![]() |
| ছবি: সংগৃহীত |
ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এস এম সালেহ আহমেদ স্বাক্ষরিত ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত এক পরিপত্রে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ইউএনডিপি বাংলাদেশের সহযোগিতায় ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরের বিভিন্ন ভূমি অফিসে ডাটা এন্ট্রির সময় অনেক নামজারি খতিয়ান অনুপস্থিত বা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এসব খতিয়ান না থাকায় সংশ্লিষ্ট জমির মালিকানা ও নামজারি-সংক্রান্ত তথ্য অটোমেটেড ভূমিসেবা সিস্টেমে যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে না।
পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, নামজারি খতিয়ানের নথি ও স্বাক্ষরিত প্রস্তাবনাপত্র এবং রেজিস্টার-১ ও রেজিস্টার-২ পাওয়া গেলেও খতিয়ানের কপি না থাকলে সংশ্লিষ্ট নামজারি নথি শনাক্ত করে প্রস্তাবনাপত্রের তথ্য রেজিস্টারের সংরক্ষিত তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে হবে। তথ্যের সঠিকতা নিশ্চিত হওয়ার পর রেজিস্টার-২ হতে খতিয়ান নম্বর সংযুক্ত করে খতিয়ানটি নির্ধারিত ছকে পুনঃসৃজন করতে হবে।
পরিপত্র অনুযায়ী, পুনঃসৃজিত খতিয়ানের তথ্য সিস্টেমে এন্ট্রি, যাচাই ও ভ্যালিডেট করার পর সংশ্লিষ্ট অংশ স্ক্যান করে সিস্টেমে আপলোড করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। এরপর খতিয়ান প্রিন্ট করে বর্তমানে কর্মরত সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর মাধ্যমে স্বাক্ষর ও প্রয়োজনীয় প্রত্যয়ন সম্পন্ন করতে হবে।
এতে প্রিন্ট করা খতিয়ানের কপি সংশ্লিষ্ট নামজারি নথিতে সংরক্ষণের পাশাপাশি পুনঃসৃজিত খতিয়ানগুলো ব্যাচ আকারে বাধাই করে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া, নামজারি খতিয়ান ও নথি পাওয়া যাচ্ছে না, কিন্তু রেজিস্টার-২ ও রেজিস্টার-১ রয়েছে—এমন ক্ষেত্রে প্রথমে রেজিস্টারের তথ্যের সঠিকতা নিশ্চিত করতে হবে। সন্দেহ দেখা দিলে কার্যক্রম বন্ধ রেখে প্রয়োজনীয় যাচাই করতে হবে। সঠিকতা নিশ্চিত হলে পরবর্তী ধাপে গিয়ে খতিয়ান পুনঃসৃজনের কাজ সম্পন্ন করতে হবে।
অন্যদিকে, রেজিস্টার-১-এ তথ্য রয়েছে কিন্তু রেজিস্টার-২-তে কোনো তথ্য নেই, এমন ক্ষেত্রে রেজিস্টার-১-এর তথ্য যাচাই করে সন্দেহ না থাকলে কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া যাবে। তবে সন্দেহ, অসামঞ্জস্য বা ঘাটতি দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট নথি ও রেজিস্টার পুনরায় যাচাই করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এটার মাধ্যমে নামজারি অনুমোদন বা নতুন স্বত্ব সৃষ্টি করা যাবে না:
ভূমি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় বিশেষভাবে বলা হয়েছে, খতিয়ান পুনঃসৃজনের মাধ্যমে নতুন করে নামজারি অনুমোদন বা নতুন স্বত্ব সৃষ্টি করা যাবে না। এটি কেবল পূর্বে অনুমোদিত নামজারি খতিয়ানের খতিয়ান পুনঃসৃজন হিসেবে বিবেচিত হবে। যেসব ক্ষেত্রে খতিয়ান নম্বর পাওয়া যাবে না, সেসব ক্ষেত্রে ভূমি মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন অধিশাখার ১৪ আগস্ট ২০২৬ তারিখের ২৮ নম্বর পরিপত্র অনুসরণ করে খতিয়ান নম্বর প্রদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া কোনো নামজারি খতিয়ান পুনঃসৃজনের আগে নিশ্চিত হতে হবে যে সংশ্লিষ্ট নামজারি খতিয়ানটি পূর্বে অন্য কোনো নম্বরযুক্ত খতিয়ান হিসেবে অটোমেটেড ভূমিসেবা সিস্টেমে সংমিশ্রিত হয়নি।
সহকারী কমিশনার (ভূমি)-কে নিজ নিজ উপজেলা/সার্কেল ভূমি অফিস এবং আওতাধীন ইউনিয়ন/পৌর ভূমি অফিসে কার্যক্রম পরিচালনা ও পরিপত্র জারির দুই মাসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট খতিয়ান পুনঃসৃজনের কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ কার্যক্রমের সার্বিক তদারকি করবেন সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব)। পাশাপাশি বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের প্রয়োজনীয় জনবল দিয়ে কাজটি দ্রুত সম্পন্ন করার ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। প্রকল্প পরিচালক, ভূমি ব্যবস্থাপনা অটোমেশন প্রকল্প এবং যুগ্মসচিব, ডিকেএমপি, ভূমি মন্ত্রণালয় কার্যক্রমটির সার্বিক সমন্বয় সাধন করবেন।
বিডিএলপিবি/এমএম

0 coment rios: