১৪ অক্টো, ২০২৬

জাল গ্যারান্টিনামায় ৩০ কোটি টাকা ঋণ, ব্যবসায়ীর ১৬ বছরের কারাদণ্ড

ছবি: সংগৃহীত 
চট্টগ্রামে জাল স্বাক্ষরে ব্যক্তিগত গ্যারান্টিনামা তৈরি করে প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যাংকঋণ নেওয়ার মামলায় ব্যবসায়ী মোহাম্মদ শাহ আলমকে ১৬ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় আদালতে অনুপস্থিত থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. মিজানুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় এ রায় দেওয়া হয়।

জাল গ্যারান্টিনামায় ব্যাংকঋণ

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০০৪ সালে মোহাম্মদ শাহ আলম ও তার ছেলে এসএম পারভেজ আলম তিন সহোদরের স্বাক্ষর জাল করে চারটি ব্যক্তিগত গ্যারান্টিনামা তৈরি করেন। এসব গ্যারান্টিনামায় প্রত্যেকের নামে ২৫ কোটি টাকা করে উল্লেখ করা হয়।

পরে ওই জাল নথি ব্যবহার করে ২০১২ সালে প্রিমিয়ার ব্যাংকের চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ শাখা থেকে পাঁচটি এলটিআর ও একটি সিসি (হাইপো) ঋণসুবিধার বিপরীতে ২৯ কোটি ৯৯ লাখ ৫৯ হাজার ২৮২ টাকা ঋণ নেওয়া হয়।

ঋণের বিপরীতে ৮ কোটি ৩২ লাখ ৩৯ হাজার ৬৪৮ টাকা পরিশোধ করা হলেও বকেয়া থেকে যায় বিপুল পরিমাণ অর্থ। ২০১৪ সালের ১১ আগস্টের হিসাব অনুযায়ী, সুদ ও অন্যান্য চার্জসহ বকেয়া ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় ৩৯ কোটি ৬৮ লাখ ১৪ হাজার ৭১২ টাকা।

২০১৮ সালে দুদকের মামলা, বিচার শুরু ২০২১ সালে

এ ঘটনায় দুদকের চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এর তৎকালীন সহকারী পরিচালক এইচএম আখতারুজ্জামান ২০১৮ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি বাদী হয়ে চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন।

তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। পরে ২০২১ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে মামলার বিচার শুরু হয়।

দুদকের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মোকাররম হোসেন জানান, মামলায় সাতজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ এবং উপস্থাপিত প্রমাণ পর্যালোচনা করে জাল স্বাক্ষরে গ্যারান্টিনামা তৈরি ও তা ব্যবহার করে ব্যাংকঋণ নেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।

চার ধারায় ১৬ বছরের কারাদণ্ড

আদালত দণ্ডবিধির চারটি ধারায় মোহাম্মদ শাহ আলমকে কারাদণ্ড দিয়েছেন। এর মধ্যে দণ্ডবিধির ৪২০ ধারায় তিন বছর, ৪৬৭ ধারায় পাঁচ বছর, ৪৬৮ ধারায় তিন বছর এবং ৪৭১ ধারায় পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

চার ধারায় মোট ১৬ বছরের কারাদণ্ডের পাশাপাশি তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।

রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত না থাকায় তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন আদালত।


সূত্র: ইত্তেফাক ডিজিটাল রিপোর্ট 

বিডি ল' পোস্ট/এম


শেয়ার করুন

0 coment rios: