২২ আগ, ২০২৬

তরুণীকে হত্যার পর মাথা-হাত বিচ্ছিন্ন, হাতের ট্যাটু দেখে সনাক্ত, নারীসহ ৫ জন রিমান্ডে

ছবি: সংগৃহীত 
৬ আগস্ট রাজধানীর সবুজবাগে যে তরুণীর খণ্ডিত মাথা ও দুই হাত উদ্ধার করা হয়েছে, তাঁর পরিচয় পেয়েছে পুলিশ। দুই হাতে থাকা ট্যাটু দেখে ছুরাইয়া আক্তার ওরফে ফালানীকে শনাক্ত করেন তাঁর মা-বাবা।

এই তরুণীকে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার পাঁচ আসামিকে শনিবার চার দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে আদালত। তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মঞ্জুরুল ইসলাম এ আদেশ দেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মো. মোমিন হোসেন এ তথ্য জানিয়েছেন।

রিমান্ডে যাওয়া আসামিরা হলেন—নুসরাত জাহান সাহিদা (১৯), ফারুক ওরফে জামাই ফারুক (৪৫), মো. সুজন (২০), মামুন (২০) ও মো. রাফি ইসলাম ওরফে বাপ্পি (১৯)।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সবুজবাগ থানার এসআই নূরে আলম সিদ্দিকি আসামিদের আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ৬ আগস্ট সকাল ৯টার দিকে সবুজবাগ থানাধীন বাগানবাড়ী কালভার্ট এলাকার একটি গরুর খামারের পাশের সেতুর নিচে অজ্ঞাতনামা এক নারীর খণ্ডিত মাথা এবং পলিথিনে মোড়ানো দুই হাত পড়ে থাকার খবর পায় পুলিশ। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই নারীর মাথা ও দুই হাত উদ্ধার করে তাঁর পরিচয় শনাক্ত করে।

মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, ১৯ বছর বয়সী ফালানী নামের তরুণী মুন্সীগঞ্জের ঢালীকান্দি গ্রামের বজলুল ব্যাপারীর মেয়ে। পরে তাঁর মা-বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে খণ্ডিত মাথার ছবি ও দুই হাতে থাকা ট্যাটু দেখে তাঁরা মরদেহটি তাঁদের মেয়ের বলে শনাক্ত করেন।  ঘটনার আগের সিসিটিভির ভিডিওতে দেখা যায়, ৩ আগস্ট রাত সাড়ে ৯টার দিকে ভুক্তভোগীসহ গ্রেপ্তার আসামিদের এবং আরও বেশ কয়েকজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে বাগানবাড়ী কালভার্টের ওপর অনেকক্ষণ একসঙ্গে বসে থাকতে দেখা যায়। পরে এ আসামিরাসহ অজ্ঞাতনামা আসামিরা তাঁকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। এরপর থেকে তাঁকে আর কোথাও দেখা যায়নি। ৪ আগস্ট রাত ১২টা ২০ মিনিটের দিকে ফারুক ও ফালানী বাদে অন্য আসামিরা কালভার্টের ওপর অবস্থান করেন। অনেকক্ষণ অপেক্ষার পর তাঁরা যে যার মতো করে চলে যান।

পুলিশ জানায়, প্রাথমিক তদন্ত, তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ, স্থানীয় সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ, আসামিদের পূর্ববর্তী স্বভাব-চরিত্র এবং ঘটনার পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডে জড়িত বলে প্রতীয়মান হওয়ায় ওই পাঁচ আসামিকে শুক্রবার গ্রেপ্তার করা হয়। হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্য আসামিদের শনাক্ত, তাঁদের অবস্থান ও ঠিকানা সংগ্রহ এবং গ্রেপ্তারের জন্য গ্রেপ্তারদের রিমান্ড প্রয়োজন বলে আবেদনে জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা।

প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই মোমিন বলেন, আসামিদের পক্ষে তাঁদের আইনজীবীরা রিমান্ড আবেদন বাতিল করে জামিনের আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ তাঁদের জামিনের বিরোধিতা করে। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত পাঁচ আসামির চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে বলে জানান তিনি।

উল্লখ্য, ফালানীর খণ্ডিত লাশ উদ্ধারের ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে ৬ আগস্ট সবুজবাগ থানায় মামলা দায়ের করেন এসআই রাশেদুল হাসান।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: কালবেলা (২২.০৮.২০২৬)



শেয়ার করুন

0 coment rios: