১৮ আগ, ২০২৬

ওমরায় যেতে বাধা দেওয়ায় কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হাইকোর্টের রুল

ছবি: সংগৃহীত 
পবিত্র উমরাহ পালনে বাধা প্রদান, স্বাধীন চলাফেরা ও ধর্মচর্চার মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন এবং অন্যায্য মানসিক হয়রানির অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের বাসিন্দা ফাতেমা বেগমের দায়ের করা রিট পিটিশন নং- ৫০০৯/২০২৬ এ শুনানি শেষে বিবাদীদের প্রতি রুল জারি করেছেন মহামান্য হাইকোর্ট।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট ২০২৬) মাননীয় বিচারপতি রাজিক আল জলিল এবং মাননীয় বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ (কোর্ট নং ২০, আইটেম নং ৬১) এই রুল প্রদান করেন। বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান (মামুন) রিটকারী ফাতেমা বেগমের পক্ষে আদালতে শুনানি পরিচালনা করেন। তাঁকে সহায়তা করেন আইনজীবী আলমগীর হোসাইন।

 এর আগে ২৩ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান (মামুন) ফাতেমা বেগমের পক্ষে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি দায়ের করেন। রিটে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বাংলাদেশ পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের প্রধান এবং হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ওসিকে (ইমিগ্রেশন) বিবাদী করা হয়।

রিট পিটিশনে বলা হয়, বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৬ এবং ৪১ অনুচ্ছেদ দ্বারা স্বাধীনভাবে চলাফেরা ও ধর্মচর্চার অধিকার যে কোনো নাগরিকের অবিচ্ছেদ্য মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃত। ফাতেমা বেগম একজন ধর্মপ্রাণ বয়োজ্যেষ্ঠ নারী। জীবনের শেষ সায়াহ্নে এসে পবিত্র মক্কা ও মদিনার পুণ্যভূমি জিয়ারত এবং আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের একবুক স্বপ্ন নিয়ে ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে তিনি বিমানবন্দরে হাজির হয়েছিলেন। কিন্তু ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের নিষ্ঠুর ও অবিবেচক আচরণে তার সেই পবিত্র আধ্যাত্মিক আকাঙ্ক্ষা মুহূর্তেই ধূলিসাৎ হয়ে যায়। বৈধ পাসপোর্ট ও ভিসা থাকা সত্ত্বেও কোনো সুনির্দিষ্ট ও বৈধ কারণ ছাড়াই তাকে বিমানে উঠতে বাধা দেওয়া হয়।

এতে আরও বলা হয়, বাদীর বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট ফৌজদারি মামলা বা উপযুক্ত আদালতের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা না থাকা সত্ত্বেও তাকে এভাবে বাধা দেওয়ার বিষয়টি আপিল বিভাগের সুপ্রতিষ্ঠিত রায়ের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

রিটে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ওমরাহ পালনে ব্যর্থ হয়ে বাদী যে গভীর মানসিক বিষাদ ও ট্রমার মধ্যে নিমজ্জিত হয়েছেন, তা ভাষায় বর্ণনা করা দুঃসাধ্য। ইমিগ্রেশন কর্মকর্তাদের এই বেআইনি ও স্বেচ্ছাচারী আচরণের কারণে একজন নিরপরাধ বয়োজ্যেষ্ঠ নারীর ধর্মীয় অনুভূতিতে যে প্রচণ্ড আঘাত লেগেছে, তা কেবল আইনি লঙ্ঘন নয়, বরং এটি তার হৃদয়ে এমন এক ক্ষতের সৃষ্টি করেছে যা তিনি আমৃত্যু বয়ে বেড়াবেন।

রিটে বলা হয়, জীবনের অন্তিম সময়ে এসে পবিত্র ভূমিতে যাওয়ার সুযোগ কেড়ে নেওয়ায় তিনি যে ভয়াবহ মানসিক ও আধ্যাত্মিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়েছেন, তা একটি নজিরবিহীন ‘কনস্টিটিউশনাল টর্ট’ বা সাংবিধানিক দায়বদ্ধতা সৃষ্টি করেছে।

রিট আবেদনে এই ‘অন্যায়ের’ প্রতিকার হিসেবে এবং বাদীর ‘অপূরণীয় মানসিক ক্ষতি, তীব্র যন্ত্রণা ও ভোগান্তির’ জন্য বিবাদীদের ১ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে ‘ন্যায়বিচারের’ স্বার্থে এবং তাৎক্ষণিক ‘আর্থিক ও মানসিক ক্ষতি’ লাঘবে রুল নিষ্পত্তির আগে জরুরিভিত্তিতে ১০ লাখ টাকা অন্তর্বর্তীকালীন ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আবেদন করা হয়।

এছাড়া ন্যায়বিচারের স্বার্থে এবং তাৎক্ষণিক আর্থিক ও মানসিক ক্ষতি লাঘবে জরুরি ভিত্তিতে ১০ লাখ টাকা অন্তর্বর্তীকালীন ক্ষতিপূরণ প্রদানের আরজি জানানো হয়েছে। রিটটি শিগগির হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চে শুনানি হবে বলে জানিয়েছেন আইনজীবী।


বিডিএলপিবি/এমএম
সূত্র: ল'ইয়ার্স ক্লাব বাংলাদেশ (১৮.০৮.২০২৬)


শেয়ার করুন

0 coment rios: