১৯ আগ, ২০২৬

শর্টকাটে অনেকেই এখন আইনজীবী হচ্ছেন কিন্তু প্রশিক্ষণের অভাবে দক্ষ আইনজীবী গড়ে উঠছে না: আইনমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত 
আইন পেশায় দক্ষতা বাড়াতে আইনজীবীদের পেশাগত প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, বর্তমানে শর্টকাটে অনেকেই আইনজীবী হয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু পেশাগত প্রশিক্ষণের অভাবে দক্ষ আইনজীবী গড়ে উঠছে না।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ বার কাউন্সিল ভবনে আইনজীবীদের জন্য একটি বেসরকারি ব্যাংকের উপশাখার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, সুপ্রিম কোর্টে প্রায় ১৭ হাজার আইনজীবী থাকলেও চূড়ান্ত শুনানি করার মতো আইনজীবী পর্যাপ্ত সংখ্যায় তৈরি করা যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের মাধ্যমে আইন পেশাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে হলে, যা করা সম্ভব আমরা সেটা করতে চাই। তবে এ জন্য বার কাউন্সিলের সদস্য ও আইনজীবীদেরও দায়িত্ব রয়েছে।’

আইনজীবীদের পেশাগত স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় সরকারের কাছে তুলে ধরার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন আইনমন্ত্রী। তার ভাষায়, ‘পেশার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সরকারের কাছে দাবি জানাতে হয়, কিন্তু গত ছয় মাসে আমার কাছে এ রকম কোনো দাবি জানানো হয়নি।’

আইনজীবীদের প্রশিক্ষণের জন্য পর্যায়ক্রমে ৮০ হাজার আইনজীবীকে প্রশিক্ষণের আওতায় আনার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

আইনমন্ত্রী বলেন, এটা একমাত্র প্রফেশন যাদের কোনো ট্রেনিং হয় না। সরকারি চাকরিজীবী ও বিচারকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকলেও আইনজীবীদের জন্য পেশাগত প্রশিক্ষণের তেমন কোনো কাঠামো নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তার ভাষায়, আইনজীবীরা আইন পেশার সনদ নিয়ে সিনিয়রের পেছনে ঘুরতে ঘুরতে একদিন নিজেও সিনিয়র হয়ে যান। এর মাঝে তার আর কোনো ট্রেনিংয়ের কোনো ব্যবস্থা নেই।

আইনজীবীদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, নিজেদের সমৃদ্ধ, প্রস্তুত ও প্রশিক্ষিত করার জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বার কাউন্সিলের যে প্রশিক্ষণব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন, বিগত বছরগুলোতে তা করা সম্ভব হয়নি।

‘তাই আমরা উদ্যোগ নিয়েছি বাংলাদেশ বার কাউন্সিলকে ঢেলে সাজাব। বাংলাদেশের আইন পেশাকে ঢেলে সাজাতে চাই,’ বলেন তিনি।

আইনমন্ত্রী জানান, আইনজীবীদের প্রশিক্ষণের জন্য বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নামে ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে প্রতিবছর এই বরাদ্দ বাড়ানো হতে পারে বলেও তিনি জানান।

আইনজীবীদের পেশাগত পরিসরও ধীরে ধীরে সংকুচিত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ব্যবহারসহ বিভিন্ন কারণে মানুষ এখন নানা ধরনের বিরোধের সমাধান নিজেরাই করার চেষ্টা করছেন।

বিচার বিভাগ থেকে সরকারের রাজস্ব আয় ও বিচার বিভাগের বাজেট নিয়েও কথা বলেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, কোর্ট ফি ও ওকালতনামার মাধ্যমে বিচার বিভাগ থেকে প্রতিবছর প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা আয় হলেও পুরো বিচার বিভাগের জন্য বার্ষিক বাজেট দুই হাজার কোটি টাকার কিছু বেশি। তার মতে, সুপ্রিম কোর্টের জন্য বরাদ্দও খুবই অপ্রতুল।

আইন পেশার মর্যাদা বাড়াতে বার কাউন্সিলকে একটি শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার ওপরও জোর দেন তিনি।

বার কাউন্সিলকে সত্যিকার অর্থে শিক্ষায়-দীক্ষায়, মেধায়-মননে, প্রজ্ঞায়, ঘামে-শ্রমে এমন একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলি যে প্রতিষ্ঠান আগামী প্রজন্মের কাছে এই প্রফেশনের মানুষ প্রফেশনে আসার জন্য আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে থাকবে, বলেন আইনমন্ত্রী।

বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সভাপতি রুহুল কুদ্দুস কাজলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদীন ও সদস্য বদরুদ্দোজা বাদল।


বিডিএলপিবি/এমএম

সূত্র: গণমাধ্যমে প্রচারিত আইনমন্ত্রীর উক্ত বক্তব্য 


শেয়ার করুন

0 coment rios: