২৫ জুন, ২০২৬

চলন্ত ট্রেনে ছোড়া পাথরে চোখ হারালেন আইনজীবী

চলন্ত ট্রেনে ছোড়া পাথরে চোখ হারালেন আইনজীবী

ছবি: সংগৃহীত 

ঢাকা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ফেরার পথে চলন্ত ট্রেনে দুর্বৃত্তের ছোড়া পাথরের আঘাতে এক আয়কর আইনজীবী ও একটি কোম্পানির নির্বাহী হিসাবরক্ষক গুরুতর আহত হয়েছেন। চোখে আঘাত পাওয়া আয়কর আইনজীবীর দীর্ঘ অস্ত্রোপচারের পরও রক্ষা করতে না পেরে একটি চোখ অপসারণ করেছেন চিকিৎসকরা।

চোখ হারানো আয়কর আইনজীবীর নাম শ্যামল চন্দ্র দাস (৪৫)। অপর আহত ব্যক্তি হলেন ঢাকার স্বপ্ন কুটির বিল্ডার্সের নির্বাহী হিসাবরক্ষক নাইমুল হাসান।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মঙ্গলবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে চট্টগ্রামগামী তূর্ণা এক্সপ্রেস ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তালশহর স্টেশন অতিক্রমের সময় পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পাথরটি শ্যামল চন্দ্র দাসের ডান চোখে আঘাত হানে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। দীর্ঘ অস্ত্রোপচারের পরও তার ডান চোখটি রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত অপসারণ করতে হয়েছে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী শ্যামলের সঙ্গে থাকা আইনজীবী সংগঠনের সভাপতি মানসুরুল হক মনা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মঙ্গলবার রাতে আমরা একসঙ্গে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা তূর্ণা এক্সপ্রেস ট্রেনের “ন” বগিতে করে আসছিলাম। শ্যামল দাস ৩৪ নম্বর সিটে বসা ছিলেন। রাত ১টা ৩০ থেকে ১টা ৪০ মিনিটের দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার স্টেশনে পৌঁছার আগ মুহূর্তে তালশহর স্টেশন অতিক্রমের সময় ট্রেনটি লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপ করে দুর্বৃত্তরা। একটি পাথর ট্রেনের জানালা ছিদ্র করে শ্যামলের ডান চোখে আঘাত হানে। ট্রেনটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনে আসার পর গুরুতর অবস্থায় শ্যামলকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে বুধবার সকাল থেকে প্রায় চার ঘণ্টাব্যাপী অস্ত্রোপচার করা হলেও চিকিৎসকরা তার ক্ষতিগ্রস্ত চোখটি রক্ষা করতে পারেননি। পরবর্তীতে চোখটি অপসারণ করতে হয়েছে।’


বিডিএলপিবি/এমএম

২৪ জুন, ২০২৬

আদালতের আদেশ ভুল বুঝে এজলাসে বিষপান, হাসপাতালে নারী

আদালতের আদেশ ভুল বুঝে এজলাসে বিষপান, হাসপাতালে নারী

ছবি: সংগৃহীত 

ভোলার আদালতে একটি মামলার শুনানিকালে বিচারকের আদেশ ভুল বোঝার জেরে এজলাসে দাঁড়িয়েই বিষপান করেছেন তারাভানু (৩৫) নামে এক নারী। পরে তাকে দ্রুত উদ্ধার করে ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

বুধবার (২৪ জুন) দুপুর দেড়টার দিকে জেলা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সৌরভ রায় মিঠুর আদালতে এ ঘটনা ঘটে। তারাভানু বোরহানউদ্দিন উপজেলার ছোট মানিকা গ্রামের বাসিন্দা এবং বাহার উদ্দিনের স্ত্রী।

কোর্ট পুলিশ সূত্রে জানা যায়, তারাভানু তার স্বামীসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের অভিযোগ এনে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি সিআর মামলা করেছিলেন। বুধবার মামলাটির চার্জ গঠনের বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য ছিল।

আদালত সূত্র ও উপস্থিত আইনজীবীরা জানান, শুনানি শেষে বিচারক মামলার এক নম্বর আসামি বাহার উদ্দিনকে মামলায় রাখলেও অপর দুই আসামিকে অব্যাহতি দেন। তবে আদালতের এ আদেশ বাদী তারাভানু ভুলভাবে বুঝে নেন। তিনি ধারণা করেন, তার স্বামীকেও মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এতে হতাশ হয়ে সঙ্গে থাকা একটি বোতল থেকে তরল জাতীয় বিষ পান করেন।

ঘটনাটি টের পেয়ে আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত পুলিশ সদস্য ও অন্যান্যরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।

ভোলা কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক সেখ মো. নাসির উদ্দীন জানান, আদালতের কার্যক্রম চলাকালে ওই নারী হঠাৎ বিষপান করেন। পরে তাকে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আরাফাতুর রহমান জানান, তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। তবে আরও কিছু সময় পর্যবেক্ষণে রাখা হবে।


বিডিএলপিবি/এমএম

ডিপ্লোমাধারী ডেন্টাল টেকনোলজিস্টরা রোগী দেখতে পারবেন না: আপিল বিভাগের রায়

ডিপ্লোমাধারী ডেন্টাল টেকনোলজিস্টরা রোগী দেখতে পারবেন না: আপিল বিভাগের রায়

ছবি: সংগৃহীত 

ডিপ্লোমাধারী ডেন্টাল অ্যাসিস্ট্যান্ট বা ডেন্টাল টেকনোলজিস্টদের স্বাধীনভাবে প্রাইভেট প্র্যাকটিস করার সুযোগ দিয়ে হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছিল, তা বাতিল করেছেন আপিল বিভাগ।

বুধবার (২৪ জুন) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) করা আপিল মঞ্জুর করে এই আদেশ দেন।
এ রায়ের ফলে ডেন্টাল সহযোগীরা এখন থেকে কেবল নিবন্ধিত ডেন্টাল সার্জনদের অধীনে সহকারী হিসেবে কাজ করতে পারবেন। নিজস্ব চেম্বার খুলে স্বাধীনভাবে রোগী দেখে ব্যবস্থাপত্র দিতে পারবেন না।

শুনানিতে বিএমডিসির পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান খান ও কাজী এরশাদুল হক। ডেন্টাল চিকিৎসকদের পক্ষে আইনজীবী আহসানুল করিম ও আনোয়ার হোসেন এবং রিটকারীদের পক্ষে ছিলেন শিশির মনির ও সায়েদা নাসরিন।

ডেন্টাল চিকিৎসকদের আইনজীবী আনোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের জানান, ডেন্টাল টেকনোলজিস্টরা এসএসসি পাসের পর ‘ডিপ্লোমা ইন মেডিকেল ডেন্টিস্ট্রি’ ডিপ্লোমা কোর্সে ভর্তি হন। তাদের এই কোর্সের মূল কারিকুলামটিই এমনভাবে তৈরি, যাতে তারা ডেন্টিস্টদের সহকারী হিসেবে কাজ করতে পারেন।

তিনি বলেন, “কিন্তু তারা পরবর্তীতে একটি আবেদনের মাধ্যমে স্বাধীনভাবে প্রাইভেট প্র্যাকটিস করার অনুমতি দাবি করেন। হাইকোর্ট বিভাগ আগে তাদের পক্ষে ১০টি ক্রাইটেরিয়া নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন, যার মধ্যে জীবন রক্ষাকারী ওষুধ ও অ্যান্টিবায়োটিক প্রেসক্রাইব করার মতো বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত ছিল।”

আইনজীবী  জানান, হাইকোর্টের দেওয়া রায় চ্যালেঞ্জ করে সিভিল পিটিশন (সিপি) দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে আদালত লিভ মঞ্জুর করেছিলেন এবং চূড়ান্ত শুনানির পর সিভিল আপিলটি মঞ্জুর করেছেন। এর ফলে, হাইকোর্টের দেওয়া সেই রায় আর বহাল নেই। আদালতের এই সিদ্ধান্তের পর থেকে ডেন্টাল টেকনোলজিস্টরা এখন থেকে স্বাধীনভাবে প্রাইভেট প্র্যাকটিস করতে পারবেন না এবং নিজস্ব চেম্বার খুলে স্বাধীনভাবে রোগী দেখতে পারবেন না।

আনোয়ার হোসেন জানান, তারা কেবল নিবন্ধিত ডেন্টাল সার্জনদের অধীনে সহকারী হিসেবে কাজ করতে পারবেন। তারা যদি পরবর্তীতে নতুন করে আবেদন করেন এবং কর্তৃপক্ষ যদি তা বিবেচনা করে, সেটি ভবিষ্যতের বিষয়।


বিডিএলপিবি/এমএম

সকালে গ্রেফতার-দুপুরে জামিন, নাভানা গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সাজেদুল ইসলামের

সকালে গ্রেফতার-দুপুরে জামিন, নাভানা গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সাজেদুল ইসলামের

ছবিঃ সংগৃহীত

শ্রম আইনের মামলায় গ্রেফতার হওয়া নাভানা গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সাজেদুল ইসলাম শুভ্রসহ আত্মসমর্পণ করা চার আসামির জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত। বুধবার (২৪ জুন) ঢাকার প্রথম শ্রম আদালতের বিচারক গোলাম আজম তাদের জামিন মঞ্জুর করেন। আদালত সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এর আগে একই দিন ভোরে সাজেদুল ইসলাম শুভ্রকে গ্রেফতার করে তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা পুলিশ। গ্রেফতারের পর তাকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। একই মামলার আরও তিন আসামিও আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তাদের জামিন মঞ্জুর করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আফতাব অটোমোবাইলসের এক সাবেক কর্মকর্তার প্রায় ২৩ লাখ টাকা পাওনা পরিশোধ না করায় দায়ের করা শ্রম আইনের মামলায় সাজেদুল ইসলাম শুভ্রের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন ঢাকার প্রথম শ্রম আদালত। এর আগে মঙ্গলবার রাত থেকে সাজেদুল ইসলামের বাসার সামনে অবস্থান নেয় পুলিশ। তবে গভীর রাত পর্যন্ত বাসার ভেতরে প্রবেশ করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। পরে বুধবার ভোরে তাকে গ্রেফতার করা হয়। মামলাটির পরবর্তী কার্যক্রম আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী চলবে বলে জানা গেছে।


বিডিএলপিবি/এমএম

নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো মমতাজকে

নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো মমতাজকে

ছবিঃ সংগৃহীত 
জুলাই আন্দোলনে রাজধানীর মিরপুর মডেল থানাধীন এলাকায় মো. মুক্তার হোসেনকে হত্যাচেষ্টা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য ও কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগমকে ফের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। আজ বুধবার (২৪ জুন) পুলিশের আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালত এই আদেশ দেন।

এর আগে, মমতাজকে আদালতে হাজির করে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মিরপুর মডেল থানার উপপরিদর্শক মো. আজিজুল হক। এদিন আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পাবলিক প্রসিকিউটর পিপি ওমর ফারুক ফারুকী মমতাজ বেগমকে গ্রেপ্তার দেখানোর পক্ষে শুনানি করেন।

গ্রেপ্তারের আবেদনে বলা হয়, আসামির এই মামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। এজন্য আসামিকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো একান্ত প্রয়োজন। মামলার তদন্ত চলমান। আসামিকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলে তাকে মামলার ঘটনার বিষয়ে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পরবর্তীতে পুলিশ রিমান্ডের আবেদন করা হতে পারে।

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট জুলাই আন্দোলনের সময়ে বাদী ও ভিকটিম মো. মুক্তার হোসেন মিরপুরের সুইমিং ও ফায়ার সার্ভিসের রাস্তায় আন্দোলনে যোগ দেন। আন্দোলন দমাতে পুলিশ ও আওয়ামী লীগের লোকজন তাদের ওপর হামলা ও গুলিবর্ষণ করে। পুলিশের ছোড়া রাবার বুলেট মুক্তার হোসেনের শরীর ও বুকে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে পরে যায়। পরবতীতে কুর্মিটোলা হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করেন। এ ঘটনায় মুক্তার একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় সন্দিগ্ধ আসামি হিসেবে মমতাজ বেগমকে গ্রেপ্তার দেখানো হলো।

২০২৫ সালের ১২ মে রাত পৌনে ১২টায় ধানমন্ডির স্টার কাবাবের পেছনের একটি বাসা থেকে মমতাজকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। পরদিন তার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন ঢাকার সিএমএম আদালত। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আছেন।

লোকসংগীতের জনপ্রিয় শিল্পী মমতাজ নবম সংসদ নির্বাচনের পর ২০০৯ সালে সংরক্ষিত নারী আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য হন। পরে ২০১৪ সালে তাকে আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দেয়। ২০১৮ সালেও নৌকা নিয়ে জয় পাওয়া মমতাজ ২০২৪ সালের জানুয়ারির নির্বাচনে এক স্বতন্ত্র প্রার্থীর কাছে হেরে যান।


বিডিএলপিবি/এমএম 

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট

ছবিঃ সংগৃহীত
মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার পরিচালনার জন্য প্রণীত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের বৈধতা প্রশ্নবিদ্ধ করে হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করা হয়েছে। বুধবার (২৪ জুন) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মহসীন রশিদ এ রিট দায়ের করেন। আইন সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের রিটে বিবাদী করা হয়েছে।

রিটে রুল জারি করে বিবাদীদের কারণ দর্শাতে নির্দেশ দেওয়ার আবেদনের পাশাপাশি, কেন প্রতিপক্ষ সরকারের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হবে না, যাতে তারা আইন অনুযায়ী ১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন রহিত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। 

রিটে এই আবেদনের কারণ হিসাবে দেখানো হয় যে, আইনটি তার উদ্দেশ্য পূরণ করে ফেলেছে এবং ভবিষ্যতে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে বিচারিকভাবে হত্যার অস্ত্র হিসেবে এর অপব্যবহার ও অপপ্রয়োগ প্রতিরোধ করা প্রয়োজন। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন সংবিধানের বিধানগুলোর পরিপন্থি উল্লেখ করে তা অবৈধ ও বাতিল চাওয়া হয়েছে। 


বিডিএলপিবি/এমএম 
 এমপি মনিরুল হককে নিয়ে কটুক্তি: মুফতি ফয়জুল করীমের বিরুদ্ধে মামলা

এমপি মনিরুল হককে নিয়ে কটুক্তি: মুফতি ফয়জুল করীমের বিরুদ্ধে মামলা

ছবি: সংগৃহীত 

কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক, মানহানিকর ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য প্রচারের অভিযোগে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীমের বিরুদ্ধে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় মামলা করা হয়েছে। 

গত ২০ জুন জালাল আহমেদ খোকন তালুকদার নামে এক ব্যক্তি বাদী হয়ে মামলাটি করেন। নিজেকে কুমিল্লা মহানগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দাবি করলেও মহানগর যুবদলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে—বাদী খোকন যুবদলের কোনও স্তরেরই সদস্য নন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ জুন বিভিন্ন ফেসবুক আইডি ও ইউটিউব চ্যানেলে কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীকে নিয়ে কটূক্তি, বিদ্রুপ এবং মানহানিকর বক্তব্য প্রচার করা হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, একটি ইউটিউব ভিডিওতে সংসদ সদস্যের দাড়ি, টুপি ও পোশাক নিয়ে বিদ্রুপাত্মক মন্তব্য করা হয়েছে। এছাড়া একটি ফেসবুক আইডি থেকে তার ছবি ব্যবহার করে তাকে ‘গুপ্ত আওয়ামী লীগ নেতা’ ও ‘ইসলামবিদ্বেষী’ আখ্যা দিয়ে পোস্ট দেওয়া হয়।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়—মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও উসকানিমূলক তথ্য ছড়িয়ে সংসদ সদস্যের রাজনৈতিক, সামাজিক ও ব্যক্তিগত সুনাম ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করেছেন।


বিডিএলপিবি/এমএম


অনলাইন জুয়া ও ফিক্সিং প্রতিরোধে সংসদে বিল উত্থাপন: সর্বোচ্চ সাজা ৭ বছরের কারাদণ্ড

অনলাইন জুয়া ও ফিক্সিং প্রতিরোধে সংসদে বিল উত্থাপন: সর্বোচ্চ সাজা ৭ বছরের কারাদণ্ড

ছবি: সংগৃহীত 

সব ধরনের জুয়া, বেটিং ও ম্যাচ ফিক্সিংয়ের মতো অপরাধ কঠোরভাবে দমনের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে নতুন একটি বিল উত্থাপন করা হয়েছে। এতে ডিজিটাল ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মের জুয়া প্রতিরোধে যুগোপযোগী সাজার প্রস্তাব করা হয়েছে, যেখানে অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড ও পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে।

মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ সংসদে ‘জুয়া প্রতিরোধ’ নামের এই বিলটি উত্থাপন করেন। মূলত ১৫৭ বছরের পুরোনো ‘দ্য পাবলিক গ্যাম্বলিং অ্যাক্ট, ১৮৬৭’ বাতিল করে আধুনিক ও সময়োপযোগী এই আইনটি প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বিলটি যাচাই-বাছাই করে আগামী পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য আইন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছে।

প্রস্তাবিত আইনে অনলাইন জুয়া, স্পট ফিক্সিং, বাজি বা পণসহ মোট ২৪টি বিষয়কে স্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করে অপরাধের ধরন অনুযায়ী ১৪ মাত্রার শাস্তির কথা বলা হয়েছে।

নতুন বিধান অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সাধারণ জুয়ায় জড়ালে তাকে দুই বছরের কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা জরিমানা কিংবা উভয় দণ্ড ভোগ করতে হবে। তবে অনলাইন বা দূরবর্তী জুয়ার ক্ষেত্রে এই সাজা বেড়ে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।

এছাড়া অপরাধের মাত্রায় সবচেয়ে কঠোর সাজা রাখা হয়েছে অনলাইন বেটিংয়ের ক্ষেত্রে। কেউ এতে সম্পৃক্ত হলে তাকে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড বা পাঁচ কোটি টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি ম্যাচ ও স্পট ফিক্সিংয়ের জন্য অনূর্ধ্ব সাত বছরের জেল বা সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে বিলে।

বিলটি উত্থাপনের যৌক্তিকতা তুলে ধরে বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দেড় শতাব্দীর পুরোনো আইনটি দিয়ে বর্তমান সময়ের ভার্চ্যুয়াল ক্যাসিনো, ক্রিপ্টোকারেন্সিভিত্তিক জুয়া, স্পোর্টস বেটিং ও ডিজিটাল আর্থিক জালিয়াতি মোকাবিলা করা কোনোভাবেই সম্ভব হচ্ছিল না।

তাছাড়া ২০১৮ সালের জেলা প্রশাসক সম্মেলনেও মাঠপর্যায়ে প্রয়োগের সুবিধার্থে আইনটি যুগোপযোগী করার প্রস্তাব এসেছিল। সংবিধানেও জুয়া নিরোধে রাষ্ট্রের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা রয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, ভিপিএন, ভুয়া মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল অ্যাকাউন্ট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে জুয়া ও অর্থ পাচারের কারণে দেশের অর্থনীতি, জনশৃঙ্খলা, নিরাপত্তা ও তরুণ সমাজ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে। তাই সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে প্রযুক্তিনির্ভর এসব অপরাধ ঠেকাতে এবং রাষ্ট্রের সার্বিক অর্থনৈতিক ও নৈতিক ভারসাম্য রক্ষায় এই নতুন আইন প্রণয়ন অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।


বিডিএলপিবি/এমএম

লিখিত পরীক্ষায় অনুপস্থিত থেকেও রিভিউ আবেদন: বার কাউন্সিলের "কারণ দর্শানো নোটিশ"

লিখিত পরীক্ষায় অনুপস্থিত থেকেও রিভিউ আবেদন: বার কাউন্সিলের "কারণ দর্শানো নোটিশ"


ছবি: সংগৃহীত 

গত ২৮/০৬/২০২৫ তারিখে অনুষ্ঠিত বার কাউন্সিল এনরোলমেন্ট লিখিত পরীক্ষায় অনুপস্থিত থেকেও এবং পরীক্ষায় সম্পূর্ণ সাদা খাতা জমা দেওয়া সত্ত্বেও সেই পরীক্ষার উত্তরপত্র রিভিউ দাবি করা দুই প্রার্থীকে কারন দর্শানোর নোটিশ পাঠিয়েছে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল। গতকাল, ২৩ জুন, দুইজন পরীক্ষার্থীকে এই নোটিশ প্রেরণ করে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল।

এম.আর. আকাশ নামে একজন পরীক্ষার্থীকে পাঠানো নোটিশে বলা হয়, "যে লিখিত পরীক্ষায় আপনি অংশগ্রহণই করেন নাই সে পরীক্ষার উত্তরপত্র/ফলাফল কীসের ভিত্তিতে পুনঃমূল্যায়ণ/রিভিউ করতে চেয়েছিলেন এবং কোন্ মানদন্ডে বা কোন্ প্রক্রিয়ায় আপনার সেই 'অদৃশ্য'/'কল্পিত' উত্তরপত্র রিভিউ করা যেতো, সে বিষয়ে ব্যাখ্যাসহ আপনার বিরুদ্ধে কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না সেই মর্মে আগামী ১০ (দশ) কর্মদিবসের মধ্যে 'সচিব, বাংলাদেশ বার কাউন্সিল'--বরাবরে কারণ দর্শানোর জন্য আপনাকে নির্দেশক্রমে বলা হলো।"

এছাড়া, মুহাম্মদ সাইফুল আমিন নামে অন্য আর এক পরীক্ষার্থীকে পাঠানো নোটিশে বলা হয়, যে লিখিত পরীক্ষায় আপনি উত্তরপত্রে একটি অক্ষরও লিখেন নাই তথা সম্পূর্ণ সাদা খাতা জমা প্রদান করেছেন সেই পরীক্ষার ব্ল‍্যাঙ্ক/সাদা উত্তরপত্র কীসের ভিত্তিতে পুনঃমূল্যায়ণ/ রিভিউ করতে চেয়েছিলেন এবং কোন্ মানদন্ডে বা কোন্ প্রক্রিয়ায় আপনার সেই 'অদৃশ্য'/'কাল্পনিক' প্রশ্নোত্তর রিভিউ করা যেতো, সে বিষয়ে ব্যাখ্যাসহ আপনার বিরুদ্ধে কেন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না সেই মর্মে আগামী ১০ (দশ) কর্মদিবসের মধ্যে 'সচিব, বাংলাদেশ বার কাউন্সিল' --বরাবরে কারণ দর্শানোর জন্য নির্দেশক্রমে আপনাকে বলা হলো।

বিডিএলপিবি/এমএম

২৩ জুন, ২০২৬

একযোগে পদত্যাগ করলেন ১৭ ডেপুটি ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল

একযোগে পদত্যাগ করলেন ১৭ ডেপুটি ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল

ছবিঃ সংগৃহীত 

১০ জন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও ৭ জন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল পদত্যাগ করেছেন। গতকাল (সোমবার, ২২ জুন) অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে জামায়াতপন্থি আইন কর্মকর্তারা একযোগে পদত্যাগপত্র জমা দেন। পদত্যাগকারী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও  সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলগণ আজ (মঙ্গলবার, ২৩ জুন) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

পদত্যাগকারী ৭ ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হলেন— ইউসুফ আলী, শফিকুর রহমান, আবদুল করিম, ফরিদ উদ্দিন খান, গোলাম রহমান ভুঁইয়া, আসাদ উদ্দিন ও তারিকুল ইসলাম।

এ ছাড়া ১০ সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল হলেন— ইমরুল কায়েছ রানা, হুমায়ুন কবির তানিম, আবদুল কাইয়ুম ভুঁইয়া, আবদুল্লাহিল মারুফ ফাহিম, জোয়াদুর রহমান, শামসিল আরেফিন, মাহাবুবা আক্তার রলি, নূর নবী উজ্জ্বল, আল রেজা আমির ও রেজাউল ইসলাম।


বিডিএলপিবি/এমএম 


টোল আদায়ে অনিয়ম: শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন ২০ সেপ্টেম্বর

টোল আদায়ে অনিয়ম: শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন ২০ সেপ্টেম্বর

ছবিঃ সংগৃহীত
মেঘনা-গোমতী সেতুর টোল আদায়ের চুক্তিতে অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে সরকারের ৩০৯ কোটি টাকার ক্ষতি সাধনের অভিযোগে বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক ছয় মন্ত্রী ও সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ২০ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেন ঢাকার একটি আদালত।

আজ ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতে মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল। মামলার তদন্ত সংস্থা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) প্রতিবেদন দাখিল করেনি। এ জন্য ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মোহাম্মদ আলমগীর মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ২০ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেন।

২০২৫ সালের ১২ অক্টোবর শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন দুদক। আসামিদের বিরুদ্ধে দ-বিধির ৪০৯/৪২০/১০৯ ধারা ও দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারার অভিযোগ আনা হয়েছে।

শেখ হাসিনা ছাড়াও মামলার অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক মন্ত্রী আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ওবায়দুল কাদের, আনিসুল হক, প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান, সচিব এম এ এন ছিদ্দিক, অতিরিক্ত সচিব মো. ফারুক জলিল, উপ-সচিব মোহাম্মদ শফিকুল করিম, প্রকৌশলী মো. ফিরোজ ইকবাল, ইবনে আলম হাসান, মো. আফতাব হোসেন খান, মো. আব্দুস সালাম এবং সিএনএস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুনীর উজ জামান চৌধুরী, পরিচালক সেলিনা চৌধুরী ও ইকরাম ইকবাল।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১৬ সালে কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সিস্টেম লিমিটেড (সিএনএস)-কে একক উৎসভিত্তিক দরপত্রের মাধ্যমে টোল আদায়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। পূর্বের বৈধ টেন্ডার বাতিল করে অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই চুক্তিটি সম্পাদন করা হয়।

সিএনএস লিমিটেডকে টাকার অংকে নয় বরং মোট আদায়কৃত টোলের ১৭.৭৫ শতাংশ সার্ভিস চার্জে (ভ্যাট ও আইটি ব্যতীত) কার্যাদেশ দেওয়া হয়। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটি ৪৮৯ কোটি টাকার বেশি বিল গ্রহণ করে। অথচ ২০১০-২০১৫ মেয়াদে একই সেতুতে যৌথভাবে এমবিইএল-এটিটি কোম্পানিকে টোল আদায়ের দায়িত্ব দিতে খরচ হয়েছিল মাত্র ১৫ কোটি টাকার কিছু বেশি।

২০২২-২০২৫ মেয়াদে ইউডিসি কনস্ট্রাকশন লিমিটেড একই ধরনের প্রযুক্তিতে তিন বছরের জন্য ৬৭ কোটি টাকায় চুক্তি পায়, যা পাঁচ বছরে রূপান্তর করলে প্রায় ১১২ কোটি টাকা হয়। ফলে সিএনএস লিমিটেডকে একক উৎসভিত্তিক চুক্তির মাধ্যমে দায়িত্ব দেওয়ায় সরকারের ৩০৯ কোটি টাকার বেশি আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।


বিডিএলপিবি/এমএম

সোর্স- বাসস 

দুর্নীতির মামলায় সাবেক আইজিপি বেনজীরের বিরুদ্ধে আরও ৪ জনের সাক্ষ্য প্রদান

দুর্নীতির মামলায় সাবেক আইজিপি বেনজীরের বিরুদ্ধে আরও ৪ জনের সাক্ষ্য প্রদান

ছবিঃ সংগৃহীত

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এ আরও চারজন সাক্ষ্য দিয়েছেন। সাক্ষীরা হলেন- নরসিংদীর কর কমিশনার কার্যালয়ের প্রধান সহকারী মো. সোহেল মিয়া, সোনারগাঁওয়ের সাব-রেজিস্ট্রার মো. রিয়াজুল ইসলাম, গণপূর্ত বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আসেফ আয়নান বখস ও দুদকের উপ-পরিচালক সিরাজুল হক।

মঙ্গলবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক আব্দুল্লাহ আল মামুনের আদালতে তারা সাক্ষ্য দেন। এরপর আদালত মামলার পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আগামী ১ জুলাই দিন ধার্য করেন। এ নিয়ে এ মামলায় ২৮ জন সাক্ষীর মধ্যে আটজনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়েছে।

দুর্নীতি দমন কমিশন সম্পদ বিবরণী দাখিলের নির্দেশ দিলে বেনজীর আহমেদ ২০২৪ সালের ২৭ আগস্ট আইনজীবীর মাধ্যমে সম্পদের হিসাব দাখিল করেন। হিসাবে তিনি ৬ কোটি ৪৫ লাখ ৩৭ হাজার ৩৬৫ টাকার স্থাবর সম্পদ এবং ৫ কোটি ৭৪ লাখ ৮৯ হাজার ৯৬৬ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য দেন।

তবে দুদকের তদন্তে বেনজীরের নামে ৭ কোটি ৫২ লাখ ৬৮ হাজার ৯৮৭ টাকার স্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। অর্থাৎ তিনি ১ কোটি ৮৫ লাখ ৩১ হাজার ৬২২ টাকার স্থাবর সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। এছাড়া তার নামে ৮ কোটি ১৫ লাখ ৩১ হাজার ২৬৪ টাকার অস্থাবর সম্পদ থাকার প্রমাণ পেয়েছে দুদক, যা তার ঘোষণার তুলনায় ২ কোটি ৪০ লাখ ৪১ হাজার ২৯৮ টাকা বেশি।

দুদকের হিসাবে, বেনজীর আহমেদ ১১ কোটি ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৫৭৬ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন। সম্পদ বিবরণীতে তথ্য গোপন, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগ পাওয়ায় ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১-এ বেনজীরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন দুদকের উপ-পরিচালক হাফিজুল ইসলাম।

মামলাটি তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর বেনজীরের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন দুদকের উপ-পরিচালক হাফিজুল ইসলাম। চার্জশিটে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারা, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারা, এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা অনুযায়ী অভিযোগ আনা হয়েছে। গত ৩ মে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক আব্দুল্লাহ আল মামুন।



বিডিএলপিবি/এমএম 

সোর্স- বাসস 

রংপুরে মাদকবিরোধী অভিযানে ৬ জনের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড

রংপুরে মাদকবিরোধী অভিযানে ৬ জনের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড

ছবিঃ সংগৃহীত

মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত মাদকবিরোধী অভিযানে ছয়জনকে কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, রোববার বিকেলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, রংপুর ‘ক’ সার্কেল এবং জেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত এক অভিযান চালায়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজী মো. শাহানের নেতৃত্বে মহানগরের কোতোয়ালি ও পরশুরাম থানার বিভিন্ন এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়েছে। অভিযানে শূণ্য দশমিক চার গ্রাম হেরোইন ও ২০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয় এবং ছয়জনকে আটক করা হয়। 

পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত প্রত্যেককে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১০০ টাকা করে অর্থদণ্ড প্রদান করেন। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— মো. মমিনুল ইসলাম (২৪), মো. মেহেদী হাসান (২৭), মো. আবুল (৪৩), মো. সুলতান (৪৮), মো. সুরুজ মিয়া (৪২) এবং মো. শহিদুল ইসলাম (৩০)।

অভিযানে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জেলা কার্যালয়, রংপুরের পরিদর্শক এস এম এলতাস উদ্দিন, উপ-পরিদর্শক মো. মোসাদ্দেক হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, মাদকের অপব্যবহার ও অবৈধ বেচাকেনা রোধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।


বিডিএলপিবি/এমএম 

সুত্রঃ বাসস 

পদত্যাগ করলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বদিউজ্জামান তপাদার

পদত্যাগ করলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বদিউজ্জামান তপাদার

ছবি: সংগৃহীত 

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বদিউজ্জামান তপাদার তার পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। সোমবার (২২ জুন) রাষ্ট্রপতির কাছে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেন। অ্যাটর্নি জেনারেলের মাধ্যমে পদত্যাগপত্রটি রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হয়েছে।

পদত্যাগপত্রে বদিউজ্জামান তপাদার উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের অভ্যুত্থানের পর ওই বছরের আগস্ট মাসে তাকে বাংলাদেশের ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, তার নাম প্রস্তাবকারী এবং সুপারিশকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে শ্রদ্ধা, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন। তবে বর্তমানে ব্যক্তিগত বিশেষ অসুবিধার কারণে তিনি ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পদত্যাগপত্রে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তার পদত্যাগ গ্রহণের অনুরোধ জানান।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের আগস্টে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে তিনি রাষ্ট্রের পক্ষে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আইনগত বিষয়ে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।


বিডিএলপিবি/এমএম

২২ জেলা ও দায়রা জজকে বদলি, প্রজ্ঞাপন জারি

২২ জেলা ও দায়রা জজকে বদলি, প্রজ্ঞাপন জারি

ছবি: সংগৃহীত 

দেশের বিভিন্ন আদালতে কর্মরত জেলা ও দায়রা জজ পদমর্যাদার ২২ জন বিচারককে বদলি করেছে সরকার। সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শক্রমে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

জনস্বার্থে জারি করা এই আদেশে সংশ্লিষ্ট বিচারকদের আগামী ২৪ জুনের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থলের দায়িত্ব হস্তান্তর করে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে বলা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তারা নতুন দায়িত্ব পালন করবেন।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, খুলনার বিভাগীয় বিশেষ জজ মো. আসহারুল ইসলামকে নড়াইলের জেলা ও দায়রা জজ, সুনামগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানকে সুনামগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ এবং নীলফামারী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১–এর বিচারক প্রিয়া তাসনিম মাহমুদকে নীলফামারীর জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

এছাড়া ঢাকার প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল-২–এর সদস্য মোহাম্মদ আল মামুনকে কিশোরগঞ্জ এবং চট্টগ্রামের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. জাহিদুল হককে পঞ্চগড়ের জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

নিবন্ধন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক (নিবন্ধন) কাজী আবুবকর হান্নানকে চট্টগ্রামের জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। অন্যদিকে রংপুরের জেলা ও দায়রা জজ ফজলে মোহাম্মদ নাঈমকে চট্টগ্রামের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক এবং নোয়াখালীর জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ মোসাদ্দেক ইবনে আজিজকে আইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত কর্মকর্তা হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

একই সঙ্গে আইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত থাকা আরও কয়েকজন বিচারককে বিভিন্ন আদালত ও ট্রাইব্যুনালে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকার বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালত, রাজশাহীর মহানগর দায়রা জজ আদালত, সিলেটের বিভিন্ন ট্রাইব্যুনাল এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একাধিক বিচারককে পদায়ন করা হয়েছে।


বিডিএলপিবি/এমএম

২২ জুন, ২০২৬

অপপ্রচার রোধে অনিবন্ধিত অনলাইন পোর্টাল বন্ধে হাইকোর্টে রিট

অপপ্রচার রোধে অনিবন্ধিত অনলাইন পোর্টাল বন্ধে হাইকোর্টে রিট

ছবি: সংগৃহীত 

রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর তথ্য প্রচার বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে।

সোমবার (২২ জুন) জনস্বার্থে রিটটি দায়ের করেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী ও ন্যাশনাল লইয়ার্স কাউন্সিলের চেয়ারম্যান এসএম জুলফিকুর আলী (জুনু)। রিটে স্বরাষ্ট্র সচিব, তথ্য ও সম্প্রচার সচিব, বিটিআরসির চেয়ারম্যান, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), র‌্যাবের মহাপরিচালক, ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার, সিআইডি’র প্রধান এবং সিআইডি সাইবার পুলিশ সেন্টারের প্রধানকে বিবাদী করা হয়েছে।

আবেদনে উল্লেখ করা হয়, কিছু অনলাইন পোর্টাল, ফেসবুক পেজ, ইউটিউব চ্যানেল ও অন্যান্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। এর ফলে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে।

রিটে আরও বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে বিষয়টি উপস্থাপন করা হলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। তাই সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে হাইকোর্টের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে আবেদনকারী উল্লেখ করেছেন।

রিট আবেদনে সংশ্লিষ্ট অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোর কার্যক্রম তদন্ত, প্রকৃত মালিকানা ও নিবন্ধন যাচাই, আইনবিরোধী কনটেন্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, প্রয়োজনে অনিবন্ধিত বা বেআইনি কার্যক্রমে জড়িত প্ল্যাটফর্ম বন্ধ বা ব্লক করা এবং অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

আবেদনকারী আইনজীবী এসএম জুলফিকুর আলী (জুনু) বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা গণতন্ত্রের মৌলিক ভিত্তি হলেও মিথ্যা তথ্য, গুজব, সাইবার হয়রানি ও মানহানিকর প্রচারণা সেই স্বাধীনতার অংশ নয়। রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি, আইনের শাসন ও জনস্বার্থ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলেও তিনি মন্তব্য করেন।


বিডিএলপিবি/এমএম

২১ জুন, ২০২৬

বিচারকদের সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান প্রধান বিচারপতির

বিচারকদের সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান প্রধান বিচারপতির


ছবিঃ সংগৃহীত

বিচার বিভাগের বিদ্যমান সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করে বিচারপ্রার্থীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিতকল্পে বিচারকদের সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে বিচারিক দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী।

ঢাকা বিভাগে কর্মরত জুডিসিয়াল সার্ভিসের সদস্যদের উদ্দেশে দেওয়া অভিভাষণে প্রধান বিচারপতি আজ এ আহ্বান জানান।

সুপ্রিম কোর্টের গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আজ সকাল ১০ টায় সুপ্রিম কোর্টে ঢাকা বিভাগে কর্মরত জুডিসিয়াল সার্ভিসের সকল সদস্যের উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী অভিভাষণ প্রদান করেন। অনুষ্ঠানে ঢাকা বিভাগের সকল জেলা ও দায়রা জজ, মহানগর দায়রা জজ, চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটগণ তাঁদের বক্তব্যে বিচারকদের আর্থিক স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ, বিচার বিভাগের বাজেট বৃদ্ধি, জরুরি ভিত্তিতে এজলাস, খাসকামরা, রেকর্ডরুম, মালখানা ও আবাসন-সংকট নিরসনের পাশাপাশি অবকাঠামোগত উন্নয়ন, আদালত ও বিচারকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, ডিজিটাইজেশন এবং প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তা প্রদানের বিষয়সমূহ তুলে ধরেন। প্রধান বিচারপতি তাঁর অভিভাষণে জুডিসিয়াল সার্ভিসের সদস্যদের বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেন। সেই সাথে প্রধান বিচারপতি উল্লেখ করেন যে, বিচার বিভাগের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, ডিজিটাইজেশন, বিচাকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, বিচারকদের দেশি-বিদেশি প্রশিক্ষণ, প্রতিটি জেলা আদালতে মেডিকেল সেন্টার ও ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপন, স্পিচ-টু-টেক্সট সফটওয়্যার তৈরি ও ব্যবহার এবং বিচারকদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন। 

তিনি আরো বলেন, প্রধান বিচারপতি বিচার বিভাগের বিদ্যমান সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করে বিচারপ্রার্থীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিতকল্পে বিচারকদের সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে বিচারিক দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

আজকের অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বিচারিক কর্মকর্তাদের উত্থাপিত বিষয়গুলোর সঙ্গে একমত পোষণ করেন। পাশাপাশি তিনি তাঁর বক্তব্যে বিচার বিভাগের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, বিচারকদের আর্থিক স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ এবং সেজন্য বিচার বিভাগের জন্য বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।


সংবাদঃ বাসস

বিডিএলপিবি/এমএম

২০ জুন, ২০২৬

মানহানির মামলায় সাংবাদিক গ্রেপ্তারের ঘটনায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের দুঃখ প্রকাশ

মানহানির মামলায় সাংবাদিক গ্রেপ্তারের ঘটনায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের দুঃখ প্রকাশ

ছবি: সংগৃহীত 

দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন' পত্রিকার চারজন সাংবাদিকের নামে মামলার ঘটনা ও সাংবাদিক গ্রেপ্তারের বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বিষয়টির শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহবান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে নিজেকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে অপতথ্য ছড়ানো হচ্ছে বলে প্রতিবাদ জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।

শুক্রবার (১৯ জুন) রাতে প্রতিমন্ত্রীর প্রেস সেক্রেটারি মো. আতিকুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপিকে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের অপতথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে প্রচারিত হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রীর নাম ব্যবহার করে বা তার পক্ষে দাবি করে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কোনো মামলা, বিবৃতি বা অন্য কোনো পদক্ষেপ না নিতে সবার প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে। 

এ ধরনের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রীর কোনো অনুমোদন বা নির্দেশনা নেই বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সম্প্রতি দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন-এর চারজনকে নিয়ে উদ্ভূত ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ পারস্পরিক আলোচনা ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিষয়টির শান্তিপূর্ণ সমাধানে পৌঁছাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, গ্রেুপ্তার হওয়া সাংবাদিক দ্রুত মুক্তি পাবেন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উদ্ভূত মামলার বাদীও একজন সাংবাদিক এবং বগুড়া প্রেসক্লাবের নির্বাচিত কোষাধ্যক্ষ। তাই এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে যেন কোনো ধরনের ভুল বোঝাবুঝি বা উত্তেজনা সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, 'দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন' পত্রিকায় প্রকাশিত 'বগুড়ায় প্রধানমন্ত্রীর সাথে দুর্নীতিবাজ প্রতিমন্ত্রীর জালিয়াতি ফাঁস' শীর্ষক সংবাদ প্রকাশের জেরে  সাইবার সুরক্ষা ও চাঁদাবাজি মামলায় পত্রিকাটির ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মো. রেজানুর ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে বগুড়া জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। 

মামলায় রেজানুর ইসলামসহ মোট ৬ জনকে আসামি করা হয়েছে। অন্য আসামিরা হলেন—পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক মেহেদী হাসান, বার্তা সম্পাদক আশরাফ আলী ফারুকী, বগুড়া প্রতিবেদক শামস ও জেলা প্রতিনিধি মো. সাব্বির হাসান।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, 'দৈনিক অগ্রযাত্রা প্রতিদিন'-এর ফেসবুক পেজে গত ৪ মে "দুর্নীতির বিতর্কে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম" শিরোনামে মানহানিকর ও ভুয়া তথ্য প্রকাশ করা হয়। পরবর্তীতে ১১ জুন "বগুড়ায় প্রধানমন্ত্রীর সাথে দুর্নীতিবাজ প্রতিমন্ত্রী জালিয়াতি ফাঁস" এবং ১২ জুন "এবার সাংবাদিকের উপদেশ দিলেন রাস্তা কাণ্ডে বিতর্কিত প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম" শীর্ষক সংবাদ প্রচার করা হয়।

এজাহারে বাদী তানভীর আলম আরও দাবি করেন, এসব সংবাদের বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতির সময় পত্রিকার সম্পাদক মেহেদী হাসান তার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে কল করে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দিলে মন্ত্রীর পাশাপাশি তানভীর আলমকেও মানহানি করা হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়।



বিডিএলপিবি/এমএম

১৯ জুন, ২০২৬

জুয়া প্রতিরোধ ও পাবলিক পরীক্ষা সংশোধনসহ ৪ আইনের খসড়া অনুমোদন দিল মন্ত্রিসভা

জুয়া প্রতিরোধ ও পাবলিক পরীক্ষা সংশোধনসহ ৪ আইনের খসড়া অনুমোদন দিল মন্ত্রিসভা

ছবি: সংগৃহীত 

‘জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’সহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চারটি আইনের খসড়া ও সংশোধনীর নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ দমন এবং সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

অনুমোদিত ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’-এর মাধ্যমে ব্রিটিশ আমলের পুরোনো ‘দ্য পাবলিক গ্যাম্বলিং অ্যাক্ট, ১৮৬৭’ রহিত করে অত্যন্ত যুগোপযোগী করা হয়েছে। নতুন এই আইনে ঐতিহ্যগত জুয়ার পাশাপাশি অনলাইন গ্যাম্বলিং প্ল্যাটফর্ম, ডিজিটাল ওয়ালেট ব্যবহার করে বাজি ধরা, ক্রিপ্টোকারেন্সি বা ডিজিটাল সম্পদ ব্যবহার, ম্যাচ ফিক্সিং ও স্পট ফিক্সিংকে অপরাধের আওতায় আনা হয়েছে। অপরাধের ধরন অনুযায়ী এতে কঠোর অর্থদণ্ড ও কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

একই বৈঠকে পাবলিক পরীক্ষায় জালিয়াতি, প্রশ্নফাঁস ও জাল সনদ তৈরি রোধে ‘The Public Examinations (Offences) (Amendment) Act, 2026’-এর খসড়া অনুমোদন করা হয়। এই সংশোধনীতে পরীক্ষার ফলাফল বা মেধাতালিকা হ্যাকিং ও অবৈধ পরিবর্তনকে ‘ডিজিটাল ম্যানিপুলেশন’ নামক নতুন অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে সর্বোচ্চ ৫ বছরের কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া সংগঠিত পরীক্ষা জালিয়াতি চক্রের বিরুদ্ধেও কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা থাকছে।

অন্য দুটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের মধ্যে রয়েছে—২০০১ সালের অধীরতা কাটিয়ে ‘বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়’কে একটি পূর্ণাঙ্গ সাধারণ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করতে ‘বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২৬’-এর খসড়া অনুমোদন। এর ফলে এখানে কলা, বাণিজ্য, আইন ও চিকিৎসাবিজ্ঞানসহ সব শাখার দ্বার উন্মুক্ত হবে। পাশাপাশি, ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া অনুমোদনের মাধ্যমে মাদকসংক্রান্ত মামলার দ্রুত নিষ্পত্তিতে বিশেষ ‘মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল’ গঠন, সাইবার স্পেসে মাদক কেনাবেচা রোধ, সীমান্তে কড়া নজরদারি এবং মাদক শনাক্তে বিশেষ ‘ডগ স্কোয়াড’ গঠনের নতুন আইনি ভিত্তি তৈরি হলো। আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং সাপেক্ষে বিলগুলো দ্রুতই সংসদে বা অধ্যাদেশ আকারে জারি করা হবে।


বিডিএলপিবি/এমএম

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীদের প্রীতি ফুটবল ম্যাচঃ আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে ব্রাজিলের জয়

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীদের প্রীতি ফুটবল ম্যাচঃ আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে ব্রাজিলের জয়

ছবিঃ সংগৃহীত

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীদের জমজমাট এক প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। এতে আইনজীবীদের মধ্যে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বড় জয় পেয়েছে ব্রাজিল। ‘অ্যাডভোকেটস সুপ্রিম কোর্ট ব্যাচ-২২’-এর উদ্যোগে আয়োজিত বৃহস্পতিবারের (১৮ জুন) এই ম্যাচে ব্রাজিল ৫-২ গোলের বড় ব্যবধানে জয়লাভ করে।

আইনজীবীদের পেশাগত ব্যস্ততার বাইরে সুস্থ বিনোদন ও সৌহার্দ্য বাড়াতে এই প্রীতি ফুটবল ম্যাচের আয়োজন করা হয়। খেলা শুরুর পর থেকেই মাঠের ফুটবলীয় লড়াইয়ে মেতে ওঠেন কালো কোট ছেড়ে জার্সি গায়ে জড়ানো আইনজীবীরা।

ম্যাচ শেষে বিজয়ী ও রানার্স-আপ দলের খেলোয়াড়দের হাতে ট্রফি তুলে দেওয়া হয়। ট্রফি বিতরণী অনুষ্ঠানে ব্যাচ-২২ এর আইনজীবীরা বলেন, আদালত কক্ষের চেনা আবহ থেকে বেরিয়ে এসে এমন একটি ম্যাচ সবার মাঝে আনন্দ ও ভ্রাতৃত্ববোধ বাড়াতে দারুণ ভূমিকা রেখেছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তাঁরা। 


বিডিএলপিবি/এমএম