একইসঙ্গে ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর মাধ্যমে সংযোজিত এ বিধান কেন সংবিধানবিরোধী, অকার্যকর ও বাতিল ঘোষণা করা হবে না—রুলে তা-ও জানতে চেয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিচারপতি হাবিবুল গনির নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন। রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান।
এর আগে একই বিষয়ে করা রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে হাইকোর্ট রুল জারি করেছিলেন। আজকের সম্পূরক রুলের মাধ্যমে আদালত সংশোধিত আইনটির সাংবিধানিক বৈধতার প্রশ্নটি আরও স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।
রিটে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর মাধ্যমে যুক্ত করা সেই বিধান, যেখানে বিয়ের প্রলোভনে যৌন সম্পর্ক স্থাপনকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করে শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। সংশোধনী আইনের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয় ২০২৫ সালের ২০ মার্চ।
আইনজীবী ইশরাত হাসান গণমাধ্যমে ব্রিফিংয়ে বলেন, সংশোধিত আইনে অপরাধটি ঠিক কোন পরিস্থিতিতে সংঘটিত হবে, তার স্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই। বিয়ের কথা বলার পর শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করলেই অপরাধ হবে, নাকি পরবর্তীতে বিয়ের প্রতিশ্রুতি পালন না করলে অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে—এসব বিষয়ে আইনে পরিষ্কার নির্দেশনা নেই।
তিনি আরও বলেন, একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারী ও পুরুষের সম্মতিমূলক সম্পর্কে উভয়েরই অংশগ্রহণ থাকে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে শুধু পুরুষকে দায়ী করে শাস্তির বিধান রাখা ন্যায়বিচারের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
তার ভাষ্য, এমন বিধানের মাধ্যমে একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারীকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে যেন তিনি সম্পূর্ণভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণে অক্ষম এবং কেবল পুরুষের প্রলোভনের শিকার। অথচ প্রাপ্তবয়স্কদের পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে উভয় পক্ষের ভূমিকা থাকে।
আইনজীবী ইশরাত হাসান বলেন, রাষ্ট্র যদি মনে করে এ ধরনের সম্পর্ক সমাজের জন্য ক্ষতিকর, তাহলে সবার জন্য সমান আইন প্রণয়ন করা উচিত। শুধু এক পক্ষকে শাস্তির আওতায় আনা বৈষম্যমূলক এবং ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।
বিডিএলপিবি/এমএম

0 coment rios: