছেন যুগ্ম আহ্বায়ক ইশতিয়াক আহমেদ বাবু। তাকে ২ নম্বর আসামি করা হয়। পুলিশের প্রতি আহ্বান জানাই, আসামিদের যেন দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হয়।’

আজ সাড়ে ৯টার দিকে অভিযোগের বিষয়ে আবু তাহের তালুকদার বলেন, ‘ওই সময় আমি ঢাকায় ছিলাম। সংসদ সদস্যের ওপর হামলার বিষয়টি মোবাইলে শোনার সঙ্গে সঙ্গে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক বাবুল আলম তালুকদারকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হয়। এখন শুনছি উল্টো আমাকে মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে। হামলার বিষয়টি যেমন দুঃখজনক, তেমনি আমাকে আসামি করাতেও নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। কারণ, আমি কখনো প্রতিহিংসার রাজনীতি করি না। আর যতটুকু জানি, আমার দলীয় কোনো নেতা-কর্মী এই হামলা করেননি। আমাকেসহ দলীয় নেতা-কর্মীদের নামে এটা মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে।’


শেয়ার করুন

0 coment rios: