২৯ সেপ, ২০২৬

আপিলের সুযোগ থাকলে সন্তান নিয়ে হেবিয়াস করপাস রিট নয়: হাইকোর্টের রায়

সন্তানের হেফাজত নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তিতে প্রচলিত আইনি প্রতিকার অনুসরণের ওপর গুরুত্ব
সন্তানের হেফাজত বা জিম্মা নিয়ে কোনো বিরোধের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আইনে আপিলের কার্যকর সুযোগ থাকলে সরাসরি হেবিয়াস করপাস রিটের মাধ্যমে প্রতিকার চাওয়া যাবে না বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

আদালত বলেছেন, হেবিয়াস করপাস রিটের উদ্দেশ্য মূলত কোনো ব্যক্তিকে বেআইনিভাবে আটক বা হেফাজতে রাখার অভিযোগের প্রতিকার দেওয়া। কিন্তু সন্তানের জিম্মা, অভিভাবকত্ব বা হেফাজত নিয়ে বিরোধের ক্ষেত্রে যদি আইন নির্ধারিত আদালত ও আপিলের মাধ্যমে প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ থাকে, তাহলে সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করাই সংশ্লিষ্ট পক্ষের জন্য প্রযোজ্য আইনি পথ।

শিশুর হেফাজত নিয়ে গর্ভধারিণী মায়ের হেবিয়াস করপাস রিটে জারি করা রুল খারিজ করে বিচারপতি কাজী জিনাত হক ও বিচারপতি আইনুন নাহার সিদ্দিকার হাইকোর্ট বেঞ্চ ২০২৫ সালের ২৪ জুলাই এ রায় দেন। রোজিনা আক্তার বনাম রাষ্ট্র মামলায় হাইকোর্ট এমন রায় দিয়েছেন। আদালতের ২১ পৃষ্ঠার ওই রায়ের মূল অনুলিপি সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। এ মামলার মূল রায়টি লিখেছেন বিচারপতি কাজী জিনাত হক।

মামলার প্রেক্ষাপট:

সন্তানের হেফাজত নিয়ে বিরোধের সূত্র ধরে হাইকোর্টে হেবিয়াস করপাস রিট করা হয়। রিটের মাধ্যমে সন্তানকে আদালতে হাজির করে তার হেফাজতসংক্রান্ত প্রতিকার চাওয়া হয়। তবে আদালতের সামনে প্রশ্ন ওঠে—সন্তানের হেফাজত নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য যখন প্রচলিত আইনে আদালতে যাওয়ার এবং সংশ্লিষ্ট আদেশের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ রয়েছে, তখন একই বিষয়ে সরাসরি হেবিয়াস করপাস রিট গ্রহণ করা যায় কি না। হাইকোর্ট বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রচলিত আইনি প্রতিকার ও হেবিয়াস করপাস রিটের প্রকৃতি বিবেচনা করেন।

হেবিয়াস করপাসের পরিধি:

হেবিয়াস করপাস মূলত বেআইনি আটক বা হেফাজতের বিরুদ্ধে একটি সাংবিধানিক প্রতিকার। এর মাধ্যমে আদালত কোনো ব্যক্তিকে তার হেফাজতে রাখার আইনগত ভিত্তি পরীক্ষা করতে পারেন।

তবে সন্তানের হেফাজতসংক্রান্ত বিরোধে শুধু একজন অভিভাবকের কাছে সন্তান থাকা মানেই তা বেআইনি আটক—এমন ধারণা গ্রহণযোগ্য নয়। সন্তানের কল্যাণ, অভিভাবকত্ব এবং জিম্মার অধিকার নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট পারিবারিক আইন ও আদালতের এখতিয়ার বিবেচনা করা প্রয়োজন।

আপিলের সুযোগ থাকলে বিকল্প প্রতিকার অনুসরণ:

হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণের মূল বিষয় হলো—কোনো পক্ষ যদি আইন অনুযায়ী নির্ধারিত আদালতে তার দাবি উপস্থাপন করতে পারেন এবং সেই আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ থাকে, তাহলে সেই প্রতিকার এড়িয়ে সরাসরি হেবিয়াস করপাস রিট করা সমীচীন নয়।

আদালত এ ক্ষেত্রে প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়ার প্রতি গুরুত্ব দিয়েছেন। অর্থাৎ, সন্তানের হেফাজত বা জিম্মা নিয়ে বিরোধ থাকলে সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী নির্ধারিত আদালতে বিষয়টি নিষ্পত্তির সুযোগ দিতে হবে এবং প্রয়োজন হলে আপিলের পথ অনুসরণ করতে হবে।

রায়ের মূল বক্তব্য:

সন্তানের হেফাজত বা জিম্মা নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য যখন আইন অনুযায়ী আদালতে যাওয়ার এবং আপিলের সুযোগ রয়েছে, তখন সেই কার্যকর আইনি প্রতিকার এড়িয়ে সরাসরি হেবিয়াস করপাস রিট গ্রহণ করা উচিত নয়।

হাইকোর্টের এই সিদ্ধান্তে সন্তানের হেফাজতসংক্রান্ত বিরোধে হেবিয়াস করপাস রিটের সীমা এবং প্রচলিত আইনি প্রতিকারের গুরুত্ব স্পষ্ট হয়েছে।


বিডিএলপিবি/এমএম


শেয়ার করুন

0 coment rios: