![]() |
| ছবি: সংগৃহীত |
বিচারপতি শেখ তাহসিন আলী ১৮ মে ২০২৬ তারিখে আবুল কালাম বনাম রাষ্ট্র (সিভিল রিভিশন নং ১৩০৩/২০১৫)- এর রায় ঘোষণা করেন। লক্ষ্মীপুরের সিনিয়র সেশনস জজ আদালতের ৮ জুলাই ২০১৫ তারিখের রায় ও আদেশের বিরুদ্ধে দণ্ডিত আবুল কালামের করা রিভিশন আবেদন মঞ্জুর করা হয়। রায়টির পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি ২৫ অক্টোবর, ২০২৬ তারিখে সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়।
মামলার ঘটনা
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১৯৯৩ সালের ৯ জুন রাত ৯টার দিকে লক্ষ্মীপুরের রামগতি থানার এলাকায় মমতাজ বেগমের শরীরে অ্যাসিড নিক্ষেপের অভিযোগ ওঠে আবুল কালামসহ চারজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা ফজলুল করিম থানায় মামলা করেন।
তদন্ত শেষে পুলিশ দণ্ডবিধির ৩২৬(এ) ধারায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। বিচার শেষে ১৯৯৯ সালের ২৫ আগস্ট তৎকালীন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, লক্ষ্মীপুর চার আসামিকেই দোষী সাব্যস্ত করে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে মামলার প্রধান আসামি মো. হান্নান ও মো. লোকমান হোসেন ওরফে বাবুল আপিল করেন। আপিল আদালত তাঁদের খালাস দেন। তবে একই মামলায় আবুল কালামের করা আপিল ২০১৫ সালের ৮ জুলাই লক্ষ্মীপুরের সিনিয়র সেশনস জজ আদালত খারিজ করে দেন। এরপর তিনি হাইকোর্টে ফৌজদারি রিভিশন দায়ের করেন।
হাইকোর্টে আসামিপক্ষের বক্তব্য
রিভিশন আবেদনে আসামিপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন যুক্তি দেন, মামলার চিকিৎসা-সংক্রান্ত সাক্ষ্য ও অন্যান্য নথিতে অভিযোগের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন রয়েছে। চিকিৎসক হিসেবে সাক্ষ্য দেওয়া পিডব্লিউ-৬ জানান, ভুক্তভোগীর শরীরে বিষাক্ত তরল পদার্থের কারণে আঘাত হয়ে থাকতে পারে। অন্যদিকে, পিডব্লিউ-১-এর জবানবন্দি অনুযায়ী, ঘটনার দুই দিন পর ভুক্তভোগীকে মাইজদী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। কিন্তু আঘাতের চিকিৎসা-সংক্রান্ত কোনো প্রতিবেদন মামলার নথিতে পাওয়া যায়নি বলে আসামিপক্ষ উল্লেখ করে।
আসামিপক্ষ আরও জানায়, আবুল কালাম মোট সাত বছরের কারাদণ্ডের মধ্যে প্রায় তিন বছর কারাভোগ করেছেন।
হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ
আদালত মামলার নথি পর্যালোচনা করে দেখতে পান, সহ-আসামি হান্নান ও লোকমানের ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দি, চিকিৎসা প্রতিবেদন এবং এজাহারের বিবরণ থেকে ভুক্তভোগীর ওপর হামলার জন্য হান্নানকে দায়ী করার বিষয়টি উঠে এসেছে।
এ ছাড়া ভুক্তভোগী মমতাজ বেগম ১৭ জুন ১৯৯৩ তারিখে কোম্পানীগঞ্জ, নোয়াখালীর থানার ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে দেওয়া বক্তব্যে হান্নানকেই ঘটনার জন্য দায়ী করেন। ওই বক্তব্য অনুযায়ী, মমতাজ বেগম হান্নানকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানানোয় ক্ষুব্ধ হয়ে হান্নান তাঁর ওপর হামলা করেন এবং তাঁর শরীরে নিজের নাম লিখে দেন বলে অভিযোগ উঠে আসে।
হাইকোর্ট উল্লেখ করেন, মূল অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত হান্নান ইতোমধ্যে আপিল আদালতে খালাস পেয়েছেন। সে ক্ষেত্রে বর্তমান রিভিশন আবেদনকারী আবুল কালাম তুলনামূলকভাবে অধিক সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। তাই তাঁকেও একইভাবে বিবেচনা করা উচিত।
হাইকোর্টের রায়
মামলার সামগ্রিক তথ্য-উপাত্ত ও পরিস্থিতি বিবেচনায় হাইকোর্ট রিভিশন আবেদনের গ্রহণযোগ্যতা খুঁজে পান। ফলে আদালত ফৌজদারি রিভিশন আবেদনটি মঞ্জুর (Rule made absolute) করেন এবং ২০১৫ সালের ৮ জুলাই লক্ষ্মীপুরের সিনিয়র সেশনস জজ আদালতের দেওয়া দণ্ড ও সাজা বহাল রাখার রায় ও আদেশ বাতিল করেন।
বিডি ল' পোস্ট/ মাসুম

0 coment rios: